On Education

1.The freethinking of one age is the common sense of the next.( Mathew Arnold)
2.Education’s Purpose is to replace an empty mind with an open one.(Malcolm Forbes)
3.It is the mark of an educated mind to be able to entertain a thought without accepting it.(Aristotle)
4.I never teach my pupils, I only provide the conditions in which they can learn.( Albert Einstein)
5.Don’t limit a child to your own learning, for he was born in another time.( Rabindranath Tagore)
6.I am a part of everything that I have read.( Theodore Roosevelt )
7.Poor is the pupil who does not surpass his master.( Leonardo da Vinci)
8.If I were again beginning my studies, I would follow the advice of Plato and start with Mathematics.(Galileo Galilei)
9.Education is the most powerful weapon which you can use change the world.(Nelson Mandela)

প্রকাশকালঃ ১০ই জুন, ২০১৭

যাপিত জীবনের ক্লান্তি

জানি—তবু জানি
নারীর হৃদয়—প্রেম—শিশু—গৃহ—নয় সবখানি;
অর্থে নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে
ক্লান্ত- ক্লান্ত করে; ”

যাপিত জীবনের ক্লান্তি আমাকে নিয়মিত বিরতিতে বিষণ্ণতায় ভুগিয়েছে। ডিপ্রেশন, অবসন্নতা, ক্লান্তি যাই বলি না কেন, আমাদের প্রাত্যহিকতার অবিচ্ছেদ্য। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার নানারকম পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।

শৈশবে আম্মা ছিলেন সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয়। কৈশোরে আম্মার পাশাপাশি দিনলিপি লেখার অভ্যাস ছিল। মনের যে কোন অন্তর্গত ক্লান্তি , বেদনার ভার কমিয়ে ফেলার জন্য দিনলিপিতে সবকিছু লিখে ফেলতাম। গল্পের বইয়ের পাশাপাশি ছিল গান শোনার বাতিক । রবি শংকরের সেতার থেকে শুরু করে সোলস, ফিডব্যাক ! কলেজ জীবনে কৈশোরের অভ্যাসগুলোর পাশাপাশি নানাধরনের মোটিভেশনাল বই ও উজ্জীবক লেখা খুঁজে খুঁজে পড়তাম । প্রিয় বাক্যগুলো নিজের মত করে ডায়েরীতে টুকে রাখতাম।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়ার চাপ, দূরাগত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা প্রায়শ: বিষণ্ণ করতো আমাকে। ওই সময়ে পরীক্ষা, প্রিপারেটরি লিভ যাই হোক না কেন – হুট করে হল ছেড়ে বাসায় চলে যেতাম , আম্মার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার হলে ফিরে যেতাম। অনেক সময় সবচেয়ে মজার বন্ধুটিকে খুঁজে বের করে ওঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দিতাম।

বিয়ের আগে ও পরের বছরগুলোতে আমার জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে কাটানো সময় অনেকাংশে মানসিক বিষণ্ণতা দূর করত। গত বছর দশেক ধরে দুই কন্যাই আমার বিষণ্ণতা কাটানোর মহৌষধ।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনুষ্যজন্মের তুচ্ছতা যেভাবে বুঝতে পারছি, আবার না চাইতেই পাওয়া জীবন যে কতোখানি অমূল্য তা ও বোঝার চেষ্টা করছি। অনুতাপ, অনুশোচনা যৌক্তিক-অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষায় সীমিত সময় দিয়ে জীবনকে উপভোগ করার তাগিদ দিচ্ছি নিজেকে।
সাময়িক বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বন্ধু-মহলে অন্য সবার কি কি ধরণের ব্যক্তিগত পদ্ধতি আছে , জানতে ইচ্ছে করছে। একটা খোলামেলা আলোচনা হলে মন্দ হয় না !

