by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন
কর্মক্ষেত্রের হে তরুণের দল!
আমাদের চল্লিশোর্ধদের কর্মক্ষমতা ও দক্ষতা দেখে আমরা অমানবিক মেশিন হয়ে গেছি বলবেন না অথবা অযথা বিস্মিত হবেন না।
এই বিস্ময় আমাদেরও ছিল ! আমরাও উঁচু গলায় বলেছি -অমুক স্যার তো নিজের পরিবারের কাছে অপ্রয়োজনীয় —, আছে খালি অফিস আর কাজ !
তমুক স্যারের কি আর আড্ডা দেওয়ার কোন বন্ধু আছে ! নাকি বউ-বাচ্চাকে সময় দিতে হয় ! নাকি , রাত জেগে মুভিজ দেখতে হয় ! এই আবালে সকাল সকাল সময়মতো অফিসে আসবে না তো কী , আমি আসব ?
যে কথাটা, হে তরুণ, আপনি ভুলে যাচ্ছেন—আমাদের মূলত সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময় আছে কষ্টেসৃষ্টে বছর পনের ! তারপরের বাকী বছরগুলো আধক্ষয়া শরীর টেনে টেনে পার করা! আসন্ন বার্ধক্যে আমাদের নিজেদের চিকিৎসার ও সন্তানদের ভবিষ্যতের দায়িত্ব রাষ্ট্র নিলে হয়তো দম ফেলবার ফুরসত থাকত ! সে আর হচ্ছে কোথায় !
সামনের মাত্র অল্প কয়েকটি বছরের অনিশ্চয়তা আর পাহাড় সমান কাজের বীভৎস চেহারা— না দিচ্ছে আমাদেরকে জীবনকে উপভোগ করতে ; না দিচ্ছে আপনাদের মতো তারুণ্যের আলস্যে মেতে থাকতে !
আমাদের এই অতরুণসুলভ, মেপে চলা , তাড়াহুড়োর কর্মদক্ষতার পিছনের করুণ কাহিনী উপলব্ধি করতে হলে আপনার বয়স পন্চাশের কাছাকাছি আসতে হবে !
তার আগ পর্যন্ত, আমাদের তাচ্ছিল্য দেখানোর সঙ্গে সঙ্গে সমবেদনা দেখাতে ভুলবেন না, এই কামনা করতেই পারি !
প্রকাশকালঃ ২৪শে ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, সাম্প্রতিক
এই জন্মদিনে অগ্রজ, অনুজ ও সতীর্থদের বহুমাত্রিক অন্তর্জালিক ( ইন্টারনেটের ভার্চুয়াল) শুভেচ্ছায় আপ্লূত হয়ে গেছি। গতকাল থেকে কিছু কথা ঘুরছিল মাথায়। টুকে রেখে যাই, পরে ফিরে এসে দেখতে পারব।
আসলে শহুরে নিম্নমধ্যবিত্তদের জন্মদিন নিয়ে তো তেমন কোন আনুষ্ঠানিকতা ছিল না আশির দশকে ; আমারও ছিলনা। কখন জন্মদিন আসে , কখন চলে যায় সেটা আম্মাই মাঝেসাঝে মনে করিয়ে দিতেন । হঠাৎ করে বলতেন, ‘আমার বাবাটা আজকের এই দিনে খুব ভোরে জন্মেছিল।’ আম্মার মুখে শোনা, আমার জন্মের আগে থেকেই বেশ কিছুদিন ধরে আব্বা বড় ফুফু-ফুফা,দাদা-দাদীদের সঙ্গে একান্নবর্তী হয়ে র্যাঙ্কিন স্ট্রিট ওয়ারীতে একটা বিশাল বাড়ীতে থাকতেন। স্বাধীনতা পরবর্তী অরাজকতায় স্থানীয় নেতা ও মাস্তানদের সঙ্গে মামলা ও হাঙ্গামা করতে করতে ক্লান্ত বিরক্ত ও ক্ষুদ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন। সেই অস্থির সময়ে ডেমরার মাতুয়াইলে আব্বার ধর্ম-মায়ের বাড়ীতে জন্মেছিলাম আমি । নানা কারণে একসময় সব ছেড়ে আম্মা কয়েকবছরের জন্য নানার বাড়ী কুষ্টিয়া চলে যেতে বাধ্য হন। আমার বড়ভাইয়ের সঙ্গে আমার ঠিক ৪ বছরের পার্থক্য। ও তখন হাঁটিহাঁটি পা পা। গাছ ঘেরা বড় একটা বারান্দা ছাড়া র্যাঙ্কিন স্ট্রিটের সেই বাড়ীর কোন স্মৃতি নেই আমার মনে।
