by Jahid | Nov 14, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
ঔদ্ধত্য যদি এক্সট্রিম একটা আচরণ হয়ে থাকে, বিনয়ও এক্সট্রিম একটা আচরণ । বিনয়ী লোকজনকে আধুনিক যুগের লোক পাপোষের মতো মাড়িয়ে চলে । পিষে ফেলতে চায়। এর চেয়ে মধ্যমপন্থা উত্তম । কিছুটা রহস্য থাকা ভালো। নিজেকে সহজেই পড়ে ফেলতে দেওয়া অনুচিত ( ক্ষেত্র-বিশেষে প্রিয়জন ছাড়া)। একটা মানুষের একটা আবরণ, আস্তরণ, দুর্ভেদ্যতা কিংবা রহস্য থাকা ভালো। অনেকের রাগ, ক্ষোভ, ঘৃণা, ভয় , ভালোবাসা ইত্যাকার আবেগ মুহূর্তেই অনেকের চেহারায় ও চোখে ভেসে ওঠে। তাঁর আবেগ ও অনুভূতি নিকটবর্তী কেউ সহজেই পড়ে ফেলতে পারে।
আপনি ব্যবসায়ী হন, মালিক হন, সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট হন, ক্রেতা হন, বিক্রেতা হন, আপনার কাউন্টার পার্ট আপনার আবেগের ব্যাপারটা সহজে পড়ে ফেলতে পারলে তো মুশকিল। আপনি পদে পদে বিব্রত ও ক্ষতির সম্মুখীন হবেন।
নিজের আবেগ প্রচ্ছন্ন বা ধোঁয়াশা করে রাখতে পারার সক্ষমতা একটা বিশাল গুণ।
by Jahid | Nov 14, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
‘Every Unspoken word get’s poisonous!’
মানসিক সুস্বাস্থ্যের জন্যে এটা মেনে চলতে পারেন।
মনের খুব গহীনে কোন কথা কেউ চেপে রাখতে চাইলে বলি , বলে ফেল ভায়া। বলে হালকা হয়ে যাও।
কিছু মানুষ আছে , যারা কথা পুষে রাখে, সাপের মতো বিষাক্ত হয়ে সেই কথা কবে কখন নিজেকেই অথবা অন্য কাউকে ছোবল মারবে সে নিজেও বুঝে উঠতে পারে না !
by Jahid | Nov 14, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
আমাদের কয়েক গ্রাম পরেই সাঁইজি লালন ফকিরের ছেউড়িয়া আখড়া। কিছুটা বাউলিয়ানা আমাদের পরিবারের সকলের মাঝেই ছিল। আব্বা সেই অর্থে প্রথম জীবনে খুব ধর্মপরায়ণ ছিলেন না। শেষ বয়সে এসে যতোটুকু করতে হয় করেছেন। উপলব্ধিটা সেই অর্থে আমার পিতার কাছ থেকে আমার ভিতরে প্রবাহিত হয়েছে।
তিনি বলতেন , মানুষে মানুষে ও জীবজগতের ভেদাভেদ ও বৈষম্য স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা করেছেন। এমনকি শেষ বিচারের দিন ৭০ কাতার করেছেন। সাত দোজখ আর আট বেহেশত করেছেন। ক্ষেত্র বিশেষে কিছু মানুষের বঞ্চনায়, দুর্ভাগ্যে, তাঁদের অসাম্যে, অপ্রাপ্তিতে মন খারাপ করতে মানা করতেন। সুতরাং জগতের সকল অসাম্য দূর করার ভার আমাকে না নিলেও চলবে।
by Jahid | Nov 14, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
কোনকিছুতে হুট করে কনভিন্সড হবেন না।
কারো কথা শুনে বা কোন গ্রন্থ পড়ে, কোন ডকুমেন্টারি দেখে, ইন্টারনেটে অথবা টিভিতে। কোনকিছুতে প্রথমেই কনভিন্সড হয়ে গেলে আপনার নিজের চিন্তা করার জায়গাটা থাকেনা। কর্মজীবনেও আপনার কাছে নানা শ্রেণির ও সংস্থার লোকজনের আনাগোনা থাকে। সহকর্মী থেকে শুরু করে সেলসম্যান , মার্কেটিং এর লোক, সবাই আপনাকে কনভিন্সড করতেই চায়। সবার কথা শুনে নিজের সিদ্ধান্ত নিজের নিতে হয়।
by Jahid | Nov 14, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
You always meet twice in life!
