by Jahid | Dec 1, 2020 | ছিন্নপত্র
আশির দশকে আধুনিক কবিতার একটা লাইন পড়েছিলাম। দুঃখিত কবির নাম মনে করতে পারছিনা। তিনি লিখেছিলেন, “ তখন আমার বয়স ছিল কম , রাতে ঘুম হতো ,আর প্রস্রাবের রং ছিল সাদা।” স্মৃতি থেকে লেখা, একটু এদিক সেদিক হতে পারে। তো, আমার শৈশবেও আমি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাতাম আর সাদারঙের হিসু করতাম।
যখন শৈশব ছাড়ি ছাড়ি করছে, তখন কীভাবে যেন পড়ালেখার চাপ গেল বেড়ে। স্কুলে প্রথম সারিতে নাম লেখানোর ইঁদুর দৌড়ে পড়ে গেলাম।
আমার যাবতীয় শিশুসুলভ দুঃস্বপ্নের ভিতরে বেশি যেই দুঃস্বপ্ন হানা দিয়েছে বারবার, সেটা হচ্ছে পরীক্ষার হলে গেছি, খাতা পেয়ে প্রশ্ন পেয়ে কিছুই মনে করতে পারছি না। এই স্বপ্নের সিকুয়েল ছিল, কোনবার দেখতাম পরীক্ষা হল খুঁজে ফিরছি, কিন্তু নিজের রুম বা আসন খুঁজে পাচ্ছি না। এদিকে ঘড়ির কাঁটা সকাল ১০টা ছুঁইছুঁই। কোনবার দেখতাম, মাত্র একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি, অথচ স্যার বলছেন তিনঘণ্টা নাকি শেষ, খাতা জমা দিতে হবে। তখন প্রবল বেগে লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। ঘুমের মধ্যেই আমি টের পেতাম কী অসহনীয় শারীরিক ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে প্রতিটা মুহূর্ত।
সে সময়ে আমার ছিল একটা তরতাজা , শক্তিশালী হৃদপিণ্ড । এখনকার মতো ধোঁয়া, ধুলোবালি ভেজাল খাওয়া হৃদপিণ্ড এরকম দুঃস্বপ্নের চাপ নিতে পারবে না। ঘুমের মধ্যেই মাইল্ড অ্যাটাক হয়ে যাবে। আমার ধারণা সবযুগের শৈশবে এই পরীক্ষাভীতি ছিল , আছে সবার ঘুম ভাঙ্গে পরীক্ষার দুঃস্বপ্ন নিয়ে।
দুঃস্বপ্নের কাছাকাছি কিছু কি বাস্তব জীবনে সত্যি ঘটে? আমার হালকার উপর ঝাপসা ঘটেছিল। স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষায় একবার সাধারণ বিজ্ঞান পড়ে গিয়ে সাময়িক দুঃস্বপ্নের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। সে আরেক কাহিনী।
আর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে, অর্ধেক প্রশ্নের উত্তর না দিতেই দেখি সময় শেষ। খুব দ্রুত সব প্রশ্ন টাচ করে যাওয়ার বিশেষায়িত ট্রেনিং ও টেম্পারমেন্ট দরকার বুয়েটের পরীক্ষায়। মনে হয়, একটা দুইটা প্রশ্ন নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করে ধরা খেয়েছিলাম।