মিরপুরের অবাঙ্গালী বিহারী অধ্যুষিত ১১ নাম্বারে আসার আগে আমাদের পরিবারটি কিছুদিন মিরপুরের চিড়িয়াখানার কাছে গুদারা ঘাট এলাকায় ভাড়া থাকতাম। খুব সকালে বাঘের হুংকার কানে আসত।ভীষণ পানির সমস্যা ছিল ওই এলাকায়। মাঝে মাঝেই হাঁড়িপাতিল নিয়ে ওয়াসার গাড়ীর কাছে পানির জন্য ভিড় জমে যেত। পরে চলে আসলাম , মিরপুরের পাইক পাড়ায় এক ডাক্তার সাহেবের বাসায়। বর্ষায় চারপাশে থইথই পানি , জলাবদ্ধতা। বিএডিসি কলোনির পাশে নতুন নগর গড়ে উঠছে। শহরের প্রধান রাস্তা মিরপুরে ১ নাম্বার থেকে সোজা কল্যাণপুর হয়ে চলে গেছে শ্যামলী, এলিফ্যান্ট রোডে। তারপরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় , গুলিস্তান, নবাবপুর, সদরঘাট। ডাক্তার মোশাররফ সাহেবের দুই ছেলে, দুই মেয়ে সবাই স্কুলের গণ্ডী পেরিয়েছে। রনি ভাই, পরে বুয়েটে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে প্রবাসী। ভুলন ভাই, লালা-ভোলা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের। সুশ্রী চেহারার রুপা আপা, দীপা আপা সদ্য কৈশোর পেরিয়ে প্রস্ফুটিত যৌবনে পা দিয়েছেন। ঠিক উপরের তালায় সিলেটি পরিবারের মিজান ভাই আর মিলি আপাদের পরিবার।
আমার প্রথম জন্মদিনের দাওয়াত মিলি আপাদের বাসায়। বেলুন ফুলিয়ে কেক কেটে জন্মদিন। ঠিক যেন বাংলা সিনেমার মত স্বপ্নময়। তারও কিছুদিন পরে চলে আসলাম মিরপুরের ১১ নাম্বারে নিজেদের পৌনে দুই কাঠার বাড়ীতে। সেই বেড়ে চলার কাহিনী ছিল মিষ্টি-মধুর। জন্মদিন মানেই আমার কাছে মনে হত, বাংলা সিনেমার হবু নায়ক-নায়িকার ‘ ‘হ্যাপি বার্থ ডে টু ইউ’ গেয়ে টেয়ে কেক কাটা। সদ্য কৈশোরে পা দিয়েও খুব বেদনাহত হওয়ার মতো বিষয় ছিল ডিসেম্বরের ১৩ তারিখ ! সারাবছরের সবচেয়ে ভীতিকর বার্ষিক পরীক্ষার সময়ে ১৩ বা ১৪ তারিখে হয় সাধারণ বিজ্ঞান অথবা সাধারণ গণিত পরীক্ষা থাকত। সুতরাং জন্মদিন নিয়ে আম্মার কাছে ঘ্যানঘ্যান করার চেয়ে আমার চলতো ইয়া নফসি , ইয়া নফসি অবস্থা।
