by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, সাহিত্য
8 collected Short Stories received from one of my friend– having in depth meanings! I am feeling lethargic to translate in Bengali ; I know you would be able to feel the depth !
(1) Those who had coins, enjoyed in the rain. Those who had notes, were busy looking for shelter.
(2) Man and God both met somewhere. Both exclaimed, “My Creator !”
(3) He asked, are you a Hindu or Muslim? The response came, “I am hungry!”
(4) The fool didn’t know it was impossible. So he did it !
(5) “Wrong number!” Said a familiar voice!
(6) What if God asks you after you die, “So how was heaven?”
(7) They told me that to make her fall in love I had to make her laugh. But every time she laughs, I am the one who falls in love.”
(8) We don’t make friends anymore….. We Add them nowadays!
by Jahid | Nov 27, 2020 | দর্শন
আমার বৈষয়িক সম্পদের ও সম্পত্তির পরিমাণ স্বল্প ! কিছু টাকা জমলেই , একটা না একটা বড়ো বিপদ বা ঝামেলা এসে হাজির হয়। নিজের কাছে টাকা আছে অথচ পরিবারের কারো বিপদে আমি সেটা খরচ করছি না, এটা আমাকে দিয়ে হয় না। আমার খুব কাছের বন্ধু-বান্ধবরা এগুলো জানে। সংসারের সম্পত্তি বৃদ্ধিতে আমি অ-বৈষয়িকই থেকে গেলাম।
যাক ! চল্লিশের পরে উপভোগ্য জীবন আর কতদিনের যে , উঞ্ছবৃত্তি করে জমিজমা ফ্ল্যাট করে যেতেই হবে। নইলে জীবনটা বার্থ! আমার মনে হয়, আমি এমন কিছু মূল্যবোধের বা ভ্যালুজের মধ্যে মানুষ হয়েছি, যে ওই মূল্যবোধ বজায় রাখতে গিয়ে আমাকে সারাক্ষণ একটা আর্থিক টানাটানির ভিতরে থাকতে হয়। এটা নিয়া আমার সহধর্মিণীর আফসোস আছে। এখন আবার দুই কন্যার নিরাপত্তার কথা বলে ভয় দেখায় আমাকে। গতস্যশোচনা নাস্তি। তেমন লাভ হচ্ছে না ! দীর্ঘ কর্মজীবনে অফিস থেকে ইনসেন্টিভ বা ওইরকম গালভরা নামের কিছু পেয়েছি মাত্র দু একবার । তাই দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছোট্ট একটা ‘পূর্বাচল চান্দের দেশ’ টাইপ এক জায়গার শেয়ারে আছি। এটাও করছি বউয়ের চাপে, আর আমার দুই কন্যা যাতে পরবর্তী জীবনে আমারে গালিগালাজ না করে। বাকীটা সময়ই বলে দেবে !
সম্পত্তির নিদারুণ অভাবে নিজেকে সান্ত্বনা দেওয়ার কৌশল কীভাবে যেন বের করে ফেলেছি। সম্পত্তির কথা উঠিয়ে আমার আফসোস জাগানো লোকজনকে লিয়েফ্ তল্স্তোয় বা লেভ টলস্টয়-এর একটা গল্পের কথা মনে করিয়ে দিই। মানে আমাকে যখনই কেউ জমি কিনতে বলে, আমি এই গল্প নিজেকে নিজে শোনাই তাকেও শোনাই! আপনারা শুনতে চাইলে বলি ।
ওই যে, ‘How Much Land Does a Man Need’ বঙ্গানুবাদ ‘কতটুকু জমি দরকার?’ বা ‘ মানুষের বুঝি অনেক জমির দরকার’- নামের গল্পটা।
গাঁয়ের ভূমিহীন কৃষক পাখোম স্বপ্ন দেখত কিছু নিজের জমির । দশ বিঘা , বিশ বিঘা করে শ’ দেড়েক বিঘা। সস্তার জমির কথা শুনে দূরদেশে দশগুণ সম্পত্তি পেয়েও তা সামান্য ঠেকতে লাগলো। লোকমুখে সে শুনতে পেল বাশ্কির বা উরাল পার্বত্য এলাকায় সর্দারদের সামান্য উপহারের বিনিময়ে এখনকার চেয়ে হাজারগুণ সম্পত্তি উর্বর জমি পাওয়া যাবে।
ক্রমাগত সম্পত্তির লোভে সে এসে পৌঁছে সর্দারদের কাছে। সামান্য উপহারের বিনিময়ে সর্দাররা রাজী হয় দিগন্ত বিস্তৃত উর্বর জমি দিতে। জমির দাম দিনে একহাজার মুদ্রা । শর্ত একটাই। সূর্যোদয়ের সাথে সাথে গোত্রপ্রধান একটা লাঠি পুঁতে দেবেন মাটিতে। এইবার জমির দাবীদারকে হাঁটা শুরু করতে হবে। সামনে আদিগন্ত ভূমি। কিন্তু সূর্যাস্তের আগেই পুঁতে দেওয়া লাঠির কাছে ফিরে আসতে হবে। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত যতখানি জায়গা ঘুরে আসতে পারবে, সব জমি তাঁর নামে লিখে দেবেন ওই গোত্র প্রধানরা। সূর্য ডোবার আগে আগের জায়গায় ফিরে আসতে না পারলে টাকা ও জমি কিছুই পাবে না সে !
