ফরচুন কুকিজ

এক রেস্টুরেন্টে খেতে বস্‌ছি কয়েকদিন । ওয়েটার খাওয়া শেষে চাইনিজ কুকিজ দিল সবাইকে। এইটারে মনে হয় ফরচুন কুকিজ বলে,মুচমুচে সমুচা টাইপ বিস্কুটের ভিতরে কাগজে আপনার ভাগ্য লেখা।আমারটা খুললাম । “ Your Financial situation will improve if you work on it”

যাহ্‌ শালা! এইজন্যই আমি ভাগ্যে বা সৌভাগ্যে বিশ্বাস করি না। আমি শুধু দুর্ভাগ্যে বিশ্বাস করি। পরিশ্রম করলে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, এইটা জানার জন্য গণক হওয়ার দরকার আছে ?

প্রথম প্রকাশঃ২৫শে জুন,২০১৩

ফেসবুক মানে মোড়ের আড্ডা

ইদানীং ফেসবুক আমার কাছে মোড়ের আড্ডা, আবার ক্ষেত্রবিশেষে ব্যক্তিগত দিনলিপির মতো মনে হচ্ছে ! অন্তত আমার শেষ কয়েক মাসের অ্যাক্টিভিটি দেখে নিজের কাছে তাই মনে হল। সময়ের সাথে আমার মতামত বদলে যেতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক !

ভার্চুয়াল জগতের কিছু বন্ধুদের নতুন পোস্ট দেখতে না পারলে একটা ব্যাকুলতা কাজ করে। যেমনটা ছিল , অনেক আগের নিয়ম করে সকাল বিকাল আড্ডা দেওয়ার মতো। একবেলা আড্ডা না দিতে পারলে তৃষ্ণার্ত থাকতাম।

এখন এই আড্ডা ও দিনলিপির ফেসবুকের মাঝখান থেকে আপনি সিরিয়াস কিছু খুঁজে পেয়ে আমার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছালে সেটা আপনার নিতান্তই নিজস্ব ব্যাপার। ভাইরে , আমি আমার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না, আর আপনি আমার দুইটা অনিয়মিত পোস্ট পইড়া নিয়ে ফেললেন ! সুতরাং আপনার সিদ্ধান্তের দায়দায়িত্ব নিতান্তই আপনার ও আপনাদের , আমি কোন দায় বোধ করছি না।

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

ধর্মের আছর

আমার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি গত বছর দুয়েক ধরে তাবলীগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডে আমি অবাক, কাছের একজনের এতো আকস্মিক পরিবর্তন মেনে নেয়া মুশকিল। তাঁর ও তাঁর পরিবারের কী কী পরিবর্তন হতে পারে, সেই বিতং এ না যাই। দাড়ি রাখা ও কঠিন পর্দাপ্রথা ছাড়াও একটা পরিবারকে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসনে নিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। মাঝে ওরে ফোন দিতেও ভয় হইতো। ফোনে মিনিট চল্লিশেক নানা হাদিসের বয়ান দিয়ে সুপথে আসার নির্দেশ।

আমাদের অনেক বন্ধুকেই ছাত্রাবস্থা থেকে তাবলীগের সাথে জড়িত দেখেছি। আরেক বন্ধু , যাকে সেই ছাত্রজীবন থেকেই তাবলীগে জড়িত দেখেছি, হেরে জিগাইলাম , ‘ মামা কাহিনী কি? তোমারে তো দেখি আজ বছর কুড়ি ধরে, তোমার এইরকম আগ্রাসী তাবলীগি ভাবতো দেখি নাই। তুমি-তো সব ব্যাল্যান্স করে চলছো। ও যেটা বললো, ‘আসলে আমরাতো ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু ও( আমার নতুন তাবলীগ বন্ধু) সেটা পায় নি। এখন ওর উপর “আছরটা” একটু বেশী পড়ছে।অন্তত আমার কাছে ঘটনা পরিষ্কার হলো।

আমি কোন দুই বন্ধুর কথা বলছি আমার কাছের জনেরা( টেক্সটাইল সার্কেলের) সেটা টের পাবেন নিশ্চয়।
উল্লেখ্য, আমার খুব ঘনিষ্ঠ এই দুইবন্ধুর কেউ ফেসবুকে নাই।

আম্মা ক্যালেন্ডারের জুন মাসের ছবিটা দেখিয়ে বললেন উনি সুফিয়া কামাল কিনা ?
আমি বললাম না, ওটা নুরজাহান বেগমের ; ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদিকার । এই বছরের ক্যালেন্ডারে বারোজন মহীয়সী নারীকে তুলে ধরেছেন এই ব্যাংক এশিয়া । বেগম রোকেয়া থেকে— প্রথম মুসলিম মহিলা ডাক্তার জোহরা বেগম কাজী , ইলা মিত্র, সুফিয়া কামাল, ফিরোজা বেগম, রাণী হামিদ, তারামন বিবি, নভেরা আহমেদ, জোবেরা রহমান লিনু, আইরিন জুবাইদা খান, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার । এঁরা দেশ ও দশের উপকারে এসেছেন, খ্যাতি বয়ে এনেছেন , মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এঁরা নমস্য।

সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অচলায়তন ভেঙ্গে বের হওয়া একজন ডাক্তার জোহরা বেগম কাজীকে
হাজারো উচ্চশিক্ষিত ঘরে বসে থাকা মহিলার চেয়ে সমাজের জন্য বেশী প্রয়োজনীয় মনে করি। জগতে এঁরা জগত আলো করে থাকুন। আমি শুধু এই আকাঙ্ক্ষাই করতে পারি , আমার দুই কন্যা যেন এঁদের মতো কেউ হয়ে উঠতে পারে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