প্রকাশকালঃ ২৬শে মে, ২০১৭

টোনাকাহিনী ( কনিষ্ঠা টুনটুনির ইশকুল )

যাহা অবশিষ্ট ছিল ও যাহার আশংকা করিতেছিলাম তাহাই হইয়াছে ; কনিষ্ঠা টুনটুনি বিদ্যালয়ে তাহার সহপাঠিনীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করিয়াছে। শ্রেণি শিক্ষিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য টুনির ডাক পড়িয়াছে।

দুরালাপে কথা কহিবার সময় টুনি কনিষ্ঠা টুনটুনির বিদ্যালয়ে যাইবার প্রাক্বালে যথারীতি আমার চতুর্বিংশ পুরুষ তুলিয়া অশ্রাব্য গালি বর্ষণ করিতেছিল ! সেই প্রাচীনতম পদ্ধতিতে আমার সমগ্র গোষ্ঠিকুণ্ডলী ধৌত করিতেছিল, আমাদের বংশ খারাপ, সকলেই গোঁয়ারের মতো চলে ; ভদ্রবংশের কেহ হইলে এরূপ আচরণ কখনই করিত না , ইত্যাদি ইত্যাদি।

কনিষ্ঠার কাছ হইতে তাৎক্ষণিক যাহা উদ্ধৃত ও শ্রুত হইয়াছে ; তাহা হইতেছে এই বিশৃঙ্খলার দায়িত্ব অপরপক্ষের! কারণ অপরপক্ষই প্রাথমিকভাবে শুরু করিয়াছিল , কনিষ্ঠা শুধু তাল মিলাইয়া তাহাকে গুটি কয়েক প্রহার করিয়াছে।

আমার সমগ্র বিদ্যালয় জীবনে বোধকরি সপ্তম শ্রেণীতে পড়িবার সময়, অপাঠ্য পুস্তক( সেবা প্রকাশনী, হুমায়ূন আহমেদ ইত্যাদি) লুকাইয়া পড়িতে গিয়া শ্রেণীকক্ষে কয়েক সতীর্থ সমেত বমাল ধরা পড়িয়াছিলাম। প্রধান শিক্ষকের নিকট হইতে গৃহে লালবর্ণ পত্র গিয়াছিল। উহাই প্রথম ও উহাই শেষ।

কোন বিদ্যালয়ে , কোন শ্রেণীতে পড়িতাম , কাহাদের সহিত খেলিতাম, দলাদলি করিতাম, কাহাকে প্রহার করিতাম, প্রহৃত হইতাম; আমাদের জনক-জননী কদাপি তাহার খোঁজ রাখিতেন। জনক প্রায়শ: ভুলিয়া যাইতেন আমি বিদ্যালয়ে নাকি মহাবিদ্যালয়ে ; বিজ্ঞান না কলাবিভাগে অধ্যয়ন করিতেছি। একবারই তিনি আমার অধ্যয়ন লইয়া মাথা ঘামাইয়াছিলেন, অন্যের সু অথবা কুপরামর্শে আমাকে অর্থনীতি বিভাগ হইতে মূলোৎপাটন করিয়া বস্ত্র প্রকৌশলীতে ভর্তি হইতে বাধ্য করিয়াছিলেন। উহাই প্রথম উহাই শেষ।

স্বল্পসংখ্যক সন্তানাদি লইয়া হইয়াছে আমাদের সমস্যা, কী করিলে কী হইবে তাহা ভাবিতে ভাবিতে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের রাত্রির সুখনিদ্রার তিরোধান ঘটিতেছে !

ওপেক্স স্মৃতি, নস্টালজিক

ওপেক্স গ্রুপের চাকরির প্রথমদিকে মেজর(অব:) সাজেদ স্যার এসে অন্য একটা টিমে যোগ দিলেন।

একটা বিশ ফুট বাই বিশ ফুট রুমে তিনতলার ছাদের ঠিক নিচে চারজনের চারটা টেবিল। ৯৮ সালের জুনের ভয়ংকর দুর্বিষহ গরম। বাজেটের অজুহাতে এসি লাগানো হচ্ছে না। আমরা কাজ করি আর ঘামি; ঘামি আর কাজ করি !

