উপলব্ধি: ৪

ডু নট লেট আদার ডিফাইন ইয়োরসেলফ। নিজেকে অন্যের দ্বারা সংজ্ঞায়িত হতে না দেওয়াই শ্রেয়। সংবেদনশীল মানুষ হিসাবে আত্মোপলব্ধির, নিজেকে জানার প্রতিনিয়ত চেষ্টা ছিল। এটা থাকা উচিৎ। অন্য কেউ এসে অকস্মাৎ আপনার দুর্বলতা চিহ্নিত করে, আপনার সব আত্মবিশ্বাসের মূলে বিষ ঢেলে দেবে সেটা হতে দেবেন না। কেউ আপনার অযাচিত সমালোচনা করলে আপনি দেখার ও বোঝার চেষ্টা করেন, সে আপনার শুভাকাঙ্ক্ষী কীনা, তাঁর সামাজিক অভিজ্ঞতা ও অবস্থান আদৌ আপনাকে সমালোচনা করার অবস্থায় আছে কীনা অথবা তাঁর মন্তব্য আপনার আদৌ নেওয়ার দরকার আছে কীনা !

উপলব্ধি: ৩

নিজের সঙ্গে নিজে ও নিজের পরিবারের সঙ্গে সবসময় সৎ থাকতে হয়। পরিবারের প্রতি আপনি যেমন সহানুভূতিশীল,অসীম মমত্ববোধ করেন; নিজের প্রতিও একই রকম মমতা, সমঝোতা ও থাকা দরকার। এই অন্যায্য পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষকে সারাক্ষণ পরিবেশ প্রতিবেশের সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়। বাইরের প্রতিকূলতার সঙ্গে যুদ্ধ করতে হলে, আপনার যে শক্তি দরকার তার শক্তিমত্তা নির্ভর করবে আপনার নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ক কেমন তা এবং আপনার নিজের পরিবার,বাবা-মা, স্ত্রী-সন্তানদের সম্পর্ক কেমন তার উপর। নিজের পরিবারে সঙ্গে দূরত্ব ও অসমঝোতায় যে পরিমাণ শক্তিক্ষয় হবে, বাইরের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য শক্তি অবশিষ্ট থাকবে না।

আমি যে কোন পরিস্থিতি—সে হোক চাকরি বা ব্যবসায়িক জীবনের ব্যর্থতা, অপ্রাপ্তি, বঞ্চনা সবকিছু একসময় আমার জন্মদাত্রীর সঙ্গে আর পরে অবলীলায় সহধর্মিণীর সঙ্গে শেয়ার করি। বহুবার এমন অনেককে পেয়েছি, চাকরি হারিয়ে নিজের পরিবারে সঙ্গে দিনের পর দিন অভিনয় করে চলেছেন। অন্য সব দিনের মতো সকালে অফিসের পোশাক পরে বের হয়ে সন্ধ্যায় ঘরে ফিরেছেন। আমি তাঁদেরকে বলেছি, যুদ্ধটা আপনি একা করছেন কেন? আপনার পরিবারে জন্য আপনি জীবন সর্বস্ব করছেন, তাদের সঙ্গে কেন অভিনয় করছেন ? আপনার জীবনের প্রতিকূল অবস্থাতো চিরস্থায়ী নয়। এই যুদ্ধে আপনি তাদেরকেও সামিল করুন। ঘরে ও বাইরে প্রতিনিয়ত যুদ্ধ করে করে নিজে নিঃশেষ করার কোন মানে হয় না। বিশ্বাস করেন, অনেকে ফিরে এসে আমাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন আমার ওই সৎ পরামর্শটুকুর জন্য।

উপলব্ধি: ২

নৈরাশ্যবাদী ও নেগেটিভ লোক এড়িয়ে চলুন। এই ব্যাপারটা, আমার সহজাত ছিল ছোটবেলা থেকেই। করপোরেট জীবনে এড়িয়ে চলা যায় না। সফল মালিক, নিজের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে ক্ষমতাশালী অনেকেই ভয়ঙ্কর নৈরাশ্যবাদী ছিলেন। জীবনের নানাবিধ সাফল্য অর্জনের পরেও তাঁরা কেন জানিনা চারিদিকে হতাশা ছড়িয়ে চলতেন। সফল, কিন্তু নেগেটিভ, কুটিল মনের মানুষের সঙ্গে চলার সমস্যা হচ্ছে , তাদের প্রতিটি ভণ্ডামো, চাটুকারিতার কাহিনী-কীর্তি নিজের মনের উপর কালো দাগ ফেলে। এদের সঙ্গে মানিয়ে চলতে গেলে, একসময় দেখা যায়, নিজেরও এদের মতো হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। আমি সচেতনভাবে এদের সারাজীবন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেছি। নিতান্ত এড়িয়ে চলতে না পারলে, ইগনোর করেছি, তাদের কর্মকাণ্ডের কিছু নিজের ভিতরে নিইনি।

