by Jahid | Apr 11, 2026 | ছিন্নপত্র, দর্শন
অবহেলায় বেড়ে ওঠা আমার ছোট্ট মেয়েটা দেড় বছরে পা দিল ।
আধো আধো বুলিতে, সারাক্ষণ সবাইকে ত্রস্ত করে রেখেছে সে । ধর্ ধর্ ধর্ , গেলো গেলো গেলো টাইপ অবস্থা আর কী ! কখন, কোথায় সে হিসু করবে, পটি করবে; কখন কেন কোনটা ফেলবে কোনই আন্দাজ নাই।
ওর তুলনায় আমার বড় মেয়েটা অনেক মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু ছিল। আব্বা-আম্মা অসুস্থ হওয়ার পর আমার স্ত্রীর ব্যস্ততা বেড়ে গেছে, বেড়ে গেছে আমারও। এই মেয়েটা আমাকে ২৪ ঘণ্টায় জাগ্রত অবস্থায় পায় মাত্র ঘণ্টা খানেক। বাকী যেটুকু সময়ই বাসায় থাকি , হয় ওকে ঘুমন্ত অবস্থায় রেখে আসি অথবা ও রাত জেগেই থাকে আমি ভোঁসভোঁস করে ঘুমাই।
আমার আম্মা আমাকে ‘বাবা’ বলে ডাকে, আর বড়কন্যা ‘পাপা’ বলে ডাকে।
ছোট মেয়েটা এর মাঝামাঝি গিয়ে আমাকে ডাকে ‘ বাপা’ বলে।
কাছাকাছি হলেই গেলেই বাপা, বাপা বাপা ডাক দিয়ে গা ঘেঁষে ওঠে !
এইসব মুহূর্তের জন্য আমি ভাবি, বেঁচে থাকাটা আসলেই চমৎকার !
প্রথম প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল, ২০১৩
by Jahid | Apr 11, 2026 | ছিন্নপত্র, দর্শন
আপনি সিলেক্টেড পছন্দনীয় গান শুনে আনন্দ পেতে চাচ্ছেন।
সিডি কিনতে হবে ভাই ! মনোযোগ দিয়ে রিপিট করে , ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উপভোগ করতে হলে।
আবার ধরেন , আপনার মনোযোগ নেই তেমন , হাতেও সময় আছে অফুরন্ত। এফএম রেডিও খুলে দিন। আরজে গুলোর রাজ্যের বকর বকর বাংলিশ, দুনিয়ার তাবৎ বিষয়ে তাদের জ্ঞানের বহর শুনতে শুনতে বিরক্ত হতে হতে হঠাৎ একটা ভালো গান শুনে ফেললেও ফেলতে পারেন। এইটা কিন্তু ফ্রি ! ইউ ডোন্ট হ্যাভ টু পে ফর ইট !
আমি দুইটাই করি। নানারকম নতুন অ্যালবামের গান শুনতে হলে এফএম রেডিওর বিকল্প নাই। কিন্তু এই আরজে গুলোর কথার যন্ত্রণা বেশীরভাগ সময়েই সহনীয় পর্যায়ে থাকে না। তখন সিডি ছাড়ি।
ফেসবুকের পোস্টের ব্যাপারেও আমার অবস্থা অনেকটা তাই।
আমার ফ্রেন্ডলিষ্টের মধ্যে বেশিরভাগই , নানা ভঙ্গিমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক ছবি লোড করা ছাড়া বা হঠাৎ হঠাৎ প্রকৃতি ও হাদিসের পেজ শেয়ার করা ছাড়া তেমন কোন অ্যাক্টিভিটিজে নাই। যাঁদেরকে ফলো করি বা যাঁরা ভালো লেখেন , তাঁদের লেখাগুলোই সিডি শোনার মতো আমার কাছে প্রায়োরিটি পায়। আবার একইসঙ্গে এইটাও সত্য, সবার ওয়াল ধৈর্য ধরে পড়তে পারলে মাঝে মাঝে চমৎকার কিছু মুগ্ধ হওয়ার মতো পোস্ট চোখে পড়ে।
ইদানীং আমার হয়েছে আরেক সমস্যা। অফিসে ফেসবুক রেস্ট্রিক্টেড। বেকুব কিছু ফেসবুকারের অতি-ব্যবহারের প্রকোপে এটা দিছে ম্যানেজমেন্ট ব্যান কইরা । আর এই বেকুবগুলোর জন্য আমার মতো সদাশয় ফেসবুকারকে হয় অফিসে আসার আগে মিনিট বিশেকের জন্য অথবা সারাদিন ঘানি ঠেলে রাতের খাওয়া দাওয়ার পর আধা ঘণ্টা ফেসবুকে। আমি আবার ভীষণ ঘুমকাতুরে, বেশীরভাগ দিনই খবর দেখতে দেখতে বা চ্যানেলের কোন মুভি দেখতে দেখতে ঢুলে ঢুলে পড়ি। আমার নতুন অভিভাবিকা বড়কন্যা এসে মনে করিয়ে দেয়, দাঁত মেজে ঘুমিয়ে পড়ো !
