রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে সিনেমা মানেই ভালো সিনেমা নয়।

দিন কয়েক আগে, বিমানে ঝিমাতে ঝিমাতে ছবির মেনু ঘাঁটতে গিয়ে বাংলা ছবি পেলাম , ‘ বিদেহীর খোঁজে রবীন্দ্রনাথ’। নাম দেখে উৎসাহিত হয়ে দেখা শুরু করলাম।
রবীন্দ্রনাথকে নিয়ে এরকম ফালতু একটা ছবি পশ্চিমবঙ্গের লোক বানাতে পারে , ভাবতেই ত্যক্ত , বিরক্ত ও বিমর্ষ হচ্ছি। এতো সুন্দর একটা বিষয় নিয়ে, শান্তি নিকেতনের লোকেশনে কীভাবে কতকগুলো আবাল ছেলেমেয়েদের নিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য একটা ছবি হতে পারে ! যেমন অভিনেতা-নেত্রীদের উচ্চারণ, তেমন তাদের পোশাক ও অঙ্গভঙ্গি ! বলিহারি আমার ধৈর্যও , ঘণ্টা দেড়েক ধরে ছবিটা দেখলামও ! শর্মিলা ঠাকুরের সাক্ষাতকারটাও ভীষণরকম আন-প্রফেশনাল, বিশ্রী বাজে।

পুরো ছবিতে একটা শব্দই নতুন লেগেছে, ‘পাতি NRI’ (Non Residential Indian) মানে গেঁয়ো NRI ! এই গেঁয়ো NRI এর জায়গায় গেঁয়ো NRB (Non Residential Bangladeshi) বসালেও ঠিক থাকবে। ফেসবুকে ও যাওয়া আসার পথে মাঝে মাঝেই গেঁয়ো কিছু প্রবাসী বাংলাদেশীদের সাথে দেখা সাক্ষাত হয়। সময়ের সর্বোচ্চ উন্নত পশ্চিমা দেশে থেকেও এঁদের গেঁয়ো মন মানসিকতা দেখে আমি প্রতিবারই বিমর্ষ হই।

প্রথম প্রকাশঃ২৫শে জুন,২০১৩

ফরচুন কুকিজ

এক রেস্টুরেন্টে খেতে বস্‌ছি কয়েকদিন । ওয়েটার খাওয়া শেষে চাইনিজ কুকিজ দিল সবাইকে। এইটারে মনে হয় ফরচুন কুকিজ বলে,মুচমুচে সমুচা টাইপ বিস্কুটের ভিতরে কাগজে আপনার ভাগ্য লেখা।আমারটা খুললাম । “ Your Financial situation will improve if you work on it”

যাহ্‌ শালা! এইজন্যই আমি ভাগ্যে বা সৌভাগ্যে বিশ্বাস করি না। আমি শুধু দুর্ভাগ্যে বিশ্বাস করি। পরিশ্রম করলে অর্থনৈতিক উন্নতি হবে, এইটা জানার জন্য গণক হওয়ার দরকার আছে ?

প্রথম প্রকাশঃ২৫শে জুন,২০১৩

প্রসঙ্গ প্রথম আলো

প্রথম আলোর ইদানীং কিছু কীর্তিকলাপ খুবই সন্দেহজনক, অস্বস্তিকর, নিন্দার্হ ! ফেসবুকের আমার বন্ধুলিস্টের একটা বড়োঅংশ প্রথম আলোর কীর্তিতে যারপরনাই তিক্ত বিরক্ত। হাসনাত আব্দুল হাই এর ছোট গল্প, থেকে শুরু করে হালের বোম্বের জিয়া খানের দীর্ঘায়িত সংবাদ। বহুদিন ধরে আমি নিজে প্রথম আলোর খেলার পাতার ভক্ত। অন্য কিছুনা, শুধুমাত্র খেলার পাতার জন্যই আমি , প্রথম আলো পড়তাম। দলাদলির ঠেলায় এখন কোন পত্রিকাই পড়তে মন চায় না ।

