by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
বিনয় ও অহংকার দু’টি আচরণই এক্সট্রিম বা চরমভাবাপন্ন । ভুল বোঝাবুঝির সমূহ সম্ভাবনা । আমাদের সমাজে বিনয়ী ব্যক্তিকে সচরাচর শক্তিহীন ও নির্বোধ ভাবা হয়। অহংকারী, উদ্ধত লোকের সুবিধা হচ্ছে তাঁকে নির্বোধ ভাবার সুযোগ অন্যদের কম। কিন্তু এঁদের সমস্যা হচ্ছে এঁরা মানবিক হতে পারেন না। অহংবোধ তাঁদেরকে এক ভীষণ দূরত্বের নিঃসঙ্গ দ্বীপ করে রাখে।
আমার মনে হয়, বিনয় ও অহংকারের ভারসাম্যে মানবিকতার পরিমিতিবোধ নিয়ে চলাটাই শ্রেয়।
প্রকাশকালঃ ১১ই জুন, ২০১৯
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, লাইফ স্টাইল, সাহিত্য
আমার বোধ হচ্চে সায়ান্সে চিঠিলেখার পাঠই একেবারে উঠিয়ে দেবে—যাকে আজ চিঠি লিখতে হয় সেদিন তাকে তার আওয়াজসুদ্ধ একেবারে সামনে হাজির করে দেবে। কিন্তু সে হলে কি ভালো হবে ?
নয় অক্টোবর উনিশশো আঠাশ। নিজের কথা।। রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত চিঠি।
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
মনে করুন, এই মুহূর্তে আপনার জীবনে পাঁচ ছয় রকমের সমস্যা আছে। আপনার চাকরির ক্যারিয়ার বা ব্যবসা ; পরিবারের ভবিষ্যৎ, আপনার স্বাস্থ্য, পারিবারিক সম্পর্ক, দেশের অসহনীয় পরিস্থিতি।
ধরুন, আপনার চাকরি বা ব্যবসা একটা সহনীয় পর্যায়ে আছে । আপনার সামনে প্রধান সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে পরিবারের নিরাপদ ভবিষ্যৎ। ধরে নিলাম সঞ্চয়-টঞ্চয় করে কোনভাবে আপনার মনে হল পরিবারের ভবিষ্যৎ হয়তো আপনি মোটামুটি একটা শেপে নিয়ে এসেছেন ।
সেটা হলে, এরপরেই আপনি চিন্তিত হয়ে উঠবেন আপনার স্বাস্থ্য নিয়ে।
স্বাস্থ্য একটা পর্যায়ে আসলে আপনি চিন্তায় পড়ে যাবেন দেশের পরিস্থিতি নিয়ে।
‘প্রকৃতি শূন্যতা পরিহার করে!’ ঠিক এই সূত্রের মতই আপনার বিরাজমান সমস্যাগুলোর একেকটি একেক সময়ে প্রাইয়োরিটি পাবে। একটা কোন রকমে সাইজ করতে না করতেই, আরেকটি বড় হয়ে দেখা দেবে।
সবকিছু গুছিয়ে ফেললে আপনার সামনে এসে দাঁড়াবে বার্ধক্য ও মৃত্যু !
বেঁচে থাকলে প্রতি মুহূর্তে বিদ্যমান সমস্যার একেকটি মূর্তিমান আতংকের মতো আপনাকে কাবু করে ফেলার চেষ্টা করবে। কীভাবে আপনি সমস্যাগুলোকে ব্যালান্স করে চলবেন ; কোন্ সমস্যায় উদ্বিগ্ন হবেন, আর কোনটাতে হবেন না, সেটাই একটা শেখার ব্যাপার। আমি প্রতিনিয়ত শিখে চলার চেষ্টা করছি। সবার জন্য শুভকামনা।
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
কয়েক দশকে ঢাকা শহর অগুনতি বিল্ডিং, শপিং মল দিয়ে ভরে গেছে।
ইদানীং রাস্তায় বের হলেই শুধু চোখে পড়ে ঝকঝকে ডায়াগনস্টিক সেন্টার, হাসপাতাল আর ফার্মেসি ! ফার্মেসিগুলোতে সারি সারি র্যাক ভর্তি ঔষধের প্যাকেটে ; নানা বর্ণের, নানা মাপের, নানা কোম্পানির !
অথচ শহর খুঁজে শরীরের ক্লান্তি দূর করার জন্য একখণ্ড সবুজ পার্ক চোখে পড়ে না। অথচ দু’দণ্ড বসে মনের অবসাদ দূর করার জন্য একটা পাঠাগার নেই। বিকলাঙ্গ শরীর ও মনের জন্য কিছু নেই বলেই আগামীর ঢাকা শহর শুধুমাত্র বিল্ডিং , হাসপাতাল আর ফার্মেসির শহর !