পাখোম হাঁটা শুরু করলেন, যত এগোয় ততোই ভালো সরেস জমি। আরেকটু আরেকটু করতে করতে দুপুর। তাঁর মনে পড়লো ফিরে যেতে হবে, দূরে পাহাড়ের ধারে গোত্রপ্রধানদের দেখা যাচ্ছে। জোরে হাঁটা শুরু করলো । বেলা ঢলে আসছে, আরো জোরে। সূর্যাস্ত হয় হয়। স্বপ্নজাল বুনতে বুনতে লোকটা দৌড়ানো শুরু করলো। আগের রাত্রে উত্তেজক নির্ঘুম রাত আর অনেক শ্রান্তির লোকটি প্রাণপণে দৌড়োতে লাগলো, সর্দাররা উৎসাহ দিচ্ছে এইতো আরেকটু । যখন সে পুঁতে রাখা লাঠিটার কাছে পৌঁছালো , পড়ে গিয়ে নিথর মৃত।
সবাই মিলে ওই জায়গাতেই কবর খুঁড়ল, মাথা থেকে পা পর্যন্ত ছ’ ফিট জমি।
সেইখানে তাকে শুইয়ে দেয়া হলো।
ওইটুকু জমিই তার প্রয়োজন ছিল !
অনেক আগে পড়া গল্পটা মাথায় এমনভাবে গেঁথে আছে। মনে হয় কী লাভ জমির পিছনে ছুটে ! আমি জানি আমার এই অ-বৈষয়িক উন্নাসিকতার চরম দাম আমার পরবর্তী প্রজন্মকে দিতে হতেও পারে। নাও পারে ! তাঁরা আমাকে গালিগালাজ করতেও পারে , নাও পারে!
যাই হোক জমির নেশা থেকে আমি মুক্ত !