প্রথম আলোর প্রসঙ্গে ফিরে আসি।

এক ডাক্তার বন্ধুর সাথে কথা হচ্ছিল। বন্ধু চট্টগ্রামের সরকারী ডাক্তার, চর্ম বিশেষজ্ঞ। সঙ্গত কারণেই তাঁর নামোল্লেখ করা থেকে বিরত থাকছি । তার ও তাঁর এক কলিগের নামে প্রথম আলোর স্থানীয় সংবাদদাতা নামসহ খবর দিল যে রাত্রের ডিউটিতে ওরা থাকেন না। ডাক্তার বন্ধুটি সাংবাদিকের সাথে ব্যক্তিগত ভাবে যোগাযোগ করলেন। বোঝানোর চেষ্টা করলেন, ওই দিন উনি ছুটিতে ছিলেন। সাংবাদিক ভদ্রলোক তার সাথে রীতিমতো দুর্ব্যবহার ব্যবহার করলেন। বন্ধুর প্রশ্ন ছিল দুইটি, প্রথমত: সাংবাদিকের দায়িত্ব ছিল কিনা তার সাথে একবার যোগাযোগ করে খবরটা প্রকাশ করা। আর দ্বিতীয়ত: একজন চর্ম বিশেষজ্ঞের রাত্রিকালীন জরুরী চিকিৎসার কী প্রয়োজন থাকতে পারে !
বন্ধুটির সাথে সাংবাদিকের কথোপকথনে সাংবাদিক তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলেন –প্রথম আলোর সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতারও তোয়াক্কা করেন না। উনারা অনেক জনপ্রিয়, পাবলিকরে যা খাওয়াইবেন তাই খাবে। এ তো –রীতিমতো পাওয়ার প্লে !

ওয়েল প্রথম আলো, তোমাদের জনপ্রিয়তার কারণে যদি ধরাকে সরা জ্ঞান করো ,মনে করিয়ে দিই – তোমাগো আগেও বহু বহু জনপ্রিয় পত্রিকা ছিল, তাঁদের খোঁজখবর ও এখন কেউ নেয় না। বেশী পাওয়ার প্লে করতে যাইও না এর খেসারত অনেক ভারী পড়ে যাবে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

 

ধর্মের আছর

আমার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি গত বছর দুয়েক ধরে তাবলীগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডে আমি অবাক, কাছের একজনের এতো আকস্মিক পরিবর্তন মেনে নেয়া মুশকিল। তাঁর ও তাঁর পরিবারের কী কী পরিবর্তন হতে পারে, সেই বিতং এ না যাই। দাড়ি রাখা ও কঠিন পর্দাপ্রথা ছাড়াও একটা পরিবারকে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসনে নিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। মাঝে ওরে ফোন দিতেও ভয় হইতো। ফোনে মিনিট চল্লিশেক নানা হাদিসের বয়ান দিয়ে সুপথে আসার নির্দেশ।

আমাদের অনেক বন্ধুকেই ছাত্রাবস্থা থেকে তাবলীগের সাথে জড়িত দেখেছি। আরেক বন্ধু , যাকে সেই ছাত্রজীবন থেকেই তাবলীগে জড়িত দেখেছি, হেরে জিগাইলাম , ‘ মামা কাহিনী কি? তোমারে তো দেখি আজ বছর কুড়ি ধরে, তোমার এইরকম আগ্রাসী তাবলীগি ভাবতো দেখি নাই। তুমি-তো সব ব্যাল্যান্স করে চলছো। ও যেটা বললো, ‘আসলে আমরাতো ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু ও( আমার নতুন তাবলীগ বন্ধু) সেটা পায় নি। এখন ওর উপর “আছরটা” একটু বেশী পড়ছে।অন্তত আমার কাছে ঘটনা পরিষ্কার হলো।

আমি কোন দুই বন্ধুর কথা বলছি আমার কাছের জনেরা( টেক্সটাইল সার্কেলের) সেটা টের পাবেন নিশ্চয়।
উল্লেখ্য, আমার খুব ঘনিষ্ঠ এই দুইবন্ধুর কেউ ফেসবুকে নাই।