কলেজে ওঠার পরে আরেকটু বিস্তৃত সম্পর্কের জন্য , বন্ধুদের বাসায় দাওয়াত পেতাম। একটা সুনীল, শীর্ষেন্দু বা হুমায়ূন আহমদের বই দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে, চা-বিস্কুট দিয়ে জন্মদিনের সমাপ্তি ঘটতো।ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার সময়েও সেই একই অবস্থা। তেমন কোন হেরফের নেই জন্মদিন নিয়ে। জন্মদিন যে বড়লোকি ব্যাপার সেটা আমি অনেক আগেই বুঝে গিয়েছিলো।
বিবাহিত জীবনে আমার যেমন আমার বউয়ের জন্মদিনের ভুলে যাওয়ার প্রবণতা ছিল, ঠিক ছিল ওঁরও। আর ডিসেম্বর মাসে ক্রিসমাসের আগে গুচ্ছের আমেরিকান কোটার শিপমেন্টের চাপে জন্মদিন কোথা দিয়ে পার হয়ে যেত টেরই পেতাম না। আমার দুই টুনটুনি হওয়ার পরে , ইদানীং জন্মদিনটা দুইভাবে পালিত হয়। অফিসে সকল কর্মকর্তাকে সকালবেলায় জন্মদিনের ফুলেল শুভেচ্ছা দেওয়ার রেওয়াজ আছে । আর সেই সঙ্গে থাকে, সহকর্মীদের কাছ থেকে পাওনা খাওয়ার দাবী। মাত্রই গত বছর দশেক ধরে আমার জীবনে জন্মদিনের কেকের আবির্ভাব ঘটেছে। নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে উপরের দিকে ধাবিত হওয়ার জন্যই হয়তো এই বড়লোকি আনুষ্ঠানিকতা ঢুকে পড়েছে আমার জীবনে।
আব্বা আম্মার দীর্ঘ অসুস্থতার সময়টি কেটেছে আমার আর আমার সহধর্মীনির সান্নিধ্যে। আমি খুব মন দিয়ে তাঁদের জন্মদিন পালন করেছি শেষের বছর পাঁচেক। মাঝে মাঝে স্মৃতির পাতা উল্টে দেখি। সেই সময়ের তোলা অসংখ্য ছবি আমাকে বেদনার্ত করে এখনো। সেই মধুর উষ্ণ আম্মার গা ঘেঁষে তোলা ছবিগুলো আমার হৃদয় মথিত করে !
কিডনি ডায়ালাইসিস নেওয়া আব্বা ও আম্মার চলে যাওয়াটা তো অবধারিত ছিলই! ২০১৪ এর ২৭শে জুলাই আব্বা আর ঠিক একান্ন-দিনের মাথায় ১৬ই সেপ্টেম্বর আম্মার চলে যাওয়াটা আমার জন্মদিনের সব আনন্দ ম্লান করে দিল। আম্মার আরো কিছুদিন না থেকে যাওয়াটা আমি কিছুতেই মেনে নিতে পারি না। ২০১৪ এর বিমর্ষ জন্মদিন, ২০১৫ তেও সেই একই হাহাকার ! নেই নেই আমার সবচেয়ে আস্থার জায়গাটা নেই ! কিন্তু শোকের আয়ু আর কতোদিন ! মানুষের জীবন কি থেমে থাকে। সেই একই ট্রেনের কামরায় উঠে বসেছে নতুন যাত্রী ; চলে গেছে পুরনো যাত্রীরা তাঁদের নির্ধারিত গন্তব্যে। দিনের পর দিন ট্রেনের কামরায় একই আসনে সব যাত্রীদের যে বসে থাকার উপায় নেই। তাই, নতুন যাত্রীরা ( আমার দুই টুনটুনি ) নিজেরাই কেক ম্যানেজ করে গভীর রাতে জাগিয়ে দিয়েছিল আমাকে । ঘুমঘুম চোখে গভীর ভালোবাসায় ভেসে যাই আমি। তারপরে গত পরশু কেটে গেছে অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীর অন্তর্জালিক ভার্চুয়াল ভালোবাসায় ! সেই ভালোবাসার প্রত্যুত্তর দেওয়ার সামর্থ্য আমার কোথায় ?