প্রকাশকালঃ এপ্রিল, ২০১৩
by Jahid | Nov 27, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন, দর্শন
‘আমি কিছুতেই বুঝব না’- এইরকম প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কাউকে কিছু বোঝানো অসম্ভব। প্রতিষ্ঠানের ক্ষমতাধররা নিজের বোঝার বাইরে কিছু বুঝতে চান না- সে যেভাবেই তাঁদেরকে বোঝানো হোক না কেন।
বঙ্কিমের ‘ কমলাকান্তের দপ্তর’-এর কমলাকান্ত চারপাশে অজস্র।
বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়-কে অনুল্লেখ্য রেখে বরং বছর তিরিশেক আগে আমার এক মামার কাছে শোনা পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক একটা উদাহরণ দিচ্ছি।
তো , হয়েছে কি গ্রামে এক শহরের শিক্ষিত লোক বেড়াতে গেছেন। মাঠে গিয়ে দেখেন এক চাষি হাল চাষ করছে, লাঙল- জোয়ালে দুইটা বলদ বাঁধা। চাষির সঙ্গে তার বছর আটেকের ছেলে।
কিছুক্ষণ হাল চষা দেখে শহুরে ভদ্রলোক বললেন, তোমার ডানপাশের বলদটি বেশি পরিশ্রম হচ্ছে বাঁ পাশেরটির তুলনায়। কমসময়ে ভাল ফল পেতে হলে , দক্ষতা বাড়াতে হলে, নির্দিষ্ট সময় পরপর বলদগুলোকে ডানে-বামে অদলবদল করে ফেল।
চাষি তর্ক শুরু করল। কারণ সে পুরুষানুক্রমে বহুবছর ধরে সে এই কাজই করে আসছে। এই ধরনের আজগুবি কথা আগে কেউ তাকে বলে নি।
ভদ্রলোক এক পর্যায়ে বললেন, আমি তোমাকে বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা দিয়ে বুঝিয়ে দিতে পারি, কি করে ডানের বলদটি বেশি পরিশ্রম করে ক্লান্ত হয়ে পড়ছে।
চাষিও তেরিয়া গলায় বলল, ঠিক আছে! আপনি যদি আমাক বুঝোতে পারেন, তাহলে ডানের বলদটা আপনাক্ আমি দিয়ে দেব।
চাষির ছোট্ট ছেলেটি পুরো ব্যাপারটা ভয়ার্ত চোখে দেখছিল।
ভদ্রলোক কেন্দ্রাতিগ বল বোঝালেন, কেন্দ্রাভিমুখী বল বোঝালেন। ঘড়ির কাঁটার দিকে ঘুরছে বলে ডানের বলদের উপরে চাপ বেশি পড়ছে তাই পরিশ্রম বেশি হচ্ছে, ইত্যাদি ইত্যাদি নানাভাবে বোঝালেন। চাষি কিছুতেই বোঝে না।
ঘণ্টাখানেক বুঝিয়ে ক্লান্ত , ব্যর্থমনোরথ হয়ে অবশেষে হাঁটা দিলেন নিজের পথে।
লোকটি চলে যাওয়ার পরে ছোট ছেলেটি বলল, বাজান উনি যদি সত্যি তুমাক বুঝো ফেলত, তুমি কি ডানের বলদটা তাক দিয়ে দিতা ?
চাষি হেসে বলল, আরে ব্যাটা – আমি যদি না বুঝি , আমাক্ বুঝায় কোন্ শালা !
by Jahid | Nov 27, 2020 | দর্শন, শিল্প ও সংস্কৃতি, সাহিত্য
বছর তিনেক আগে কেন্দ্রে দেখা করতে এল কয়েকজন তরুণ কবি। দলপতি ছেলেটা পুরোদস্তুর বাগ্মী। দু-চারটে কথা থেকেই বোঝা গেল, সাহিত্যের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কোনো বিষয় নিয়ে আলাপ করার জন্যেই তাদের আসা। বাগ্মিতার বিপুল শক্তি নিয়ে সে বলে যেতে লাগলঃ
“ ষাটের দশকে আপনার সম্পাদনায় বেরিয়েছিল ‘ কণ্ঠস্বর’ – ওই দশকের তরুণ লেখকেরা সেদিন সমবেত হয়েছিল পত্রিকাটিকে ঘিরে। কী উত্তেজনার অস্বস্ত দিন সেসব, কল্পনা করতেও ভালো লাগে।”
