by Jahid | Feb 8, 2023 | সাম্প্রতিক
আমরা যখন স্কুল পেরিয়ে কলেজের দিকে যাচ্ছি, কে কোন পেশায় যাবে সেটা নিয়ে নানা ধরণের চিন্তা করতাম। আমাদের নিম্ন মধ্যবিত্ত বাবা মায়ের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ছিল ছেলেমেয়ে যেন ডাক্তার অথবা ইঞ্জিনিয়ার হয়। ছেলেরা ইঞ্জিনিয়ারিং আর মেয়েরা মেডিক্যালের জন্য প্রাণপাত করত। বিয়ের বাজারেও তাই, প্রথম সারিতে এঁদের নাম। আম্মা বলতেন বিয়ের বাজারে ডাক্তার আর ইঞ্জিনিয়ার হচ্ছে কাতান শাড়ির মতো। শাড়ির ফ্যাশন বদলাতে বদলাতে কাঞ্জিভরম, বোমকাই, সম্বলপুরি, সিল্ক , মসলিন অথবা লেহেঙ্গা যাই আসুক না কেন। কাতান কীভাবে কীভাবে যেন টিকে গেছে। বাঙ্গালির বিয়ে হচ্ছে কাতান নেই , হতেই পারে না।
আমাদের তারুণ্যে বিয়ের বাজারের পাত্রের সঠিক র্যাঙ্কিং মনে নেই, তবে মেধাতালিকার প্রথমদিকে ছিল ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, তারপরে সেনাবাহিনী, কাস্টম অফিসার, পুলিশ, প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, ব্যাংকার, আমেরিকা-কানাডা প্রবাসী পাত্র ইত্যাদি ইত্যাদি। এই ‘ইত্যাদির’ ভিতরে ছিল বেকার পাত্র , প্রাইভেট চাকরি করা পাত্র, ব্যবসায়ী পাত্র আরো অনেক গণ মানুষ, যাদের ‘পাত্র কি করে’ – এই প্রশ্নের উত্তর কয়েক লাইনে দিতে হয় !
অধুনা দেশের চাকরি একটাই! সেটা হচ্ছে সরকারি চাকরি। গত দুই দশকে সরকার বাহাদুর তার প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে অন্যান্য সুযোগসুবিধা এমনভাবে বাড়িয়েছেন যে ; আমরা যারা নানা কারণে দেশের প্রাইভেট সেক্টরকে অনেক স্মার্ট চয়েস ভেবেছিলাম তাঁদের ভীষণ আফসোস হচ্ছে কেন তখন ঠিকঠাক মতো বিসিএস দিইনি আমরা !
বর্তমানে সরকারি চাকুরীজীবীদের সামাজিক ও আর্থিক অবস্থা বিশ্ব রপ্তানিতে চীনের মতো। রপ্তানিতে পৃথিবীতে দ্বিতীয়, তৃতীয়, চতুর্থ আছে—প্রথম কিন্তু বরাবরই সেই একজন ! তাও আবার বিশাল নাম্বারের ব্যবধানে। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীরা অনেক পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়-তৃতীয় হচ্ছে।
সরকার আমাদের ট্যাক্সের টাকাটাই কেবল ঠিকঠাক মতো নিচ্ছেন। কিন্তু আমাদের ব্যাপারে আর কোন শ্রম আইন( পেনশন, গ্রাচুইটি, প্রভিডেন্ট ফান্ড, মেডিক্যাল ইত্যাদি ইত্যাদি) যে একেবারেই মানা হচ্ছে না – সেই ব্যাপারে সরকার বাহাদুরের বিন্দুমাত্র গরজ নেই। থাকার কথাও না, আমাদের প্রাইভেট সেক্টরের লোকেরা একটা সংখ্যা বই কিছুই নই। ক্ষমতায় টিকে থাকতে হলে, একজন কনস্টেবল পুলিশের যতোখানি গুরুত্ব আছে সরকারের কাছে , আমার মতো উচ্চহারে ট্যাক্স দেওয়া ১০০ লোকেরও সেই গুরুত্ব নেই ! অতএব আমরা শুধুই সংখ্যা !
