কর্পোরেট জগতে চাকচিক্যময় আরেকজনকে দেখে অযথাই ঈর্ষান্বিত হবেন না। আপনি আসলেই জানেন না যে তিনি কীরকম নরকযন্ত্রণায় আছেন !
দেড়যুগ আগে OPEX GROUP- এ থাকতে আমার বসের কাছে শোনা। স্মৃতি থেকে লিখছি ; পশ্চিমা জোক, সামান্য অশ্লীলতা আছে।

দুইবন্ধুর একজন খুবই পাপী, বেঁচে থাকতে হেন পাপ নেই সে করে নাই। আরেকজন পুণ্যবান।

তো মৃত্যুর পরে স্বর্গে গেলেন যথারীতি সেই পুণ্যবান। স্বর্গের ব্যাপারে যা গল্পটল্প শুনে এসেছিলেন তার সঙ্গে মিলও ছিল । সারাদিন বেশুমার খাওয়া দাওয়া, চারিদিকে মধুর বিশুদ্ধ সঙ্গীত বেজে চলছে , শ্বেতশুভ্র পোষাকের দাস-দাসী তার সেবায় ব্যস্ত , আলোকোজ্জ্বল বাসস্থান ইত্যাদি। সবই ঠিক আছে , তবুও কিছুদিনের ভিতরে ব্যাপারগুলো একঘেঁয়েমি হয়ে গেল।

এক বিকেলে সেই পুণ্যবান তার নিজস্ব স্বর্গের জানালায় দাঁড়িয়ে আছেন ; হঠাৎ দেখেন তাঁর সেই পাপী বন্ধুটিকে! গোধূলিলগ্নের আকাশ দিয়ে উড়ে উড়ে যাওয়া আলাদীনের আশ্চর্য জাজিমের একপ্রান্তে বালিশের উপরে হেলান দিয়ে বসে আছে সে ! আরেকপ্রান্তে বসে আছে উদ্ভিন্নযৌবনের এক অপ্সরী ; ধীরে ধীরে একটা পানপাত্রে সুরা ঢেলে দিচ্ছে তাকে ।

পরের দিন ছিল স্বর্গের সাপ্তাহিক মিটিং ; পাপী সহকর্মীর সৌভাগ্যে বেচারা পুণ্যবান খুবই মর্মাহত হয়ে ছিলেন।

স্বর্গপ্রধান কুশলাদি জিজ্ঞেস করলেন, কিছু কথোপকথনের পরে আসল অভিযোগ বেরিয়ে এলো , ‘আমার স্বর্গ এতো বোরিং আর ওই পাপীকে এতো উত্তেজক যৌবনবতী অপ্সরাসহ স্বর্গ দিয়েছেন, এটা কী রকমের বিচার হল ? ’

স্বর্গপ্রধান মৃদু হেসে তাকে আশ্বস্ত করে বললেন, ‘ কী কারণে মনে হচ্ছে তোমার সেই সহকর্মী স্বর্গসুখে আছে? তাকে আমি নরকযন্ত্রণাতেই রেখেছি !

কীভাবে ?

শোন, যে পাত্রে সে সুরা পান করছে সেটার তলায় ছিদ্র আছে। সুতরাং সে শুধু সুরা পড়তেই দেখছে, একফোঁটাও চেখে দেখার সাধ্য নেই তার ! বোঝ কীরকম যন্ত্রণায় আছে সে। আর যে যৌবনবতী বসে আছে,তার কোথাও কোন ছিদ্র নাই!’

[ প্রকাশকালঃ ২৪শে আগস্ট,২০১৬ ]