ফেসবুক মানে মোড়ের আড্ডা

ইদানীং ফেসবুক আমার কাছে মোড়ের আড্ডা, আবার ক্ষেত্রবিশেষে ব্যক্তিগত দিনলিপির মতো মনে হচ্ছে ! অন্তত আমার শেষ কয়েক মাসের অ্যাক্টিভিটি দেখে নিজের কাছে তাই মনে হল। সময়ের সাথে আমার মতামত বদলে যেতে পারে, সেটাই স্বাভাবিক !

ভার্চুয়াল জগতের কিছু বন্ধুদের নতুন পোস্ট দেখতে না পারলে একটা ব্যাকুলতা কাজ করে। যেমনটা ছিল , অনেক আগের নিয়ম করে সকাল বিকাল আড্ডা দেওয়ার মতো। একবেলা আড্ডা না দিতে পারলে তৃষ্ণার্ত থাকতাম।

এখন এই আড্ডা ও দিনলিপির ফেসবুকের মাঝখান থেকে আপনি সিরিয়াস কিছু খুঁজে পেয়ে আমার ব্যাপারে একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছালে সেটা আপনার নিতান্তই নিজস্ব ব্যাপার। ভাইরে , আমি আমার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারলাম না, আর আপনি আমার দুইটা অনিয়মিত পোস্ট পইড়া নিয়ে ফেললেন ! সুতরাং আপনার সিদ্ধান্তের দায়দায়িত্ব নিতান্তই আপনার ও আপনাদের , আমি কোন দায় বোধ করছি না।

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

ধর্মের আছর

আমার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি গত বছর দুয়েক ধরে তাবলীগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডে আমি অবাক, কাছের একজনের এতো আকস্মিক পরিবর্তন মেনে নেয়া মুশকিল। তাঁর ও তাঁর পরিবারের কী কী পরিবর্তন হতে পারে, সেই বিতং এ না যাই। দাড়ি রাখা ও কঠিন পর্দাপ্রথা ছাড়াও একটা পরিবারকে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসনে নিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। মাঝে ওরে ফোন দিতেও ভয় হইতো। ফোনে মিনিট চল্লিশেক নানা হাদিসের বয়ান দিয়ে সুপথে আসার নির্দেশ।

আমাদের অনেক বন্ধুকেই ছাত্রাবস্থা থেকে তাবলীগের সাথে জড়িত দেখেছি। আরেক বন্ধু , যাকে সেই ছাত্রজীবন থেকেই তাবলীগে জড়িত দেখেছি, হেরে জিগাইলাম , ‘ মামা কাহিনী কি? তোমারে তো দেখি আজ বছর কুড়ি ধরে, তোমার এইরকম আগ্রাসী তাবলীগি ভাবতো দেখি নাই। তুমি-তো সব ব্যাল্যান্স করে চলছো। ও যেটা বললো, ‘আসলে আমরাতো ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু ও( আমার নতুন তাবলীগ বন্ধু) সেটা পায় নি। এখন ওর উপর “আছরটা” একটু বেশী পড়ছে।অন্তত আমার কাছে ঘটনা পরিষ্কার হলো।

আমি কোন দুই বন্ধুর কথা বলছি আমার কাছের জনেরা( টেক্সটাইল সার্কেলের) সেটা টের পাবেন নিশ্চয়।
উল্লেখ্য, আমার খুব ঘনিষ্ঠ এই দুইবন্ধুর কেউ ফেসবুকে নাই।

আম্মা ক্যালেন্ডারের জুন মাসের ছবিটা দেখিয়ে বললেন উনি সুফিয়া কামাল কিনা ?
আমি বললাম না, ওটা নুরজাহান বেগমের ; ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদিকার । এই বছরের ক্যালেন্ডারে বারোজন মহীয়সী নারীকে তুলে ধরেছেন এই ব্যাংক এশিয়া । বেগম রোকেয়া থেকে— প্রথম মুসলিম মহিলা ডাক্তার জোহরা বেগম কাজী , ইলা মিত্র, সুফিয়া কামাল, ফিরোজা বেগম, রাণী হামিদ, তারামন বিবি, নভেরা আহমেদ, জোবেরা রহমান লিনু, আইরিন জুবাইদা খান, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার । এঁরা দেশ ও দশের উপকারে এসেছেন, খ্যাতি বয়ে এনেছেন , মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এঁরা নমস্য।

সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অচলায়তন ভেঙ্গে বের হওয়া একজন ডাক্তার জোহরা বেগম কাজীকে
হাজারো উচ্চশিক্ষিত ঘরে বসে থাকা মহিলার চেয়ে সমাজের জন্য বেশী প্রয়োজনীয় মনে করি। জগতে এঁরা জগত আলো করে থাকুন। আমি শুধু এই আকাঙ্ক্ষাই করতে পারি , আমার দুই কন্যা যেন এঁদের মতো কেউ হয়ে উঠতে পারে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

 

