বেলজিয়ামে বেআক্কেল

২০১২ সালের মে মাসে ইউরোপে অফিসের কাজে। বেলজিয়াম (ব্রাসেলস্) থেকে নেদারল্যান্ড যাবো দ্রুতগতির ট্রেনে। প্লাটফর্মে দাঁড়িয়ে আরো দুই কলিগসহ। উপরে রৌদ্রে বেশ গরম লাগছিল। নীচে নেমে খোলা প্ল্যাটফর্মে এসে দেখি বেশ শীত লাগছে। পরনের জ্যাকেটটা খুলে হ্যাভারস্যাক ব্যাগে রেখে দিয়েছি। সেই মুহূর্তে ট্রেন চলে আসলো। জ্যাকেটটা গায়ে গলিয়ে স্যাম্পলের লাগেজটা, হ্যান্ড লাগেজটা নিয়ে হুড়োহুড়ি করে ট্রেনে উঠলাম।

ট্রেন ছাড়ার মিনিট দশেক পরে প্রাকৃতিক দৃশ্য দেখতে দেখতে হঠাৎ গা দিয়ে একটা শীতল স্রোত বয়ে গেল। আমার হ্যাভারস্যাক ব্যাগটা প্লাটফর্মেই ফেলে এসেছি। আমার দুই কলিগের অবস্থা ত্রাহি মধুসূদন ! আমার ব্যাগে আমার পাসপোর্ট ছাড়াও আমার সবেধন নীলমণি অফিসের সব ডাটা ও ই-মেইল সহ নোটবুক আর পুরো ট্রাভেলের রাহা-খরচ হাজার পাঁচেক ইউরো ! ব্যাগের প্রথম জিপারটা খুললেই যে কেউ পেয়ে যাবে টাকার ওয়ালেট আর পাসপোর্ট। নোটবুক বাদ দিচ্ছি, ইউরোর পরিমাণ যা আছে, যে কোন লোককে লোভাতুর করতেই পারে।

প্রথমেই ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করলাম , বেলজিয়ামে কেউ পরিচিত আছে কীনা। আগের অফিসের ( মার্কেট ফিট ) পুরানা বস বেলজিয়ামের। ওই অফিসের ফ্রেন্ডরে ফোন দিলে সে নিশ্চয় আমাকে প্রাক্তন বসের নাম্বারটা দিবে। পাসপোর্ট বাংলাদেশ হাই কমিশন থেকে পেয়ে দেশে ফিরে যাওয়াটা প্রথম জরুরী। আমি সবচেয়ে খারাপ কী কী হতে পারে তাই দিয়ে শুরু করলাম। এটুকু মনে আছে, ব্রাসেলস্ এর ওই প্লাটফর্মে আমি শ’খানেক স্টুডেন্ট দেখেছি। এরিয়াটা বোধহয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভরা।

কলিগ বলল, ‘জাহিদ ভাই চেকাররে কইয়া দ্যাখেন হে কোন হেল্প করতে পারে কিনা।’
লম্বা চুলের দাড়িওয়ালা এক চেকাররে ধরলাম, বেটা বেলজিয়ান- তেমন ইংরেজিতে পারদর্শী না। তবে সে সমস্যাটা বুঝলো। ওয়ারলেসে আরো কয়েকজনের সাথে কথা বলল। আমাদের কেনা দূর-যাত্রার টিকিটগুলো যেন ব্যবহার করতে পারি , সেই ব্যবস্থা করলো। উপদেশ দিল, তোমরা সামনের স্টেশনে নেমে গিয়ে আবার পিছনে ব্রাসেলস্ এ ফিরে যাও। আমি স্টেশনমাস্টারকে বলেছি, সে খোঁজ করবে। শুধুমাত্র কপাল ভালো হলেই ব্যাগটা পেতে পারো। এতো ব্যস্ত প্লাটফর্মে তোমার ব্যাগ এতক্ষণ পড়ে থাকার সম্ভাবনা কম।

যতো সময় যাচ্ছে, আমাদের টেনশন ততোই বেড়ে চলেছে।
ঘণ্টা খানেক পরে আমরা ষ্টেশনে ফিরে গেলাম। যে বেঞ্চিতে বসেছিলাম দেখলাম সেটা শূন্য !
লম্বা প্লাটফর্মের মাঝখানে ছোট্ট কাঁচঘেরা রুম থাকে শীতের প্রকোপ থেকে বাঁচার জন্য , গার্ডদের বসার জন্য। ষ্টেশন মাস্টারের কাছে যাওয়ার আগে কী মনে করে একবার ঢুঁ মারলাম। দেখি আমার হ্যাভারস্যাক ব্যাগটা পড়ে আছে একপাশে। ভীষণ মোটা গার্ড বেশ কিছুক্ষণ ওদের ভাষায় আমাকে গালাগালি করলো। কিছু যেহেতু বুঝি নাই, গায়ে মাখলাম না। আমি তখন শাব্দিক অর্থেই ‘জানে পানি’ পেয়েছি।