বেঁচে থাকলে এই পৃথিবীতে ব্যক্তির সঙ্গে ব্যক্তির আবার দেখা হয়, দেখা হয়ে যায়। কর্মজীবনে এবং সম্পর্কের ক্ষেত্রে একজনের সঙ্গে আরেকজনের চিরবিচ্ছেদ তো হয় না। যাকে আপনি অনাবশ্যক অবজ্ঞা করলেন, গুরুত্বহীন মনে করলেন, হয়তো সাময়িক কোন অসহায়ত্বের কারণ হলেন, অপমান ও অসম্মানের কারণ হলেন, তাঁর সঙ্গে আবার দেখা হতে পারে, হবে। তখন চোখ তুলে তাকাতে পারবেন কি ? অনেকেই পারে। আমি পারি না। আমার অনুজদের সবসময় বলি, ইউ অলওয়েজ মিট টুয়াইস। কারো সঙ্গে এমন কোন আচরণ বা ব্যবহার কোর না যেন বহুদিন বহুবছর পরে তাঁর দিকে চোখ তুলে তাকাতেও তোমার লজ্জা লাগে! সম্পর্কের সুতো রেখেই সম্পর্ক ছিন্ন করা করা ভাল।
by Jahid | Nov 14, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
অবসরজীবন নিয়ে চিন্তা।
কর্মক্লান্তিতে একসময় শুধু বিশ্রামের কথা ও সদর্থে রিটায়ারমেন্টের কথা চিন্তা করতাম।
মনে হতো সব সুখ বোধহয় নিরবচ্ছিন্ন বিশ্রামে। কাজে ব্যস্ত থাকা মানেই কামলা শ্রেণির লোক। পৃথিবীতে যে যতো সম্পদশালী, তাঁর ততো বেশি অবসর আর বিশ্রাম।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, একটা বয়সে এসে বুঝেছি, রিটায়ারমেন্টের দিকে ধাবিত হওয়া মানে নিজেকে সমাজের কাছে মূল্যহীন করার চিন্তা করা। বরং নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারলেই মানুষের বেঁচে থাকার স্পৃহা থাকে। জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের ভিতরে থেকে নিজেকে মূল্যবান মনে করতে চাওয়াটাই শ্রেয়।
মধ্যবিত্তের রিটায়ারমেন্ট মানে– পুরোপুরি অপাঙতেয় মূল্যহীন জীবন। ধুঁকে ধুঁকে মৃত্যুর জন্য অপেক্ষা। আমাদের সমাজে অবসর নেওয়া সুস্থ ব্যক্তিটির সামনে দুইটা রাস্তা খোলা থাকে– কবরস্থান আর মসজিদ। এঁরা তসবিহ্ নিয়া মসজিদে যাওয়া আসা করে আর এবং সারাক্ষণ সাড়ে তিনহাত অন্ধকার কবরের কথা চিন্তা করে। সারাক্ষণ মৃত্যু-চিন্তায় মানুষ দ্রুত বুড়িয়ে যায়। কাজ নেই , আলো নেই, বাতাস নেই, হাসি নেই, দুরারোগ্য সার্বক্ষণিক মৃত্যুর দুশ্চিন্তায় কে না বুড়িয়ে যায় !
গতানুগতিক বাঙালীরা চল্লিশ পেরুতে না পেরুতেই অবসর জীবনের চিন্তা শুরু করে। আমাদের দুই প্রজন্ম আগে ত্রিশ পেরুলেই এই চিন্তা আসতো আর চল্লিশ পেরুলে হজ্জ্ব সেরে তসবীহ্ গুনত। গড় আয়ু বেড়ে যাওয়ার কিছুটা সুবিধা পাচ্ছি আমরা।
এর চেয়ে বরং একটা স্মৃতি রোমন্থন করি।
প্রায় একযুগ আগে, চীনা বংশোদ্ভূত এক ক্রেতা, যিনি কিনা দ্বিতীয় প্রজন্মের আমেরিকান, তার সাথে কথা হচ্ছিল। বয়স প্রায় ৬৫ হবে। সে কোম্পানির এমডি, সর্বেসর্বা।
টাকা পয়সা পরিশোধ নিয়ে ঢিলেমির জন্য আমি এক পর্যায়ে বললাম, ‘কাহিনী কি ? এইটা ঝুলিয়ে রাখার মানে কি ? তুমি মালিক, তুমি বললেই তো হয়ে যায় ! ’
সে বলল, ‘আমার চেয়ারম্যানের সঙ্গে কথা বলতে হবে।’
জিজ্ঞেস করলাম, ‘সে আবার কে? তার কথাতো আগে বলো নাই।’
‘উনি আমার বাবা।’
‘বয়স কতো ?’
‘৮৯ বছর !’
‘এই বয়সে সে অফিস করে ! ’
‘না, সেই অর্থে অফিস করে না ! তিনি প্রতিদিন নিয়মিত সকাল আটটায় অফিসে আসেন ঘড়ি ধরে। আমি তাঁর ব্যবসার উত্তরসূরি ; আমার অফিসের ফিন্যান্সটা এখনো উনিই দেখেন। মাঝে মাঝে দুপুরের পরেও থাকেন , নইলে বাড়ী যেয়ে বা এলাকার চ্যারিটি কিছু সংস্থা আছে সেখানে সময় কাটান !’
‘উরি বাপস্ , বলো কি তুমি !’
আমার বিস্ময় প্রকাশে সে বলল, ‘ তোমাদের ভারতীয় উপমহাদেশের সঙ্গে আমাদের এটা একটা বড়ো মানসিক পার্থক্য। তোমরা তীব্রভাবে পরকালে বিশ্বাসী। আমরা নই। আমরা জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত কাজের ভিতরে থেকে নিজেকে মূল্যবান মনে করতে চাই।’
চল্লিশ পেরুতেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি। বড়ো কোন অসুস্থতায় না পড়লে, যতদিন পারি কাজের ভিতর থাকব। সেই কাজ অর্থকরী হোক বা সমাজকল্যাণমূলক হোক। মরার আগে মরতে চাই না। অপাঙতেয় মূল্যহীন জীবন চাই না ।
সাম্প্রতিক মন্তব্য