কী মনে করে আমাদের রুমে একদিন ডিরেক্টর কর্নেল (অব:) ফরিদ স্যারের আগমন। সাজেদ স্যার খুব বিনয়ী গলায় অনুমতি নিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করলেন।স্মৃতি থেকে লিখছি , গল্পটা অনেকটা এরকম ছিল।

দুই গ্রামের দুই হাড়কিপটের ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে, কিন্তু যোগ্য সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । কিপ্টেমির ‘সুখ্যাতি’ শুনে সম্বন্ধ করতে যায়, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় ওই লোক মিতব্যয়ী নন মোটেও।
বহু-গ্রাম ঘুরে ঘুরে অনেক খুঁজে ছেলের বাপ অবশেষে হবু বিয়াইয়ের বাড়ী প্রায় ভরা সন্ধ্যায় পৌঁছালেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, খাওয়ার ডাক আর পরে না। পাত্রের বাপ বুঝলেন, তিনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন ! সারা বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার, একটা মাত্র তেলের কুপি টিমটিময়ে জ্বলছে। একথা সেকথার পরে গভীর রাতে খাওয়ার ডাক ! দাওয়ার বসে, সামনের পাত্রে সামান্য খাবার দিয়েই মেয়ের বাপ ফুঁ দিয়ে একটা মাত্র কুপিটিও নিভিয়ে দিলেন।
‘দেখে দেখে খাওয়ার কি আছে। খামোখা তেল নষ্ট!’
খাওয়া শেষের দিকে আবার বাতি জ্বালিয়ে দেখেন মেহমান বিয়াই সাহেব তার গায়ের গামছা আর লুঙ্গি খুলে পাশে রেখে দিয়েছে , পুরো দিগম্বর ! তিনিও হাসি হাসি মুখে বললেন, ‘এই গরমে অন্ধকারে খামোখা লুঙ্গি গামছা ঘামিয়ে লাভ কি!’
দুই হাড়কিপটে বিয়াই তাদের যোগ্য সম্বন্ধ পেয়েছিল।

গল্প শেষে ডিরেক্টর স্যারকে সাজেদ স্যার বললেন, ‘স্যার আমাগো তো এখন জামা কাপড় খুইল্যা মাথায় দিয়া বইস্যা কাজ করতে হইব, যতক্ষণ না এসি লাগান।’

পরের দিন আমাদের অফিস রুমে এসি চলে আসলো !
Feeling Nostalgic for OPEX Group

অভ্যস্ততা !

ভালোবাসায় , প্রেমে, করুণায়, ঘৃণায়, শরীরে , শীততাপে, ব্যক্তিগত বাহনে, ফেসবুকে, মোবাইলে কতকিছুতেই না মানুষ ক্রমশ: অভ্যস্ত হতে থাকে !

লোকে যেটাকে স্মার্ট-ফোন বলে –বছর চারেক আগেও কেমন অনভ্যস্ত ছিলাম ওইটাতে । মার্কামারা একটা Nokia ফোনে Key চেপে চেপে এসএমএস দিয়ে ব্যাপক বিনোদন পেতাম,। মাঝে মাঝে চিন্তা করতাম , ইস একটা Nokia –N বা E সিরিজের একটা ফোন কিনলে বেশ হতো ! কয়েকজনের স্মার্ট-ফোন দেখে অবাক ভাবে চিন্তা করলাম ক্যাম্নে কী ! কলিগদের কেউ কেউ বলল, এই ফোনে মেসেজ লেখা , ই-মেইল চেক করা ইন্টারনেট সার্ফিং করা অনেক সুবিধা। আমার তখন বাঁধা উত্তর ছিল, ভাইরে আমি ফোনে হয় এসএমএস দিই অথবা কথা বলি। ফোনে আমার রেডিও, টর্চ , ইন্টারনেট না থাকলেও চলবে ! মোবাইলে টর্চ লাইট বা ই-মেইল চেক করার দরকারটা কি এইটা আমি বুঝতে পারতাম না। কথা বলা ছাড়া মোবাইলের আর কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এই ব্যাপারেও আমি মফিজ ছিলাম। জানি না , কেমন কেমন করে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড আই-ফোন কিনে সেটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখন আমার আমার পক্ষে নকিয়ার কী প্রেস ফোনে ব্যাক করা সম্ভব না মনে হয়!

