উপলব্ধি: ৪৬

The Small Changes make big difference!

আমার এক ক্রেতার কাছ থেকে শেখা। ও আমাকে প্রায়ই মনে করিয়ে দিত। ছোট একটা বাক্য, সামান্য একটা হাসি যেমন কারো মনে আপনার ব্যাপারে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন আনতে পারে ; তেমনি সামান্য একটু অবহেলা, কটু কথা ঠিক উল্টোটা করতে পারে।

যোগাযোগের মাধ্যম, বন্ধুত্ব, চুক্তি, সহযাত্রা কিংবা বিচ্ছেদ ও প্রস্থান যাই হোক না কেন, একটু সৌন্দর্যের ছোঁয়া থাকা ভাল।

উপলব্ধি: ৪৪

পরিমিতিবোধ বুদ্ধিবৃত্তিক লেখালেখি ও আলোচনায় ঐশ্বর্যময় একটা গুণ। লেখালেখিতে এবং কথা বলার সময়েও অল্প কথায় প্রকাশ করার অব্যাহত দুশ্চেষ্টার অনুপ্রেরণা হচ্ছে প্রিয় লেখক সৈয়দ মুজতবা আলী। অনাবশ্যক ব্যাখ্যা না দেওয়ার প্রবণতাও তাঁর কাছ থেকেই। পাঠককে বুদ্ধিমান ভাবা উচিৎ। যে পাঠক আপনার ইশারা বুঝবে সেই আপনার আসল পাঠক; যে বুঝবে না, তাকে হাজার পাতার ব্যাখ্যা দিলেও বুঝবে না।

উপলব্ধি: ৪৩

জীবনে থামতে জানতে হয়। মানবজীবন যেন এক ঊর্ধ্বশ্বাস দৌড়। কখন কোথায় থামতে হবে সেটা বোঝা জরুরী ও গুরুত্বপূর্ণ। জীবনের পথচলা কখন শুরু হয়ে যায় সেটা আমাদের হাতে থাকে না অনেকাংশে। কিন্তু থামতে পারাটা আমাদের হাতেই থাকে। আমার খুব প্রিয় একটা সিনেমা রাজকুমার হিরানির ‘থ্রি ইডিয়টস’। তো হিরানি এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন,“ প্রত্যেকের বোঝা উচিত, ‘প্রয়োজন’ ও ‘লোভের’ মধ্যে পার্থক্য কী। আপনার জানা উচিত, ঠিক কোন জায়গাতে আপনাকে থামতে হবে এবং এটাও জানা উচিত, ‘আর নয়, অনেক হয়েছে’ কথাটা কখন বলতে হবে। অনিশ্চয়তা আপনাকে শেষ করে দিচ্ছে? পৃথিবীর সবচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তির দিকে তাকান, তিনিও বলবেন, ভয় লাগে, কখন সব শেষ হয়ে যায়! আপনি যদি এই অনিশ্চয়তার ভয় কাটাতে পারেন, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।”
এই থামতে পারার ব্যাপারটা যখন আমি খুব চাপে থাকি, তখন নতুন করে বোঝার চেষ্টা করি ও থামি।

উপলব্ধি: ৪২

The biggest invention of 20th century is– if you change your perspective, your life will be changed.

তখন ক্লাস নাইনে পড়ি, আমার ইংরেজি ভোকাবুলারির অবস্থা ছিল তথৈবচ। তো আমার সবসময়ের পথপ্রদর্শক সিনিয়র ভাই বললেন, ইংরেজিতে স্বচ্ছন্দ হতে হলে, মুরব্বীদের গতানুগতিক উপদেশমতো ভুলেও বাংলাদেশের ইংরেজি পত্রিকা যেন না পড়ি। ওখানে বৃদ্ধ লোল-চর্মসার কিছু সম্পাদক পুরনো, অপ্রচলিত ও বাতিল শব্দমালা দিয়ে সম্পাদকীয় লেখেন। সেটা পড়ে বুঝতে গেলে সামনে ডিকশনারি নিয়ে বসতে হয়। ইংরেজির প্রতি উল্টো বিতৃষ্ণা আসবে। আমাকে উনি নীলক্ষেত থেকে পুরনো ‘রিডার্স ডাইজেস্ট’ কিনে পড়তে বললেন। একই সঙ্গে Mills and Boon নামের এক প্রকাশনীর গল্পের বইগুলো নাড়াচাড়া করতে বললেন। তো, রিডার্স ডাইজেস্টের এক প্রবন্ধে সেই ৮৭ সালে আমি একটা প্রবন্ধে পড়লাম, Change your perspective your life will be changed.

বহু বহুবছর পরে এই কার্যকর জনপ্রিয় দর্শনটি , ‘দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে জীবন বদলাবে’– ‘কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন’ এর মূল শ্লোগান হিসেবে ব্যবহৃত হতে দেখলাম। যে যেই অবস্থায় থাকুক না কেন, দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে পারলে, তাঁর জীবন কিছুটা হলেও বদলে যায়। কে না জানে , একই শহরের দুই পথচারীর গন্তব্য আলাদা থাকে। আর একই দৃশ্যপটে দুই ব্যক্তির দুই রকম প্রতিক্রিয়া খুব স্বাভাবিক।

উপলব্ধি: ৪১

আত্মবিশ্বাস জরুরী। একই সঙ্গে নিজের সক্ষমতা, শক্তিমত্তা ও দুর্বলতা বোঝাটাও জরুরী। বাইরের সঙ্গে যুদ্ধ করার জন্য নিজের মন সবচেয়ে বড় সহায় । আমার মনে হয়েছে, পরিপার্শ্বের ব্যাপারে কিছুটা ভাণ করে হলেও আশাবাদী থাকা উচিৎ। এটা শুনতে কিছুটা ফ্যান্টাসির মতো মনে হতে পারে। কিন্তু অনর্থক দুশ্চিন্তা করার চেয়ে অলীক আশাবাদ অনেক ভাল। কেননা, ঐ আশাবাদ আপনার সমস্ত আচার আচরণ, মনোভাব কে এমনভাবে প্রভাবিত করবে যে, আখেরে সেটা আপনার জন্য ভাল ফল বয়ে আনবে। খেয়াল করে দেখুন, হাজার বছর ধরে ও আধুনিক কালেও বেশিরভাগ মোটিভেশনাল স্পিকার এই ভাণ করার কথাটাই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে সবাইকে বলে। যে কোন পরিস্থিতিতে, কেউ যদি নিজেকে বিশ্বাস না করে তবে অন্যেরা কীভাবে তাকে বিশ্বাস করবে ! কেউ যদি ত্রস্ত এলোমেলো পায়ে চলে, তাকে অনুসরণ করবে কে ! কেউ যদি ভাণ করেও আত্মবিশ্বাসী পদক্ষেপে চলে, তবে আরেক পথভোলা তাঁকে অনুসরণ করলেও করতে পারে।