একটা নির্দিষ্ট বয়সের পর থেকে আমি আশাবাদী হতে শিখেছি। ঘরোয়া আড্ডায় আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের বলা একটা কথা আমি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করি, নৈরাশ্যের ইট দিয়ে দিয়ে বর্তমান সভ্যতা গড়ে ওঠেনি। সভ্যতার ইমারত গড়ে উঠেছে আশাবাদে। কোটি কোটি নৈরাশ্যবাদী লোকের মাঝে গুটি কয়েক আশাবাদী মানুষ সমাজ ও সভ্যতাকে এগিয়ে নিয়ে যান।

বিশ্বাস করা শিখেছি ‘ মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।’আমাদের সভ্যতার প্রতিটি গাঁথুনি শক্তিমান আশাবাদী মানুষের তৈরি। নৈরাশ্য এবং হতাশা দিয়ে কাব্য সৃষ্টি করা যায় হয়তো, আর কিছু না। আমি তো আর কবি নই; দণ্ডমুণ্ডের অধিকারীও কেউ নই। তাই, আমার উপলব্ধি , আশাবাদ আপনার চারপাশের পৃথিবী বদলে দিতে পারে । আর হতাশা ঠিক তাই করবে উল্টোভাবে। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, ‘ You will get, what you are afraid of !’ আপনি প্রতিমুহূর্তে কোনকিছু খারাপ হবে ভেবে থাকলে, আপনার সাথে তাই হবে।

আবার এটাও ঠিক, মাঝে মাঝে আমি হিসাব মেলাতে পারিনি। কেউই পারে না। কেননা পৃথিবী আমার আপনার আকাঙ্ক্ষিত নিয়মে চলে না । পৃথিবী চলে তাঁর নিজের নিয়মে। আধুনিক পৃথিবীতে আমাদের সাফল্য-ব্যর্থতার মাপকাঠি আর্থিক অবস্থান দিয়ে। একসময়ে মনে হয়েছিল, আশাবাদের সাথে সাফল্যের নিশ্চয়ই একটা প্রত্যক্ষ যোগাযোগ আছে ; তাই বলে আশাবাদী মনুষ্যমাত্রই সামাজিক ও আর্থিকভাবে সফল হবে সেটা বোধহয় অনেকাংশে সুনিশ্চিত নয়। এরপরেও আমি আশাবাদী। এবং আশাবাদী মানুষ বলতে হাল ছেড়ে না দেওয়া, উন্নত , উদার, সৌরভময়, উচ্চকিত সম্পন্ন মানুষকেই বুঝি।

প্রথম প্রকাশঃ নভেম্বর ২০২০

উপলব্ধি: ১

ব্যক্তি ও পরিস্থিতি সম্পর্কে তাড়াহুড়ো করে জাজমেন্টাল না হওয়া। আমার জীবনের সবচেয়ে বড়ো শিক্ষা।

আমি আমার পরবর্তী প্রজন্মকে সেটা জানিয়ে যেতে চাই। যদিও একজন মানুষের ব্যাপারে হুট করে কোন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার। সচরাচর আমাদের ধৈর্য হয় না, একটু অপেক্ষা করে ,সামগ্রিক ছবিটি যাচাই-বাছাই করার । হুট করেই অমুক ভালো, তমুক খারাপ সিদ্ধান্তে পৌঁছে যেতে চাই। সম্ভবত: এটি আমাদের মনে একটা স্বস্তি এনে দেয়। যে ব্যক্তির ব্যাপারে সিদ্ধান্তে পৌঁছাই, তাঁর সকল ক্রিয়াকর্ম আমাদের জাজমেন্টের চশমা দিয়ে দেখা শুরু করি।

নানা অভিজ্ঞতায় আমার উপলব্ধি হয়েছে যে, একজন মানুষ পুরোপুরি ভালো বা পুরোপুরি খারাপ হতে পারে না। জীবনের যে কোন পরিস্থিতিও তাই। সাদা কালোর মাঝে একটা রঙিন পৃথিবী আছে, সেটা আমার পরবর্তী প্রজন্মকে শিখতে হবে। নইলে পৃথিবী বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়বে।

