by Jahid | Nov 28, 2020 | লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
খেয়াল করলাম আমার ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া জ্যেষ্ঠা কন্যার টিভি আসক্তি হয়েছে। বছর দুয়েক আগেও কার্টুন চ্যানেল প্রীতি ছিল। কারো বুদ্ধিতে কীভাবে যেন সবকটি কার্টুন চ্যানেল ব্লক করে দিয়েছিলাম দুই কন্যার মানসিক স্বাস্থ্যের স্বার্থে।
কৈশোরে পা দিয়ে ও স্কুলের বন্ধুদের প্রভাবে ,এখন নতুন আসক্তি ইংরেজি মুভি চ্যানেল ও ভারতীয় কয়েকটি চ্যানেলে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বসলাম ওকে নিয়ে । বোঝানোর চেষ্টা করলাম কেন এই টিভি আসক্তি খারাপ।আমাদের টিভি আসক্তি জন্মানোর সুযোগ ছিল না। কারণ ৯০-৯১ সাল পর্যন্ত একমাত্র বিটিভি ও মাঝে সাঁঝে বাঁশের অ্যান্টেনায় সিলভারের হাঁড়িপাতিল লাগিয়ে দূরদর্শনের কয়েকটা চ্যানেলই ছিল সম্বল।
স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পরে , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট দেখতে যাচ্ছিলাম দুই বন্ধু। রিকশাওয়ালা যথারীতি সদ্য পতিত এরশাদের পরিত্যক্ত বাসভবনে কত অগুনতি নগদ টাকা পাওয়া গেছে সেটার বর্ণনা দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে বলল, এরশাদের বাড়িতে নাকি কি এক অ্যান্টেনা আছে, যেটা দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনুষ্ঠান দেখা যায়। এরশাদ ব্যাটা অনেক ধড়িবাজ ছিল– ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টি আমাদের কাছেও বিস্ময়কর ছিল।
সম্ভবত: মাস কয়েকের ভিতরেই বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে সিএনএন ও বিবিসি চ্যানেলের ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠান প্রচার করা শুরু করল। আমাদের অনেকে সেই ফালতু নিউজ চ্যানেলে ‘ল্যারি কিং শো’ ‘ফ্যাশন শো’ দেখে মুগ্ধ। তবে বিবিসি চ্যানেলের ডকুমেন্টারিগুলো আগেও যেমন টানত এখনো সেইরকম উপভোগ্য মনে হয়। এরপরে বানের জলের মতো মহল্লায় ঘরেঘরে চলে আসল স্যাটেলাইট আর ডিস অ্যান্টেনা। গুচ্ছের চ্যানেলের ছড়াছড়ি। এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায় !
আমি নিজে বছর দশেক আগেই বেডরুম থেকে টিভি বিদায় করেছি। পরিবারকে একান্ত কিছুটা কোয়ালিটি টাইম দিতে হলে টিভিকে বিদায় দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পরে এসে এই চ্যানেল সেই চ্যানেল করতে করতে খামোখাই রাত গভীর হয়ে যেত। পরেরদিন কাজ করার পুরো জীবনীশক্তি অবশিষ্ট থাকত না। এই এক চ্যানেলে কিছুক্ষণ, আরেক চ্যানেলে আরো কিছুক্ষণ লাফঝাঁপ করার প্রবণতা সময়ের অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগ শক্তির একটা বড় ক্ষতি করে ফেলে। বাসার একটি মাত্র টিভি ডাইনিং –লিভিং রুমে ঝুলে আছে। আমি বাড়ি ফিরে খাওয়ার সময়েও টিভি বন্ধ রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করি। ২৪ ঘণ্টায় একবারই একসঙ্গে বসে খাওয়ার সুযোগ হয়। সারাদিনের জমে থাকা কথাবার্তা বলাটা প্রয়োজনীয়। টিভি চালু থাকলে খেতে খেতেও দেখা যায়, কারো মুখের দিকে তাকিয়ে কথা না বলে, সবাই মাথা ঘুরিয়ে টিভির দিকে ফিরে ফিরে চাচ্ছে। ব্যাপারটা আমার কাছে অসহ্য লাগে।