কী দাঁড়াইলো ব্যাপারটা?
আপাতত ফেসবুকে আমার অ্যাক্টিভিটিজ ২৪ ঘণ্টায় বড়োজোর ১ ঘণ্টা। দেখে শুনে সিডি শোনার মতো করে বিশেষ কিছু পোস্ট পড়া ছাড়া আর কোন উপায় দেখছিনা।
ফেসবুকের বন্ধুরা সবাই ভালো থাকুন, আমার সীমাবদ্ধতাকে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন।
প্রথম প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল, ২০১৩
by Jahid | Apr 11, 2026 | ছিন্নপত্র
দৃশ্যপট বদলে যাচ্ছে ঢাকার , মিরপুরেরও।( উল্লেখ্য , আমি মিরপুরে থাকি গত ৩৫ বছর ধরে।)
চোখ আটকে আটকে যাচ্ছে বড়ো রঙচঙে বিজ্ঞাপনের বিলবোর্ডে বা উঁচু বিল্ডিং এর গায়ে।
১০ নাম্বার গোলচত্বর পার হলেই সেনপাড়া পর্বতা, কাজীপাড়া শেওড়াপাড়া শুরু।
এতো বেশী হাইরাইজ বিল্ডিং হয়ে গেছে ইতোমধ্যে যে আকাশ দেখাই মুশকিল !
প্রথম যেবার কক্সবাজার গেলাম,আমি আর বউ , বছর দশ এগারো আগে হবে মনে হয়। কলাতলী মোড় পার হওয়ার পরে দূরে দিগন্ত বিস্তৃত সমুদ্রের হঠাৎ আবির্ভাব, বাস এগিয়ে চলার সাথে সাথে আবার অনেক ঘরবাড়ীর ফাঁকে হারিয়ে গেল। খুঁজেই পেলাম না।
ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে হোটেলে ওঠার পরে পাঁচতলায় রুমের ব্যালকনী থেকে হু হু বাতাস আর সমুদ্র।
তারপরের কয়েকদিন শুধুই সমুদ্রবিলাস।
অফিসের মিটিং এ ডার্লিং হারবারে (সিডনি) ছিলাম বেশ কয়েকবার, প্রথমবারের অভিজ্ঞতাটা বলি।
সন্ধ্যায় এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে পৌঁছেছি ।সঙ্গে কলিগ ছিলেন একজন যিনি আগেও কয়েকবার এসেছেন।তাঁর কাছে সিডনি মানে উত্তরা, সে সানডে মার্কেট নামে এক সাপ্তাহিক মার্কেট কোথায় হয় সেইটাও জানে। রাতের খাওয়া সারলাম এক চাইনিজ রেস্তোরাতে।
আশে পাশে সবই চীনা লোকজন , চাইনিজ সাইনবোর্ড লেখা দোকান মায় হোটেলের রিসেপসনিস্ট , বয় বেয়ারা পর্যন্ত চাইনিজ।
পরেরদিন সকালে ক্রেতার সাথে দেখা।ক্রেতা বললো, কেমন লাগছে সিডনি? আমি কইলাম এইডার সাথে হংকং এর কোন তফাত নাইরে ভাই । সারি সারি চীনা মুখ, চীনা খাবার , উঁচু উঁচু বিল্ডিং । সে স্বীকার করলো আমার অবজার্ভেশন ঠিক। আমার হোটেল ও ডার্লিং হারবারের আশে পাশে সবই চীনাদের দখলে।
পরের দিন সন্ধ্যায় হাঁটতে বেরিয়ে আকাশচুম্বী বিল্ডিং এর ফাঁক দিয়ে মিনিট দশেক না হাঁটতেই হঠাৎ সমুদ্র !
আজিব ! হু হু বাতাসে , অন্ধকারের হারবারের এইপাশ থেকে ওইপাশে আলোকোজ্জ্বল গগনচুম্বী দালান।
বুঝলাম, অতিসভ্যতা এঁদের সমুদ্র, বৃক্ষ সবকিছুকেই রেখে দিয়েছে, কিন্তু রেখেছে চোখের আড়াল করে।
মিরপুরের রোকেয়া সরণী দিয়ে যেতে যেতে কক্সবাজার আর ডার্লিং হারবারের কথা মনে পড়ে গেল।
হায় !আকাশ আর সমুদ্রের পাশে এই সব অট্টালিকার কোন মানে হয় !
প্রথম প্রকাশ: ১১ই এপ্রিল,২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য