পরীক্ষার হলে দেরী করে পৌঁছেছি সারাজীবনে একবারই, বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি দিতে চেয়েছিলাম নিতান্তই শখে পড়ে। বিসিএস-এ টিকে হাতিঘোড়া হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা, সম্ভাবনা ও প্রিপ্রারেশন কিছুই ছিলনা। আমি তখন বেশ কয়েকবছর টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করে ওপেক্স গ্রুপের মার্চেন্ডাইজিং এ। আত্মীয়স্বজনদের আফসোস থেকে যাবে পরিবারের মেধাবী ছেলে একবার বিসিএস পরীক্ষা দিল না ! তো, সেসময় গার্মেন্টস ও শিপমেন্টের এমনই হ্যাপা, যে একঘণ্টার জন্য বাইরেও যেতে পারি না ; বড়ো স্যারেরা কেউ না থাকলে কাজের চাপে টেবিলে বসেই সিগারেট খেতাম। কে আবার কষ্ট করে রান্নাঘরের কোনায় যায়। আমার অবস্থা সেভেন ইলেভেনের দোকানগুলোর মতো ; সারাক্ষণ একটা না একটা ঝামেলা লেগেই আছে। পরীক্ষার দিন তাই, মহাখালী ডিওএইচএস ওপেক্সের অফিসে হাজিরা দিয়ে একটা স্কুটার নিয়ে সোজা ইডেন কলেজে, যেখানে পরীক্ষার সিট পড়েছে। যথারীতি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে গেটে। পুলিশ ঢুকতে দেয় না। বেশ কিছুক্ষণ তর্ক করার পর, হলে গিয়ে বসলাম। দৌড়াদৌড়িতে ঘেমে নেয়ে একশেষ। প্রিপারেশন ছাড়া পরীক্ষার আর কীই বা হতে পারে। টিকলাম না।
আরেকটা দুঃস্বপ্ন বহুদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে আমাকে। সবসময় দেখতাম একটা বড়ো বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান চলছে, বেশ কিছুক্ষণ পরে খেয়াল করে দেখতাম, কনের পাশের বর-বেশে বিমর্ষ বদনে যে বসে আছে সে আমি ! সেটাও সমস্যা না। বিয়ের স্বপ্ন তো দেখতেই পারে ভেতো বাঙালি। সমস্যা হচ্ছে, কনের বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশি। কোন একটা টিভি সিনেমার বয়স্কা নারীকে বধুবেশে বসে থাকতে দেখতাম। কিন্তু আমি না পারছি উঠে দৌড় দিতে ; না পারছি কবুল বলতে। কীয়েক্টাবস্থা !
আরেকটা খুব কমন স্বপ্ন ছিল, গভীর কোন অতল খাদে পড়ে যাচ্ছি। চিৎকার করছি, কিন্তু পতন থামছে না। আমার ধারণা জীবনে অনেকের কাছেই এটা সবচেয়ে কমন দুঃস্বপ্ন।
প্রায়শঃ দুঃস্বপ্ন দেখতাম অচেনা রাস্তায় পথ হারিয়ে ফেলেছি। একবার কিছু চেনা চেনা মনে হয় , হেঁটে সামনে এগিয়ে গেলেই দেখে একেবারে অচেনা কোন বনজঙ্গল রাস্তা ইত্যাদি। অথচ আমার কোথাও যেন যাওয়ার তাড়া আছে, সেটা মনে করে টেনশনে আছি আবার কাউকে জিজ্ঞেস করার মতোও পাচ্ছি না। কী যে একটা পেরেশানি।
‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ!’
শৈশব পেরিয়ে তারুণ্যে আর যৌবনে ঘুরে ফিরে একই ধরণের দুঃস্বপ্নই ছিল।
আর কর্মজীবন শুরু হওয়ার পরে তো সবরকমের স্বপ্ন দেখাই ছেড়ে দিয়েছি। ইদানীং কিছুই দেখিনা বা দেখলেও ঘুম থেকে উঠে কিছুই মনে থাকে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গল সেটা ভাবার চেয়ে ব্লাডারের প্রেসার কমিয়ে এসে , পানি খেয়ে শুয়ে পড়ার প্রবণতাই বেশি।
প্রকাশকালঃ ১০ই অক্টোবর,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | ছিন্নপত্র
আমাদের আশির দশকের শৈশবে কতো রকমের ফ্যান্টাসি ছিল !