মেয়েকে পুঁজিবাদ, ক্যাপিটালিজম না বুঝিয়ে সহজ করে বোঝালাম অসংখ্য অর্থহীন টিভি মিডিয়ার বিনোদনের মূল উদ্দেশ্য যতোখানি না মানুষকে বিনোদিত করা– তার চেয়েও বেশি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের। সেটা করতে গেলে দর্শককে টিভির সামনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখতে হবে। মিডিয়ায় যারা আছেন, তাঁদের মেধা আমাদের সাধারণের চেয়ে অবশ্যই বেশি। বাংলাদেশের গড় আই কিউ ৮২ এর কাছাকাছি; ধরে নিচ্ছি আমার আই কিউ ১০০। এখন যারা অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন তাঁদের গড় আই কিউ সাধারণের চেয়ে বেশি। নানাভাবে তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে, দর্শককে ধরে রাখার, আসক্ত করে ফেলার ; কেননা এই মিডিয়া মেধাবীদের জীবিকা নির্ভর করছে দর্শককে আসক্ত করে উপার্জনের উপরে।
সিংহভাগ চ্যানেলের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই আমি অবলীলায় বলতে পারি, টিভির এ পাশে বসে থাকা দর্শকের খুব সামান্যই অবকাশ থাকে নিজের চিন্তা ক্ষমতা প্রয়োগ করার। নির্জীব মাদকাসক্তের মতো পুষ্টিহীন, ঝকমকে অলীক জগতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমূল্য সময়ের অপচয়।
কন্যাকে বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার জন্য স্বপক্ষে কিছু যুক্তি দাঁড় করালাম। বোঝালাম, বই অনেক বেশি সজীব একটা ব্যাপার। একজন ভালো লেখকের যতো মেধাই থাকুক তাঁর মূল চেষ্টা থাকে প্রকাশিত , উদ্ভাসিত হওয়ার; তাঁর সামান্যই চেষ্টা থাকে আসক্ত করার। একটা ভালো বইয়ের সঙ্গে পাঠকের মিথষ্ক্রিয়া থাকে সরাসরি। লেখকের কল্পনার জগতের সঙ্গে পাঠকের নিজের কল্পনার জগতের সম্মীলন ঘটে। কন্যা কিছুটা বুঝলো মনে হয়। গত কয়েকমাসে কয়েকদিন কিছুক্ষণের জন্য শুধু ইংরেজি মুভি চ্যানেল দেখতে দেখেছি।
এখন টিভির সামনে ওকে দেখলেই আমি মনে করিয়ে দিই , অ্যাডিকশন না তো? সে মৃদু হেসে টিভি থেকে সরে যায়।
প্রথম প্রকাশঃ ১৮ই এপ্রিল, ২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, সাম্প্রতিক
যাহা অবশিষ্ট ছিল ও যাহার আশংকা করিতেছিলাম তাহাই হইয়াছে ; কনিষ্ঠা টুনটুনি বিদ্যালয়ে তাহার সহপাঠিনীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করিয়াছে। শ্রেণি শিক্ষিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য টুনির ডাক পড়িয়াছে।
দুরালাপে কথা কহিবার সময় টুনি কনিষ্ঠা টুনটুনির বিদ্যালয়ে যাইবার প্রাক্বালে যথারীতি আমার চতুর্বিংশ পুরুষ তুলিয়া অশ্রাব্য গালি বর্ষণ করিতেছিল ! সেই প্রাচীনতম পদ্ধতিতে আমার সমগ্র গোষ্ঠিকুণ্ডলী ধৌত করিতেছিল, আমাদের বংশ খারাপ, সকলেই গোঁয়ারের মতো চলে ; ভদ্রবংশের কেহ হইলে এরূপ আচরণ কখনই করিত না , ইত্যাদি ইত্যাদি।