“কিন্তু দশ বছরও পার হল না, পত্রিকাটি বন্ধ করে আপনি চলে গেলেন টেলিভিশনে। সবার কাছে আপনার অবস্থান ত্যাগের কারণ হিশেবে দেখিয়ে গেলেন নেহাতই এক খোঁড়া যুক্তি। লিখলেনঃ ‘ যৌবনের মৃত্যুই সুন্দর।’ অথচ ভেবে দেখুন, তরুণ লেখকদের মধ্যে কী উদ্দীপনাই না চলেছিল পত্রিকাটিকে ঘিরে। ”
একনিশ্বাসে কথাগুলো বলতে গিয়ে খানিকটা বোধহয় হাঁপিয়েই উঠেছিল কবি-বাগ্মী। কিছুটা দম নিয়ে ফের বলতে শুরু করলঃ
“ আজ এতগুলো বছর ধরে ‘ কণ্ঠস্বর’ বন্ধ। আপনিই বলুন, আমাদের সাহিত্যের সঙ্গে এরচেয়ে বড় ধরনের শত্রুতা একালে আর কেউ কি করেছে? কিন্তু যা যাবার তা গেছে। সুখের বিষয় , সম্ভাবনাময় নতুন ভূমিকায় জেগে ওঠার আরেকটা অপ্রত্যাশিত সুযোগ হঠাৎ করেই এসে গেছে ‘ কণ্ঠস্বর’ এর সামনে। সে সুযোগ যেমন আচমকা তেমনি সম্মানজনক । কেউ লক্ষ করুন আর নাই করুন, গত দুই দশকের ভেতর দিয়ে আমাদের কাল ও ভূগোল নতুন একটা জীবনানুভূতিতে জেগে উঠে নতুন একটা পালাবদল ঘটিয়ে ফেলেছে আমাদের সাহিত্যের অঙ্গনে। আর সেই উত্থানের পেছনে পেছনে আজ এই আশির দশকের শুরুতে একটা সম্পূর্ণ নতুন সাহিত্যদল এসে দাঁড়িয়েছে আমাদের সাহিত্যের দোরগোড়ায়। না, এসে দাঁড়ায়নি শুধু, তারা আজ উদ্যত, একত্রিত, সমবেত। সবই আছে তাদের । ইচ্ছা, চেষ্টা, আত্মদান, শ্রম, প্রতিভা—কোনোকিছুরই ঘাটতি নেই। অভাব শুধু একটা ছোট্ট জিনিশের—তাদের এই উদ্দীপ্ত প্রেরণার একটা মুখপত্র—তাদের জ্বলন্ত চৈতন্যের একটা অগ্নিময় প্রতিনিধি। হ্যাঁ , একটা পত্রিকা— একটা রক্তিম জ্বলজ্বলে প্রাণবন্ত পত্রিকা, যার মধ্যদিয়ে এই নতুন যুগের শক্তিমান প্রবল নিষ্টুর আলোড়ন উৎক্ষিপ্ত হবে নিজস্ব জ্বালামুখ দিয়ে। আমাদের অনুরোধ, আলসেমি ফেলে ‘ কণ্ঠস্বর’ আর একবার বের করুন আপনি। আপনার নেতৃত্বে ‘ কণ্ঠস্বর’ আবার জ্বলে উঠুক দুদশক আগের মতোই—বেগবান তারুণ্যের অনিবার্য মুখপত্র হিশেবে—তবে এবার ফুরিয়ে যাওয়া ষাটের জীবনানুভূতি নিয়ে নয়—আশির দশকের টগবগে তারুণ্যের উদ্যত প্রতিভূ হিশেবে। ”
সিরাজউদ্দৌলা নাটকে নবারের শেষ সংলাপের মতোই তাঁর ভাষণের বিষণ্ন আকুতি যেন উতল হাওয়ায় কেঁপে কেঁপে যেতে লাগল। সে একইভাবে বলে চললঃ
‘ কণ্ঠস্বর’ বের করার দায়িত্বটা কষ্ট করে আরেকবার শুধু নিন আপনি। ভেবে দেখুন, আপনার সামান্য একটু কষ্টের ওপর কতবড় একটা বিস্ফোরণ অপেক্ষা করে আছে। শুধু এটুকু পেলেই আশির দশকের শক্তিমান তারুণ্য উদ্যত তলোয়ারের মতো আকাশের দিকে হাত উঁচিয়ে দাঁড়াতে পারবে আর এ সমস্ত কিছুই সম্ভব শুধু আপনার তুচ্ছ একটু দায়িত্ব নেওয়ার ওপর।”
অনেকক্ষণ একটানা শুনে একসময় আস্তে করে তাকে বললাম, যা বুঝলাম তার মানে তো একটাইঃ “ যৌবন তোমার আর বেদনা আমার , তাই না?”