এতো কিছুর পরে আমার দুটো ধারণা হয়েছে, ইউরোপের আইনশৃঙ্খলা ভালো এইটা সবাই জানে। আমার কলিগদের অনেককেই লাগেজ হারানোসহ ছিনতাইয়ের কবলেও পড়েছে। ইস্ট ইউরোপের গরীব দেশগুলোর লক্ষ লক্ষ বেকারে পশ্চিম ইউরোপের বড় শহরগুলোতে ভরে গেছে। আইনশৃঙ্খলা নিয়ে ইউরোপিয়ানরা আগের মতো আর গর্ব করে না।
যা বলছিলাম, যেহেতু ওইটা ইউনিভার্সিটি এলাকা এবং শতশত ছেলেমেয়ে যাতায়াত করছে, হয়তো ব্যাগটা পড়ে থাকতে দেখেও কেউ ধরেনি অন্য কোন স্টুডেন্টের বলে।

আর দ্বিতীয় যে ব্যাপারটা মনে দাগ কেটেছে তা অন্য কারণে, আমি তেমন ধার্মিক নই। কিন্তু আমার ধার্মিক কলিগ এই দুর্বিষহ দেড় ঘণ্টার মধ্যে কয়েকবার বললো, ‘জাহিদ ভাই, আপনি ভালো মানুষ,আপনি এতো বড়ো বিপদে পড়তেই পারেন না।’

পুরো ঘটনার মধুরেনু সমাপেয়ু হওয়ার পরে সে আমার মনে করিয়ে দিল, ‘কইছিলাম না, আপনি বিপদে পড়তেই পারেন না!’
ভয়াবহ একটা ঝামেলার হাত থেকে বেঁচে বেসিক্যালি সবাই আমার কাছে ধন্যবাদার্হ ছিলেন, টিকেট চেকার, গার্ড এবং আমার কলিগ দুইজন!

প্রথম প্রকাশঃ ২২শে এপ্রিল ২০১৩

ওপেক্স স্মৃতি

স্মৃতি ২০০৫ :
২০০৫-এর ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় কোমর ভেঙ্গে হাসপাতালে। ডান হিপ জয়েন্টের ফিমার-অ্যাসিটাবুলাম গেছে ছুটে ! ভীষণ ব্যস্ত এই আমি আকস্মিক বিছানায়। দুর্বিষহ শারীরিক কষ্টের কথা বাদই দিলাম। বুড়ো হাড় ভাঙ্গলে জোড়া লাগানো যে কী কষ্টের, সে আর কহতব্য নহে !
কিন্তু, শারীরিক যন্ত্রণার চেয়েও মানসিক যন্ত্রণাটা ছিল অসহনীয়।

প্রথম যে প্রশ্নটা মনে পীড়া দেওয়া শুরু করলো , ‘হোয়াই মি ? আমিই কেন? ’
প্রাথমিক এক সপ্তাহ ধর্মপ্রাণ আম্মাকে বলে চললাম , ‘এটা কেমন বিচার, আমার আশেপাশের কুৎসিত ও অর্থ-লোলুপ পশুসুলভ লোকগুলো দিব্যি হেঁটে চলে ফিরে খাচ্ছে আর আমি কোমর ভেঙ্গে হাসপাতালে? এটা কেমন বিচার?’
আম্মা নানারকম সান্ত্বনার কথা বলতেন। বলতেন, ‘আল্লাহ্ ভালো মানুষের পরীক্ষা নেয় দুনিয়াতে। পাপ কাটা যাচ্ছে।’ ইত্যাদি ইত্যাদি। কিন্তু নিজেকে নিজে কোন সান্ত্বনা দিতে পারতাম না।

কেমন করে ভুলি, আমি ও আমার স্ত্রী তখন অপেক্ষা করছি আমাদের প্রথম আরধ্য সন্তানের জন্য! অনাগত সেই মুখ দেখবো, স্ত্রীর পাশে হাসপাতালে থাকবো ; সেই কবে থেকে সবকিছু ঠিক করে রেখেছিলাম। সেখানে আমি আমার অনাগত সন্তানের সেবা করবো কি, আমার সহধর্মিণীই তাঁর ওই অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় হাসপাতালে আমার সেবা করে যাচ্ছেন। একটা কথা মাঝে মাঝে শুনতাম , সংসার এমন যে, প্রয়োজনে তোমাকে তোমার অর্ধাঙ্গী বা অর্ধাঙ্গিনীর মল-মূত্রও পরিষ্কার করতে হয়। এটা স্যাক্রিফাইস আর অ্যাডজাস্টমেন্টের ব্যাপার। সেটা যে, প্র্যাকটিকালি নিজের জীবনে দেখতে হবে, কে জানতো ! আমিতো আমার স্ত্রীর জন্য সামান্য হিন্দীকেশ ছিঁড়েও আঁটি বাঁধি নাই কোনদিন। আজ তাঁকেই কিনা পরিষ্কার করতে হচ্ছে আমার মল-মূত্র ! দুর্বোধ্য , নিষ্ফল এক আক্রোশে ফুঁসতাম শুধু !