কনিষ্ঠার কাছ হইতে তাৎক্ষণিক যাহা উদ্ধৃত ও শ্রুত হইয়াছে ; তাহা হইতেছে এই বিশৃঙ্খলার দায়িত্ব অপরপক্ষের! কারণ অপরপক্ষই প্রাথমিকভাবে শুরু করিয়াছিল , কনিষ্ঠা শুধু তাল মিলাইয়া তাহাকে গুটি কয়েক প্রহার করিয়াছে।
আমার সমগ্র বিদ্যালয় জীবনে বোধকরি সপ্তম শ্রেণীতে পড়িবার সময়, অপাঠ্য পুস্তক( সেবা প্রকাশনী, হুমায়ূন আহমেদ ইত্যাদি) লুকাইয়া পড়িতে গিয়া শ্রেণীকক্ষে কয়েক সতীর্থ সমেত বমাল ধরা পড়িয়াছিলাম। প্রধান শিক্ষকের নিকট হইতে গৃহে লালবর্ণ পত্র গিয়াছিল। উহাই প্রথম ও উহাই শেষ।
কোন বিদ্যালয়ে , কোন শ্রেণীতে পড়িতাম , কাহাদের সহিত খেলিতাম, দলাদলি করিতাম, কাহাকে প্রহার করিতাম, প্রহৃত হইতাম; আমাদের জনক-জননী কদাপি তাহার খোঁজ রাখিতেন। জনক প্রায়শ: ভুলিয়া যাইতেন আমি বিদ্যালয়ে নাকি মহাবিদ্যালয়ে ; বিজ্ঞান না কলাবিভাগে অধ্যয়ন করিতেছি। একবারই তিনি আমার অধ্যয়ন লইয়া মাথা ঘামাইয়াছিলেন, অন্যের সু অথবা কুপরামর্শে আমাকে অর্থনীতি বিভাগ হইতে মূলোৎপাটন করিয়া বস্ত্র প্রকৌশলীতে ভর্তি হইতে বাধ্য করিয়াছিলেন। উহাই প্রথম উহাই শেষ।
স্বল্পসংখ্যক সন্তানাদি লইয়া হইয়াছে আমাদের সমস্যা, কী করিলে কী হইবে তাহা ভাবিতে ভাবিতে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের রাত্রির সুখনিদ্রার তিরোধান ঘটিতেছে !
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
কিছুদিন আগে , ২০১৩ সালের একটা স্ট্যাটাস রিপোস্ট করেছিলাম প্রবাস জীবন নিয়ে ।
কেন জানি না , কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মর্মাহত হয়েছেন। কেউ অবলীলায় বলেছে ‘ আঙুর ফল টক’ বলেই নাকি আমি প্রবাস জীবনের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অনাবশ্যক গুরুত্ব দিয়েছি। প্রারম্ভিক ক্ষমা প্রার্থী হওয়া স্বত্বেও আমার লেখায় বিদ্রূপ ও বিদ্বেষের ছোঁয়া পেয়েছেন তাঁরা !
এটাও সত্যি সংখ্যালঘু অনেকেই প্রবাস জীবন বেছে নেওয়ার পরে আবার দেশে ফিরে আসতে চান ; কিন্তু পেরে ওঠেন না । কেন পারেন না , সেটা নিয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন ঘনিষ্ঠের সঙ্গে।
মূলত: অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আমাদের আগের কয়েক প্রজন্মের প্রবাস মুখী হওয়ার মূল কারণ । নতুন করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বাঁধাগুলো আমার দৃষ্টিতে নীচের কয়েকটি ; বিদ্বজ্জনেরা আরো কিছু বের করতে সমর্থ হবেন।
১। একবার উন্নত বিশ্বের দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে নতুন করে বাংলাদেশের অশ্লীল, কদর্য পুতিগন্ধময় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন । যতো দেশপ্রেমের কথাই বলি না কেন, প্রতিনিয়ত নানা অদ্ভুতুড়ে প্রতিকার হীন সামাজিক ব্যাধি ও অন্যায়ের মুখোমুখি হয়ে স্নায়ুক্ষয় করা ছাড়া উপায় থাকে না। আমার অনেক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী বন্ধু যাঁদের গায়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির গাঢ় সীল নেই ; নিতান্তই রাজনীতি বিমুখ –তাঁদের কয়েকজন ছেড়ে গেছেন প্রশাসনের সহ্যাতীত অবিবেচনার জন্য। এমন না যে , তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কিন্তু, তাঁরা ভেঙ্গে পড়েছিলেন ক্রমাগত অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করতে পারার মনোবেদনায়।