২০১৬ সালের এই জন্মদিন আমার মনে থাকবে অনেকদিন। যারা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন,ভালোবাসা জানিয়েছেন ; যারা নানা ব্যস্ততায় হয়তো মনে করেছেন আমার কথা কিন্তু শুভেচ্ছা জানাতে পারেন নি ; তাঁদের সবার প্রতি আমার অসীম কৃতজ্ঞতা।
প্রকাশকালঃ ১৫ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | শিল্প ও সংস্কৃতি, সাম্প্রতিক
১৯৮৮ সাল। এসএসসি ৮৯ ব্যাচের বিদায়ী অনুষ্ঠানের জন্য বই, ফুল ইত্যাদির আয়োজন করা কমিটিতে কী মনে করে শ্রেণি শিক্ষক আমাকেও রাখলেন। আমরা তখন, দস্যু বনহুর, মাসুদ রানা, ওয়েস্টার্ন, তিন গোয়েন্দা, কিশোর ক্লাসিকে ডুবে আছি। সেবা প্রকাশনীর পেপারব্যাক এডিশনের বাইরে , লাইব্রেরিগুলোর তাকে সাজানো থাকত– হয় মোকছেদুল মোমেনিন, নামাজ শিক্ষা অথবা স্বামীর প্রতি স্ত্রীর কর্তব্য টাইপ বই। অথবা কিছু ভারতীয় লেখকের নিমাই ভট্টাচার্যের মেমসাহেব, নীহার রঞ্জন গুপ্তের কিছু বই। কালেভদ্রে সুনীল, শীর্ষেন্দু।
৮৫ সালে এইসব দিনরাত্রি করে হুমায়ূন আহমেদ জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন। ৮৭-৮৮ সালে তিনি ধারাবাহিক ও ঈদের হাসির নাটক করে খ্যাতির তুঙ্গে। সেই সময়ে আমার হাতে পড়ল তার ‘নন্দিত নরকে’ আর ‘শঙ্খনীল কারাগার’ উপন্যাস দুটি। সেবা প্রকাশনীর নানা বিদেশি অনুবাদের ভিড়ে সেটা আমার কিশোর পাঠক মনের জন্য এক তুমুল বিস্ময় ! দুটি উপন্যাস পরপর পড়ে আমি রীতিমত ঘোরের ভিতরে চলে গিয়েছিলাম। এর প্রভাব এতোটাই পড়ল যে , সেই সময় কয়েকবছর ধরে বন্ধু বান্ধবী, ভাই-বোন যাদের জন্মদিন থাকত। আমি অবধারিতভাবে ‘শঙ্খনীল কারাগার’ বইটি তাকে দিতাম। এবং ৮৯ ব্যাচের বিদায়ীদের জন্য বাংলাবাজার গিয়ে প্রায় ১৫০ কপি নিয়ে আসলাম।
মধ্যবিত্ত জীবন দেখানো অনেক খ্যাতনামা উপন্যাসিক তখনো ছিল। কিন্তু কেন জানি না হুমায়ূন আহমেদ আমাদের প্রজন্মের কাছে পৌঁছে গেলেন সবার আগে। তাঁর সরল ভাষা আমাদের ছোটবড় সবাইকে তাঁর লেখার ভক্ত বানিয়ে ফেলল।
বাংলা সিনেমা আমি সিনেমা হলে গিয়েই দেখি। সেই ‘পদ্মা নদীর মাঝি’, ‘ মনের মানুষ’ থেকে শুরু করে গতবছরের ‘আয়নাবাজি’। তো গতকাল ঢুকে পড়লাম আণ্ডাবাচ্চা নিয়ে ‘ইতি, তোমারই ঢাকা’ দেখতে। বাংলাদেশের প্রথম অ্যান্থলজি ফিল্ম। আমি ভেবেছিলাম, একটা পূর্ণদৈর্ঘ্য ছবি। কিন্তু ধাক্কা খেলাম মিনিট দশেক পরেই, শুরু হল আরেকটি ছবি। আমি ধাক্কা খেতেই লাগলাম ! একবার হেসেছি, একবার বিষণ্ণ হয়েছি, একবার হতাশা গ্রাস করেছে আর অবশেষে মুগ্ধ হয়ে সিনেমা হল থেকে বের হয়ে এসেছি । আমার মুগ্ধতার রেশ এখনো কাটেনি।