আমার চিকিৎসক বন্ধুরা, শুভানুধ্যায়ীরা একে একে সাহস দিতে লাগলেন। ডাক্তাররা বোঝালেন আমার ভগ্নদশা মেরামত ও নিরাময়যোগ্য এবং আমি আবার আগের মতো হাঁটতে চলতে পারবো। আমার অফিসও সেই সময় অসম্ভব সহানুভূতি দেখালো। বিছানার পাশে বসে সাহস দেয়া সেই সব মুহূর্তগুলোর কথা আমি কোনদিন ভুলতে পারবো না।

এক চিত হয়ে সপ্তাহের পর সপ্তাহ। পাশ ফিরতেও পারতাম না। ডান হাঁটুর নীচে হাড় ছিদ্র করে একটা লোহার রডে লাগানো হয়েছিল, সেই রডের সাথে ১৪ পাউন্ড লোহার ওজন ঝুলত। ওই বস্তুকে বলে ট্রাকশন ! দিনের পর দিন, সপ্তাহের পর সপ্তাহ গোসল নাই, মল-মূত্র বিছানায়। কী যে অসহনীয় সেইদিনগুলো ; আমি এখনও ভাবলে শিউরে উঠি।

নানা ধরণের বই পড়তাম শুয়ে শুয়ে। সৈয়দ মুজতবা আলীর রচনাসমগ্র পড়ে ফেললাম। এবং তাঁর একনিষ্ঠ ভক্তও হয়ে গেলাম। প্রায় ৭/৮ সপ্তাহ পরে ক্র্যাচে করে আবার নতুন করে হাঁটতে শেখা। এর মাঝে আমার মেয়ে জেবার জন্ম ২০শে ফেব্রুয়ারি ২০০৬ । বুকের ওপর আম্মা ফুটফুটে একটা মনুষ্যশিশুকে শুইয়ে দিলেন। বসতেও পারিনা। ওভাবেই শুকনো চোখে আমার নীরব অশ্রুপাত।

আমেরিকান এক টেনিস খেলোয়াড় আর্থার অ্যাশ-এর একটা কথায় আমার প্রশ্নের আংশিক উত্তর পেয়েছিলাম। অন্তত আমাকে ওই বিশেষ কথাগুলো ‘হোয়াই মি? কেন আমিই ?’ এই প্রশ্নের ক্ষতে, তখনকার মতো কিছুটা হলেও একটা সান্ত্বনার প্রলেপ পড়েছিল।
আর্থার অ্যাশ ছিলেন আমেরিকার ইতিহাসের প্রথম কালো খেলোয়াড় যিনি একাধারে ইউএস ওপেন, অস্ট্রেলিয়া ওপেন এবং উইম্বলডন জিতেছিলেন। আমেরিকার টেনিস ইতিহাসের কিংবদন্তি। ১৯৮৩ সালে তাঁর হৃদপিণ্ডে সার্জারি করার সময় রক্ত-বাহিত হয়ে এইডস (AIDS) আক্রান্ত হন তিনি। সারা আমেরিকা থেকে তাঁর ভক্তরা তাঁকে শুভেচ্ছার সঙ্গে সঙ্গে এই প্রশ্নটিও ছুঁড়ে দিতেন, ‘আপনাকেই কেন এই দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হতে হলো?’

তিনি বোধকরি নিজেকেও এই প্রশ্নই করেছিলেন, ‘হোয়াই মি? কেন আমিই ?’
এক পর্যায়ে এসে আর্থার অ্যাশ নিজেকে প্রবোধ দিলেন। উনি নিজেকে বোঝালেন ৩২ কোটি আমেরিকানদের মধ্যে শিক্ষার সুযোগ পাওয়া কয়েক কোটি কালোদের মধ্যে সৌভাগ্যবান তিনি একজন। ৫ লক্ষ প্রফেশনাল খেলোয়াড়দের তিনি একজন তিনি একজন। গ্র্যান্ড স্লামে পৌঁছানো শেষ পাঁচ হাজারের তিনি একজন। যে ৫০ জন উইম্বলডন পর্যন্ত গেছেন, তিনি তাদের একজন, সেমিফাইনালে শেষের চারজনের তিনি একজন এবং ফাইনাল খেলার দুইজনের একজন।
কাপ জেতার পরে বা জীবনের অন্যান্য অগুনিত সৌভাগ্যের ক্ষেত্রেই এই প্রশ্ন একবারও ওঠেনি , ‘হোয়াই মি ? আমিই কেন?’
আর আজ যখন একটা অসুস্থতা তখন কেন এই প্রশ্ন?

