দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে ঢাকার , মিরপুরেরও।( উল্লেখ্য , আমি মিরপুরে থাকি গত ৩৫ বছর ধরে।)
চোখ আটকে আটকে যাচ্ছে বড়ো রঙচঙে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে বা উঁচু বিল্ডিং এর গায়ে।
১০ নাম্বার গোলচত্বর পার হলেই সেনপাড়া পর্বতা, কাজীপাড়া শেওড়াপাড়া শুরু।
এতো বেশী হাইরাইজ বিল্ডিং হয়ে গেছে ইতোমধ্যে যে আকাশ দেখাই মুশকিল !

প্রথম যেবার কক্সবাজার গেলাম,আমি আর বউ , বছর দশ এগারো আগে হবে মনে হয়। কলাতলী মোড় পার হওয়ার পরে দূরে দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের হঠাৎ আবির্ভাব, বাস এগিয়ে চলার সাথে সাথে আবার অনেক ঘরবাড়ীর ফাঁকে হারিয়ে গেল। খুঁজেই পেলাম না।
ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে হোটেলে ওঠার পরে পাঁচতলায় রুমের ব্যালকনী থেকে হু হু বাতাস আর সমুদ্র।
তারপরের কয়েকদিন শুধুই সমুদ্রবিলাস।

অফিসের মিটিং এ ডার্লিং হারবারে (সিডনি) ছিলাম বেশ কয়েকবার, প্রথমবারের অভিজ্ঞতাটা বলি।
সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে পৌঁছেছি ।সঙ্গে কলিগ ছিলেন একজন যিনি আগেও কয়েকবার এসেছেন।তাঁর কাছে সিডনি মানে উত্তরা, সে সানডে মার্কেট নামে এক সাপ্তাহিক মার্কেট কোথায় হয় সেইটাও জানে। রাতের খাওয়া সারলাম এক চাইনিজ রেস্তোরাতে।
আশে পাশে সবই চীনা লোকজন , চাইনিজ সাইনবোর্ড লেখা দোকান মায় হোটেলের রিসেপসনিস্ট , বয় বেয়ারা পর্যন্ত চাইনিজ।
পরেরদিন সকালে ক্রেতার সাথে দেখা।ক্রেতা বললো, কেমন লাগছে সিডনি? আমি কইলাম এইডার সাথে হংকং এর কোন তফাত নাইরে ভাই । সারি সারি চীনা মুখ, চীনা খাবার , উঁচু উঁচু বিল্ডিং । সে স্বীকার করলো আমার অবজার্ভেশন ঠিক। আমার হোটেল ও ডার্লিং হারবারের আশে পাশে সবই চীনাদের দখলে।
পরের দিন সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে আকাশচুম্বী বিল্ডিং এর ফাঁক দিয়ে মিনিট দশেক না হাঁটতেই হঠাৎ সমুদ্র !
আজিব ! হু হু বাতাসে , অন্ধকারের হারবারের এইপাশ থেকে ওইপাশে আলোকোজ্জ্বল গগনচুম্বী দালান।
বুঝলাম, অতিসভ্যতা এঁদের সমুদ্র, বৃক্ষ সবকিছুকেই রেখে দিয়েছে, কিন্তু রেখেছে চোখের আড়াল করে।
মিরপুরের রোকেয়া সরণী দিয়ে যেতে যেতে কক্সবাজার আর ডার্লিং হারবারের কথা মনে পড়ে গেল।

হায় !আকাশ আর সমুদ্রের পাশে এই সব অট্টালিকার কোন মানে হয় !

প্রথম প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল,২০১৩