সদ্য-প্রয়াত ইন্টেরিম সরকার নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই।
এই অধমও যদি তালিকা করি,চার-পাঁচ পাতার কমে হবে না। কিন্তু এতো কিছুর মধ্যে ব্যক্তিগত তালিকাতে প্রশংসা করার মতো তিনটা ব্যাপার খুঁজে পেলাম।
প্রথমত নানাবিধ দুর্নীতি ও ব্যাংক তহবিল তসরুপ এবং এস আলম গ্রুপের চোদ্দ-পনেরো হাজার কোটি টাকা পাচারের পরে, প্রায়-দেউলিয়া একটা দেশের অবস্থা ততোটা শোচনীয় হয়নি, যতোটা আশঙ্কা করেছিল সবাই। এর কৃতিত্ব ইন্টেরিমকে দিতেই হয়।
দ্বিতীয়ত দেশ-বিদেশের বহুমুখী চাপের জন্যেই হোক বা অন্য কোন কারণে , নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন দিয়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকারে কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর। আবারো প্রশংসাযোগ্য।
তৃতীয়ত আরেকটি ধন্যবাদ কাকে জানাবো, জানিনা। ঢাকা শহরের ট্রাফিক কন্ট্রোলের যেই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা অথবা প্রশাসক অথবা উপদেষ্টা যিনি প্রধান সড়ক এবং উপ-প্রধান সড়কের ছোট ছোট ‘ইউ টার্ন’ কমিয়ে ‘ লং ইউ টার্ন’ প্রচলিত করেছেন। ব্যাটারি টেসলার উপর্যুপরি সোদনের পরেও ঢাকা শহরে আমরা যে এখনো ব্যক্তিগত যানবাহন নিয়ে চলাচল করতে পারছি, তার অন্যতম ধন্যবাদ ঐ দূরদর্শী ভদ্রলোকের। কেউ আমার হয়ে তাঁকে ধন্যবাদ পৌঁছে দিয়েন।
চতুর্থ ধন্যবাদ চা-বিলাসী আমার পক্ষ থেকে Seylon Instant Milk Tea Sachet প্যাকের জন্য Abul Khair Consumer Goods Division (AKCGD)- কে ! বাংলাদেশের মধ্যবিত্তের প্রধান পানীয় দুধ-চা। সেটা তৈরির আদি ও অকৃত্রিম পদ্ধতি হচ্ছে দীর্ঘসময় গুড়ো চা ফুটিয়ে, তারপরে দুধ-চিনি মিশিয়ে পরিবেশন। নব্বইয়ের দশকে ‘কনডেন্সড মিল্ক’ বাজারে এলে ফোটানো লিকার চায়ের সঙ্গে সেটা মিশিয়ে পরিবেশন করার ব্যাপারটা গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়ল।এখন আপনি দেশের যে কোন প্রান্তে গিয়ে দুধ-চা চাইলেই পাবেন। অথচ এটার যে একটা ইনস্ট্যান্ট প্যাক বাজারে আনা যায়, সেটা এই ২০২৫ সালে এসে আমার চোখে পড়ল। গত মাস ছয়েক যখন তখন দুধ-চায়ের জন্যে Seylon প্রাত্যহিক হয়ে গেছে আমার জীবনে।
যদিও গুগল মামা বলল, আবুল খায়ের গ্রুপ ২০০৪ সালেই নাকি বাজারে প্রচলন এনেছে ; কিন্তু ম্যাসিভ মার্কেটিং করেছে ২০২৫ সাল থেকে। অথচ, আমি সেই ২০০১ সালে থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া , ইন্দোনেশিয়ায় এই ইনস্ট্যান্ট চা দেখেছি। সহজ,সাশ্রয়ী। এমন হয়েছে, এই জিনিষের প্রতি আমার মুগ্ধতা দেখে, সিঙ্গাপুরের সহকর্মী সুজান সুশান্তো প্রায় প্রতি বছর আমার জন্যে কয়েক প্যাকেট পাঠাতো।
জীবনের নানাবিধ প্যারায় পর্যুদস্ত হলেও আমি আশাবাদী মানুষ। ছোট ছোট আনন্দে জীবন ভরিয়ে রাখতে চাই। এক কাপ কড়া লিকারের দুধ-চা আমার জীবনে যেরকম তৃপ্তির আনন্দ দেয়; আপনাদের সকলের জীবন সেরকম তুচ্ছ আনন্দে ভরে উঠুক।
অগ্রিম ঈদ মুবারক অগ্রজ, অনুজ, সহকর্মী, সতীর্থ বন্ধু-বান্ধবী, আত্মীয়স্বজন সবাইকে।
সাম্প্রতিক মন্তব্য