২। পরের সর্বগ্রাসী যে বিষয়টি আমাদের মেধাবী ও অমেধাবী সবাইকে ঠেলে দেয় পশ্চিমের দিকে তা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। পশ্চিমাদেশের তুলনায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা শতভাগের একভাগও নয়। একবার সেই নিরপত্তায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে তার মায়া কাটানো মুশকিল।
৩। আমাদের জীবনের অনিশ্চয়তা ছিল, আছে এবং থাকবে । নিতান্ত নির্বোধ ছাড়া আর সকলেই অনিশ্চয়তায় ভোগে। জীবনের অনিশ্চয়তার কাটানোর অলীক কল্পনা আচ্ছন্ন করে রাখে প্রবাসীদেরকে। তাঁদের ধারণা হয়, তাঁদের জীবনের অনিশ্চয়তা অনেক কমিয়ে ফেলেছে পশ্চিমা দেশ। তবে এই অনিশ্চয়তার প্রভাব বেশি দেখা যায় আমাদের উচ্চ-মধ্যবিত্তদের মধ্যে।
৪। প্রথম প্রজন্মের মেধাবী অনেকেই তাঁদের অর্জিত ডিগ্রী ও মেধা নিয়ে ফিরে আসতে চান দেশে। কিন্তু তাঁদের মেধা প্রয়োগের বাস্তবিক কোন সুযোগ থাকে না। কেউ কেউ , বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে তাঁর মেধার কিছুটা বিলিয়ে যেতে পারেন। অন্যদের বাধ্য হয়েই পশ্চিমাদেশের শিক্ষায়তনে ও ইন্ডাস্ট্রিতে দিনাতিপাত করতে হয়।
৫। দ্বিতীয় প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব ও অমানবিক ।কেউ একটা দেশে জন্মে সেখানে তাঁর কৈশোর কাটিয়ে ফেললে সেটি তাঁর সারাজীবনের স্মৃতি কাতর মাতৃভূমি হয়ে যায়। একটা শিশুর হয়তো স্বদেশ পরিবর্তনে কিছুই যায় আসে না। সে নতুন ভাষা ও কৃষ্টি সংস্কৃতিতে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু একটা কিশোর বা কিশোরীর বেড়ে ওঠার সময়ে মন দৈহিকতায় পরিপার্শ্বের সবকিছুর ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে। লন্ডন, সিডনী, নিউইয়র্ক যাই বলি না কেন, সেখানে বেড়ে ওঠা কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না ! আমার কাছে সেটি বড্ড অমানবিক মনে হয়।
আমার কয়েকজন আত্মীয়পরিজনদেরকে দেখেছি, দেশে ফিরে তাঁরা হয়তো পুনরায় কোন না কোনভাবে আমাদের ধুলাবালিতে অভ্যস্ত হতে পেড়েছেন। মশার কামড়ে তাঁদের তেমন কিছু হচ্ছে না ; কিন্তু প্রবাসে জন্ম নেওয়া বা শৈশবেই চলে যাওয়া শিশু-কিশোরের বাংলাদেশের ধূলায়, লোডশেডিং , ট্রাফিক জ্যামে আর মশার কামড়ে প্রাণান্ত হয়। দেখে মায়া লাগে।
৬। আরেকটি প্রকট বা প্রচ্ছন্ন কারণ আছে। সেটা আমার বেশ কয়েকজন প্রবাসী সতীর্থের সংগে অন্তরঙ্গ আলোচনার উপলব্ধি । আসলে শিক্ষিত বাঙালী মেয়েরা বিয়ের পর নিজের স্বামী সন্তানদেরকেই নিজের পৃথিবী মনে করে। সামাজিকতায় অভ্যস্ত হয়ে, স্বামীর কর্মস্থল যে জেলাতেই হোক, যে দেশেই হোক আপন করে নেয়। তারপরেও প্রবাস জীবনে একাকীত্বের সঙ্গে অবাধ স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ থাকে। ছোট্ট নিউক্লিয়াস পরিবারের স্বামীকে দিনে ঘন্টাখানেক সময়, আর বাচ্চাকে কিছুক্ষণ সময় দিলে বাকী সময় একান্ত নিজের ।
