by Jahid | Nov 29, 2020 | দর্শন, সমাজ ও রাজনীতি
১। মেয়েদেরই বিস্তর অলংকার সাজে এবং বিস্তর মিথ্যাও মানায়। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।
২। চমৎকার একটি প্রশ্ন, যার কোন উত্তর নেই।প্রশ্নটি হলো, একজন নারী কি চায় ? সিগমুন্ড ফ্রয়েড।।
৩। একবার পুরুষের সমান হলেই নারী তারচেয়ে শ্রেষ্ঠ হয়ে যায় । সক্রেটিস।।
৪। কথা বলার যন্ত্র আসলে আমি নই, স্বয়ং ঈশ্বরই নারী জাতির মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন। আমি শুধু এমন একটা যন্ত্র তৈরি করেছি যেটাকে ইচ্ছেমত থামিয়ে দেওয়া যায়। টমাস আলভা এডিসন।।
৫। একটি স্থাপত্যকর্ম সম্পর্কেই আমার কোন আপত্তি নেই, তার কোনো সংস্কারও আমি অনুমোদন করি না। স্থাপত্যকর্মটি হচ্ছে নারীদেহ। হুমায়ুন আজাদ।।
৬। সেইসব নারী পুরুষের সমকক্ষ হতে চায়, যাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা নেই। মেরিলিন মনরো।
৭। মধ্যবিত্ত পতিতাদের নিয়ে সমস্যা হচ্ছে তারা পতিতার সুখ ও সতীর পুণ্য দুটোই দাবি করে। হুমায়ুন আজাদ।।
৮। মেয়েদের শ্রেষ্ঠ বন্ধু হলো ডায়মন্ড। মেরিলিন মনরো।।
৯। আমার মনে হয় যেসব পুরুষের কান ফুটো করা, তারা বিয়ের জন্য ভালোভাবে প্রস্তুত। কারণ তারা ব্যাথা সহ্য করেছে এবং অলঙ্কারও কিনেছে। রিটা রুডনার, আমেরিকান অভিনেত্রী।।
১০। অন্ধকারে সব নারীই সুন্দরী। পুতার্ক , রোমান ধর্মযাজক।।
১১। মেয়েছেলেকে লেখাপড়া শেখালে কী আর রক্ষা আছে ? এক ‘আন’ শিখেই তাদের যন্ত্রণায় টেকা দায়। চাল আন, ডাল আন, তেল আন সারাদিন এই করেই অস্থির। রামনারায়ণ তর্করত্ন, নাট্যকার।।
১২। আগে কাননবালারা আসতো পতিতালয় থেকে, এখন আসে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। হুমায়ুন আজাদ।।
১৩। এ সংসারে যৌবনের সমতুল্য আর কি আছে ? কিন্তু এমন জিনিসটিকে বাচ্চাকাচ্চার জন্যে নষ্ট করা সত্যিই অপরাধ। জর্জ বার্নার্ড শ।।
১৪। গত দু’শো বছর গবাদিপশুর যতটা উন্নতি হয়েছে নারীর ততটা উন্নতি ঘটেনি। হুমায়ুন আজাদ।।
১৫। আমি নারী বিদ্বেষী তার প্রথম কারণ তারা নারী, দ্বিতীয় কারণ তারপরেও তারা নারী, তৃতীয় কারণ শেষ পর্যন্ত তারা নারী। বার্টান্ড রাসেল।।
১৬। রমণীর অনর্থক হাসি দেখিয়া অনেক পুরুষ অনর্থক কাঁদে , অনেক পুরুষ ছন্দ মিলাইতে বসে, অনেক পুরুষ গলায় দড়ি দিয়ে মরে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।।
১৭। জন্মাবার সময় থেকে আঠারো বছর পর্যন্ত মেয়েদের দরকার ভালো বাবা-মা, উনিশ থেকে পঁয়ত্রিশ পর্যন্ত সুন্দর মুখ, ছত্রিশ থেকে পঞ্চান্ন পর্যন্ত নারীর ভূষণ ব্যক্তিত্ব এবং পঞ্চান্নের পর বৃদ্ধার চাই নগদ টাকা। ক্যাথলিন নরিস, আমেরিকান কবি।।