হঠাৎ ঘা খেয়ে যেন চমকে উঠল কবি-বাগ্মী। অনুরোধের অসঙ্গতিটুকু টের পেয়েই যেন , সলজ্জ মুখে, থেমে পড়ল সে।
বললামঃ এভাবে কি হয়? প্রতিটা নতুন কালই তার পাশব দাবি নিয়ে এসে দাঁড়ায় সেই যুগের শক্তিমান তারুণ্যের সামনে। নিজেদের স্বেদ রক্ত আত্মোৎসর্গ দিয়ে সে দাবি তাদের মেটাতে হয়। আমাদের যুগ-চৈতন্য যেসব নতুন অজানিত বক্তব্য উচ্চারণের দাবি নিয়ে আমাদের সামনে এসেছিল, সাধ্যমতো যত্নে আমরা সে ঋণ শোধের চেষ্টা করেছি। তোমাদের কাল ও ভূগোলের ঋণ তোমাদেরই শোধ করতে হবে। আমাদের নির্বীজ বার্ধক্য দিয়ে তোমাদের তারুণ্যের প্রতিকার আমারা কী করে করব?
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ ; বিস্রস্ত জর্নাল; ২৯.১০.৮৯
by Jahid | Nov 25, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন
ছোট্ট দুইটা গল্প বছর ত্রিশেক আগে শোনা। স্মৃতি থেকে লিখছি। অনেকেরই মূল গল্পদু’টো হয়তো আরেকটু ভাল করে জানা আছে ।
গল্প ১ :
বহুদিন আগের কথা , সমাজে টোল ছিল , পাঠশালা ছিল, পণ্ডিতও ছিল। এবং নদী পার হওয়ার একমাত্র বাহন ছিল নৌকা। এখন অনেক নদী ও খালই হেঁটে পার হওয়া যায় ।
তো একদিন এক পন্ডিত নৌকায় নদী পার হচ্ছিলেন । নিজের পান্ডিত্য জাহির করতে অক্ষরজ্ঞানহীন মাঝিকে জিজ্ঞেস করা শুরু করলেন,
: মাঝি তুমি কি ত্রিকোণমিতি জানো?
: নাহ্।
:তবেতো তোমার জীবনের চার আনাই মিছে।
: তুমি মনোবিজ্ঞান সম্পর্কে কিছু বলতে পারো?
: না তো।
: তবেতো তোমার জীবনের আট আনাই মিছে।
: তুমি কি পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন সম্পর্কে ধারণা আছে ?
: এগুলো কি খায় নাকি গায়ে মাখে বাবু সাব?
: তোমারতো দেখি জীবনের বারো আনাই বৃথা !
এমন সময় নদীতে ঝড় উঠলো । বড় বড় ঢেউ এসে নৌকায় আঘাত করা শুরু করলো। পন্ডিতও ডুবে মরার শঙ্কায় থরথর করে কাঁপতে লাগল।
দূরাবস্থা দেখে মাঝি বললো, বাবু সাব আপনি কি সাঁতার জানেন?
: না। সাঁতারতো জানিনা।
মাঝি হাসি দিয়ে বললেন, জনাব! আপনার দেখি জীবনের ষোল আনাই মিছে !
গল্প ২ :
খেয়া নৌকারও আগের কথা। নদী পার হওয়া নিশ্চয়ই আরো ঝক্কির ছিল। নির্দিষ্ট সময় ছাড়া জনমনিষ্যিহীন শূন্য ঘাট পড়ে থাকতো । নদীর পাশে কোন এক জনপদে একদল সন্ন্যাসী বাস করত। একজন সদগুরুও ছিলেন। অনেক শিষ্যের মাঝে একনিষ্ঠ এক শিষ্য সাধনায় গুরুকেও প্রায় হার মানিয়ে দিল।
দীর্ঘ একযুগের সাধনার পরে শিষ্য এসে গুরুকে বললো, গুরু আমি এখন সাধনার বলে পানির উপরে হাঁটতে পারি, হেঁটে নদী পার হতে পারি।
শিষ্য পরিবেষ্টিত গুরু উল্টো প্রশ্ন করলেন , নদী পার হতে কয় আনা লাগে রে ?
: চার আনা।
: বারো বৎসরের সাধনায় তুই মাত্র চার আনার শিক্ষা অর্জন করলি !
