আমার দুই টুনটুনির জ্যেষ্ঠাটির সহিত আমার আলাপচারিতা বা নৈকট্য খানিকটা বেশী। ছোট টুনটুনি কিঞ্চিৎ সেলিব্রেটি টাইপ হইয়াছে, যথোপযুক্ত বিষয় বা পরিবেশ-প্রতিবেশ না পাইলে, সে যাহার তাহার সহিত আড্ডার অর্গল না খুলিয়া বরং নীরব হইয়া থাকে। বিদ্যালয়ের পাঠাভ্যাসের খোঁজ লইতে গিয়া প্রসঙ্গান্তরে কৌতূহলবশত জিজ্ঞাসা করিলাম, ‘পঞ্চম-শ্রেণী পড়ুয়ারা মধ্যবর্তী খাদ্যগ্রহণের সময় কি ধরণের আলাপ-আড্ডা করিয়া থাকে?’

টুনটুনি কহিল, গতকল্য তাহাদের আলোচ্য ছিল কাহার কাহার মাতার ফেসবুক আসক্তি আছে তাহা ! আমি ভিমড়ি খাইতে খাইতে নিজেকে সামলাইলাম ! টুনটুনি কহিল , বিস্ময়কর-ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ বালকবালিকা নাকি হস্ত উত্তোলন করিয়া সায় দিয়াছে যে , তাহাদের মাতারা ফেসবুক আসক্ত ! আমার কন্যা টুনটুনি হস্ত উত্তোলন করে নাই! কেননা সে জানে তাহার মাতা, টুনির ওই আসক্তি নাই। কথা শেষ হইয়াও হইল না শেষ, কাঁধ ঝাঁকাইয়া স্মিতহাস্যে সে বলিল, ভাগ্যিস প্রশ্নটা মাতা লইয়া ছিল, পিতা ফেসবুক আসক্ত কিনা তাহা আলোচ্য হইলে, তাহাকে নাকি দুই হস্ত উত্তোলন করিতে হইত!

সন্ধ্যায় সে আমাকে আবার পাকড়াও করিল, ফেসবুকের ইতিহাস কি কেন ইত্যাদি ইত্যাদি। আমি সংক্ষেপে যাহা বিশ্বাস করি তাহাই বলিলাম। বলিলাম, মূলত: নতুন প্রযুক্তি সর্বদাই আমাকে আকৃষ্ট করে এবং আমি তাহা সর্বদাই সাদরে বরণ করিয়া লইয়াছি। সমগ্র জনগোষ্ঠী সাদা আলোকোজ্জ্বল সরু ট্রাই-ফসফেট ফ্লুরোসেন্ট বাতি ব্যবহার করা শুরু করিলে আমি কেন হলদেটে টাংস্টেন ফিলামেন্টের বর্তুলাকার বাতি ব্যবহার করিব ? যুগের সাথে তাল মিলাইয়া চলিতে হইবে, ইহাই রীতি।

তবে, কথা থাকিয়া যায়। সকল যুগে সকল প্রযুক্তির শুভঅশুভ দুই দিকই ছিল ও থাকিবে। ব্যবহারকারীরা উহার শুভ-দিক বাছিয়া লইবে নাকি অশুভ-দিক লইয়া মাতামাতি করিবে, তাহা নিতান্তই তাহাদের ব্যক্তিগত অভিরুচি ; ইহাতে প্রযুক্তির দায়ভার কোথায় ?
বুদ্ধিমতী টুনটুনি সহজেই আমি টোনার দৃষ্টিভঙ্গি বুঝিতে পারিল ও নিজের পড়ায় মনোনিবেশ করিল।

[ প্রকাশকালঃ ২২শে নভেম্বর, ২০১৬ ]