১৮। সবচেয়ে ভালো স্বামী হলো পুরাতাত্ত্বিক । স্ত্রী যতই পুরনো হবে ততই তার আগ্রহ বাড়বে। আগাথা ক্রিস্টি, লেখক।।
১৯। স্বামীরা রুটির ব্যবস্থা করবে এটা আশা করা দোষের নয়। কিন্তু অনেক স্ত্রী চান তাদের স্বামীরা হোক রুটির কারখানা। হামফ্রি বোগার্ট, আমেরিকান অভিনেতা।।
২০। যে পুরুষ স্ত্রীর ড্রেসিং রুমে যান হয় তিনি দার্শনিক , নইলে হাঁদারাম। বালজাক।।
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
অভিজ্ঞতাটা আমার অগ্রজের।
বাড়ির পাশে বাজারে ছোট চাচার এক বন্ধুর কসমেটিকসের দোকান ছিল। আমি ও ভাইয়া দুজনেই স্কুলে পড়ি।মাঝে সাঁঝে ছোটখাটো কিছু একটা, এই যেমন শীতের দিনের ভেসলিন বা ভ্যানিসিং ক্রিম কিনতে আম্মা দোকানে পাঠান। দোকানের মালিক হ্যান্ডসাম যুবক ; সারাক্ষণ কিশোরী তরুণীদের ভিড় লেগে থাকে। তবে মহিলা ক্রেতারা যে দাম নিয়ে বড্ড দরকষাকষি করে সেটা ওখানে দাঁড়ালেই টের পাওয়া যেত। হয়তো, ১ টাকা ডজনের কালো হেয়ার ক্লিপ যেটা এমনিতেই সস্তা ; সেটার দাম কমানোর জন্যও এরা এক ঘণ্টা পার করত!
তো ভাইয়া কী যেন একটা কিনতে গেছে , সেটার কথা বলে অপেক্ষা করছে। আগে থেকেই দুইজন তরুণী দোকানের অর্ধেক কসমেটিকস নামিয়ে সামনের ডিসপ্লের উপর স্তূপ করে রেখেছে। অবশেষে দুটি পণ্যের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। দামাদামি আগেই কিছুটা হয়েছিল। ফাইনালি চাচা খুব দ্রুত লয়ে বললেন, আপনাদের কাছে কি আর দাম রাখব আপা ! এটা সাত আর এটা পাঁচ,মোট পনের টাকা ; আপনি তের টাকা দিয়েন। মহিলা ভীষণ খুশী হয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে ১৩ টাকা বের করে দিয়ে চলে গেলেন।
ভাইয়া আর সেই চাচার বাকী কথোপকথন কি হয়েছিল জানি না। তবে এই ধরণের কাহিনী যে হয় সেটা বুঝলাম , যেদিন থেকে আমি বউয়ের সঙ্গে বাজার করা শুরু করলাম !
প্রকাশকালঃ ১১ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | দর্শন
১। তরুণদের বড্ড ভালো লাগে। ওদের মধ্যে যে এখনও কামিনী-কাঞ্চনের মোহ, বিষয়বুদ্ধির লোভ ঢুকতে পারে নি। ওরা যেন এক একটা নতুন হাঁড়ি , নিশ্চিন্তে দুধ রাখা যায় ।
২। স্বার্থপরদের ঈশ্বর চিন্তা হবে কি করে ? তাদের যদি বলো, এখানে মোত। কিছুতেই মুতবে না।পাছে তোমার যদি কোনো উপকার হয়। আবার এক পয়সার সন্দেশ দোকান থেকে আনতে দিলে তাও চুষে এনে দিবে।
প্রকাশকালঃ ১১ই ডিসেম্বর ,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | দর্শন
১। ‘ বিদ্বান লোকই সবচেয়ে অলস। সে পড়াশোনা করেই সময় নষ্ট করে।’
জর্জ বার্নার্ড শ।
২। ‘কারো উদ্ধৃতি দিতে পারার ক্ষমতা উপস্থিত বুদ্ধির ঘাটতি পুষিয়ে দেয়।’
সমারসেট মম।
৩। ‘তুমি এমন কোনো বই লেখ না কেন যা মানুষ পড়তে পারে?’