যাই হোক ছোট মামার বড় ছেলের ( আবির হোসেন স্বাক্ষর) পাত্রী দেখার ও এঙ্গেঞ্জমেন্ট করার তারিখ ছিল গতকাল ৭ই ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় ; মুরব্বীরা সবাই একসঙ্গে। পাত্র ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ার। বর্তমানে এমবিএ করছে।পাত্রী ডাক্তারি পাশ করে , ইন্টার্ন শুরু করেছে ।
দুইজনেই যে ব্যাচমেট, গতকালই প্রথম জানলাম। আরো জানলাম , যে উভয়ে উভয়কে চেনে দীর্ঘ আট বছর ধরে। দুজনের কারো পড়াশোনা শেষ হয়নি বলে, ব্যাপারটা আংটি বদলেই সীমাবদ্ধ থাকার কথা ছিল।
কিন্তু পরিবারের মুরব্বীদের অবাধ দেখাশোনা, ঘোরাফেরা নিয়ে আপত্তি আছে, একবারে আকদ করাটাই যুক্তিসঙ্গত মনে হলো। মুরব্বীদের কথা এভাবে এঙ্গেজমেন্টের পরে দেখাশোনা চলাফেরা শরীয়ত মোতাবেক হবে না। যদিও আমি আমতা আমতা করে বলার চেষ্টা করলাম যে, আট বছরের প্রেমে কি এখনো শরীয়ত ঠিক আছে ! নানা আলোচনা শেষে রাত যখন গভীর, তখন এই ডাক্তার পাত্রী ও ইঞ্জিনিয়ার পাত্র বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে।
উভয়ের দীর্ঘ সুখের জীবন কামনা করি।
প্রথম প্রকাশঃ ৮ই ফেব্রুয়ারি,২০২০
by Jahid | Jan 18, 2023 | করপোরেট অবজারভেশন, দর্শন
কয়েকজন অগ্রজ, সহকর্মী বা অধীনস্থদের চলতি কোন আলোচনায় অংশ নেবেন কি নেবেন না, সেটা বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে বেছে নেওয়া ভাল। আমার করপোরেট জীবনে এমন অনেকবার হয়েছে, কয়েকজন সমবয়সী সহকর্মী একটা কিছু নিয়ে কথা বলছি, হাসাহাসি করছি, হুট করে আমার কোন ঊর্ধ্বতন এসে যে কোন একটা শব্দ ধরে আমাদের আলোচনায় ঢুকে গেলেন। অথবা জিজ্ঞেস করলেন , কি ব্যাপার কি নিয়ে আলোচনা করছেন ? মুশকিল হচ্ছে, যুবাবস্থায় ও করপোরেট চাকুরেরা চা-পানের বিরতিতে হয় চিরন্তন নারীদেহ , যৌনতা অথবা কোম্পানির কোন অনিয়মের ব্যাপারে কথা বলে। এখন ঊর্ধ্বতন কেউ জিজ্ঞেস করে ফেললে উত্তর দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকে ! সেই সময়ে, আমাদের মধ্যে হাজির জবাব দেওয়ার ক্ষমতা যার ভালো সে ধুনফুন কিছু একটা বলে ঘটনা অন্যদিকে মোড় নেওয়াতো। বস-কে তো আর বলা যায় না, আমরা মাধুরী দীক্ষিতের দেহবল্লরী বা ‘বে ওয়াচ ’ নিয়ে আলোচনা করছিলাম।
আমার স্বল্প অভিজ্ঞতায় কয়েকজন বসের মধ্যে মাত্র একজনকে পেয়েছি, যার চলতি আলোচনায় অনাবশ্যক অনুপ্রবেশের পরিমিতি বোধ ছিল। আর বেশিরভাগ ঊর্ধ্বতনদের এই ব্যাপারে পরিমিতিবোধের অভাব আছে। পরিস্থিতি না বুঝে হুট করে আরেকটি আলোচনায় ঢুকে পড়তেই পারেন যে কোন ঊর্ধ্বতন। কিন্তু সেটা যে প্রায়শ: বিশ্রী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে, সেটা তাঁরা ভুলে যান।
