উঁকি দেওয়া অনুভূতি

মাথার মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ উঁকি দিয়ে যায় অনুভূতিগুলো ! ঠিক যেনো, কবিতার একটা লাইনের মতো, ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ শীতল বাতাসের মতো! তারপর ,তারপর নিষ্কৃতিহীন নিরেট কাজের চাপে ওই সুন্দর অনুভূতি আর কবিতার লাইনটা কোথায় যে উবে যায় ! তারে যায় না ছোঁয়া আরেকবার !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

রাষ্ট্র ও ক্ষমতা বর্বরদের হাতেই ছিল, আছে, থাকবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম শাসনামলের শেষের দিকে ২০২১ সালে তাঁর নানা কুকীর্তি, করোনা ভাইরাস নিয়ে নানাবিধ বাগাড়ম্বর, আস্ফালন দেখেশুনে আমরা বীতশ্রদ্ধ, বিরক্ত। তো বড় কন্যা জিজ্ঞেস করল, কীভাবে ট্রাম্পের মতো অসভ্য, বর্বর একজন লোক পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী, সমৃদ্ধ দেশের প্রেসিডেন্ট হলেন ?
আমি আশাবাদের জায়গা থেকে, স্বস্থ থাকার প্রেরণায় আমার মতো করে কন্যাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম।
বললাম, পৃথিবীতে রাজরাজড়াদের কীর্তি-কাহিনী কমবেশি মাত্র হাজার পাঁচেক বছরের ইতিহাসটুকুই জানি। এর মধ্যে প্রজ্ঞাবান, দার্শনিক, সত্যিকার কল্যাণকামী রাষ্ট্রনায়কদের স্মরণ করতে গেলে হাতের আঙুল পাঁচ বা ছয়ে গিয়ে থেমে যায়। আর বাকী লক্ষ লক্ষ রাজা, রাজাধিরাজ, সম্রাট, রাষ্ট্রনায়করা হচ্ছেন শোষণ,পীড়ন দমনের ধারাবাহিকতা মাত্র।
মানবিক উদারতা, অহিংসা এবং সব মতের মানুষের প্রতি সমবেদনা জানানো দার্শনিক, সুশাসক পৃথিবীতে বিরল। হাজার বছরে মাত্র কয়েকবার এঁদের দেখা মিলেছে।
বললাম, আমাকে যদি জিজ্ঞেস কর, আমার ক্ষুদ্র ইতিহাসজ্ঞানে প্রথমেই যার নাম মনে আসে, তিনি’ মেডিটেশন’- বইয়ের দার্শনিক রোমান সম্রাট মারকাস অরেলিয়াস (Marcus Aurelius)। তারপরে আসে, সম্রাট অশোকের (Ashoka Maurya) কথা। যদিও তাঁর প্রারম্ভিক যুদ্ধ-জীবন দিয়ে তর্ক আছে।
এরপরে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ; অটোমান সাম্রাজ্য সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট; মোঘল সম্রাট আকবর দ্য গ্রেট; আমেরিকার আব্রাহাম লিংকন; মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ; সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ । এই দেখো, আট জনের পরে আমি আর কাউকে খুঁজেই পাচ্ছি না।
সুতরাং বহু হাজার বছর ধরে,রাষ্ট্র , রাজনীতি ও ক্ষমতা নিষ্ঠুর,চতুর, পীড়নকারী, অসভ্য, বর্বরদের হাতেই ছিল। আরো শত বছর পরে আমার কথার প্রতিধ্বনি যদি থেকে যায়, সেই পাঠক যেন এটা ভেবে স্বস্থ থাকে, পৃথিবী এরকমই ছিল, আছে এবং থাকবে।
প্রথম প্রকাশঃ ২৩শে মার্চ, ২০২৬

বেঁচে থাকাটা আসলেই চমৎকার !

অবহেলায় বেড়ে ওঠা আমার ছোট্ট মেয়েটা দেড় বছরে পা দিল ।
আধো আধো বুলিতে, সারাক্ষণ সবাইকে ত্রস্ত করে রেখেছে সে । ধর্‌ ধর্‌ ধর্‌ , গেলো গেলো গেলো টাইপ অবস্থা আর কী ! কখন, কোথায় সে হিসু করবে, পটি করবে; কখন কেন কোনটা ফেলবে কোনই আন্দাজ নাই।
ওর তুলনায় আমার বড় মেয়েটা অনেক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আব্বা-আম্মা অসুস্থ হওয়ার পর আমার স্ত্রীর ব্যস্ততা বেড়ে গেছে, বেড়ে গেছে আমারও। এই মেয়েটা আমাকে ২৪ ঘণ্টায় জাগ্রত অবস্থায় পায় মাত্র ঘণ্টা খানেক। বাকী যেটুকু সময়ই বাসায় থাকি , হয় ওকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আসি অথবা ও রাত জেগেই থাকে আমি ভোঁসভোঁস করে ঘুমাই।
আমার আম্মা আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকে, আর বড়কন্যা ‘পাপা’ বলে ডাকে।
ছোট মেয়েটা এর মাঝামাঝি গিয়ে আমাকে ডাকে ‘ বাপা’ বলে।
কাছাকাছি হলেই গেলেই বাপা, বাপা বাপা ডাক দিয়ে গা ঘেঁষে ওঠে !
এইসব মুহূর্তের জন্য আমি ভাবি, বেঁচে থাকাটা আসলেই চমৎকার !