১১ জন নবীন পরিচালকের শর্ট ফিল্মের সমাহার। শুরু হল, নুহাশ হুমায়ূন আহমেদ দিয়ে। হুমায়ূন পুত্র ছাড়া আর কাউকেই আপনি চিনবেন না। কিন্তু বিস্মিত হবেন। আমি আয়নাবাজি ৪ বার দেখেছিলাম, একবার নিজে, পরের বার টেক্সটাইলের প্রকৌশলী বন্ধুদের সাথে , তারপর স্কুলের বন্ধুদের সাথে, শেষের বার বাসার মুরব্বীদের সঙ্গে। এবং প্রতিবার আমি যেভাবে মুগ্ধ হয়েছিলাম , তাঁরাও হয়েছিলেন।
এই ছুটিতে দেখে আসুন।
একটা নতুন অভিজ্ঞতা হোক আপনার। দেখে এসে আপনার অভিজ্ঞতা জানাতে ভুলবেন না।
ডিসক্লেইমারঃ
১। শিশুদের সঙ্গে না নিলেই ভাল। এরা এটা পছন্দ করবে না। আমার ত্রয়োদশী বড়কন্যা ভীষণ মজা পেয়েছে। কিন্তু আট বছরের শ্রেয়া বিরতির পর থেকেই উসখুস করেছে।
২। টাকা দিয়ে বিনোদন কেনার সামর্থবান ঢাকার একশ্রেণীর দর্শকদের আপনি সিনেপ্লেক্সে পাবেন। আমার ঠিক পাশের দুই তরুণ সারাক্ষণ ফেসবুক চালিয়ে হুহা, হিহি করে বিরক্ত করেছেন। ঠিক সামনের সারির মাঝবয়েসী তিনজন ভদ্রলোক(!) ‘এইটা কোন বালের ছবি হইল’ ইত্যাদি বলে সময় পার করেছে। বিরক্ত হয়ে তাদের অনুরোধ করতে হয়েছে আস্তে কথা বলার জন্য ; বৃথা চেষ্টা, তারা পুরো সময়টা বকরবকর করেছেন।পরে আসন বদলাতে হয়েছে। আর সামনের সারির ডানদিকে আরেক মাঝবয়েসী ভদ্রলোক(!) সারাক্ষণ তার ড্রাইভারকে গাজীপুর থেকে আব্দুল্লাহপুর পার হয়ে উত্তরা পাঁচ নাম্বার সেক্টরে কীভাবে কোথায় টার্ন নিতে হবে এই ইন্সট্রাকশন দিয়েছে উচ্চস্বরে। বিরতির সময় বের হয়ে গেট কীপারকে অনুরোধ করতে হয়েছে, সাউন্ড বাড়াতে। ঢাকাবাসী ও ঢাকার দর্শক কতোখানি আবাল হতে পারে সেটা আপনি এই সিনেমা দেখতে গেলে তাদের নানা মন্তব্যে বুঝতে পারবেন।
প্রকাশকালঃ ১৪ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র
আমার কোন ভৌতিক অভিজ্ঞতা নেই।
তবে, জীবিত একজন মানুষকে আমার ভূত বলে ভয় হতো। দাদাকে কবর দেয়া হয়েছিল মিরপুরের কালশী গোরস্থানে। আব্বা ছিলেন পরিবারের বড় ছেলে। ঈদ ও নানা পার্বণে দাদার গোরখোদক আমাদের বাড়িতে সাহায্যের জন্য আসত। আমি বলছি ৮০-৮১ সালের কথা। আব্বা সবসময় টুকটাক সামর্থ্য মতো সাহায্য করতেন।
গোরখোদক ছিল উর্দুভাষী। কেন জানিনা তাঁকে আমি কখনো দিনের আলোতে আসতে দেখিনি। হতে পারে, কবরস্থানের রক্ষণাবেক্ষণ সেরে ঠিক ভরা সন্ধ্যায় আমাদের বাড়ির গেটে এসে টুকটুক করে ধাক্কা দিত। ঘর থেকে আমরা অনেকক্ষণ অপেক্ষা করার পর বোঝার চেষ্টা করতাম , কেউ দরজায় আছে নাকি নেই!