প্রকাশকালঃ ১৩ই জুন,২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল
জানি—তবু জানি
নারীর হৃদয়—প্রেম—শিশু—গৃহ—নয় সবখানি;
অর্থে নয়, কীর্তি নয়, সচ্ছলতা নয়—
আরো এক বিপন্ন বিস্ময়
আমাদের অন্তর্গত রক্তের ভিতরে
খেলা করে;
আমাদের ক্লান্ত করে
ক্লান্ত- ক্লান্ত করে; ”
যাপিত জীবনের ক্লান্তি আমাকে নিয়মিত বিরতিতে বিষণ্ণতায় ভুগিয়েছে। ডিপ্রেশন, অবসন্নতা, ক্লান্তি যাই বলি না কেন, আমাদের প্রাত্যহিকতার অবিচ্ছেদ্য। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে আমি বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার নানারকম পদ্ধতি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছি।
শৈশবে আম্মা ছিলেন সবচেয়ে বড় মানসিক আশ্রয়। কৈশোরে আম্মার পাশাপাশি দিনলিপি লেখার অভ্যাস ছিল। মনের যে কোন অন্তর্গত ক্লান্তি , বেদনার ভার কমিয়ে ফেলার জন্য দিনলিপিতে সবকিছু লিখে ফেলতাম। গল্পের বইয়ের পাশাপাশি ছিল গান শোনার বাতিক । রবি শংকরের সেতার থেকে শুরু করে সোলস, ফিডব্যাক ! কলেজ জীবনে কৈশোরের অভ্যাসগুলোর পাশাপাশি নানাধরনের মোটিভেশনাল বই ও উজ্জীবক লেখা খুঁজে খুঁজে পড়তাম । প্রিয় বাক্যগুলো নিজের মত করে ডায়েরীতে টুকে রাখতাম।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পড়ার চাপ, দূরাগত অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা প্রায়শ: বিষণ্ণ করতো আমাকে। ওই সময়ে পরীক্ষা, প্রিপারেটরি লিভ যাই হোক না কেন – হুট করে হল ছেড়ে বাসায় চলে যেতাম , আম্মার সঙ্গে কিছুটা সময় কাটিয়ে আবার হলে ফিরে যেতাম। অনেক সময় সবচেয়ে মজার বন্ধুটিকে খুঁজে বের করে ওঁর সঙ্গে কিছুক্ষণ আড্ডা দিতাম।
বিয়ের আগে ও পরের বছরগুলোতে আমার জীবনসঙ্গিনীর সঙ্গে কাটানো সময় অনেকাংশে মানসিক বিষণ্ণতা দূর করত। গত বছর দশেক ধরে দুই কন্যাই আমার বিষণ্ণতা কাটানোর মহৌষধ।
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মনুষ্যজন্মের তুচ্ছতা যেভাবে বুঝতে পারছি, আবার না চাইতেই পাওয়া জীবন যে কতোখানি অমূল্য তা ও বোঝার চেষ্টা করছি। অনুতাপ, অনুশোচনা যৌক্তিক-অযৌক্তিক আকাঙ্ক্ষায় সীমিত সময় দিয়ে জীবনকে উপভোগ করার তাগিদ দিচ্ছি নিজেকে।
সাময়িক বিষণ্ণতা কাটিয়ে ওঠার জন্য বন্ধু-মহলে অন্য সবার কি কি ধরণের ব্যক্তিগত পদ্ধতি আছে , জানতে ইচ্ছে করছে। একটা খোলামেলা আলোচনা হলে মন্দ হয় না !
প্রকাশকালঃ ২৬শে মে, ২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
খেয়াল করলাম আমার ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া জ্যেষ্ঠা কন্যার টিভি আসক্তি হয়েছে। বছর দুয়েক আগেও কার্টুন চ্যানেল প্রীতি ছিল। কারো বুদ্ধিতে কীভাবে যেন সবকটি কার্টুন চ্যানেল ব্লক করে দিয়েছিলাম দুই কন্যার মানসিক স্বাস্থ্যের স্বার্থে।
কৈশোরে পা দিয়ে ও স্কুলের বন্ধুদের প্রভাবে ,এখন নতুন আসক্তি ইংরেজি মুভি চ্যানেল ও ভারতীয় কয়েকটি চ্যানেলে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বসলাম ওকে নিয়ে । বোঝানোর চেষ্টা করলাম কেন এই টিভি আসক্তি খারাপ।আমাদের টিভি আসক্তি জন্মানোর সুযোগ ছিল না। কারণ ৯০-৯১ সাল পর্যন্ত একমাত্র বিটিভি ও মাঝে সাঁঝে বাঁশের অ্যান্টেনায় সিলভারের হাঁড়িপাতিল লাগিয়ে দূরদর্শনের কয়েকটা চ্যানেলই ছিল সম্বল।
স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পরে , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট দেখতে যাচ্ছিলাম দুই বন্ধু। রিকশাওয়ালা যথারীতি সদ্য পতিত এরশাদের পরিত্যক্ত বাসভবনে কত অগুনতি নগদ টাকা পাওয়া গেছে সেটার বর্ণনা দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে বলল, এরশাদের বাড়িতে নাকি কি এক অ্যান্টেনা আছে, যেটা দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনুষ্ঠান দেখা যায়। এরশাদ ব্যাটা অনেক ধড়িবাজ ছিল– ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টি আমাদের কাছেও বিস্ময়কর ছিল।
সম্ভবত: মাস কয়েকের ভিতরেই বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে সিএনএন ও বিবিসি চ্যানেলের ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠান প্রচার করা শুরু করল। আমাদের অনেকে সেই ফালতু নিউজ চ্যানেলে ‘ল্যারি কিং শো’ ‘ফ্যাশন শো’ দেখে মুগ্ধ। তবে বিবিসি চ্যানেলের ডকুমেন্টারিগুলো আগেও যেমন টানত এখনো সেইরকম উপভোগ্য মনে হয়। এরপরে বানের জলের মতো মহল্লায় ঘরেঘরে চলে আসল স্যাটেলাইট আর ডিস অ্যান্টেনা। গুচ্ছের চ্যানেলের ছড়াছড়ি। এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায় !
