by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র
আমার কোন ভৌতিক অভিজ্ঞতা নেই।
তবে, জীবিত একজন মানুষকে আমার ভূত বলে ভয় হতো। দাদাকে কবর দেয়া হয়েছিল মিরপুরের কালশী গোরস্থানে। আব্বা ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। ঈদ ও নানা পার্বণে দাদার গোরখোদক আমাদের বাড়িতে সাহায্যের জন্য আসত। আমি বলছি ৮০-৮১ সালের কথা। আব্বা সবসময় টুকটাক সামর্থ্য মতো সাহায্য করতেন।
গোরখোদক ছিল উর্দুভাষী। কেন জানিনা তাঁকে আমি কখনো দিনের আলোতে আসতে দেখিনি। হতে পারে, কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ সেরে ঠিক ভরা সন্ধ্যায় আমাদের বাড়ির গেটে এসে টুকটুক করে ধাক্কা দিত। ঘর থেকে আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর বোঝার চেষ্টা করতাম , কেউ দরজায় আছে নাকি নেই!
সবসময় একটা সাদা ময়লাটে লুঙ্গি আর সবুজ তেল চিটচিটে একটা ফতুয়া পড়তে দেখেছি তাকে। নতুন জামা দিলেও সে এটাই পড়ে আসত। আমার জন্য ভয়ের ব্যাপার ছিল তার খ্যাসখ্যাসে স্বর, দৈহিক গঠন আর চেহারা। চুলহীন, ভাঙ্গা গালের মিশমিশে কাল, কঙ্কালসার প্রায় ৬ ফুট লম্বা লোকটিকে দেখলেই আমার ভয় লাগত। মৃত্যুর মতো একটা দুর্বোধ্য ব্যাপারের সঙ্গে সে জড়িত। আমার মৃত্যু চেতনা তখনও কিছুই হয় নি। অসুস্থতা ও বয়স্কদের মৃত্যু যে ভাল কিছু না , সেটা বুঝতাম।
মিরপুর তখনো পাড়াগাঁয়ের মত। মেইন রোড থেকে শুরু ভাঙ্গাচোরা গলির রাস্তা, কিছু বাড়ির সামনে টিমটিমে গোল হলুদ বাতি ; সেটা এক ফুট দূরের অন্ধকারকেও আলোকিত করতে পারত না। সন্ধ্যার পরে মুরগীর খোঁয়াড়ে ঢোকার মতো করে বাচ্চারা টেবিলে টেবিলে হ্যারিকেন নিয়ে বসতাম। প্রতি সন্ধ্যায় আবশ্যিকভাবে লোডশেডিং। কখনো ৯টার নাটকের আগে আগে ফিরত; কখনো আরো দেরীতে।
সেই আবছায়া সময়ে দাদার গোরখোদককে দেখলেই আমি ভয় পেতাম। আচমকা যে কোন এক সন্ধ্যায় লোকটার সেই ফ্যাসফ্যাসে গলায়, মাথা নিচু করে প্রায় অস্পষ্ট স্বরে ‘ বাবু ওয়াকিল সাহাব ঘরমে হ্যায় কেয়া ?’ অথবা আধভাঙ্গা বাংলায় ‘ওকিল সাহাব ঘোরে আছে বাবু ?’- শুনেই আমি ভয়ে কাবু হয়ে যেতাম।
এমনিতেই হয়তো জ্বর এসেছিল, আম্মা ধরে নিলেন ভয় পেয়ে হয়েছে। মনে আছে, পরের বার আম্মা তাকে ওইভাবে সন্ধ্যাবেলায় না আসতে আর আমার ভয় পাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে কটু কথা বলেছিল। দিনের আলোতে আসতে বলেছিল। কিন্তু , তার মতো নিরীহ একটা লোককে, ছোট্ট একটা বাচ্চা কেন ভয় পাচ্ছে, সেটা সেও নিশ্চয় মাথা নিচু করে ভাবত।
প্রথম প্রকাশ্ঃ ১২ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
অভিজ্ঞতাটা আমার অগ্রজের।
বাড়ির পাশে বাজারে ছোট চাচার এক বন্ধুর কসমেটিকসের দোকান ছিল। আমি ও ভাইয়া দুজনেই স্কুলে পড়ি।মাঝে সাঁঝে ছোটখাটো কিছু একটা, এই যেমন শীতের দিনের ভেসলিন বা ভ্যানিসিং ক্রিম কিনতে আম্মা দোকানে পাঠান। দোকানের মালিক হ্যান্ডসাম যুবক ; সারাক্ষণ কিশোরী তরুণীদের ভিড় লেগে থাকে। তবে মহিলা ক্রেতারা যে দাম নিয়ে বড্ড দরকষাকষি করে সেটা ওখানে দাঁড়ালেই টের পাওয়া যেত। হয়তো, ১ টাকা ডজনের কালো হেয়ার ক্লিপ যেটা এমনিতেই সস্তা ; সেটার দাম কমানোর জন্যও এরা এক ঘণ্টা পার করত!
তো ভাইয়া কী যেন একটা কিনতে গেছে , সেটার কথা বলে অপেক্ষা করছে। আগে থেকেই দুইজন তরুণী দোকানের অর্ধেক কসমেটিকস নামিয়ে সামনের ডিসপ্লের উপর স্তূপ করে রেখেছে। অবশেষে দুটি পণ্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দামাদামি আগেই কিছুটা হয়েছিল। ফাইনালি চাচা খুব দ্রুত লয়ে বললেন, আপনাদের কাছে কি আর দাম রাখব আপা ! এটা সাত আর এটা পাঁচ,মোট পনের টাকা ; আপনি তের টাকা দিয়েন। মহিলা ভীষণ খুশী হয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১৩ টাকা বের করে দিয়ে চলে গেলেন।
ভাইয়া আর সেই চাচার বাকী কথোপকথন কি হয়েছিল জানি না। তবে এই ধরণের কাহিনী যে হয় সেটা বুঝলাম , যেদিন থেকে আমি বউয়ের সঙ্গে বাজার করা শুরু করলাম !