হ্যাঁ, উচ্চকিত কণ্ঠে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, ঢুকে পড়ুন, আপনার মতামত দিন। তামিম ইকবালের খেলার সমালোচনা করুন। কিন্তু মাঝারি বা নিচু কণ্ঠের আলোচনায় অনুপ্রবেশ করার আগে পরিমিতিবোধ দেখানো উত্তম।
প্রথম প্রকাশ: ১৮ই জানুয়ারি,২০১৭
by Jahid | Jan 18, 2023 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
ফেসবুককে আমার প্রথম থেকেই মনে হতো একটা ঘরোয়া আড্ডার মতো। একটা লিটল ম্যাগাজিন পড়ার অনুভূতি থাকত। লিটল ম্যাগাজিনগুলোতে যেমন সারাক্ষণ তরতাজা মচমচে স্বাদু অনুভূতির ছাপানো হরফ থাকে , সেইরকম । এই সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে অনেক পুরনো বন্ধুর সঙ্গে নতুন করে পরিচয় হয়েছে। অসাধারণ কিছু মেধাবী লেখকের দৈনন্দিন দিনলিপি পড়ার সুযোগ ঘটেছে। আমি আরো বেশি রাজনীতি ও সমাজ সচেতন হয়েছি। নবীন প্রজন্মের কিছু চিন্তক , দার্শনিক , কবি ও সাহিত্যিকদের লেখা প্রতিদিন পড়ার সৌভাগ্য হচ্ছে। এঁদের একজন সতীর্থ আহসান। গতকাল , কিছু কথোপকথনের পরে, তিনি আমার লেখালেখি সম্বন্ধে কিছু বললেন। আমার কাছে ,সেটা অসংখ্য লাইক , লাভ, ওয়াও ইমোজি চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর অনুমতি নিয়েই নিজের ওয়ালে পোস্ট করলাম।
“ আপনার লেখাজোকা ফেসবুকে যা প্রকাশিত হতো, মাঝেমধ্যে পড়া হত। হয়তো রিএকশন দিতাম, কখনো কখনো দিতাম না। আপনি মূলত প্রবন্ধ ঘরানার লেখা লিখে থাকেন। মোটামুটি লম্বা লম্বা বাক্যে। পড়তে শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না। যেন শ্বাসরুদ্ধকর কোনো ফিকশন পড়ছি, এমন একটা অনুভূতি জাগে। সেই টানা টানা শ্বাসরুদ্ধকর বাক্যগুলোর মাধ্যমে যে চিন্তার প্রকাশ ঘটান সেটা সব সময়ই কোনো না কোনো ভাবে চিন্তা উদ্রেককারী হয়ে থাকে।
পরিচ্ছন্ন ভাষা আর গোছানো চিন্তা আপনার লেখার প্রধান বৈশিষ্ট্য। বোঝা যায় আপনি দুনিয়াকে অবহেলিত শোষিত পীড়িত মানুষের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেন। গণমানুষের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়– এমন কোনো আচরণ আপনাকে ক্রুদ্ধ আর ব্যথিত করে। সেই মনোভাবকেই আপনি শৈল্পিক ভাষায় উপমায় প্রকাশ করেন। আমি শুধু অনুরোধ করব, এই ক্রোধ/দুঃখ প্রকাশের পাশাপাশি আরেকটা স্টেপ যোগ করুন। যেটা হচ্ছে, সেই বিপর্যয়টা কীভাবে কাটিয়ে উঠা যায় সেটার পরামর্শ দিতে পারেন। দেশি বিদেশি নানা উদাহরণ সহযোগে। এতে আমার মনে হয়, আপনার লেখাটার গুরুত্ব আরো বাড়বে। আপনি নিজে কী, নিজে ঠিক বুঝতে পারছেন না, এর কারণ আত্মবিশ্বাসহীনতা। এইটা একটা মারাত্মক ব্যাধি জাহিদ ভাই। এই রোগে যারে ধরে সে সাধারণত মাথা তুলে দাঁড়াতে পারে না।