নোরা জোনস, স্বামী লেখক জেমস জয়েসের উদ্দেশ্যে ।
৪। ‘স্বাস্থ্যসংক্রান্ত কোনো বই পড়ার সময় সাবধান। ছাপার ভুলের কারণে আপনার মৃত্যু হতে পারে।’
মার্ক টোয়েন।
৫। ‘দুর্নীতি এবং অশ্লীলতাই সাহিত্যের প্রাণ । এই দুইটি সুন্দর হয়েছে যে প্রতিভার হাতে তাকেই আমরা বলি অপরাজেয় কথাশিল্পী।’
প্রবোধকুমার সান্যাল। সাহিত্যিক।
৬। ‘বছর দশেক লেখালেখি করার পর বুঝলাম, এ ব্যাপারে আমার কোনো প্রতিভাই নেই। অথচ ততোদিনে আমি বিখ্যাত হয়ে গেছি।’
মার্ক টোয়েন।
৭। ‘গাদা গাদা বই আমাদের মূর্খ করে তুলেছে।’
ভলতেয়ার।
প্রকাশকালঃ ১১ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 29, 2020 | সাহিত্য
যে শহরে আমি নেই আমি থাকব না সে শহরে যুদ্ধ শেষের ভাঙা পোড়া একটা এয়ারপোর্টের মতো বেঁচে থাকবে তুমি
তোমাকে ঘিরে সারাক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকবে স্কার্টপরা বুড়ি বার্মিজ মহিলার মতো ভৌতিক নির্জনতা
তোমাকে ঘিরে সারাক্ষণ ঝুলে থাকবে তছনছ তারের জটিলতা
লতাগুল্মময় ক্রেনের কঙ্কাল, জংপড়া লোহালক্কড় আর হিংস্র ঘাসের মধ্যে ধু–ধু করবে তোমার জীবন
ভয়ার্ত সব মিলিটারি ভ্যান আর উল্টে থাকা ট্রলির পাশে ক্ষত–বিক্ষত একটা চাঁদ ওঠা রানওয়ের মতো
তুমি মুখ লুকিয়ে রাখবে গা–ছমছম করা জ্যোৎস্নায়।
যে শহরে আমি নেই আমি থাকব না সে শহরে জনহীন কোনো পেট্রোল পাম্পের দেয়াল ঘেঁষে একটা মরা শিউলি গাছের মতো বেঁচে থাকবে তুমি –
তোমাকে ঘিরে হা–হা করবে নিদাঘরাত
দেখবে পর্যুদস্ত একটা হেলমেটের ফাটল দিয়ে মাথা তুলছে একগুচ্ছ সবুজ তৃণ
শুনবে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে অর্ধডোবা সূর্যাস্তের মতো আগুন লাগা বিলুপ্তপ্রায় লাউঞ্জ থেকে ভেসে আসছে প্রেতহাসির শব্দ
আর তোমাকে ঘিরে নামবে এক জোড়া জনশূণ্য বুটের স্তব্ধতা।
যে শহরে আমি নেই থাকব না সে শহরে প্রতিদিন দুর্ঘটনা দিয়ে শুরু হবে তোমার ভোর
সকাল সাতটা থেকেই অনবরত টেলিফোনে আসতে থাকবে সানস্ট্রোকের সংবাদ
তোমার পাশের সাততলা জানালা থেকে লাফিয়ে পড়বে কোঁকড়াচুলের যুবক
একদিন গলায় ক্ষুর চালাতে–চালাতে ঘুমিয়ে পড়বেন সেই বুড়ো
সবুজ রঙের গলাবন্ধ পরে চকচকে বেতের স্টিক হাতে যিনি মনিংওয়াকে বেরুতেন রোজ
একটি কিশোরী তার আব্বার রেজর থেকে লুকিয়ে খুলে নেবে ব্লেড
গভীর জ্যোৎস্নাঙ্কিত স্ট্রিটের মাথায় হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়বে কালো রঙের গাড়ি
একজন মানুষ শিরীষ গাছের ভিতরে টিপে ধরবে আর একজন মানুষের গলা
পার্কের ঝরাপাতার উপর সারা রাত ধরে শিশিরে ভিজে যাবে মৃত তরুণীর হাঁটুর ভাঁজ
