by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
মনে করুন, এই মুহূর্তে আপনার জীবনে পাঁচ ছয় রকমের সমস্যা আছে। আপনার চাকরির ক্যারিয়ার বা ব্যবসা ; পরিবারের ভবিষ্যৎ, আপনার স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, দেশের অসহনীয় পরিস্থিতি।
ধরুন, আপনার চাকরি বা ব্যবসা একটা সহনীয় পর্যায়ে আছে । আপনার সামনে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ। ধরে নিলাম সঞ্চয়-টঞ্চয় করে কোনভাবে আপনার মনে হল পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়তো আপনি মোটামুটি একটা শেপে নিয়ে এসেছেন ।
সেটা হলে, এরপরেই আপনি চিন্তিত হয়ে উঠবেন আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে।
স্বাস্থ্য একটা পর্যায়ে আসলে আপনি চিন্তায় পড়ে যাবেন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে।
‘প্রকৃতি শূন্যতা পরিহার করে!’ ঠিক এই সূত্রের মতই আপনার বিরাজমান সমস্যাগুলোর একেকটি একেক সময়ে প্রাইয়োরিটি পাবে। একটা কোন রকমে সাইজ করতে না করতেই, আরেকটি বড় হয়ে দেখা দেবে।
সবকিছু গুছিয়ে ফেললে আপনার সামনে এসে দাঁড়াবে বার্ধক্য ও মৃত্যু !
বেঁচে থাকলে প্রতি মুহূর্তে বিদ্যমান সমস্যার একেকটি মূর্তিমান আতংকের মতো আপনাকে কাবু করে ফেলার চেষ্টা করবে। কীভাবে আপনি সমস্যাগুলোকে ব্যালান্স করে চলবেন ; কোন্ সমস্যায় উদ্বিগ্ন হবেন, আর কোনটাতে হবেন না, সেটাই একটা শেখার ব্যাপার। আমি প্রতিনিয়ত শিখে চলার চেষ্টা করছি। সবার জন্য শুভকামনা।
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
কয়েক দশকে ঢাকা শহর অগুনতি বিল্ডিং, শপিং মল দিয়ে ভরে গেছে।
ইদানীং রাস্তায় বের হলেই শুধু চোখে পড়ে ঝকঝকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল আর ফার্মেসি ! ফার্মেসিগুলোতে সারি সারি র্যাক ভর্তি ঔষধের প্যাকেটে ; নানা বর্ণের, নানা মাপের, নানা কোম্পানির !
অথচ শহর খুঁজে শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য একখণ্ড সবুজ পার্ক চোখে পড়ে না। অথচ দু’দণ্ড বসে মনের অবসাদ দূর করার জন্য একটা পাঠাগার নেই। বিকলাঙ্গ শরীর ও মনের জন্য কিছু নেই বলেই আগামীর ঢাকা শহর শুধুমাত্র বিল্ডিং , হাসপাতাল আর ফার্মেসির শহর !
প্রকাশকালঃ ১৩ই জুন,২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, সমাজ ও রাজনীতি
1.The freethinking of one age is the common sense of the next.( Mathew Arnold)
2.Education’s Purpose is to replace an empty mind with an open one.(Malcolm Forbes)
3.It is the mark of an educated mind to be able to entertain a thought without accepting it.(Aristotle)
4.I never teach my pupils, I only provide the conditions in which they can learn.( Albert Einstein)
5.Don’t limit a child to your own learning, for he was born in another time.( Rabindranath Tagore)
6.I am a part of everything that I have read.( Theodore Roosevelt )
7.Poor is the pupil who does not surpass his master.( Leonardo da Vinci)
8.If I were again beginning my studies, I would follow the advice of Plato and start with Mathematics.(Galileo Galilei)
9.Education is the most powerful weapon which you can use change the world.(Nelson Mandela)
প্রকাশকালঃ ১০ই জুন, ২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল
জানি—তবু জানি
নারীর হৃদয়—প্রেম—শিশু—গৃহ—নয় সবখানি;
অর্থে নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে
ক্লান্ত- ক্লান্ত করে; ”
যাপিত জীবনের ক্লান্তি আমাকে নিয়মিত বিরতিতে বিষণ্ণতায় ভুগিয়েছে। ডিপ্রেশন, অবসন্নতা, ক্লান্তি যাই বলি না কেন, আমাদের প্রাত্যহিকতার অবিচ্ছেদ্য। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার নানারকম পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।
শৈশবে আম্মা ছিলেন সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয়। কৈশোরে আম্মার পাশাপাশি দিনলিপি লেখার অভ্যাস ছিল। মনের যে কোন অন্তর্গত ক্লান্তি , বেদনার ভার কমিয়ে ফেলার জন্য দিনলিপিতে সবকিছু লিখে ফেলতাম। গল্পের বইয়ের পাশাপাশি ছিল গান শোনার বাতিক । রবি শংকরের সেতার থেকে শুরু করে সোলস, ফিডব্যাক ! কলেজ জীবনে কৈশোরের অভ্যাসগুলোর পাশাপাশি নানাধরনের মোটিভেশনাল বই ও উজ্জীবক লেখা খুঁজে খুঁজে পড়তাম । প্রিয় বাক্যগুলো নিজের মত করে ডায়েরীতে টুকে রাখতাম।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়ার চাপ, দূরাগত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা প্রায়শ: বিষণ্ণ করতো আমাকে। ওই সময়ে পরীক্ষা, প্রিপারেটরি লিভ যাই হোক না কেন – হুট করে হল ছেড়ে বাসায় চলে যেতাম , আম্মার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার হলে ফিরে যেতাম। অনেক সময় সবচেয়ে মজার বন্ধুটিকে খুঁজে বের করে ওঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দিতাম।
বিয়ের আগে ও পরের বছরগুলোতে আমার জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে কাটানো সময় অনেকাংশে মানসিক বিষণ্ণতা দূর করত। গত বছর দশেক ধরে দুই কন্যাই আমার বিষণ্ণতা কাটানোর মহৌষধ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনুষ্যজন্মের তুচ্ছতা যেভাবে বুঝতে পারছি, আবার না চাইতেই পাওয়া জীবন যে কতোখানি অমূল্য তা ও বোঝার চেষ্টা করছি। অনুতাপ, অনুশোচনা যৌক্তিক-অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষায় সীমিত সময় দিয়ে জীবনকে উপভোগ করার তাগিদ দিচ্ছি নিজেকে।
সাময়িক বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বন্ধু-মহলে অন্য সবার কি কি ধরণের ব্যক্তিগত পদ্ধতি আছে , জানতে ইচ্ছে করছে। একটা খোলামেলা আলোচনা হলে মন্দ হয় না !
প্রকাশকালঃ ২৬শে মে, ২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, সাম্প্রতিক
যাহা অবশিষ্ট ছিল ও যাহার আশংকা করিতেছিলাম তাহাই হইয়াছে ; কনিষ্ঠা টুনটুনি বিদ্যালয়ে তাহার সহপাঠিনীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করিয়াছে। শ্রেণি শিক্ষিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য টুনির ডাক পড়িয়াছে।
দুরালাপে কথা কহিবার সময় টুনি কনিষ্ঠা টুনটুনির বিদ্যালয়ে যাইবার প্রাক্বালে যথারীতি আমার চতুর্বিংশ পুরুষ তুলিয়া অশ্রাব্য গালি বর্ষণ করিতেছিল ! সেই প্রাচীনতম পদ্ধতিতে আমার সমগ্র গোষ্ঠিকুণ্ডলী ধৌত করিতেছিল, আমাদের বংশ খারাপ, সকলেই গোঁয়ারের মতো চলে ; ভদ্রবংশের কেহ হইলে এরূপ আচরণ কখনই করিত না , ইত্যাদি ইত্যাদি।
কনিষ্ঠার কাছ হইতে তাৎক্ষণিক যাহা উদ্ধৃত ও শ্রুত হইয়াছে ; তাহা হইতেছে এই বিশৃঙ্খলার দায়িত্ব অপরপক্ষের! কারণ অপরপক্ষই প্রাথমিকভাবে শুরু করিয়াছিল , কনিষ্ঠা শুধু তাল মিলাইয়া তাহাকে গুটি কয়েক প্রহার করিয়াছে।