এবার আরেকটা কথা শুনেন। আপনি থাকেন ২ নাম্বার রোডে। আর আমি থাকতাম ৩ নাম্বার রোডে। আপনার ঠিক বিপরীত রোডেই। আপনি বেশ কয়েকবার আড্ডার নিমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি প্রায়ই আপনার বাসার সামনে দিয়ে হেঁটে আসতাম। কিন্তু আপনাকে জানিয়ে যাওয়া হতো না। কারণ, সেই তীব্র হীনমন্যতা। আমি ওখানে থাকতাম, একাই লাগত। আপনার সাথে প্রায়ই আড্ডা দিতে ইচ্ছা হতো। সাহিত্য আড্ডা আর কি। কিন্তু তখনই আমার পূর্ব অভিজ্ঞতার কথা মনে পড়ে যেত। এই জন্য দুঃখিত। সামনে কখনো গেলে, এই নেকাব আর রাখব না। এই যে আমার আত্মবিশ্বাসহীনতা, এইটা অনেকগুলো সম্ভাবনাকে খুন করে থাকবে। হয়ত মনের সব বাঁধা পেরিয়ে আপনার সাথে দেখা করতে পারলে আমাদের চমৎকার সব সাহিত্য-আড্ডার অভিজ্ঞতা ঘটতে পারত। আপনার পরামর্শ বা কথাবার্তা আমার লেখাকে সমৃদ্ধ করতে পারত। আমার কোনো পরামর্শ হয়ত আপনারও কাজে লাগত। কিন্তু আমার এই আত্মবিশ্বাসহীনতা সে সম্ভাবনাকে ধ্বংস করে দিলো।
আপনার লেখার হাত যথেষ্ট ভাল। চিন্তা পরিষ্কার। বইয়ে স্থান দেবার মত লেখা। শুধু একটু মনোযোগ আর আত্মবিশ্বাস বিনিয়োগের অভাব। মনে যা আসে, লিখতে থাকুন, তা যতই খারাপই হোক, এতে লেখার ফ্লো টা ঠিক থাকে। এই ফ্লো খুব ইম্পরট্যান্ট জিনিস। আর সময় পেলেই নানা বই পড়বেন। লেখার ফ্লো তৈরিতে বই পাঠের ভূমিকা অনেক। চিন্তাও সমৃদ্ধ হয়।
লেখা থেকে ধর্ম আর রাজনৈতিক বিষয়টা যেন সরাসরি না আসে তা খেয়াল রাখবেন। জানেনই তো এইদেশে মুক্তভাবে কথা বলার পরিবেশ নাই। একটা পদ্ধতি আছে, সেটার মাধ্যমে আপনি ধর্ম ও রাজনীতিকেও সমালোচনা করতে পারবেন। সেটা আপোষ পদ্ধতি বা ছলনা পদ্ধতি। এমনভাবে লিখতে হবে যাতে মনে হয় আপনি তাদের বিপক্ষের কেউ না। তাদেরই একজন। বন্ধ বান্ধব যেমন নিজেদের বন্ধু বান্ধবদের সমালোচনা করে। এই রকম আর কি। তবে লেখালেখির ক্ষেত্রে এই দুইটা বিষয় এড়িয়ে চলাই অধিকতর ভালো। লেখার মত দুনিয়ায় কত বিষয় আছে ভাই। তবুও এই দুইটাই যদি আপনাকে বেশি পীড়িত করে, তাহলে অবশ্যই ডিরেক্ট ম্যাথডে লিখবেন না। নানা ছলনার আশ্রয় নিবেন। এতে মূল কাজটাও হয়ে গেল, আপনিও টার্গেট হলেন না।
যা করুন, আর নিজেকে অবহেলা করবেন না। আপনাকে ক্লাসিক লেখক হতে হবে এই দিব্বি কে দিছে। আপনি একজন বুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ হিশেবে আপনার মতামত প্রকাশ করবেন দুই মলাটের মধ্যে। এবং, সেটা খুব ভাল ভাবে সম্পন্ন করার যথেষ্ট যোগ্যতা আপনার রয়েছে। জাস্ট শুরু করে দিন।”
প্রথম প্রকাশঃ ১৮ই জানুয়ারি, ২০২০
by Jahid | Dec 13, 2022 | লাইফ স্টাইল, শিল্প ও সংস্কৃতি
শিল্পের অনেক শক্তি ।
সহজবোধ্য শিল্প আরো বেশি শক্তিশালী। যে শিল্পের রস আস্বাদনের জন্য পৃষ্ঠার পর পৃষ্ঠা কালো অক্ষরের দুর্গম স্রোত পাড়ি দিতে হয় না ; যা সাধারণ মানুষ সহজেই চোখে দেখে,কানে শুনে আনন্দ পায় তার শক্তিমত্তা স্বীকার করতেই হয় !
একটা কালজয়ী উপন্যাসের চলচ্চিত্রায়ন যতোগুলো মানুষের কাছে পৌঁছায় ; মূল উপন্যাসটি তার শতকরা ১ ভাগ লোকের কাছেও পৌঁছায় কি?