মেক্সিকান ডায়েট

এক মহিলা ক্রেতার সঙ্গে সারাদিন এই অফিস সেই অফিস করতেছি । গাড়ী চালাতে চালাতেই সকাল থেকে সে ঘণ্টা খানেক পরে একবার একটা আপেল খায়, আবার কয়েকটা বাদাম খায় , একটা দই খায়। জিগাইলাম , ‘সকালের নাস্তা করো নাই, ঘনঘন খাচ্ছো, কাহিনী কি? সে যা বললো, ডাক্তারের ডায়েট মতো চলে , গত তিন সপ্তাহে তার তিন কেজি ওজন কমছে। ঘনঘন খাচ্ছে কিন্তু কমকম খাচ্ছে।
কাজ করতে করতে বেলা দুইটা। এক ট্র্যাডিশনাল মেক্সিকান রেস্তোরায় যেয়ে খাবার খেতে খেতে বেলা আড়াইটা। আমিতো ক্ষুধায় মরি। সুস্বাদু সব খাওয়া আসার পরে সেই ডায়েট করা ক্রেতা যেমনে হাপুস হুপুস করে খাওয়া শুরু করলো, তাঁর সারাদিনের ডায়েটের কথা চিন্তা করে আমি হাসি থামাইতে পারি না। খাওয়া দাওয়া শেষে টেবিল থেকে উঠতে মন চায় না। হেভীওয়েট খাওয়া ও তারপরে আছে টাইমজোনের কারণে ভ্রমণক্লান্তি। মনে হচ্ছিল কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিই।

আড়মোড়া ভেঙ্গে গাড়ী চালিয়ে অফিসের দিকে আসতে আসতে সে বললো, যদি একটা আলাদীনের জিনি পাওয়া যেতো, তাইলে একটা বর চেয়ে নিতাম। খাবো কিন্তু মোটা হবো না।

ওজন নিয়ে এই বিব্রত অবস্থা দেখি সব জায়গায় আছে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

আমেরিকা ভ্রমণ

কাউন্টারের আমেরিকান ভদ্রমহিলা আমার পাসপোর্ট নিয়ে অনেকক্ষণ বোর্ডিং পাশ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ ! ফোন দিলেন অন্য কোথাও, ওপাশ থেকে কেউ আধাঘণ্টা ধরে একেকটা প্রশ্ন করে আর মহিলা আমাকে সেটা জিজ্ঞাস করেন, আমার আম্রিকান ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো কিনা ? থাকলে কোথাও কোন দুর্ঘটনা আছে কিনা। অথবা আগে আমি আমার বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আম্রিকায় গাড়ী চালিয়েছি কিনা ?

বুঝলাম আমেরিকার কোন এক চিপায়, কোন এক জাহিদে কোন এক সুদূরকালে কী এক কাহিনী করছে , সেইটা এখন দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া আমারে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।

এতো সিকিউরিটি দিয়ে এরা কি যে ফেলতে পারছে কে জানে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

 

নিয়ান্ডারথাল আদিম বুনো মানুষ

হঠাৎ হঠাৎ আদিম বুনো চেহারার কিছু লোকের দেখা পাই আমি।
ক্যামন ? ঠিক যেমনটি, ক্লাস সিক্স সেভেনের সমাজবিজ্ঞান বইয়ে দেখতাম।
আর ইদানীং দেখি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে।

দাঁড়ি গোঁফের আড়ালে বা ক্লিনশেভের আড়ালে বন্য চোয়াড়ে চেহারাটা ঠিকই বোঝা যায়। মনে হয় আদিম কোন মানুষ জামাকাপড় টাইম মেশিনে করে চলে এসেছে এই সময়ে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

মূদ্রার অপর পিঠ, বৈপিরিত্য

হাসিখুশি চরিত্রের বা একটু হৈহৈ-রৈরৈ বলে সর্বশ্রেণীর বড়ভাইদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা, অবাধ যাতায়াত বা প্রশ্রয় আছে ! এবং আমি সেটা উপভোগও করি। কিছুদিন আগে আমার ট্রেডের কয়েকজন শ্রদ্ধাভাজন বড়ভাইদের সাথে দেখা হলো একটা পারিবারিক ডিনারে। যথারীতি উত্তরা থেকে মিরপুরে এসে আবার উত্তরাতে বউকে নিয়ে যাওয়ার সুবিখ্যাত আলস্যে দাওয়াতে আমি একা। ভাবীদের সাথে এক বড়ভাই পরিচয় করিতে দিয়ে বললেন ‘ এরে চিনছো? এইটাই জাহিদ ! ওই যে ফেসবুকে লেখালেখি করে।’

সে খাইতে খাইতে আরো বললো, আমার লেখা তাঁরা পড়েন কারণ , তাঁদের মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখা দরকার। কেন দরকার জানিনা, মনে হলো- সারাক্ষণ নানা ইসলামী অনুশাসন ও চিন্তার মাঝখানে,আমার কিছু পোস্টে হয়তো একটু খোলা-হাওয়া পান! নাকি অনৈসলামিক চিন্তাকারী কাউকে দেখে করুণা অনুভব করেন , কে জানে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০২৩