আর্থার অ্যাশের এই অভিজ্ঞতা পড়ার পর আমি নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পেরেছিলাম, কিছুটা হলেও !

প্রথম প্রকাশঃ ২০১৩

ইশকুল স্মৃতি সমাজবিজ্ঞান সাধারণ বিজ্ঞান

ক্লাস সেভেন।

সমাজবিজ্ঞান আর সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষা পাশাপাশি দুই দিনে হয়। এটাই নিয়ম।বাংলা পরীক্ষার পর যেমন ইংরেজি। স্কুল ষাণ্মাসিক । যথারীতি রুটিন হাতে লিখে  কপি করে টেবিলের সামনে টাঙ্গানো থাকে। গ্যাঁ গ্যাঁ করে মাথা দুলিয়ে পড়াশুনা চলে ।

পরীক্ষার হলে গিয়ে দোয়া দরূদ পড়ে খাতা ভাঁজ করে, কোশ্চেন পেপারের জন্য অপেক্ষা। ভীষণ কড়া মেজাজের নুরুল ইসলাম স্যার প্রশ্নপত্র দিলেন।

দ্বিতীয় বেঞ্চে আমি আমার পরের বেঞ্চে ক্লাসের সেকেন্ড বয় তুহিন।কোশ্চেন পেয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম,  হাসি হাসি মুখ করে স্যারকে বললাম, ‘স্যার ভুল কোশ্চেন দিছেনতো । আজকে সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষা !’

স্যার এগিয়ে আসতে আসতেই , পিছন থেকে তুহিন মৃদুস্বরে খোঁচা দিলো, ‘গাধা বইস্যা পড়, কোশ্চেন ঠিকই আছে, আজকে সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষা ! আমার মাথার উপর আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। এই মুখস্থের সাবজেক্টে আমি অলওয়েজ ল্যাজেগোবরে ! আমিতো সাধারণ বিজ্ঞান পরীক্ষার সেই রকম প্রিপারেশন নিয়ে এসেছি।  সমাজ বিজ্ঞানে ঠনঠন !

তব্দা মেরে  বসে পড়ে ফিসফিস করে বললাম, ‘দোস্ত এই যাত্রা বাঁচা !’

মহানুভব তুহিন বলল, ‘ঠিক আছে, আমি খাতা বাঁকা করে লিখছি, তুই দেখে দেখে ল্যাখ !’

শুরু হল, কসরত করে ঘণ্টা তিনেক ধরে আড়চোখে ওর গোটাগোটা হরফের লেখা দেখা আর কপি করা। সবগুলো অ্যানসার দিয়ে  হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।

তো কয়েকদিন পরে খাতা দিচ্ছেন স্যার। ততদিনে ক্লাসের সবাই আমার ঐ কুকীর্তির কথা জেনে গিয়েছিল।

তুহিনের রোল নাম্বার আমার আগে। ও পেয়েছে ৫৩ আউট অব ৭৫

আর আমি, পেয়েছি ৫৮ !

কাহিনী কি?

সঙ্গত কারণেই  তুহিনের মন খারাপ। একই সঙ্গে আশপাশে ফিসফাস। ক্যামনে কি?

ঘটনা হচ্ছে, তুহিনের গোটাগোটা হাতের লেখা আমার চেয়ে স্লো।

ওর দুই লাইন কপি করে বসে না থেকে, অবসর সময়ে আমি আবঝাঁপ আরো কয়েক লাইন লিখে ফেলেছিলাম ;  তারই ফলশ্রুতিতে আমার নাম্বার ওর চেয়ে বেশী !

মরাল অব দি স্টোরি ১: বিপদের বন্ধুই সবচেয়ে বড় বন্ধু।

মরাল অব দি স্টোরি ২: এই কাহিনীর পর থেকে রুটিন তোলার  ব্যাপারে আমি ব্যাপক সাবধান হয়েছিলাম। জীবনে এক ভুল দুইবার হয় নাই !