ঠিক উল্টোটা বাংলাদেশে। নিজের স্বামী-সন্তান- সংসারের পাশাপাশি, শ্বশুর- শাশুড়ি, দেবর- ননদ, ভাশুর- ভাবী, স্বামীর মামাতো, চাচাতো খালা-মামা-চাচা-ফুফু ; নাই নাই করেও গুচ্ছের বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে সময় দিতে হয় , ম্যানেজ করে চলতে হয়। পাশাপাশি থাকে পারিবারিক রাজনীতি ও কূটকচাল।
শিক্ষিত বাঙালী প্রবাসী গৃহবধূদের শতভাগ তাই দেশে ফিরে নতুন করে বসবাসে সবচেয়ে বড় অনিচ্ছার কারণ হয়ে পড়েন।
by Jahid | Nov 26, 2020 | সাম্প্রতিক
কনিষ্ঠা টুনটুনিকে গত আগস্টে বিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হইয়াছে। দান দান তিনদান, অদ্যাবধি তিনবার বিদ্যালয় হইতে তাহার নামে অভিযোগ আসিয়াছে।
প্রথম অভিযোগঃ সে তাহার সতীর্থ কয়েকজনকে বলিয়াছে, তাহাদের হাতের লেখা দ্রুততর না হইলে সে তাহাদের বন্ধু হইবে না। উল্লেখ্য , কনিষ্ঠা টুনটুনির হাতের লেখা কিঞ্চিৎ দ্রুতগতির এবং সে আগেভাগে লিখিয়া বসিয়া থাকে। যেহেতু, বন্ধুত্বের অস্বীকৃতি কিছুটা অপমানের , তাই অন্য বালক-বালিকাদের মাতারা তাহা আমার টুনির কাছে অভিযোগ আকারে পেশ করিয়াছে।
দ্বিতীয় অভিযোগঃ কনিষ্ঠা টুনটুনি পেনসিল দিয়া তাহার কতিপয় সতীর্থকে খোঁচা দিয়াছে। ইহাও অভিযোগ আকারে আসিয়াছে। টুনটুনির সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তাহাকে বোঝানোর বৃথা চেষ্টা করা হইল। বোঝানো হইল বিদ্যালয়ে কিরূপ আচরণবিধি পালন করা উচিৎ। সে খুব আত্মবিশ্বাসের সহিত কহিল, বিদ্যালয়ে সকলেই একে অপরকে পেনসিল দিয়া খোঁচা দেয়। সকলেই অকাতরে হৈচৈ করে, উচ্চস্বরে চিৎকার করে। সে শুধুমাত্র সকলে যাহা করিতেছে , তাহাই করিয়াছে। ইহার মধ্যে সে কোন সমস্যা দেখিতে পাইতেছে না !
তৃতীয় অভিযোগঃ শিক্ষাদান চলাকালীন অবস্থায় সে পার্শ্ববর্তিনী-পার্শ্ববর্তীর সহিত যথেচ্ছ গল্পগুজবে মশগুল থাকে। এইবার এই অভিযোগ আসিয়াছে স্বয়ং শিক্ষয়ত্রীর কাছ হইতে। আমার টুনি বিদ্যালয়ে দুইদিন গমন করিয়া শিক্ষয়ত্রীকে কহিল–কনিষ্ঠা টুনটুনিকে আবারো যদি কাহারো সহিত গল্পগুজব করিতে দেখা যায়, তবে তৎক্ষণাৎ স্থান পরিবর্তন করিয়া দেওয়া হউক। তৃতীয়দিনে , অভিযোগ পুনরায় আসিল ; স্থান পরিবর্তনে কোনরূপ প্রতিকার হইতেছে না। সবচেয়ে নীরব শিক্ষার্থীর নিকটে টুনটুনিকে বসাইয়ে দিলেও, সে তাহার সহিত আপনমনে গল্প করিতে থাকে।
টুনি বিদ্যালয় হইতে ফিরিয়া আসিয়া, আমি টোনাকে যথেচ্ছ চৌদ্দপুরুষ তুলিয়া গালিগালাজ করিল। সে পুরাতন সকল ইতিহাস পর্যালোচনা করিয়া উহাই প্রমাণ করিল যে, এরূপ গর্হিত আচরণ বংশপরিক্রমায় কনিষ্ঠা টুনটুনি পাইয়াছে। বাচালের গোষ্ঠী বলিয়া আরো কিছুক্ষণ মাথা চাপড়াইল। টুনির মতে, কনিষ্ঠা টুনটুনির পিতা-জ্যাঠারাও বিদ্যালয়ে ইহাই করিয়াছে। এখন এই ‘গল্পবলা-বাচালস্বভাব’ রোগের কোন প্রতিকার নাই!