আম্মা ক্যালেন্ডারের জুন মাসের ছবিটা দেখিয়ে বললেন উনি সুফিয়া কামাল কিনা ?
আমি বললাম না, ওটা নুরজাহান বেগমের ; ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদিকার । এই বছরের ক্যালেন্ডারে বারোজন মহীয়সী নারীকে তুলে ধরেছেন এই ব্যাংক এশিয়া । বেগম রোকেয়া থেকে— প্রথম মুসলিম মহিলা ডাক্তার জোহরা বেগম কাজী , ইলা মিত্র, সুফিয়া কামাল, ফিরোজা বেগম, রাণী হামিদ, তারামন বিবি, নভেরা আহমেদ, জোবেরা রহমান লিনু, আইরিন জুবাইদা খান, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার । এঁরা দেশ ও দশের উপকারে এসেছেন, খ্যাতি বয়ে এনেছেন , মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এঁরা নমস্য।

সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অচলায়তন ভেঙ্গে বের হওয়া একজন ডাক্তার জোহরা বেগম কাজীকে
হাজারো উচ্চশিক্ষিত ঘরে বসে থাকা মহিলার চেয়ে সমাজের জন্য বেশী প্রয়োজনীয় মনে করি। জগতে এঁরা জগত আলো করে থাকুন। আমি শুধু এই আকাঙ্ক্ষাই করতে পারি , আমার দুই কন্যা যেন এঁদের মতো কেউ হয়ে উঠতে পারে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

 

মেক্সিকান ডায়েট

এক মহিলা ক্রেতার সঙ্গে সারাদিন এই অফিস সেই অফিস করতেছি । গাড়ী চালাতে চালাতেই সকাল থেকে সে ঘণ্টা খানেক পরে একবার একটা আপেল খায়, আবার কয়েকটা বাদাম খায় , একটা দই খায়। জিগাইলাম , ‘সকালের নাস্তা করো নাই, ঘনঘন খাচ্ছো, কাহিনী কি? সে যা বললো, ডাক্তারের ডায়েট মতো চলে , গত তিন সপ্তাহে তার তিন কেজি ওজন কমছে। ঘনঘন খাচ্ছে কিন্তু কমকম খাচ্ছে।
কাজ করতে করতে বেলা দুইটা। এক ট্র্যাডিশনাল মেক্সিকান রেস্তোরায় যেয়ে খাবার খেতে খেতে বেলা আড়াইটা। আমিতো ক্ষুধায় মরি। সুস্বাদু সব খাওয়া আসার পরে সেই ডায়েট করা ক্রেতা যেমনে হাপুস হুপুস করে খাওয়া শুরু করলো, তাঁর সারাদিনের ডায়েটের কথা চিন্তা করে আমি হাসি থামাইতে পারি না। খাওয়া দাওয়া শেষে টেবিল থেকে উঠতে মন চায় না। হেভীওয়েট খাওয়া ও তারপরে আছে টাইমজোনের কারণে ভ্রমণক্লান্তি। মনে হচ্ছিল কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিই।

আড়মোড়া ভেঙ্গে গাড়ী চালিয়ে অফিসের দিকে আসতে আসতে সে বললো, যদি একটা আলাদীনের জিনি পাওয়া যেতো, তাইলে একটা বর চেয়ে নিতাম। খাবো কিন্তু মোটা হবো না।

ওজন নিয়ে এই বিব্রত অবস্থা দেখি সব জায়গায় আছে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

আমেরিকা ভ্রমণ

কাউন্টারের আমেরিকান ভদ্রমহিলা আমার পাসপোর্ট নিয়ে অনেকক্ষণ বোর্ডিং পাশ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ ! ফোন দিলেন অন্য কোথাও, ওপাশ থেকে কেউ আধাঘণ্টা ধরে একেকটা প্রশ্ন করে আর মহিলা আমাকে সেটা জিজ্ঞাস করেন, আমার আম্রিকান ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো কিনা ? থাকলে কোথাও কোন দুর্ঘটনা আছে কিনা। অথবা আগে আমি আমার বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আম্রিকায় গাড়ী চালিয়েছি কিনা ?

বুঝলাম আমেরিকার কোন এক চিপায়, কোন এক জাহিদে কোন এক সুদূরকালে কী এক কাহিনী করছে , সেইটা এখন দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া আমারে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।

এতো সিকিউরিটি দিয়ে এরা কি যে ফেলতে পারছে কে জানে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