এই প্রজন্মেও আছে নিশ্চয়, কিন্তু সেটা কখনো জানার চেষ্টা করা হয়নি। মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপড়েনে মাসের ২০ তারিখ গেলেই পাশের বাসার খালাম্মাদের কাছে ধারদেনা চাইতে হতো। আমরা একটা কিছু শখ করলাম, আর সেটা সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাবো, সেটা এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতাম না।
সচ্ছল বন্ধুরা যারা ছিল, দেখতাম অমুকের চাচা আমেরিকা থেকে নতুন গান শোনার ওয়াকম্যান পাঠিয়েছে। অথবা কোন পিকনিকে দেখলাম, তার হাতে নতুন ইয়াশিকা ক্যামেরা। তার মামা পাঠিয়েছে। আমরা শাব্দিক অর্থেই জুলজুল করে সেটা চেয়ে দেখতাম।
চাওয়া আর পাওয়ার এই বিস্তর ফারাক আমাকে মাঝে মাঝে ফ্যান্টাসিতে ভোগাতো। কেন সামান্য একটা বাইসাইকেল কিনে দেওয়া যায় না? অথবা কেন একটা ক্যামেরা আমাদের কেনা হয় না? এসব অপ্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বেদনা কাজ করত। আর আমাদের বিনোদন যেহেতু ছিল সিনেমা অথবা বিটিভির নাটক, সেগুলো দেখে দেখে কোন কাহিনীর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতাম।
আম্মার কাছে কিছু চেয়ে না পেলে মনে হতো , ধ্যাত্ ! কী একটা গরিবগুরবোর ঘরে এসে পড়েছি রে বাবা ! সিনেমার কাহিনীর বিশাল ধনী কেউ একদিন এসে নিশ্চয়ই বলবে, ‘আরে এই ছেলে তো আমাদের! ভুল করে এই পরিবারে চলে এসেছে ! যাই হোক একে আমরা নিয়ে যাচ্ছি।’ তারপরে সেই সাম্রাজ্যের একক অধিপতি আমি! যা চাই, তাই পাই। চেয়ে না পাওয়ার ফালতু জীবন একদিনে বদলে যাবে।
আবার ভাবতাম, এই যে আমি মহল্লার ভালো ছাত্রদের একজন; অথচ কেউ আমাকে একটু প্রশংসাও করে না ! সিনেমায় দেখায় না, পরিচয় লুকিয়ে মানুষের বাড়ি গৃহপরিচারকের কাজ করছে নায়ক। সে রকমটি করে যদি পরিচয় লুকিয়ে কোন বিশাল বড়লোকের বাড়ির কাজের ছেলে হই ; তাহলে আমার এইযে পাটিগণিত, বীজগণিতের দক্ষতা সেই বাড়ির সুন্দরী কন্যাকে হুট করে একদিন দেখিয়ে দিতে পারতাম। তারপর ধন্য ধন্য পড়ে যেতো। সবাই টের পেত, আহা , ছেলেটি তো হীরের টুকরো ! তারপর আর কী ! সেই ফ্যান্টাসি বড়লোকের একমাত্র উর্বশী কন্যার সঙ্গে প্রেম পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতাম।
কর্পোরেট চাকরির প্রথমদিকে একটা ফ্যান্টাসি ছিল কিছুদিন। এই যে, আমরা সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্টের একধাপ উপরে আছি বলে কারখানার ছোটখাটো খুঁত ভুলত্রুটি বের করে খুব বাহাদুরি দেখাই। ভাবখানা, আমাদের না জানি কতো জ্ঞান গম্মি ! পরিচয় লুকিয়ে কোন ছোট্ট প্রতিষ্ঠানে, খুব ছোট একটা পদে যোগদান করতে পারি, তাহলে কী হতে পারে ! তাহলে, আমার অভিজ্ঞতা থেকে কার্যকরী জ্ঞান প্রয়োগ করে, ঠিক ঠিক উল্টোভাবে কর্পোরেট অফিসের নাদানদের নাকি দড়ি দিয়ে ঘোরাতাম !
অথবা এই যে ,সেলস আর মার্কেটিং এর জন্য বিদেশে বিদেশে ঘুরি। এমন কী হতে পারে, পরিচয় লুকিয়ে কোন ছোট্ট শাড়ির দোকান অথবা মনোহারী দোকানে সেলসম্যান হলাম। বা কোন একটা ছোট্ট রেস্তোরাঁ বা ছোট্ট হোটেলে বেয়ারার চাকরি করা শুরু করলাম। এটাতো সম্ভব, কে আর মানা করবে ! আমি যদি ঢাকার দূরপ্রান্তে অথবা ঢাকার বাইরের গিয়ে করি, কেউ তো আর চিনবে না যে, আমি টেক্স-ইবোর জাহিদ ! আর যদি পরিচিত কেউ যদি চিনেও ফেলে, এমনও তো হতে পারে সে আমাকে না চেনার ভাণ করে একটু বেশি বখশিশ দিয়ে চলে গেল। সেই লোক বাসায় ফিরে নিজের স্ত্রীকে আর ফোন করে বন্ধুদের বলল, ‘জানিস, জাহিদ সাহেব ছিল না, সেতো এখন এই করে চলছে, আহা !’