প্রথম প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল, ২০১৩

গান শোনা ও ফেসবুকিং করার যে ব্যাপার

আপনি সিলেক্টেড পছন্দনীয় গান শুনে আনন্দ পেতে চাচ্ছেন।
সিডি কিনতে হবে ভাই ! মনোযোগ দিয়ে রিপিট করে , ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উপভোগ করতে হলে।
আবার ধরেন , আপনার মনোযোগ নেই তেমন , হাতেও সময় আছে অফুরন্ত। এফএম রেডিও খুলে দিন। আরজে গুলোর রাজ্যের বকর বকর বাংলিশ, দুনিয়ার তাবৎ বিষয়ে তাদের জ্ঞানের বহর শুনতে শুনতে বিরক্ত হতে হতে হঠাৎ একটা ভালো গান শুনে ফেললেও ফেলতে পারেন। এইটা কিন্তু ফ্রি ! ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু পে ফর ইট !
আমি দুইটাই করি। নানারকম নতুন অ্যালবামের গান শুনতে হলে এফএম রেডিওর বিকল্প নাই। কিন্তু এই আরজে গুলোর কথার যন্ত্রণা বেশীরভাগ সময়েই সহনীয় পর্যায়ে থাকে না। তখন সিডি ছাড়ি।

ফেসবুকের পোস্টের ব্যাপারেও আমার অবস্থা অনেকটা তাই।
আমার ফ্রেন্ডলিষ্টের মধ্যে বেশিরভাগই , নানা ভঙ্গিমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ছবি লোড করা ছাড়া বা হঠাৎ হঠাৎ প্রকৃতি ও হাদিসের পেজ শেয়ার করা ছাড়া তেমন কোন অ্যাক্টিভিটিজে নাই। যাঁদেরকে ফলো করি বা যাঁরা ভালো লেখেন , তাঁদের লেখাগুলোই সিডি শোনার মতো আমার কাছে প্রায়োরিটি পায়। আবার একইসঙ্গে এইটাও সত্য, সবার ওয়াল ধৈর্য ধরে পড়তে পারলে মাঝে মাঝে চমৎকার কিছু মুগ্ধ হওয়ার মতো পোস্ট চোখে পড়ে।

ইদানীং আমার হয়েছে আরেক সমস্যা। অফিসে ফেসবুক রেস্ট্রিক্টেড। বেকুব কিছু ফেসবুকারের অতি-ব্যবহারের প্রকোপে এটা দিছে ম্যানেজমেন্ট ব্যান কইরা । আর এই বেকুবগুলোর জন্য আমার মতো সদাশয় ফেসবুকারকে হয় অফিসে আসার আগে মিনিট বিশেকের জন্য অথবা সারাদিন ঘানি ঠেলে রাতের খাওয়া দাওয়ার পর আধা ঘণ্টা ফেসবুকে। আমি আবার ভীষণ ঘুমকাতুরে, বেশীরভাগ দিনই খবর দেখতে দেখতে বা চ্যানেলের কোন মুভি দেখতে দেখতে ঢুলে ঢুলে পড়ি। আমার নতুন অভিভাবিকা বড়কন্যা এসে মনে করিয়ে দেয়, দাঁত মেজে ঘুমিয়ে পড়ো !

কী দাঁড়াইলো ব্যাপারটা?
আপাতত ফেসবুকে আমার অ্যাক্টিভিটিজ ২৪ ঘণ্টায় বড়োজোর ১ ঘণ্টা। দেখে শুনে সিডি শোনার মতো করে বিশেষ কিছু পোস্ট পড়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখছিনা।
ফেসবুকের বন্ধুরা সবাই ভালো থাকুন, আমার সীমাবদ্ধতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন।

প্রথম প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল, ২০১৩

উপলব্ধি: ৪৮

‘There is no set rule.’
পরিস্থিতি, ব্যক্তি, সমাজ, রাষ্ট্র, যুগ ও প্রযুক্তির প্রভাবে যে কোন একটা নিয়ম ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় প্রযোজ্য নয় অর্থাৎ একইভাবে কাজ করে না। এই সহজ ব্যাপারটা বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কেউ বুঝে ফেলে, আবার ঠিক বয়সের সঙ্গে সঙ্গে কেউ ‘একই নিয়ম সব জায়গায় চলবে’ – এই ব্যাপারে ভয়ঙ্কর মৌলবাদী হয়ে পড়ে।

নিয়মের ব্যত্যয়, সংস্করণ, পরিবর্তন ও পরিবর্ধন মেনে নেওয়ার ব্যাপারে উদার পন্থা কাম্য। একটি পরিবার যে নিয়মে চলে, পাশের বাসার পরিবার কিছুটা পরিবর্তিত রূপে চলে। এক অফিসে যে নিয়মে চলে, হুবহু একই ধরণের পাশের অফিসটিতে সেই নিয়ম চলে না। গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, রাজতন্ত্র ও বহুবিধ তন্ত্র একেক সমাজে, রাষ্ট্রে একেক রূপ ধারণ করে।
অর্থনীতি, সমাজনীতি, ধর্মাচার, জাগতিক সকল আচার ও নিয়ম স্থান-কাল-ভেদে পরিবর্তিত হয়।

উপলব্ধি: ৪৭

সামান্যতম সুযোগ থাকলেও , যে কোন অস্পষ্টতায়, অজ্ঞতায় প্রশ্ন করুন, জিজ্ঞেস করুন। যাকে জিজ্ঞেস করছেন সে আপনার সহকর্মী হতে পারে, আপনার অধস্তন হতে পারে। আপনার অজ্ঞতায় সে হয়তো আপনাকে সাময়িক নির্বোধ ভাবতে পারে। কিন্তু একবার বোকা হয়ে আপনি সারাজীবনের জন্য কিছু একটা শিখে গেলেন। আর যদি না জিজ্ঞেস করেন তবে সারাজীবনের জন্য বোকাই রয়ে গেলেন। সামান্য সময়ের জন্যে বোকা হওয়া সারাজীবনের জন্য বোকা হয়ে থাকার চেয়ে ভাল।