আমার সমগ্র বিদ্যালয় জীবনে বোধকরি সপ্তম শ্রেণীতে পড়িবার সময়, অপাঠ্য পুস্তক( সেবা প্রকাশনী, হুমায়ূন আহমেদ ইত্যাদি) লুকাইয়া পড়িতে গিয়া শ্রেণীকক্ষে কয়েক সতীর্থ সমেত বমাল ধরা পড়িয়াছিলাম। প্রধান শিক্ষকের নিকট হইতে গৃহে লালবর্ণ পত্র গিয়াছিল। উহাই প্রথম ও উহাই শেষ।
কোন বিদ্যালয়ে , কোন শ্রেণীতে পড়িতাম , কাহাদের সহিত খেলিতাম, দলাদলি করিতাম, কাহাকে প্রহার করিতাম, প্রহৃত হইতাম; আমাদের জনক-জননী কদাপি তাহার খোঁজ রাখিতেন। জনক প্রায়শ: ভুলিয়া যাইতেন আমি বিদ্যালয়ে নাকি মহাবিদ্যালয়ে ; বিজ্ঞান না কলাবিভাগে অধ্যয়ন করিতেছি। একবারই তিনি আমার অধ্যয়ন লইয়া মাথা ঘামাইয়াছিলেন, অন্যের সু অথবা কুপরামর্শে আমাকে অর্থনীতি বিভাগ হইতে মূলোৎপাটন করিয়া বস্ত্র প্রকৌশলীতে ভর্তি হইতে বাধ্য করিয়াছিলেন। উহাই প্রথম উহাই শেষ।
স্বল্পসংখ্যক সন্তানাদি লইয়া হইয়াছে আমাদের সমস্যা, কী করিলে কী হইবে তাহা ভাবিতে ভাবিতে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের রাত্রির সুখনিদ্রার তিরোধান ঘটিতেছে !
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র
ওপেক্স গ্রুপের চাকরির প্রথমদিকে মেজর(অব:) সাজেদ স্যার এসে অন্য একটা টিমে যোগ দিলেন।
একটা বিশ ফুট বাই বিশ ফুট রুমে তিনতলার ছাদের ঠিক নিচে চারজনের চারটা টেবিল। ৯৮ সালের জুনের ভয়ংকর দুর্বিষহ গরম। বাজেটের অজুহাতে এসি লাগানো হচ্ছে না। আমরা কাজ করি আর ঘামি; ঘামি আর কাজ করি !
কী মনে করে আমাদের রুমে একদিন ডিরেক্টর কর্নেল (অব:) ফরিদ স্যারের আগমন। সাজেদ স্যার খুব বিনয়ী গলায় অনুমতি নিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করলেন।স্মৃতি থেকে লিখছি , গল্পটা অনেকটা এরকম ছিল।
দুই গ্রামের দুই হাড়কিপটের ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে, কিন্তু যোগ্য সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । কিপ্টেমির ‘সুখ্যাতি’ শুনে সম্বন্ধ করতে যায়, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় ওই লোক মিতব্যয়ী নন মোটেও।
বহু-গ্রাম ঘুরে ঘুরে অনেক খুঁজে ছেলের বাপ অবশেষে হবু বিয়াইয়ের বাড়ী প্রায় ভরা সন্ধ্যায় পৌঁছালেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, খাওয়ার ডাক আর পরে না। পাত্রের বাপ বুঝলেন, তিনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন ! সারা বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার, একটা মাত্র তেলের কুপি টিমটিময়ে জ্বলছে। একথা সেকথার পরে গভীর রাতে খাওয়ার ডাক ! দাওয়ার বসে, সামনের পাত্রে সামান্য খাবার দিয়েই মেয়ের বাপ ফুঁ দিয়ে একটা মাত্র কুপিটিও নিভিয়ে দিলেন।
‘দেখে দেখে খাওয়ার কি আছে। খামোখা তেল নষ্ট!’
খাওয়া শেষের দিকে আবার বাতি জ্বালিয়ে দেখেন মেহমান বিয়াই সাহেব তার গায়ের গামছা আর লুঙ্গি খুলে পাশে রেখে দিয়েছে , পুরো দিগম্বর ! তিনিও হাসি হাসি মুখে বললেন, ‘এই গরমে অন্ধকারে খামোখা লুঙ্গি গামছা ঘামিয়ে লাভ কি!’
দুই হাড়কিপটে বিয়াই তাদের যোগ্য সম্বন্ধ পেয়েছিল।
গল্প শেষে ডিরেক্টর স্যারকে সাজেদ স্যার বললেন, ‘স্যার আমাগো তো এখন জামা কাপড় খুইল্যা মাথায় দিয়া বইস্যা কাজ করতে হইব, যতক্ষণ না এসি লাগান।’
পরের দিন আমাদের অফিস রুমে এসি চলে আসলো !
Feeling Nostalgic for OPEX Group
সাম্প্রতিক মন্তব্য