প্রথম প্রকাশঃ ১লা এপ্রিল ২০১৩

শৈশবের দুঃস্বপ্নগুলো

আশির দশকে আধুনিক কবিতার একটা লাইন পড়েছিলাম। দুঃখিত কবির নাম মনে করতে পারছিনা। তিনি লিখেছিলেন, “ তখন আমার বয়স ছিল কম , রাতে ঘুম হতো ,আর প্রস্রাবের রং ছিল সাদা।” স্মৃতি থেকে লেখা, একটু এদিক সেদিক হতে পারে। তো, আমার শৈশবেও আমি কুম্ভকর্ণের মতো ঘুমাতাম আর সাদারঙের হিসু করতাম।

যখন শৈশব ছাড়ি ছাড়ি করছে, তখন কীভাবে যেন পড়ালেখার চাপ গেল বেড়ে। স্কুলে প্রথম সারিতে নাম লেখানোর ইঁদুর দৌড়ে পড়ে গেলাম।
আমার যাবতীয় শিশুসুলভ দুঃস্বপ্নের ভিতরে বেশি যেই দুঃস্বপ্ন হানা দিয়েছে বারবার, সেটা হচ্ছে পরীক্ষার হলে গেছি, খাতা পেয়ে প্রশ্ন পেয়ে কিছুই মনে করতে পারছি না। এই স্বপ্নের সিকুয়েল ছিল, কোনবার দেখতাম পরীক্ষা হল খুঁজে ফিরছি, কিন্তু নিজের রুম বা আসন খুঁজে পাচ্ছি না। এদিকে ঘড়ির কাঁটা সকাল ১০টা ছুঁইছুঁই। কোনবার দেখতাম, মাত্র একটা প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি, অথচ স্যার বলছেন তিনঘণ্টা নাকি শেষ, খাতা জমা দিতে হবে। তখন প্রবল বেগে লেখার চেষ্টা করছি কিন্তু পারছি না। ঘুমের মধ্যেই আমি টের পেতাম কী অসহনীয় শারীরিক ও তীব্র মানসিক যন্ত্রণার ভিতর দিয়ে যাচ্ছে প্রতিটা মুহূর্ত।

সে সময়ে আমার ছিল একটা তরতাজা , শক্তিশালী হৃদপিণ্ড । এখনকার মতো ধোঁয়া, ধুলোবালি ভেজাল খাওয়া হৃদপিণ্ড এরকম দুঃস্বপ্নের চাপ নিতে পারবে না। ঘুমের মধ্যেই মাইল্ড অ্যাটাক হয়ে যাবে। আমার ধারণা সবযুগের শৈশবে এই পরীক্ষাভীতি ছিল , আছে সবার ঘুম ভাঙ্গে পরীক্ষার দুঃস্বপ্ন নিয়ে।

দুঃস্বপ্নের কাছাকাছি কিছু কি বাস্তব জীবনে সত্যি ঘটে? আমার হালকার উপর ঝাপসা ঘটেছিল। স্কুল ফাইনাল পরীক্ষায় সমাজবিজ্ঞান পরীক্ষায় একবার সাধারণ বিজ্ঞান পড়ে গিয়ে সাময়িক দুঃস্বপ্নের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলাম। সে আরেক কাহিনী।

আর বুয়েটে ভর্তি পরীক্ষা দিতে গিয়ে, অর্ধেক প্রশ্নের উত্তর না দিতেই দেখি সময় শেষ। খুব দ্রুত সব প্রশ্ন টাচ করে যাওয়ার বিশেষায়িত ট্রেনিং ও টেম্পারমেন্ট দরকার বুয়েটের পরীক্ষায়। মনে হয়, একটা দুইটা প্রশ্ন নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করে ধরা খেয়েছিলাম।

পরীক্ষার হলে দেরী করে পৌঁছেছি সারাজীবনে একবারই, বিসিএস পরীক্ষার প্রিলিমিনারি দিতে চেয়েছিলাম নিতান্তই শখে পড়ে। বিসিএস-এ টিকে হাতিঘোড়া হওয়ার বিন্দুমাত্র ইচ্ছা, সম্ভাবনা ও প্রিপ্রারেশন কিছুই ছিলনা। আমি তখন বেশ কয়েকবছর টেক্সটাইল কারখানায় চাকরি করে ওপেক্স গ্রুপের মার্চেন্ডাইজিং এ। আত্মীয়স্বজনদের আফসোস থেকে যাবে পরিবারের মেধাবী ছেলে একবার বিসিএস পরীক্ষা দিল না ! তো, সেসময় গার্মেন্টস ও শিপমেন্টের এমনই হ্যাপা, যে একঘণ্টার জন্য বাইরেও যেতে পারি না ; বড়ো স্যারেরা কেউ না থাকলে কাজের চাপে টেবিলে বসেই সিগারেট খেতাম। কে আবার কষ্ট করে রান্নাঘরের কোনায় যায়। আমার অবস্থা সেভেন ইলেভেনের দোকানগুলোর মতো ; সারাক্ষণ একটা না একটা ঝামেলা লেগেই আছে। পরীক্ষার দিন তাই, মহাখালী ডিওএইচএস ওপেক্সের অফিসে হাজিরা দিয়ে একটা স্কুটার নিয়ে সোজা ইডেন কলেজে, যেখানে পরীক্ষার সিট পড়েছে। যথারীতি পরীক্ষা শুরু হওয়ার মিনিট পাঁচেক আগে গেটে। পুলিশ ঢুকতে দেয় না। বেশ কিছুক্ষণ তর্ক করার পর, হলে গিয়ে বসলাম। দৌড়াদৌড়িতে ঘেমে নেয়ে একশেষ। প্রিপারেশন ছাড়া পরীক্ষার আর কীই বা হতে পারে। টিকলাম না।