ফুটনোট : গুরু সৈয়দ মুজতবা আলী বলে গেছেন, হাতির দু’ই রকম দাঁত থাকে, একটা দেখানোর আরেকটা খাওয়ার ! অনেক গল্পের দ্বৈত অর্থ থাকে। উপরের গুলোরও হয়তো আছে, হয়তো নেই !
by Jahid | Nov 25, 2020 | দর্শন, শিল্প ও সংস্কৃতি, সমাজ ও রাজনীতি
অনেক আগে পড়া একটা সায়েন্স ফিকশন মাথায় ঘুরছে। A Sound of Thunder ( Ray Brudbury; 1952) উল্লেখ্য , একসময় আমি তিনবেলা খাওয়ার মতো প্রায় নিয়মিত বই পড়তাম। এখন তিনবেলার জায়গায় ছয় বেলা খাই, তবে বই পড়ি না। গুগোলকে জিজ্ঞাসা করতেই লিংক দিয়ে দিল। আগ্রহীরা পড়ে দেখতে পারেন।
http://teacherweb.com/ON/SacredHeartHighSchool/MrStriukas/A_Sound_of_Thunder.pdf
গল্পের দৃশ্যপট আমেরিকা । ১৯৫২ সালের প্রেসিডেন্ট ইলেকশনের কয়েকদিন পর। মিঃ কিথ জিতেছেন। সবাই খুশী। বিরোধী দলের প্রার্থী মিঃ ডয়েসার মানবতাবিরোধী, প্রগতিবিরোধী। বলা হচ্ছিল, মিঃ ডয়েসার জিতলে আমেরিকাকে প্রাগৈতিহাসিক ১৪৯২ সালের দিকে নিয়ে যেতেন। ভাগ্যিস মিঃ ডয়েসার জেতেন নাই।
ঘটনার নায়ক এক্লিস একটা টাইম মেশিনের অফিসে বসে দেয়ালে ঝুলে থাকা নোটিশ দেখছেনঃ
TIME SAFARI, INC.
SAFARIS TO ANY YEAR IN THE PAST.
YOU NAME THE ANIMAL.
WE TAKE YOU THERE.
YOU SHOOT IT.
৬০ মিলিয়ন বছর আগে যেতে পারবেন, ডাইনোসর শিকার করতে পারবেন। ফিরেও আসতে পারবেন, কিন্ত কঠিন কয়েকটা শর্ত মেনে চলতে হবে। ভবিষ্যতের কোন কিছু আপনি দূর অতীতে ফেলে আসতে পারবেন না, কিছু নিয়েও আসতে পারবেন না। যে প্রানীটি কোন প্রাকৃতিক কারণে মিনিট দু’য়েকের মধ্যে মারা যাবে ( গাছের ডাল ভেঙ্গে বা অন্য কারণে) তাকেই গুলি করতে পারবেন, শিকার করতে পারবেন। বুলেটটাও ফেরত নিয়ে আসতে হবে। ছবি তুলতে পারবেন। নির্দিষ্ট ধাতব পথের বাইরে পা ফেলতে পারবেন না। সোজা কথা ট্যুর গাইডের কথার বাইরে জ্ঞাতে বা অজ্ঞাতে কিছুই করা যাবে না।
নানা অ্যাডভেঞ্চারের মাধ্যমে এক্লিস সবকিছুই ঠিকমতো করে, শুধু অসাবধানে একটা প্রজাপতি তার পায়ের তলায় পড়ে মারা যায়। খুবই সামান্য,কিন্তু ৬০ মিলিয়ন বছরের ব্যবধানে এর দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া টের পাওয়া যায়। অভিযানকারীরা ফিরে আসেন। কিন্তু কোথায় যেন একটু পরিবর্তন সূক্ষ্ণ একটা পরিবর্তন হয়ে গেছে টের পান । বাতাসের গন্ধে , রিসেপশনে সেই একই লোক, ঘরের রং আসবাব সবই আগের মতোই, তবু কীরকম একটা অস্বস্তি।
প্রবেশমুখের সাইনবোর্ডের দিকে এক্লিসের নজর যায়।
TYME SEFARI INC.
SEFARIS TU ANY YEER EN THE PAST.
YU NAIM THE ANIMALL.
WEE TAEK YU THAIR.
YU SHOOT ITT.