পশ্চিমের দেশে এটা সম্ভব।পৃথিবীর সবদেশ থেকে কতো তাবৎ বড়ো মাপের লোকেরা নিউইয়র্কে, প্যারিসে গিয়ে ট্যাক্সি চালায়, ওয়ালমার্টে বাচ্চাদের ন্যাপি বিক্রি করে।যদিও সেটা আরেক জীবনসংগ্রামের কাহিনী। ওখানে তো আর পেশার জাত্যভিমান নেই। একজন ইউনিভার্সিটি শিক্ষকের জন্যও পার্টটাইম অড জব খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
আমাদের দেশে পরিচয় লুকিয়ে কাজ করার সুবিধা একমাত্র গোয়েন্দা সংস্থার আছে। এরশাদশাহীর আমলে তার স্বৈরাচার সামলানোর জন্য চারিদিকে ছদ্মবেশী গোয়েন্দারা ঘুরতো। হ্যাঁ ,পরিচয় লুকিয়ে কাজ করার সুবিধা আছে আমাদের সরকারী কর্মকর্তা ও মন্ত্রী আমলাদেরও। কেমন করে যেন, তারা যে আসলে ‘জনগণের সেবক’ ; সেই পরিচয় দিব্যি লুকিয়ে ফেলেছে আর সামন্ত-প্রভুদের মতো কুৎসিত থেকে কুৎসিততম আচরণ করছে আমাদের আমজনতার সাথে !
‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ!’
শৈশব পেরিয়ে তারুণ্যে আর যৌবনে আমাদের প্রজন্ম কী কী ধরণের ফ্যান্টাসিতে ভুগেছে, সেটা বোধকরি কখনই বলা ঠিক হবে না। বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট!
প্রকাশকালঃ ৮ই অক্টোবর,২০২০
by Jahid | Nov 30, 2020 | ছিন্নপত্র
বছর বিশেক আগে, মিডিয়ার রমরমা যুগের শুরু ! অবস্থা এমন যে যাই ঘটুক, যতোটুকুই ঘটুক, যেখানেই ঘটুক — সঙ্গে সঙ্গে তা মিডিয়াতে চলে আসা শুরু হয়েছে। স্কুলের অন্যতম রসিক বন্ধু ডাঃ জিল্লুর রহমান রুবেলের মুখে প্রথম শুনেছিলাম।
পুনশ্চ: চৈত্রের এই অসহনীয় গরমে সামান্য অশ্লীলতা ক্ষমার্হ !
ওই যে, সুন্দরবনের এক বাঘিনী ছিল যেটা বানরদের খুব উত্যক্ত করতো ! যখন তখন গাছের নীচে হুংকার আর নিরীহ বানর ভক্ষণ। বানরগুলোও বদের বদ ! হৈ হুল্লোড় করে হরিণ বা অন্য প্রাণীকে আগাম জানিয়ে দিত বাঘিনী আসছে।
তো, এই রকমই এক চৈত্রের দুপুরে বাঘিনী গাছের নিচে ঝিমুচ্ছে। এক পর্যায়ে গভীর ঘুম।
বদ বানরটার মাথায় চাপলো দুষ্টু বুদ্ধি। সে আস্তে আস্তে গাছ থেকে নেমে দিল বাঘিনীর পুটু মেরে।
উত্তেজনার শেষ পর্যায়ের ঝাঁকুনিতে বাঘিনীর গেল ঘুম ভেঙ্গে !
এও কি সম্ভব ? এও কি সম্ভব ? এও কি সম্ভব ? এত্তো বড় সাহস?
বানর দিল ছুট, বাঘিনী পিছু পিছু ! বানর ছুটছে, বাঘিনী ছুটছে। বাঘিনী ছুটছে, বানর ছুটছে। সুন্দরবন বড্ডো এলোমেলো। বানর ছুটছে জান বাঁচাতে , বাঘিনী ইজ্জতের সুরাহা করতে !