আমি নিজে বছর দশেক আগেই বেডরুম থেকে টিভি বিদায় করেছি। পরিবারকে একান্ত কিছুটা কোয়ালিটি টাইম দিতে হলে টিভিকে বিদায় দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পরে এসে এই চ্যানেল সেই চ্যানেল করতে করতে খামোখাই রাত গভীর হয়ে যেত। পরেরদিন কাজ করার পুরো জীবনীশক্তি অবশিষ্ট থাকত না। এই এক চ্যানেলে কিছুক্ষণ, আরেক চ্যানেলে আরো কিছুক্ষণ লাফঝাঁপ করার প্রবণতা সময়ের অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগ শক্তির একটা বড় ক্ষতি করে ফেলে। বাসার একটি মাত্র টিভি ডাইনিং –লিভিং রুমে ঝুলে আছে। আমি বাড়ি ফিরে খাওয়ার সময়েও টিভি বন্ধ রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করি। ২৪ ঘণ্টায় একবারই একসঙ্গে বসে খাওয়ার সুযোগ হয়। সারাদিনের জমে থাকা কথাবার্তা বলাটা প্রয়োজনীয়। টিভি চালু থাকলে খেতে খেতেও দেখা যায়, কারো মুখের দিকে তাকিয়ে কথা না বলে, সবাই মাথা ঘুরিয়ে টিভির দিকে ফিরে ফিরে চাচ্ছে। ব্যাপারটা আমার কাছে অসহ্য লাগে।
মেয়েকে পুঁজিবাদ, ক্যাপিটালিজম না বুঝিয়ে সহজ করে বোঝালাম অসংখ্য অর্থহীন টিভি মিডিয়ার বিনোদনের মূল উদ্দেশ্য যতোখানি না মানুষকে বিনোদিত করা– তার চেয়েও বেশি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের। সেটা করতে গেলে দর্শককে টিভির সামনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখতে হবে। মিডিয়ায় যারা আছেন, তাঁদের মেধা আমাদের সাধারণের চেয়ে অবশ্যই বেশি। বাংলাদেশের গড় আই কিউ ৮২ এর কাছাকাছি; ধরে নিচ্ছি আমার আই কিউ ১০০। এখন যারা অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন তাঁদের গড় আই কিউ সাধারণের চেয়ে বেশি। নানাভাবে তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে, দর্শককে ধরে রাখার, আসক্ত করে ফেলার ; কেননা এই মিডিয়া মেধাবীদের জীবিকা নির্ভর করছে দর্শককে আসক্ত করে উপার্জনের উপরে।
সিংহভাগ চ্যানেলের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই আমি অবলীলায় বলতে পারি, টিভির এ পাশে বসে থাকা দর্শকের খুব সামান্যই অবকাশ থাকে নিজের চিন্তা ক্ষমতা প্রয়োগ করার। নির্জীব মাদকাসক্তের মতো পুষ্টিহীন, ঝকমকে অলীক জগতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমূল্য সময়ের অপচয়।
কন্যাকে বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার জন্য স্বপক্ষে কিছু যুক্তি দাঁড় করালাম। বোঝালাম, বই অনেক বেশি সজীব একটা ব্যাপার। একজন ভালো লেখকের যতো মেধাই থাকুক তাঁর মূল চেষ্টা থাকে প্রকাশিত , উদ্ভাসিত হওয়ার; তাঁর সামান্যই চেষ্টা থাকে আসক্ত করার। একটা ভালো বইয়ের সঙ্গে পাঠকের মিথষ্ক্রিয়া থাকে সরাসরি। লেখকের কল্পনার জগতের সঙ্গে পাঠকের নিজের কল্পনার জগতের সম্মীলন ঘটে। কন্যা কিছুটা বুঝলো মনে হয়। গত কয়েকমাসে কয়েকদিন কিছুক্ষণের জন্য শুধু ইংরেজি মুভি চ্যানেল দেখতে দেখেছি।
এখন টিভির সামনে ওকে দেখলেই আমি মনে করিয়ে দিই , অ্যাডিকশন না তো? সে মৃদু হেসে টিভি থেকে সরে যায়।
প্রথম প্রকাশঃ ১৮ই এপ্রিল, ২০১৭
সাম্প্রতিক মন্তব্য