ইংরেজী লেখাগুলোর ধরণ অন্যরকম।
জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন যে ভালো মানুষটিকে প্রেসিডেন্ট পদে আমেরিকায় নির্বাচিত হতে দেখে গিয়েছিলেন তাঁরা , তার যায়গায় সেই প্রগতিবিরোধী অপজিশন প্রার্থী এখন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।
এক্লিস বুঝতে পারে, ৬০ মিলিয়ন বছর আগের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র একটা প্রজাপতির অবহেলার অসাবধান মৃত্যু তাকে অন্য এক পরিবর্তিত পৃথিবীতে নিয়ে এসেছে।
এক্লিস হাঁটু গেড়ে বসে পায়ের তলার মৃত সোনালী প্রজাপতিটিকে আঁকড়ে ধরে গুঙিয়ে উঠে প্রার্থনা করে, আমরা কী আবার ফিরে যেতে পারিনা? আমরা কী এই প্রজাপতিটিকে জীবিত করতে পারিনা? আমরা কী আবার শুরু করতে পারিনা ?
ট্যুর গাইড ট্রাভিস এক্লিসের দিকে রাইফেল তাক করে, ঘরের মাঝে বজ্রপাতের মতো একটা গুলির শব্দ শোনা যায়। গল্পের শেষ এইখানেই।
কিন্তু এই থিমের উপরে হলিউডে অসংখ্য ছবি হয়েছে, এখনো হয়ে যাচ্ছে।
Back to The Future; It’s a Wonderful Life ; Frequency ; The Butterfly Effect; হাল আমলের Terminator ; Man In Black এই ধাঁচের ছবি।
পরবর্তীতে Butterfly Effectদারুণ জনপ্রিয় একটা শব্দে পরিণত হয়।
Chaos Theory তে Butterfly Effectকে বলা হয়েছে, প্রাথমিক অবস্থানের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তনের ফলে ভবিষ্যতে বৃহৎ কোন পরিবর্তন। আমাজানের জঙ্গলে প্রজাপতির ডানার ঝাপটানির দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া প্রভাব ফেলতে পারে প্রশান্ত মহাসাগরের টর্নেডোতে।
কয়েকসপ্তাহ আগে আগে হিন্দি একটা ছবি দেখছিলাম, মাদ্রাজ ক্যাফে( Madras Cafe )
পটভূমি ৮০ দশকে ভারতের শ্রীলংকার আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে আগ্রাসী হস্তক্ষেপ এবং LTTE (Tamil Tigers) এর সন্ত্রাসী কর্মকান্ড। একটা জনগোষ্ঠীর জাতিগত লড়াই। রক্তক্ষয়ী ২৭ বছরের যুদ্ধে ( ১৯৮২—২০০৯) প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু। উইকি অনুযায়ী, প্রায় ২৭,৬৩৯ জন তামিল টাইগার্স, ২৩,৭৯০ শ্রীলংকান সৈন্য ও পুলিশ, ১১৫৫ জন ভারতীয় সৈন্য, ১০ হাজারেরও বেশী সাধারণ জনগণ। জিঘাংসার রাজনীতির বলি ইন্দিরা পুত্র রাজীব গান্ধীর আত্মঘাতী বোমায় হত্যা। রাজীব গান্ধীর মৃত্যু তামিল টাইগার্সের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত করে ফেলে। ভারত হারায় তার প্রধানমন্ত্রীকে, তামিল টাইগার্স হারায় তার ভবিষ্যৎ । এঁরা যে সময়ের সাথে সাথে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে সেটা সবাই বুঝে যায়। সন্ত্রাস দিয়ে বিশ্বরাজনীতিতে কেউ সহানুভূতি পায়নি আজ পর্যন্ত।
নায়কের কথাটা ভালো লাগে , “জো হাম দেখ্তে হ্যাঁয় শুন্তে হ্যাঁয়, সাচ স্রিফ উত্না নেহি হোতা।” আমরা যা দেখি , যা শুনি সত্য শুধু ওইটুকুই নয় ।