দৌড়াতে, দৌড়াতে, দৌড়াতে , দৌড়াতে দুপুর গড়িয়ে পড়ন্ত বিকেল। বানরের নাগাল আর পাচ্ছে না বাঘিনী।
তো পথে পড়লো ফরেস্ট অফিসারের ডাকবাংলো, ঘাসের লনের টেবিলে ধূমায়িত চায়ের কাপ, পাশে দৈনিক পত্রিকা রাখা ।
কোন এক কাজে ফরেস্ট অফিসার টেবিলে নেই। উপায়ন্তর না দেখে বানর সোজা যেয়ে চেয়ারে বসে পেপারটা মুখের উপর মেলে ধরে থাকলো।
বাঘিনী ইতিউতি তাকিয়ে সোজা যেয়ে বানরটাকেই ফরেস্ট অফিসার ভেবে, মৃদু বিনীত গলায় জিজ্ঞেস করলো, ‘স্যার এই দিক দিয়ে কি একটা বানরকে যেতে দেখছেন?’
পেপারের পিছন থেকে গম্ভীর গলার উত্তর আসলো, ‘কোন বানরটা, যেইটা একটু আগে এই বনের বাঘিনীর পুটু মেরেছে?’
বাঘিনী ভীষণ দুঃখে মর্মাহত গলায় বলে উঠলো, ‘স্যার এই খবর কি পেপারেও চলে আসছে?
প্রকাশকালঃ ১১ই এপ্রিল,২০২০
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, সাম্প্রতিক
যথারীতি আমাদের পূর্ববঙ্গের আশির দশকের রিয়েল লাইফ অভিজ্ঞতা। এলাকার সিনিয়রের কাছে শোনা।
তো হয়েছে কী, তাদের গ্রামে একজন মোটামুটি সম্পন্ন গৃহস্থ মারা গেলেন হুট করে ; উঠতি বয়সের সন্তানসন্ততিদের রেখে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম লোকের অকালমৃত্যু হলে কী হয় সেটা দেখার প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা আমার আছে।
গ্রাম- মফস্বলে প্রথম কিছুদিন প্রতিবেশীদের আহা উঁহু থাকে। ধীরে ধীরে সবাই যার যার জীবন নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। মৃতের পরিবারে কীভাবে চলছে, কী খেয়ে বেঁচে আছে সেটা দেখার সময় থাকে না সঙ্গত কারণেই।
চারিদিক আঁধার হয়ে এলে ভিটে-বাড়ি বাদে অন্যসব জমি বিক্রি করে পড়াশোনা আর জীবনধারণের প্রাণান্ত চলে।
যথারীতি ঐ পরিবারের বড়ছেলেটি যে কিনা আমার পরিচিতের প্রতিবেশী সেও বাধ্য হয়ে টুকটাক করে বাপের কষ্টের করা জমি বিক্রি করা শুরু করল। প্রতিবেশী মুরব্বীরা ব্যাপারটা তেমন পছন্দ করছিল না। এভাবে জমি বিক্রি করে খেলে আর কতদিন। এক সময় তো হাত পাততে হবে। আবার করারও কিছু ছিল না।
যাই হোক একদিন নদীর ঘাটে কয়েকজন মুরব্বী তাকে ধরল।
‘বাপু হে ! তুমি যেভাবে জমি বিক্রি করে খাতিছ, এভাবে চললি বুড়া হলি কী খায়া থাকবা ?’
সে উত্তর দিল, ‘ কাকা, এখুন আগে আমার খায়া জানে বাঁচতি হবি। খাতি পারলি না তবে বুড়া হতি পারব ; না খাতি পারে মরেই যদি গেলাম ; তালি পর আর বুড়া হব কেম্মা করে !’
প্রকাশকালঃ ৩০শে মার্চ,২০২০
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন
I’ve found these words printed & kept under the Table Glass with one of my colleague. And I’ve really liked this approach ; worth sharing with you for same reason!
Basic Techniques in Analyzing Worry
RULE 1: GET THE FACTS.