সবসময় একটা সাদা ময়লাটে লুঙ্গি আর সবুজ তেল চিটচিটে একটা ফতুয়া পড়তে দেখেছি তাকে। নতুন জামা দিলেও সে এটাই পড়ে আসত। আমার জন্য ভয়ের ব্যাপার ছিল তার খ্যাসখ্যাসে স্বর, দৈহিক গঠন আর চেহারা। চুলহীন, ভাঙ্গা গালের মিশমিশে কাল, কঙ্কালসার প্রায় ৬ ফুট লম্বা লোকটিকে দেখলেই আমার ভয় লাগত। মৃত্যুর মতো একটা দুর্বোধ্য ব্যাপারের সঙ্গে সে জড়িত। আমার মৃত্যু চেতনা তখনও কিছুই হয় নি। অসুস্থতা ও বয়স্কদের মৃত্যু যে ভাল কিছু না , সেটা বুঝতাম।
মিরপুর তখনো পাড়াগাঁয়ের মত। মেইন রোড থেকে শুরু ভাঙ্গাচোরা গলির রাস্তা, কিছু বাড়ির সামনে টিমটিমে গোল হলুদ বাতি ; সেটা এক ফুট দূরের অন্ধকারকেও আলোকিত করতে পারত না। সন্ধ্যার পরে মুরগীর খোঁয়াড়ে ঢোকার মতো করে বাচ্চারা টেবিলে টেবিলে হ্যারিকেন নিয়ে বসতাম। প্রতি সন্ধ্যায় আবশ্যিকভাবে লোডশেডিং। কখনো ৯টার নাটকের আগে আগে ফিরত; কখনো আরো দেরীতে।
সেই আবছায়া সময়ে দাদার গোরখোদককে দেখলেই আমি ভয় পেতাম। আচমকা যে কোন এক সন্ধ্যায় লোকটার সেই ফ্যাসফ্যাসে গলায়, মাথা নিচু করে প্রায় অস্পষ্ট স্বরে ‘ বাবু ওয়াকিল সাহাব ঘরমে হ্যায় কেয়া ?’ অথবা আধভাঙ্গা বাংলায় ‘ওকিল সাহাব ঘোরে আছে বাবু ?’- শুনেই আমি ভয়ে কাবু হয়ে যেতাম।
এমনিতেই হয়তো জ্বর এসেছিল, আম্মা ধরে নিলেন ভয় পেয়ে হয়েছে। মনে আছে, পরের বার আম্মা তাকে ওইভাবে সন্ধ্যাবেলায় না আসতে আর আমার ভয় পাওয়ার ব্যাপারটা নিয়ে কটু কথা বলেছিল। দিনের আলোতে আসতে বলেছিল। কিন্তু , তার মতো নিরীহ একটা লোককে, ছোট্ট একটা বাচ্চা কেন ভয় পাচ্ছে, সেটা সেও নিশ্চয় মাথা নিচু করে ভাবত।
প্রথম প্রকাশ্ঃ ১২ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | লাইফ স্টাইল, সমাজ ও রাজনীতি
২১। বিবাহ বা ব্রহ্মচর্য, যেটাই মানুষ বেছে নিক না কেন আখেরে তাকে পস্তাতে হবে। সক্রেটিস।।
২২। যে ব্যক্তি স্ত্রীকে বশে রাখতে পারেন, তিনি একটি জাতিকে চালনা করার উপযুক্ত। বালজাক।।
২৩। আমার দুটো বিয়ের একটিও সুখের হয় নি। প্রথম স্ত্রী আমাকে ছেড়ে চলে গেছে। দ্বিতীয়জন যায় নি ! প্যাট্রিক মুর, ইংরেজ জ্যোতির্বিদ।।
২৪। পুরুষ নারীকে বিয়ে করে এই আশায় যে তারা কখনো বদলাবে না। নারী পুরুষকে বিয়ে করে এই আশায় যে তারা বদলাবে। স্বভাবতই তারা দুজনেই হতাশ হয়। আলবার্ট আইনস্টাইন।।
২৫। বিয়ে হলো মূত্রত্যাগের মতোই প্রাকৃতিক, অযৌক্তিক এবং ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। লিসা হফম্যান, লেখক।।
২৬। মেয়েরা যতো স্বাধীন হতে চেষ্টা করে তত অসুখী হয়। ব্রিজিত বার্দো, ফরাসি মডেল , অভিনেত্রী।।
২৭। নারীর সতীত্ব পুরুষের বৃহত্তম আবিষ্কার। কর্নেলিয়া অটিস স্কিনার, আমেরিকান অভিনেতা।।