প্রকাশকালঃ ১১ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল
আচ্ছা , প্রযুক্তির উত্তরোত্তর ব্যবহারে কিছু মানুষ এতো বিরক্ত কেন ?
আপনি গাড়ি ব্যবহার করছেন—দ্রুততর প্রযুক্তি।এখন প্রযুক্তি ভাল না, পরিবেশ-বান্ধব না বলে কি আপনি পুরনো যুগে ফিরে যেতে চাইবেন? আমাদের পক্ষে কি আর মান্ধাতার আমলের যানবাহন ব্যবহার করা সম্ভব? অথবা বিমানে চলাচল বাদ দিয়ে হেঁটে চলাফেরা করা ? মোবাইল ফোন ছাড়া আমাদের একদিনও চলবে ? হাজার ঠ্যাকায় পড়লেও আমি আপনি কি সেই অ্যানালগ টেলিফোনের যুগে ফিরে যেতে চাইব ?
সময়ের সাথে সাথে নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করে খাপ খাইয়ে চলার মানসিক সক্ষমতা অর্জন করা অনিবার্য ! অযুত-নিযুত প্রযুক্তির ভিতরে থেকে এই বৈপিরিত্য আর ভণ্ডামো করার কোন মানে হয় না !
প্রকাশকালঃ ৬ই নভেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
বিনয় ও অহংকার দু’টি আচরণই এক্সট্রিম বা চরমভাবাপন্ন । ভুল বোঝাবুঝির সমূহ সম্ভাবনা । আমাদের সমাজে বিনয়ী ব্যক্তিকে সচরাচর শক্তিহীন ও নির্বোধ ভাবা হয়। অহংকারী, উদ্ধত লোকের সুবিধা হচ্ছে তাঁকে নির্বোধ ভাবার সুযোগ অন্যদের কম। কিন্তু এঁদের সমস্যা হচ্ছে এঁরা মানবিক হতে পারেন না। অহংবোধ তাঁদেরকে এক ভীষণ দূরত্বের নিঃসঙ্গ দ্বীপ করে রাখে।
আমার মনে হয়, বিনয় ও অহংকারের ভারসাম্যে মানবিকতার পরিমিতিবোধ নিয়ে চলাটাই শ্রেয়।
প্রকাশকালঃ ১১ই জুন, ২০১৯
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
মনে করুন, এই মুহূর্তে আপনার জীবনে পাঁচ ছয় রকমের সমস্যা আছে। আপনার চাকরির ক্যারিয়ার বা ব্যবসা ; পরিবারের ভবিষ্যৎ, আপনার স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, দেশের অসহনীয় পরিস্থিতি।
ধরুন, আপনার চাকরি বা ব্যবসা একটা সহনীয় পর্যায়ে আছে । আপনার সামনে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ। ধরে নিলাম সঞ্চয়-টঞ্চয় করে কোনভাবে আপনার মনে হল পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়তো আপনি মোটামুটি একটা শেপে নিয়ে এসেছেন ।
সেটা হলে, এরপরেই আপনি চিন্তিত হয়ে উঠবেন আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে।
স্বাস্থ্য একটা পর্যায়ে আসলে আপনি চিন্তায় পড়ে যাবেন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে।
‘প্রকৃতি শূন্যতা পরিহার করে!’ ঠিক এই সূত্রের মতই আপনার বিরাজমান সমস্যাগুলোর একেকটি একেক সময়ে প্রাইয়োরিটি পাবে। একটা কোন রকমে সাইজ করতে না করতেই, আরেকটি বড় হয়ে দেখা দেবে।
সবকিছু গুছিয়ে ফেললে আপনার সামনে এসে দাঁড়াবে বার্ধক্য ও মৃত্যু !
বেঁচে থাকলে প্রতি মুহূর্তে বিদ্যমান সমস্যার একেকটি মূর্তিমান আতংকের মতো আপনাকে কাবু করে ফেলার চেষ্টা করবে। কীভাবে আপনি সমস্যাগুলোকে ব্যালান্স করে চলবেন ; কোন্ সমস্যায় উদ্বিগ্ন হবেন, আর কোনটাতে হবেন না, সেটাই একটা শেখার ব্যাপার। আমি প্রতিনিয়ত শিখে চলার চেষ্টা করছি। সবার জন্য শুভকামনা।
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
কয়েক দশকে ঢাকা শহর অগুনতি বিল্ডিং, শপিং মল দিয়ে ভরে গেছে।
ইদানীং রাস্তায় বের হলেই শুধু চোখে পড়ে ঝকঝকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল আর ফার্মেসি ! ফার্মেসিগুলোতে সারি সারি র্যাক ভর্তি ঔষধের প্যাকেটে ; নানা বর্ণের, নানা মাপের, নানা কোম্পানির !
অথচ শহর খুঁজে শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য একখণ্ড সবুজ পার্ক চোখে পড়ে না। অথচ দু’দণ্ড বসে মনের অবসাদ দূর করার জন্য একটা পাঠাগার নেই। বিকলাঙ্গ শরীর ও মনের জন্য কিছু নেই বলেই আগামীর ঢাকা শহর শুধুমাত্র বিল্ডিং , হাসপাতাল আর ফার্মেসির শহর !
প্রকাশকালঃ ১৩ই জুন,২০১৭
সাম্প্রতিক মন্তব্য