REMEMBER THAT DEAN HAWKES OF COLUMBIA UNIVERSITY SAID THAT “ HALF THE WORRY IN THE WORLD IS CAUSED BY PEOPLE TRYING TO MAKE DECISIONS BEFORE THEY HAVE SUFFICIENT KNOWLEDGE ON WHICH TO BASE A DECISION.”
RULE 2: AFTER CAREFULLY WEIGHING ALL THE FACTS, COME TO A DECISION.
RULE 3: ONCE A DECISION IS CAREFULLY REACHED , ACT! GET BUSY CARRYING OUT YOUR DECISION AND DISMISS ALL ANXIETY ABOUT THE OUTCOME.
RULE 4: WHEN YOU, OR ANY OF YOUR ASSOCIATES, ARE TEMPTED TO WORRY ABOUT A PROBLEM, WRITE OUT AND ANSWER THE FOLLOWING QUESTIONS:
a. What is the problem?
b. What is the cause of the problem?
c. What are all possible solutions ?
d. What is the best solution?
প্রকাশকালঃ ২৩শে ফেব্রুয়ারি,২০১৭
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র
চারিদিকে সহকর্মীদের হৃৎপিণ্ডের সাময়িক অকৃতকার্যতার প্রাদুর্ভাব দেখিয়া টোনা অকস্মাৎ স্বাস্থ্য-সচেতন হইয়া সান্ধ্য কালীন ভ্রমণ শুরু করিল। দিন কয়েকের মধ্যে যথারীতি আরও কয়েকজন বয়স্য হন্ঠন সহযোগী জুটিয়া গেল। ইহার ফাঁকে জনৈক পদচারী জানাইলেন, ‘ভাই টোনা আপনি তো নতুন আসিতেছেন। ওই যে দেখুন একজন সুশ্রী ভদ্রমহিলা হাঁটিয়া যাইতেছেন ; তিনি প্রত্যহ হাঁটিতে আসেন এবং খুব দ্রুতগতির সহিত হাঁটেন । আজ অবধি তিনি এক সন্ধ্যাও অনুপস্থিত হন নাই।’
ঘটনার ওইখানেই সমাপ্তি।
দিন দুয়েক পরের এক সন্ধ্যায়, কি মনে করিয়া টুনিও টোনার সহিত হাঁটিতে বাহির হইল। হা কপাল ! ওই মুহূর্তেই সেই সুশ্রী ভদ্রমহিলা সম্মুখ দিয়া হাঁটিয়া যাইতেছিলেন ! টোনা সরল মনে টুনিকে স্বাস্থ্য পরিচর্যায় উৎসাহিত করিবার নিমিত্তে কহিল, ‘ওই ভদ্রমহিলাকে দেখিতেছ ; উনি প্রত্যহ হাঁটিতে বাহির হন। আজ অবধি কেহ তাহাকে অনুপস্থিত হইতে দেখেন নাই!’
টুনি বাড়ি ফিরিয়া টোনাকে কহিল ‘ পুরুষ মাত্রই পুরুষ। তুমি এতো উৎসাহে প্রত্যহ সন্ধ্যায় কেন হাঁটিতে যাও তাহা আমার কাছে এখন জলের মতো পরিষ্কার। হাঁটিতে যাওয়া তোমার বাহানা মাত্র ; আসলে তুমি যাইতেছ সুন্দরী রমণী দর্শনে। আজ হইতে তোমার সান্ধ্য ভ্রমণ বন্ধ! যাইতে হইলে প্রত্যুষে বৃদ্ধ বৃদ্ধাদের সহিত হাঁটিতে যাইবে!’
অতঃপর বিরসবদন টোনা গত কয়েক সপ্তাহ ধরিয়া অতি প্রত্যূষে উঠিয়া প্রাতঃভ্রমণে বাহির হইতেছে!
পাদটীকা: জগতে অনেককিছুই ঘটিবে, সকল কিছু সরল বিশ্বাসে সহধর্মীনির কাছে প্রকাশ করিয়াছেন কি মরিয়াছেন। পুরুষদিগকে স্ত্রীলোকের নিকট আজন্ম অবিশ্বাসী ও অকৃতজ্ঞের কলঙ্ক-টীকা লইয়া বাঁচিয়া থাকিতে হয় ! ইহাই রীতি !
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি,২০১৭
সাম্প্রতিক মন্তব্য