যে শহরে আমি নেই আমি থাকব না সে শহরে চরম দুর্বোধ্যতম হয়ে বেড়ে উঠবে তোমার বিষণ্ণ সন্তান
বারবার করে বদলাতে হবে তার ঝাপসা চোখের চশমার গ্লাস
তুমি তাকে পৌঁছে দিয়ে আসবে ভোরের ইস্কুলে
কিন্তু কাঁধে ব্যাগ নিয়ে আর কোনোদিন ফিরে আসবে না নীল হাফপ্যান্টপরা তোমার ছেলে, আসবে না
তুমি দাঁড়িয়ে থাকবে ইস্কুল–বাড়ির সামনে : রাস্তার ওপারে –
যে শহরে আমি নেই আমি থাকব না সে শহরে নিয়মিত দুধের বোতল দিয়ে যাবে ডেইরি ফার্মের গাড়ি
কিন্তু সেই দুধে মেশানো থাকবে গুঁড়োবিষ
তোমার ফ্রিজের ভিতরে মরে পড়ে থাকবে সাদা ইঁদুর
তোমার ড্রেসিং টেবিলের আয়নায় বসে থাকবে একটা তেলাপোকা তার রং হবে মারাত্মক রকম লাল
তোমার ওয়ারড্রোবের ভিতর থেকে হ্যাঙ্গার শুদ্ধ ঝাঁপিয়ে পড়বে মধ্যরাতের কাপড়চোপড়
তুমি পালাতে চাইবে পালাতে চাইবে
ছুটে পালাবে
ছুটবে
ছুটতে ছুটতে তুমি তিনতলার জানলার একখন্ড পরদার মতো আটকে যাবে বারবার
তুমি ঊধ্বশ্বাসে ছুটে পালাবে ঘুমের ভিতর
কিন্তু মৃত শহর শাণিত করে রাখবে তার সমস্ত রাস্তার বালি
তারার ভিতর থেকে সারা রাত ধরে খসে পড়বে চুন
হঠাৎ লক্ষ–লক্ষ হাতের করতালি বেজে উঠবে আতঙ্কিত মোড়ে–মোড়ে
দেখবে সাদা ট্রাফিক দাঁড়িয়ে আছে বাজপড়া তালগাছের মতো
তার হাত দুটো ঝুলছে চাঁদহীন মরা ডালের মতো
চোখের লোমহর্ষক দুটো গর্তের ভিতর দিয়ে চলেছে বিষাক্ত পিঁপড়ের বাহিনী
তার মাথার ফাটলে গজিয়েছে একটা বটচারা
তোমার ভয়ার্ত চিৎকারে শুধু সেই মৃত ট্রাফিকের লাল
হা–এর ভিতর থেকে উড়ে যাবে একটা সন্ত্রস্থ বনটিয়া।
যে শহরে আমি নেই আমি থাকব না সে শহরে লিফট তোমাকে নিয়ে সোজা নেমে যাবে পাতালে
তোমাকে নিয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মতো পার্কের ধারের খাদে ছিটকে পড়বে বাস
লেকের হাঁসগুলি গুগলির মতো ঠুকরে খাবে মানুষের চোখ
আর খুব বিকেলবেলায় তুমি ক্লান্ত হয়ে
ক্লান্ত হয়ে
ক্লান্ত হয়ে
ফিরবে ঘরে
কিন্তু তোমার ঘরের নিঃসঙ্গ দরোজা তোমাকে খুলে দেবে হুহু শীতার্ত প্রান্তর
তোমার সোফা তোমাকে বসতে দেবে না পাঠিয়ে দেবে বেডরুমের বিছানায়
তুমি বাথরুমে যাবে, শাওয়ার খুলে দিলে ঝরবে রক্ত তুমি বেসিনে নুয়ে পড়বে, পানির ঝাপটা দিতেই মনে হবে
কার গলা যেন কাশতে–কাশতে পাঠিয়ে দিচ্ছে যক্ষার ফুল
তুমি ড্রেসিং টেবিলের সামনে গিয়ে দাঁড়াবে,
দেখবে বীভৎস একটা চিড় ধরে আছে আয়নায়।
সেই চিড়–ধরা আয়নার ভিতরে তারপর ক্রমশ হারিয়ে যাবে তোমার আর্তনাদ
আর তোমার মনে হবে, আমি নেই।
~আবিদ আজাদ (১৯৫২-২০০৫)
সাম্প্রতিক মন্তব্য