ক্লাস সেভেনে পড়ার সময় আমাদের বিজ্ঞান শিক্ষক ঘরোয়া আড্ডায় বললেন, অন্যদের কাছে আগে থেকে শুনে শুনে তিনি আমাদের ইশকুলের তৎকালীন প্রধান শিক্ষকের একটা খারাপ ইমেজ দাঁড় করিয়ে ফেলেছিলেন। এবং ফলশ্রুতিতে আমাদের সবচেয়ে দক্ষ দুইজন শিক্ষকের মাঝে একটা ঠাণ্ডা লড়াই চলতে দেখতাম। বিজ্ঞান শিক্ষক আমাদেরকে বলেছিলেন, এই পূর্বশ্রুত ধারণা ভেঙ্গে, প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে একটা স্বাভাবিক সম্পর্ক তৈরি করতে তাঁর অনেক বছর সময় নষ্ট হয়েছিল। ঘুরে ফিরে সেই কথাটাই আসে। আগেই একজন ব্যক্তির সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেলে, সেটা সহজে মেরামত করা যায় না।

প্রথম প্রকাশঃ নভেম্বর ২০২০

 

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ( ফেসবুকে) আমার কার্যক্রমের পর্যালোচনা

ফেসবুককে আমার প্রথম থেকেই মনে হতো একটা ঘরোয়া আড্ডার মতো। একটা লিটল ম্যাগাজিন পড়ার অনুভূতি থাকত। লিটল ম্যাগাজিনগুলোতে যেমন সারাক্ষণ তরতাজা মচমচে স্বাদু অনুভূতির ছাপানো হরফ থাকে , সেইরকম । এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয়েছে। অসাধারণ কিছু মেধাবী লেখকের দৈনন্দিন দিনলিপি পড়ার সুযোগ ঘটেছে। আমি আরো বেশি রাজনীতি ও সমাজ সচেতন হয়েছি। নবীন প্রজন্মের কিছু চিন্তক , দার্শনিক , কবি ও সাহিত্যিকদের লেখা প্রতিদিন পড়ার সৌভাগ্য হচ্ছে। এঁদের একজন সতীর্থ আহসান। গতকাল , কিছু কথোপকথনের পরে, তিনি আমার লেখালেখি সম্বন্ধে কিছু বললেন। আমার কাছে ,সেটা অসংখ্য লাইক , লাভ, ওয়াও ইমোজি চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অনুমতি নিয়েই নিজের ওয়ালে পোস্ট করলাম।

“ আপনার লেখাজোকা ফেসবুকে যা প্রকাশিত হতো, মাঝেমধ্যে পড়া হত। হয়তো রিএকশন দিতাম, কখনো কখনো দিতাম না। আপনি মূলত প্রবন্ধ ঘরানার লেখা লিখে থাকেন। মোটামুটি লম্বা লম্বা বাক্যে। পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না। যেন শ্বাসরুদ্ধকর কোনো ফিকশন পড়ছি, এমন একটা অনুভূতি জাগে। সেই টানা টানা শ্বাসরুদ্ধকর বাক্যগুলোর মাধ্যমে যে চিন্তার প্রকাশ ঘটান সেটা সব সময়ই কোনো না কোনো ভাবে চিন্তা উদ্রেককারী হয়ে থাকে।

পরিচ্ছন্ন ভাষা আর গোছানো চিন্তা আপনার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বোঝা যায় আপনি দুনিয়াকে অবহেলিত শোষিত পীড়িত মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন। গণমানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়– এমন কোনো আচরণ আপনাকে ক্রুদ্ধ আর ব্যথিত করে। সেই মনোভাবকেই আপনি শৈল্পিক ভাষায় উপমায় প্রকাশ করেন। আমি শুধু অনুরোধ করব, এই ক্রোধ/দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি আরেকটা স্টেপ যোগ করুন। যেটা হচ্ছে, সেই বিপর্যয়টা কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায় সেটার পরামর্শ দিতে পারেন। দেশি বিদেশি নানা উদাহরণ সহযোগে। এতে আমার মনে হয়, আপনার লেখাটার গুরুত্ব আরো বাড়বে। আপনি নিজে কী, নিজে ঠিক বুঝতে পারছেন না, এর কারণ আত্মবিশ্বাসহীনতা। এইটা একটা মারাত্মক ব্যাধি জাহিদ ভাই। এই রোগে যারে ধরে সে সাধারণত মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।