আরেকটা দুঃস্বপ্ন বহুদিন তাড়িয়ে বেড়িয়েছে আমাকে। সবসময় দেখতাম একটা বড়ো বিয়ে বাড়ির অনুষ্ঠান চলছে, বেশ কিছুক্ষণ পরে খেয়াল করে দেখতাম, কনের পাশের বর-বেশে বিমর্ষ বদনে যে বসে আছে সে আমি ! সেটাও সমস্যা না। বিয়ের স্বপ্ন তো দেখতেই পারে ভেতো বাঙালি। সমস্যা হচ্ছে, কনের বয়স আমার চেয়ে অনেক বেশি। কোন একটা টিভি সিনেমার বয়স্কা নারীকে বধুবেশে বসে থাকতে দেখতাম। কিন্তু আমি না পারছি উঠে দৌড় দিতে ; না পারছি কবুল বলতে। কীয়েক্টাবস্থা !

আরেকটা খুব কমন স্বপ্ন ছিল, গভীর কোন অতল খাদে পড়ে যাচ্ছি। চিৎকার করছি, কিন্তু পতন থামছে না। আমার ধারণা জীবনে অনেকের কাছেই এটা সবচেয়ে কমন দুঃস্বপ্ন।

প্রায়শঃ দুঃস্বপ্ন দেখতাম অচেনা রাস্তায় পথ হারিয়ে ফেলেছি। একবার কিছু চেনা চেনা মনে হয় , হেঁটে সামনে এগিয়ে গেলেই দেখে একেবারে অচেনা কোন বনজঙ্গল রাস্তা ইত্যাদি। অথচ আমার কোথাও যেন যাওয়ার তাড়া আছে, সেটা মনে করে টেনশনে আছি আবার কাউকে জিজ্ঞেস করার মতোও পাচ্ছি না। কী যে একটা পেরেশানি।

‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ!’

শৈশব পেরিয়ে তারুণ্যে আর যৌবনে ঘুরে ফিরে একই ধরণের দুঃস্বপ্নই ছিল।
আর কর্মজীবন শুরু হওয়ার পরে তো সবরকমের স্বপ্ন দেখাই ছেড়ে দিয়েছি। ইদানীং কিছুই দেখিনা বা দেখলেও ঘুম থেকে উঠে কিছুই মনে থাকে না। মাঝরাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে, স্বপ্ন না দুঃস্বপ্ন দেখে ঘুম ভাঙ্গল সেটা ভাবার চেয়ে ব্লাডারের প্রেসার কমিয়ে এসে , পানি খেয়ে শুয়ে পড়ার প্রবণতাই বেশি।