 

মূদ্রার অপর পিঠ, বৈপিরিত্য

হাসিখুশি চরিত্রের বা একটু হৈহৈ-রৈরৈ বলে সর্বশ্রেণীর বড়ভাইদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা, অবাধ যাতায়াত বা প্রশ্রয় আছে ! এবং আমি সেটা উপভোগও করি। কিছুদিন আগে আমার ট্রেডের কয়েকজন শ্রদ্ধাভাজন বড়ভাইদের সাথে দেখা হলো একটা পারিবারিক ডিনারে। যথারীতি উত্তরা থেকে মিরপুরে এসে আবার উত্তরাতে বউকে নিয়ে যাওয়ার সুবিখ্যাত আলস্যে দাওয়াতে আমি একা। ভাবীদের সাথে এক বড়ভাই পরিচয় করিতে দিয়ে বললেন ‘ এরে চিনছো? এইটাই জাহিদ ! ওই যে ফেসবুকে লেখালেখি করে।’

সে খাইতে খাইতে আরো বললো, আমার লেখা তাঁরা পড়েন কারণ , তাঁদের মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখা দরকার। কেন দরকার জানিনা, মনে হলো- সারাক্ষণ নানা ইসলামী অনুশাসন ও চিন্তার মাঝখানে,আমার কিছু পোস্টে হয়তো একটু খোলা-হাওয়া পান! নাকি অনৈসলামিক চিন্তাকারী কাউকে দেখে করুণা অনুভব করেন , কে জানে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০২৩

উঁকি দেওয়া অনুভূতি

মাথার মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ উঁকি দিয়ে যায় অনুভূতিগুলো ! ঠিক যেনো, কবিতার একটা লাইনের মতো, ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ শীতল বাতাসের মতো! তারপর ,তারপর নিষ্কৃতিহীন নিরেট কাজের চাপে ওই সুন্দর অনুভূতি আর কবিতার লাইনটা কোথায় যে উবে যায় ! তারে যায় না ছোঁয়া আরেকবার !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

রাষ্ট্র ও ক্ষমতা বর্বরদের হাতেই ছিল, আছে, থাকবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম শাসনামলের শেষের দিকে ২০২১ সালে তাঁর নানা কুকীর্তি, করোনা ভাইরাস নিয়ে নানাবিধ বাগাড়ম্বর, আস্ফালন দেখেশুনে আমরা বীতশ্রদ্ধ, বিরক্ত। তো বড় কন্যা জিজ্ঞেস করল, কীভাবে ট্রাম্পের মতো অসভ্য, বর্বর একজন লোক পৃথিবীর সবচেয়ে ধনী, সমৃদ্ধ দেশের প্রেসিডেন্ট হলেন ?
আমি আশাবাদের জায়গা থেকে, স্বস্থ থাকার প্রেরণায় আমার মতো করে কন্যাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম।
বললাম, পৃথিবীতে রাজরাজড়াদের কীর্তি-কাহিনী কমবেশি মাত্র হাজার পাঁচেক বছরের ইতিহাসটুকুই জানি। এর মধ্যে প্রজ্ঞাবান, দার্শনিক, সত্যিকার কল্যাণকামী রাষ্ট্রনায়কদের স্মরণ করতে গেলে হাতের আঙুল পাঁচ বা ছয়ে গিয়ে থেমে যায়। আর বাকী লক্ষ লক্ষ রাজা, রাজাধিরাজ, সম্রাট, রাষ্ট্রনায়করা হচ্ছেন শোষণ,পীড়ন দমনের ধারাবাহিকতা মাত্র।
মানবিক উদারতা, অহিংসা এবং সব মতের মানুষের প্রতি সমবেদনা জানানো দার্শনিক, সুশাসক পৃথিবীতে বিরল। হাজার বছরে মাত্র কয়েকবার এঁদের দেখা মিলেছে।
বললাম, আমাকে যদি জিজ্ঞেস কর, আমার ক্ষুদ্র ইতিহাসজ্ঞানে প্রথমেই যার নাম মনে আসে, তিনি’ মেডিটেশন’- বইয়ের দার্শনিক রোমান সম্রাট মারকাস অরেলিয়াস (Marcus Aurelius)। তারপরে আসে, সম্রাট অশোকের (Ashoka Maurya) কথা। যদিও তাঁর প্রারম্ভিক যুদ্ধ-জীবন দিয়ে তর্ক আছে।
এরপরে খলিফা উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ; অটোমান সাম্রাজ্য সুলেমান দ্য ম্যাগনিফিসেন্ট; মোঘল সম্রাট আকবর দ্য গ্রেট; আমেরিকার আব্রাহাম লিংকন; মালয়েশিয়ার মাহাথির মোহাম্মদ; সিঙ্গাপুরের লি কুয়ান ইউ । এই দেখো, আট জনের পরে আমি আর কাউকে খুঁজেই পাচ্ছি না।
সুতরাং বহু হাজার বছর ধরে,রাষ্ট্র , রাজনীতি ও ক্ষমতা নিষ্ঠুর,চতুর, পীড়নকারী, অসভ্য, বর্বরদের হাতেই ছিল। আরো শত বছর পরে আমার কথার প্রতিধ্বনি যদি থেকে যায়, সেই পাঠক যেন এটা ভেবে স্বস্থ থাকে, পৃথিবী এরকমই ছিল, আছে এবং থাকবে।
প্রথম প্রকাশঃ ২৩শে মার্চ, ২০২৬