এবার আরেকটা কথা শুনেন। আপনি থাকেন ২ নাম্বার রোডে। আর আমি থাকতাম ৩ নাম্বার রোডে। আপনার ঠিক বিপরীত রোডেই। আপনি বেশ কয়েকবার আড্ডার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি প্রায়ই আপনার বাসার সামনে দিয়ে হেঁটে আসতাম। কিন্তু আপনাকে জানিয়ে যাওয়া হতো না। কারণ, সেই তীব্র হীনমন্যতা। আমি ওখানে থাকতাম, একাই লাগত। আপনার সাথে প্রায়ই আড্ডা দিতে ইচ্ছা হতো। সাহিত্য আড্ডা আর কি। কিন্তু তখনই আমার পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে যেত। এই জন্য দুঃখিত। সামনে কখনো গেলে, এই নেকাব আর রাখব না। এই যে আমার আত্মবিশ্বাসহীনতা, এইটা অনেকগুলো সম্ভাবনাকে খুন করে থাকবে। হয়ত মনের সব বাঁধা পেরিয়ে আপনার সাথে দেখা করতে পারলে আমাদের চমৎকার সব সাহিত্য-আড্ডার অভিজ্ঞতা ঘটতে পারত। আপনার পরামর্শ বা কথাবার্তা আমার লেখাকে সমৃদ্ধ করতে পারত। আমার কোনো পরামর্শ হয়ত আপনারও কাজে লাগত। কিন্তু আমার এই আত্মবিশ্বাসহীনতা সে সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিলো।
আপনার লেখার হাত যথেষ্ট ভাল। চিন্তা পরিষ্কার। বইয়ে স্থান দেবার মত লেখা। শুধু একটু মনোযোগ আর আত্মবিশ্বাস বিনিয়োগের অভাব। মনে যা আসে, লিখতে থাকুন, তা যতই খারাপই হোক, এতে লেখার ফ্লো টা ঠিক থাকে। এই ফ্লো খুব ইম্পরট্যান্ট জিনিস। আর সময় পেলেই নানা বই পড়বেন। লেখার ফ্লো তৈরিতে বই পাঠের ভূমিকা অনেক। চিন্তাও সমৃদ্ধ হয়।

লেখা থেকে ধর্ম আর রাজনৈতিক বিষয়টা যেন সরাসরি না আসে তা খেয়াল রাখবেন। জানেনই তো এইদেশে মুক্তভাবে কথা বলার পরিবেশ নাই। একটা পদ্ধতি আছে, সেটার মাধ্যমে আপনি ধর্ম ও রাজনীতিকেও সমালোচনা করতে পারবেন। সেটা আপোষ পদ্ধতি বা ছলনা পদ্ধতি। এমনভাবে লিখতে হবে যাতে মনে হয় আপনি তাদের বিপক্ষের কেউ না। তাদেরই একজন। বন্ধ বান্ধব যেমন নিজেদের বন্ধু বান্ধবদের সমালোচনা করে। এই রকম আর কি। তবে লেখালেখির ক্ষেত্রে এই দুইটা বিষয় এড়িয়ে চলাই অধিকতর ভালো। লেখার মত দুনিয়ায় কত বিষয় আছে ভাই। তবুও এই দুইটাই যদি আপনাকে বেশি পীড়িত করে, তাহলে অবশ্যই ডিরেক্ট ম্যাথডে লিখবেন না। নানা ছলনার আশ্রয় নিবেন। এতে মূল কাজটাও হয়ে গেল, আপনিও টার্গেট হলেন না।

যা করুন, আর নিজেকে অবহেলা করবেন না। আপনাকে ক্লাসিক লেখক হতে হবে এই দিব্বি কে দিছে। আপনি একজন বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিশেবে আপনার মতামত প্রকাশ করবেন দুই মলাটের মধ্যে। এবং, সেটা খুব ভাল ভাবে সম্পন্ন করার যথেষ্ট যোগ্যতা আপনার রয়েছে। জাস্ট শুরু করে দিন।”

প্রথম প্রকাশঃ ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০

যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের –মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা!

চাকরির সুবাদে দূরের কারখানাগুলোতে যেতে হয় প্রায়শ । সবুজ ধানক্ষেত , দিগন্তবিস্তৃত গাছগাছালির মাঝখানে হঠাৎ দানবীয় কারখানা ! মাঝে মাঝে ক্লান্ত শ্রান্ত হয়ে ফিরে আসার সময় নাগরিক সভ্যতার ছোঁয়া লাগা জনপদের মাঝখান দিয়ে ঢাকার দিকে আসতে হয়। পিচ ঢালা রাস্তার পাশে হঠাৎ করে বিলুপ্ত প্রায় মাটির ঘর দেখা যায়। ঘন গাছে ঘেরা মাটির বাড়ীর ছোট্ট জানালার পাশে বিছানা। মনে হয়, ধ্যাত ! এই সব বাদ দিয়ে যদি ওই বিছানায় কিছুক্ষণ গা এলিয়ে দেওয়া যেত ! সঙ্গে থাকতো একটা প্রিয় বই।
কিছুক্ষণের মধ্যে ওই আধাশহর আধাগ্রামের রাস্তা ছেড়ে ঢাকার ক্লেদাক্ত যানজটে আমি সম্বিত ফিরে পাই—‘যে জীবন ফড়িংয়ের দোয়েলের –মানুষের সাথে তার হয় নাকো দেখা!’

প্রথম প্রকাশঃ ৩০শে এপ্রিল,২০১৩