প্রকাশকালঃ ১০ই অক্টোবর,২০২০

শৈশবের ফ্যান্টাসি

আমাদের আশির দশকের শৈশবে কতো রকমের ফ্যান্টাসি ছিল !
এই প্রজন্মেও আছে নিশ্চয়, কিন্তু সেটা কখনো জানার চেষ্টা করা হয়নি। মধ্যবিত্ত পরিবারের টানাপড়েনে মাসের ২০ তারিখ গেলেই পাশের বাসার খালাম্মাদের কাছে ধারদেনা চাইতে হতো। আমরা একটা কিছু শখ করলাম, আর সেটা সঙ্গে সঙ্গে পেয়ে যাবো, সেটা এটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতাম না।
সচ্ছল বন্ধুরা যারা ছিল, দেখতাম অমুকের চাচা আমেরিকা থেকে নতুন গান শোনার ওয়াকম্যান পাঠিয়েছে। অথবা কোন পিকনিকে দেখলাম, তার হাতে নতুন ইয়াশিকা ক্যামেরা। তার মামা পাঠিয়েছে। আমরা শাব্দিক অর্থেই জুলজুল করে সেটা চেয়ে দেখতাম।
চাওয়া আর পাওয়ার এই বিস্তর ফারাক আমাকে মাঝে মাঝে ফ্যান্টাসিতে ভোগাতো। কেন সামান্য একটা বাইসাইকেল কিনে দেওয়া যায় না? অথবা কেন একটা ক্যামেরা আমাদের কেনা হয় না? এসব অপ্রাপ্তি নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি বেদনা কাজ করত। আর আমাদের বিনোদন যেহেতু ছিল সিনেমা অথবা বিটিভির নাটক, সেগুলো দেখে দেখে কোন কাহিনীর সঙ্গে নিজেকে জড়িয়ে ফেলতাম।
আম্মার কাছে কিছু চেয়ে না পেলে মনে হতো , ধ্যাত্ ! কী একটা গরিবগুরবোর ঘরে এসে পড়েছি রে বাবা ! সিনেমার কাহিনীর বিশাল ধনী কেউ একদিন এসে নিশ্চয়ই বলবে, ‘আরে এই ছেলে তো আমাদের! ভুল করে এই পরিবারে চলে এসেছে ! যাই হোক একে আমরা নিয়ে যাচ্ছি।’ তারপরে সেই সাম্রাজ্যের একক অধিপতি আমি! যা চাই, তাই পাই। চেয়ে না পাওয়ার ফালতু জীবন একদিনে বদলে যাবে।
আবার ভাবতাম, এই যে আমি মহল্লার ভালো ছাত্রদের একজন; অথচ কেউ আমাকে একটু প্রশংসাও করে না ! সিনেমায় দেখায় না, পরিচয় লুকিয়ে মানুষের বাড়ি গৃহপরিচারকের কাজ করছে নায়ক। সে রকমটি করে যদি পরিচয় লুকিয়ে কোন বিশাল বড়লোকের বাড়ির কাজের ছেলে হই ; তাহলে আমার এইযে পাটিগণিত, বীজগণিতের দক্ষতা সেই বাড়ির সুন্দরী কন্যাকে হুট করে একদিন দেখিয়ে দিতে পারতাম। তারপর ধন্য ধন্য পড়ে যেতো। সবাই টের পেত, আহা , ছেলেটি তো হীরের টুকরো ! তারপর আর কী ! সেই ফ্যান্টাসি বড়লোকের একমাত্র উর্বশী কন্যার সঙ্গে প্রেম পর্যন্ত টেনে নিয়ে যেতাম।
কর্পোরেট চাকরির প্রথমদিকে একটা ফ্যান্টাসি ছিল কিছুদিন। এই যে, আমরা সাপ্লাই চেন ম্যানেজমেন্টের একধাপ উপরে আছি বলে কারখানার ছোটখাটো খুঁত ভুলত্রুটি বের করে খুব বাহাদুরি দেখাই। ভাবখানা, আমাদের না জানি কতো জ্ঞান গম্মি ! পরিচয় লুকিয়ে কোন ছোট্ট প্রতিষ্ঠানে, খুব ছোট একটা পদে যোগদান করতে পারি, তাহলে কী হতে পারে ! তাহলে, আমার অভিজ্ঞতা থেকে কার্যকরী জ্ঞান প্রয়োগ করে, ঠিক ঠিক উল্টোভাবে কর্পোরেট অফিসের নাদানদের নাকি দড়ি দিয়ে ঘোরাতাম !
অথবা এই যে ,সেলস আর মার্কেটিং এর জন্য বিদেশে বিদেশে ঘুরি। এমন কী হতে পারে, পরিচয় লুকিয়ে কোন ছোট্ট শাড়ির দোকান অথবা মনোহারী দোকানে সেলসম্যান হলাম। বা কোন একটা ছোট্ট রেস্তোরাঁ বা ছোট্ট হোটেলে বেয়ারার চাকরি করা শুরু করলাম। এটাতো সম্ভব, কে আর মানা করবে ! আমি যদি ঢাকার দূরপ্রান্তে অথবা ঢাকার বাইরের গিয়ে করি, কেউ তো আর চিনবে না যে, আমি টেক্স-ইবোর জাহিদ ! আর যদি পরিচিত কেউ যদি চিনেও ফেলে, এমনও তো হতে পারে সে আমাকে না চেনার ভাণ করে একটু বেশি বখশিশ দিয়ে চলে গেল। সেই লোক বাসায় ফিরে নিজের স্ত্রীকে আর ফোন করে বন্ধুদের বলল, ‘জানিস, জাহিদ সাহেব ছিল না, সেতো এখন এই করে চলছে, আহা !’
পশ্চিমের দেশে এটা সম্ভব।পৃথিবীর সবদেশ থেকে কতো তাবৎ বড়ো মাপের লোকেরা নিউইয়র্কে, প্যারিসে গিয়ে ট্যাক্সি চালায়, ওয়ালমার্টে বাচ্চাদের ন্যাপি বিক্রি করে।যদিও সেটা আরেক জীবনসংগ্রামের কাহিনী। ওখানে তো আর পেশার জাত্যভিমান নেই। একজন ইউনিভার্সিটি শিক্ষকের জন্যও পার্টটাইম অড জব খুব স্বাভাবিক একটা ব্যাপার।
আমাদের দেশে পরিচয় লুকিয়ে কাজ করার সুবিধা একমাত্র গোয়েন্দা সংস্থার আছে। এরশাদশাহীর আমলে তার স্বৈরাচার সামলানোর জন্য চারিদিকে ছদ্মবেশী গোয়েন্দারা ঘুরতো। হ্যাঁ ,পরিচয় লুকিয়ে কাজ করার সুবিধা আছে আমাদের সরকারী কর্মকর্তা ও মন্ত্রী আমলাদেরও। কেমন করে যেন, তারা যে আসলে ‘জনগণের সেবক’ ; সেই পরিচয় দিব্যি লুকিয়ে ফেলেছে আর সামন্ত-প্রভুদের মতো কুৎসিত থেকে কুৎসিততম আচরণ করছে আমাদের আমজনতার সাথে !
‘শেষ হইয়াও হইল না শেষ!’
শৈশব পেরিয়ে তারুণ্যে আর যৌবনে আমাদের প্রজন্ম কী কী ধরণের ফ্যান্টাসিতে ভুগেছে, সেটা বোধকরি কখনই বলা ঠিক হবে না। বুদ্ধিমানদের জন্য ইশারাই যথেষ্ট!