এই যে আমাদের ভার্চুয়াল ইন্টারনেটের পৃথিবী — এটা সেই হিসাবে একটা সহজগম্য ও সহজবোধ্য শিল্প মাধ্যম। মূলত: অনেক শিল্পের ব্যবহারিক প্রয়োগ বা মূল্য থাকে না। কিন্তু এই প্রথম একটা শিল্প মাধ্যমের ব্যবহারিক ব্যাপ্তি দেখে পুরো পৃথিবী হতবাক ও বিস্মিত। যে দৃষ্টিতেই দেখি না কেন, আমাদের সমাজের ডোনাল্ড ট্রাম্প,নরেন্দ্র মোদী থেকে শুরু করে বাসার ড্রাইভার-দারোয়ানরাও এই প্রথম কোন মাধ্যমে বাধাহীনভাবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া দেখাতে পারছে।

ভুলে যাবেন না , ব্যক্তি মানুষের সবচেয়ে দুর্বলতম জায়গা হল তার অস্তিত্বের সংকট। সে কে? কেন এই পৃথিবীতে, কোথায় যাচ্ছে সে , ইত্যাদি নানাবিধ সংকট। হাজার বছর ধরে ধর্ম ও দর্শন অনেক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিন্তু কে না জানে , অনেক প্রশ্নই অমীমাংসিত থেকে যাবে। একই সংগে , ব্যক্তি-মানুষ সবচেয়ে বেশি যেটা আশৈশব চেয়েছে, সেটা হচ্ছে পরিপার্শ্বে তার নিজের আত্মপরিচয় থিতু করতে। সন্তান চেয়েছে মায়ের মনোযোগ, প্রেমিক- প্রেমিকার , বন্ধুর কাছে বন্ধু, রাষ্ট্রের কাছে জনগণ ! এমনকি প্রান্তিক দরিদ্রতম মানুষটিও নিজের পরিবারের চৌহদ্দির বাইরে সমাজে কাছে স্বীকৃতি ও মনোযোগ চেয়ে চলেছে সেই আদিকাল থেকে ! ইন্টারনেটের এই শিল্প সেই তুচ্ছাতিতুচ্ছ মানুষটিকেও একটা দেওয়ার মতো পরিচয় দিয়েছে। আয়নায় নিজের চেহারা একটু ভালো দেখানোর আনন্দ আছে , তার চেয়েও গভীর আনন্দের আর বিস্ময়ের হচ্ছে আরো পাঁচজনের চোখে নিজেকে দেখার !
এই শিল্পের কারিগরেরা রাতদিন এক করে বাস্তবের খুব কাছাকাছি, কিন্তু ঠিক বাস্তব নয় এমন একটা পৃথিবী তৈরি করেছেন আমাদের জন্য। এই ভার্চুয়াল পৃথিবী এখন আমাদের অস্তিত্বের অংশ , অনিবার্য নিয়তি। এই শিল্পমাধ্যম এতোই সহজবোধ্য , সর্বত্রগামী ও সর্বব্যাপী হয়ে উঠেছে যে আমরা যারা দুই প্রজন্মের সেতুবন্ধন হিসাবে এখন মধ্যবয়সে, তারাও বুঝে উঠতে পারছি না , ঠিক কতোখানি কাছে থাকব আর কতোখানি দূরে থাকব !
কালো অক্ষরে কয়েক সারি লেখা আমার প্রকাশিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সীমিত আরো কয়েকজনের কাছেও হতে পারে। কিন্তু আমার অস্তিত্বের সংকটের জায়গা থেকে আমি চাইব, সংখ্যাগরিষ্ঠের কাছে আমার চিন্তা পৌঁছাক । হোক সেই চিন্তা তুচ্ছ ও অর্থহীন, হোক সেটা বহুশ্রুত ! কিন্তু আমার কাছে যে সেই চিন্তা একেবারে নবীন !