আম্মারা গ্রামে আর তাঁর এক মামী তখন জেলা শহরে থাকতেন। গ্রামের বাড়ী এলেই আম্মার মামীর হারিকেনের আলোতে মাথা ঘুরত, উনি মনে হয় ওই টিমটিমে আলো সহ্য করতে পারতেন না। উনার এই অবস্থা দেখে আম্মারা ভাবতেন, উনি বোধহয় ‘ভাব’ নিচ্ছেন। পরে আমরা ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার পরে আম্মা নিজেই বুঝলেন উনিও আর হারিকেনের আলো সহ্য করতে পারছেন না । নিতান্তই নির্দোষ অভ্যস্ততা !

বছর তিরিশেক আগে থেকেই , ঢাকার সাদা টিউব লাইটে অভ্যস্ত আমি। নানাবাড়িতে তখনও ফিলিপ্সের হলদে গোল বাতি। নানা বাড়ীর ওই বাতি আমার মোটেও ভালো লাগতো না। কেমন যেন ম্লান , ধূসর ও দরিদ্র মনে হতো। আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম সাদাটে উজ্জ্বল আলোয়।
বছর খানেকের স্মার্ট-ফোন ব্যবহারে আমার কী নিদারুণ নিষ্কৃতি হীন অভ্যস্ততা!

প্রকাশকালঃ ৬ই এপ্রিল,২০১৭

স্কুলস্মৃতি ও খাঁটি ঘি সমাচার

স্কুলজীবনে সবচেয়ে বেশী সন্ত্রস্ত থাকতাম রণজিৎ কুমার মৌলিক স্যারকে নিয়ে। তাঁকে নিয়ে এতো বেশী তিক্ত মধুর স্মৃতি , এখনো যদি স্কুল ফ্রেন্ডরা একসাথে হই, রণজিৎ স্যারের কথা উঠবেই উঠবে।তিনি যেমন রাশভারী ছিলেন ,তাঁকে ত্যক্ত করার মতো উপাদানও ( ছাত্র ও ছাত্রদের আচরণ, আর কী! ) আমাদের ক্লাসে কম ছিলনা।

আমাদের এক বন্ধু ছিল মুকুল, অপ্রাসঙ্গিক কথা বলায় ওর জুড়ি মেলা ভার। স্যার হয়তো ভয়েজ ন্যারেশন পড়াচ্ছেন, মুকুল মাঝখানে দাঁড়িয়ে ‘স্যার একটা প্রশ্ন ছিল’ বলে সন্ধি-সমাস নিয়া ত্যানা প্যাঁচানো শুরু করলো।

মুকুলকে দেওয়া স্যারের অনেকগুলো ঝাড়ির মধ্যে একটা ভীষণ জ্বলজ্বলে।

সেবার ও মুকুল ত্যানা প্যাঁচানো শুরু করতেই, স্যার কেন জানি না অনেকক্ষণ ধরে খুব মন দিয়ে শুনলেন।
বললেন , ‘কথা শেষ হইছে?’
‘ জী স্যার !’

স্যার খুব খুব স্বাভাবিক গলায় ‘মুকুল তোর দেশের বাড়ি কোথায়?’
জেলার নাম বললো মুকুল।
‘শোন্‌ , তোদের ওইখানে খাঁটি ভালো ঘি পাওয়া যায়?’
‘জী স্যার ’
‘তোর বাপ্‌রে কবি, খাঁটি ঘি নিয়ে আসতে।’
আমরা তখনো বুঝতে পারছি না , ঘটনা কোনদিকে যাচ্ছে।
‘ভোরে ঘুম থেকে উঠবি। এক টেবিল চামচ ঘি , সঙ্গে একটু চিনি দিবি চামচের উপর। এইভাবে কয়েকমাস খাবি।

মুকুলের বিনীত প্রশ্ন ‘কিন্তু স্যার এইটা খাইলে কী হবে?’

‘শোন্‌ মুকুল, এইটা পাগলামির ওষুধ , এইটা করলে তোর পাগলামি সারবে ! কারণ তুই একটা পাগল !’
এইবার সারা ক্লাস মাথা নিচু করে হো হো করে হেসে উঠলাম এবং অনেকে হাসি চাপার ব্যর্থ চেষ্টা করে গেলাম !