প্রকাশকালঃ ৮ই অক্টোবর,২০২০

সুন্দরবনের বাঘিনী ও বানরের গল্প

বছর বিশেক আগে, মিডিয়ার রমরমা যুগের শুরু ! অবস্থা এমন যে যাই ঘটুক, যতোটুকুই ঘটুক, যেখানেই ঘটুক — সঙ্গে সঙ্গে তা মিডিয়াতে চলে আসা শুরু হয়েছে। স্কুলের অন্যতম রসিক বন্ধু ডাঃ জিল্লুর রহমান রুবেলের মুখে প্রথম শুনেছিলাম।

পুনশ্চ: চৈত্রের এই অসহনীয় গরমে সামান্য অশ্লীলতা ক্ষমার্হ !

ওই যে, সুন্দরবনের এক বাঘিনী ছিল যেটা বানরদের খুব উত্যক্ত করতো ! যখন তখন গাছের নীচে হুংকার আর নিরীহ বানর ভক্ষণ। বানরগুলোও বদের বদ ! হৈ হুল্লোড় করে হরিণ বা অন্য প্রাণীকে আগাম জানিয়ে দিত বাঘিনী আসছে।

তো, এই রকমই এক চৈত্রের দুপুরে বাঘিনী গাছের নিচে ঝিমুচ্ছে। এক পর্যায়ে গভীর ঘুম।
বদ বানরটার মাথায় চাপলো দুষ্টু বুদ্ধি। সে আস্তে আস্তে গাছ থেকে নেমে দিল বাঘিনীর পুটু মেরে।
উত্তেজনার শেষ পর্যায়ের ঝাঁকুনিতে বাঘিনীর গেল ঘুম ভেঙ্গে !

এও কি সম্ভব ? এও কি সম্ভব ? এও কি সম্ভব ? এত্তো বড় সাহস?

বানর দিল ছুট, বাঘিনী পিছু পিছু ! বানর ছুটছে, বাঘিনী ছুটছে। বাঘিনী ছুটছে, বানর ছুটছে। সুন্দরবন বড্ডো এলোমেলো। বানর ছুটছে জান বাঁচাতে , বাঘিনী ইজ্জতের সুরাহা করতে !
দৌড়াতে, দৌড়াতে, দৌড়াতে , দৌড়াতে দুপুর গড়িয়ে পড়ন্ত বিকেল। বানরের নাগাল আর পাচ্ছে না বাঘিনী।
তো পথে পড়লো ফরেস্ট অফিসারের ডাকবাংলো, ঘাসের লনের টেবিলে ধূমায়িত চায়ের কাপ, পাশে দৈনিক পত্রিকা রাখা ।
কোন এক কাজে ফরেস্ট অফিসার টেবিলে নেই। উপায়ন্তর না দেখে বানর সোজা যেয়ে চেয়ারে বসে পেপারটা মুখের উপর মেলে ধরে থাকলো।

বাঘিনী ইতিউতি তাকিয়ে সোজা যেয়ে বানরটাকেই ফরেস্ট অফিসার ভেবে, মৃদু বিনীত গলায় জিজ্ঞেস করলো, ‘স্যার এই দিক দিয়ে কি একটা বানরকে যেতে দেখছেন?’
পেপারের পিছন থেকে গম্ভীর গলার উত্তর আসলো, ‘কোন বানরটা, যেইটা একটু আগে এই বনের বাঘিনীর পুটু মেরেছে?’
বাঘিনী ভীষণ দুঃখে মর্মাহত গলায় বলে উঠলো, ‘স্যার এই খবর কি পেপারেও চলে আসছে?

প্রকাশকালঃ ১১ই এপ্রিল,২০২০