আমার মুহূর্ত চিন্তার সঙ্গে দেওয়া এই ভাস্কর্যটি বিপরীতমুখী মনে হতে পারে। কারণ , আমি সর্বগ্রাসী ও সর্বব্যাপী এই নতুন শিল্পের শক্তিমত্তা নিয়ে বিন্দুমাত্র সন্দেহ প্রকাশ করছি না। বরং আমি এর সর্বব্যাপিতার মুগ্ধ একজন মানুষ। তবে মুদ্রার এপিঠ ওপিঠের মতই শিল্প মাধ্যমগুলোর অপব্যবহার ও আসক্তি আছে; সেটাও সবাই জানে। আমাদের দিনের সিংহভাগ সময় মোবাইল ফোনের নানা ধরণের সোশ্যাল মিডিয়াতে স্ক্রল করে চলে যাচ্ছে। আমরা যা দেখছি, পড়ছি শুনছি সেগুলো আমাদের কোন চিন্তা করাচ্ছে না। অনেকাংশে সেটা নিখাদ টাইমপাস আর সহজলভ্য, সহজপাচ্য বিনোদিত হওয়ার আকাঙ্ক্ষায় জর্জরিত। ঠিক যেন সিনেমার হলে বসে বিশাল প্যাকেটের পপকর্ন খাওয়া ; খাচ্ছি তো খাচ্ছি,কিন্তু আখেরে না ভরছে পেট, না হচ্ছে পুষ্টি।
এই শক্তিশালী শিল্পমাধ্যমগুলো মানুষকে যেমন সুযোগ করে দিয়েছে কাছাকাছি হওয়ার ; তুচ্ছ মানুষটিকেও প্রকাশিত হওয়ার; আবার একই সঙ্গে এর অতি ব্যবহার ক্রমশঃ সেই মানুষদের মাঝে অর্থহীন দূরত্ব তৈরি করে চলছে। দূরত্বের এই অসাধারণ বহিঃপ্রকাশ শিল্পে রূপ দিয়েছেন ব্রিটিশ শিল্পী Gali May Lucas এবং জার্মান ভাস্কর Karoline Hinz ! ভাস্কর্যটি নেদারল্যান্ডের আর্মস্টার্ডামে।
প্রথম প্রকাশ: ১৩ই ডিসেম্বর,২০১৯
by Jahid | Sep 29, 2022 | লাইফ স্টাইল
ঈদের এই শেষের দিনগুলোতে এসে স্মরণ করছি আমার সেই কলিগকে, যিনি বছর কুড়ি আগে ঈদে রাজশাহীতে গিয়েছিলেন বেড়াতে। একই সঙ্গে স্মরণ করছি, সেই সময়ের নবীন প্রেমিক-প্রেমিকাদের, যারা ঈদের ছুটির সুযোগে নানারকম ‘সুযোগ’ খুঁজতেন।
তো, হঠাৎ বৃষ্টির বিকেলে আমার কলিগ অনেকের সঙ্গে দাঁড়িয়ে ছিলেন নিউ মার্কেটের বারান্দায়। ঝুম বৃষ্টিতে রিকশা নেই, অনেকেই অপেক্ষা করছে। অনেকের মাঝে একজন সুবেশী তরুণীও দাঁড়িয়ে আছে।
ইতোমধ্যে একটি রিকশা তার ডাকে সাড়া দিয়েছে।
তো কলিগের পাশের স্থানীয় লোকটি তরুণীটির দিকে ইঙ্গিত করে তাকে খোঁচা দিয়ে বলল,
: ব্যাপারটা দেইখছেন ভাই?
: কেন ? কি হয়েছে?
: রিকশা লিচ্ছে।
: তো? রিকশা নেবে না ?
: আরে ভাই , বুইসঝতে পারছেন না?
: না ভাই, বুঝলাম না। লোকজন রিকশায় উঠবে না ?
রিকশায় ততোক্ষণে তরুণীটি উঠে পড়েছে এবং পাশের তরুণটিও উঠছে। রিকশাওয়ালা পলিথিনের আচ্ছাদনে ঢেকে দিচ্ছে সামনের দিক।
স্থানীয় লোকটি আরো উত্তেজিত গলায় বলল,
: দেইখছেন , দেইখছেন পাশের ছেলিটাও উঠছে।
: হ্যাঁ , উঠছে, সমস্যা কি? হয়তো পরিচিত।
লোকটি তখন উত্তেজিত গলায় কলিগকে হাতের বিশেষ ভঙ্গী দেখিয়ে বলল:
আরেহ্ ভাই, এখনো বুইসঝতে পারছেন না? এখন ছেইনবে, ছেইনবে !
প্রথম প্রকাশঃ ৫ই মে ২০২২
সাম্প্রতিক মন্তব্য