আমার মনে হয়, প্রত্যেক রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদী আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনা থাকে। ভারতের আছে। আমেরিকার আছে, চীনের আছে, সোভিয়েত রাশিয়ার আছে, জার্মানের আছে। পৃথিবী যেমন নিজের অক্ষের উপর ঘুরতে ঘুরতে ৩৬৫ দিনে সূর্য পরিক্রমা করে । প্রতিটি দেশের আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পরিকল্পনাও বাস্তবতা। সেটা সে তার সর্বোচ্চ মঙ্গলের জন্যই করে থাকে। পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশের বিচ্ছিন্ন হয়ে স্বাধীনতায় রাষ্ট্র হওয়াতে ভারতের দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক লাভ কি কি, সেইটা ব্যাখ্যা করতে আমার মতো নির্বোধকেও রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে হয় না । বিশাল সেনা খরচ বাঁচিয়ে সামান্য কিছু বিএসএফ দিয়ে সীমান্ত রক্ষায় গত তেতাল্লিশ বছরে ভারতের কত হাজার বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হয়েছে সেটা রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের গবেষণার বিষয় হতে পারে, আমার নয় ।
শোনা যায়, সোভিয়েত ইউনিয়নকে ধূলিসাৎ করতে আমেরিকার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা ছিল। গর্বাচেভদের একটা জেনারেশনকে পুঁজিবাদী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সময়মতো কাজে লাগানোর জন্য, আমেরিকাকে অনেক অপেক্ষা করতে হয়েছে।
আমাদের দেশের এতোবড় সেনাবাহিনীর দরকার কি ? খুব কমন প্রশ্ন।
আমার পরিচিত এক সেনাবিশেষজ্ঞের মতে, এই সেনাবাহিনী আছে বলে আমাদের সার্বভৌমত্ব টিকে আছে। মায়ানমার আমাদের আক্রমন করার আগে ম্যান অ্যাগেইন্সট ম্যান, বুলেট অ্যাগেইন্সট বুলেট হিসাব করবে। মানে আমাদের সীমান্ত দখল করতে হলে, আমাদের সমস্ত সেনাবাহিনীকে নিঃশেষ করতে হবে, সেটা হবে উভমুখী। সমপরিমাণ সৈন্য তাদেরও ক্ষয় করতে হবে। সুতরাং মায়ানমার চৌদ্দবার ভাববে আমাদের সীমান্ত আক্রমন করার আগে।
এই যে আমাদের আভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষানীতি পাশের আরেকটি দেশের স্বৈরশাসক সামরিকজান্তাকে তার নীতি পরিবর্তনে বাধ্য করছে। এইটা আমাদের আমজনতার বোঝার কথা না। আপনি হয়তো টকশোর পেইড বক্তার কথা রেফারেন্স হিসাবে নিয়ে এসে তর্ক করা শুরু করবেন। তীব্র ভারতবিদ্বেষী হয়ে যাবেন। ঘটনাপ্রবাহ ঘেঁটে দেখার সময় আমাদের নাই। আমরা দুই মিনিটের ম্যাগী নুডলসে তৃপ্ত।
আরেকটা কল্পকাহিনী মনে পড়ছে। কল্পকাহিনীর লেখকের নাম মনে নাই। ধরেন পিঁপড়াদের অসংখ্য প্রজাতির মধ্যে একটা প্রজাতি জ্ঞানবিজ্ঞানে হঠাৎ অসম্ভব উন্নতি করে ফেললো। ধরেন তাদের বসবাস এক বিরাট মাঠের মধ্যে, তাঁরা তাদের চারপাশের এই বিশ্বের রহস্য, সৃষ্টিরহস্য উদঘাটন করতে চাইল। তাঁরা পারবে কি? রানী পিঁপড়া বছর ত্রিশেক বাঁচলেও কর্মী বাঁচে বছর তিনেক। সুতরাং তিন বছর ধরে পায়ে হেঁটে ওই সভ্য জ্ঞানী পিঁপড়ার দল এই মাঠের কতটুকু অতিক্রম করবে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের কী কী বুঝতে পারবে, সৃষ্টি রহস্যের কী উদ্ধার করতে পারবে ?
আমাদের অবস্থা প্রায়শঃ ওই জ্ঞানী পিঁপড়ার মতোই । এই ক্ষুদ্র জীবনে অনেক রহস্যকে আমীমাংসিত রেখেই আমাদের চলে যেতে হবে।
প্রকাশকালঃ ১২ই জুন, ২০১৫
সাম্প্রতিক মন্তব্য