২৮। প্রেম হলো ভুতের মতো , ভাবলে আছে না ভাবলে নাই। মিশেল ফুকো। ফরাসী দার্শনিক।।
২৯। একজন বুদ্ধিমতী চুমু দেবে কিন্তু ভালোবাসবে না, শুনবে কিন্তু বিশ্বাস করবে না এবং তাকে ছেড়ে যাওয়ার আগেই সে ছেড়ে চলে যাবে। মেরিলিন মনরো।।
৩০। ভালো মেয়েরা স্বর্গে যায়, খারাপ মেয়েরা সব জায়গায় যেতে পারে। মে ওয়েস্ট, আমেরিকান অভিনেত্রী।।
৩১। যাই ঘটুক না কেন বিয়ে করে ফেল। স্ত্রী ভালো হলে সুখী হবে, না হলে দার্শনিক। সক্রেটিস।।
৩২। আমার সারা শরীর ব্যাথা করছিল, সেই সঙ্গে ছিল বমি বমি ভাব। বুঝতে পারলাম, হয় আমি প্রেমে পড়েছি, নয়তো আমার গুটিবসন্ত হয়েছে। উডি অ্যালেন। আমেরিকান অভিনেতা।।
৩৩। আমার টাকাপয়সার নব্বইভাগ মদ এবং মেয়েমানুষের পেছনে ব্যয় করেছি।বাকী টাকাটা একদম জলে গেছে। জর্জ বেস্ট, ইংলিশ ফুটবলার।।
৩৪। একটি মেয়ের দোষ জানতে হলে বান্ধবীদের কাছে গিয়ে তার প্রশংসা করো। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন।।
৩৫। বিয়ের আগে আপনার চোখ খোলা রাখুন। তারপর আধবোজা করে বন্ধ করুন। বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন।।
৩৬। আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো, আমার স্ত্রীকে আমার সঙ্গে বিয়েতে রাজি করাতে পারা। উইনস্টন চার্চিল।।
৩৭। টাকা দিয়ে ভালোবাসা কেনা যায় না, কিন্তু দরদাম করার মতো একটা শক্ত অবস্থান অর্জন করা যায়। ক্রিস্টোফার মার্লো, ব্রিটিশ নাট্যকার।।
৩৮। প্রেমিক হওয়া সহজ, স্বামী হওয়া শক্ত। মাঝে মাঝে দু’চারটা মজার কথা বলে মন জয় করা যায়, কিন্তু প্রতিদিন রসোক্তি করা সম্ভব নয়। বালজাক।।
৩৯। রমণী খাবার সাজানো টেবিলের মতো, যার দিকে পুরুষ খাবার আগে ও পরে ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায়। বালজাক।।
৪০। মেয়েদের স্তনকে একই সঙ্গে নান্দনিক ও ব্যবহারযোগ্য বস্তু হিসেবে দেখা উচিত। ম্যুরা পাতিসিয়ে, ফরাসী সেনাধ্যক্ষ।।
৪১। নারী পুরুষের জীবনে এক অসহ্য, অবাধ্য ও অপরিত্যাজ্য সহচারিণী। লেভ তলস্তয়।।
৪২। বলা হয় ঘোড়ার শক্তি তার মুখে ও নিতম্বে। এ সত্য নারীর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। জোনাথান সুইফট।।
৪৩। জঞ্জাল ফেলবার সবচেয়ে ভালো ঝুড়ি হচ্ছে বিবাহ। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।
৪৪। মহিলাদের নিয়ে মুশকিল এই যে, এঁরা আলাপ-আলোচনায় অপটু, অথচ কথা বলার শক্তি হারান না । জর্জ বার্নার্ড শ।।
৪৫। আজকের সভ্যতায় পুরুষকে মাপা হয় ব্যাংকের ফিগার দিয়ে আর মেয়েদের মাপা হয় দেহের ফিগার দিয়ে। শঙ্কর, কথাসাহিত্যিক।।
প্রকাশকালঃ১২ই ডিসেম্বর,২০১৯
সাম্প্রতিক মন্তব্য