গত সন্ধ্যাবেলায়, টুনি আসিয়া আমি টোনাকে পুনরায় ক্ষুদ্ধস্বরে কহিল, কনিষ্ঠা টুনটুনিকে কেননা একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলিয়া দেওয়া হউক ! সে তাহার জনক (আমি ) বাচাল টোনার মত অদৃশ্যজগতের বন্ধুতালিকার বন্ধুদের সহিত বাচলামি করুক, স্কুলের অন্যান্যদেরকে রেহাই দিক !
প্রকাশকালঃ ৪ঠা নভেম্বর,২০১৬
by Jahid | Nov 25, 2020 | শিল্প ও সংস্কৃতি, সাম্প্রতিক
সিনেমা হলে বা সিনেপ্লেক্সে গিয়ে শেষ যে কয়েকটি বাংলা ছবি দেখেছি তা আমি হাতে গুনে বলে দিতে পারি। ‘পদ্মা নদীর মাঝি’ (গৌতম ঘোষ- ১৯৯৩) ; শ্রাবণ মেঘের দিন( হূমায়ুন আহমেদ -২০০০)। তারপর দীর্ঘ বিরতিতে ‘মনপুরা’ (গিয়াসউদ্দিন সেলিম -২০০৯) সামান্য বিরতিতে ‘মনের মানুষ’ (গৌতম ঘোষ -২০১০) ।
‘মনের মানুষ’-এ চঞ্চল চৌধুরী স্বল্পপরিসরে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের উজ্জ্বলালোকের পাশে থেকেও সবার মন কেড়েছিলেন। আর ‘মনপুরা’-তে তো কেন্দ্রীয় চরিত্রেই ছিলেন।
দেরী করে হলেও এর মাঝে ‘চড়ুইভাতি’, ‘ব্যাচেলর’, ‘পিঁপড়াবিদ্যা’, ‘থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার’, ‘টেলিভিশন’ মোস্তফা সারোয়ার ফারুকীর ঘরনার ছবিগুলো দেখা হয়েছে, হয় টিভি বা কম্পিউটার স্ক্রিনে। পশ্চিমবঙ্গের বেশ কিছু ছবিও দেখা হয়েছে এই ফাঁকে ! ‘বেলাশেষে’ , ‘বাইশে শ্রাবণ’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘অটোগ্রাফ’ ইত্যাদি—কিন্তু সবই ছোট স্ক্রিনে।
বহুদিন পরে বড়পর্দায় যে ছবি দেখে মুগ্ধ, বিস্মিত, গর্বিত, আলোড়িত হলাম সেটা অমিতাভ রেজা চৌধুরীর ‘ আয়নাবাজি’! বিজ্ঞাপন নির্মাতার খোলস থেকে বের হয়ে এসে, প্রথম ছবি দিয়ে অমিতাভ তাঁর জাত চিনিয়ে দিয়েছেন। আমি সিনেমাবোদ্ধা নই। আমি নিতান্তই মধ্যবিত্ত দর্শক। আলোর প্রক্ষেপন, দৃশ্যায়ন, সামাজিক মূল্যবোধ ইত্যকার ভারী শব্দ আমার
জন্য অনধিকার চর্চা।
‘আয়নাবাজি’ আমাদের ধুলোয় মিশে যাওয়া বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে এক অনির্বচনীয় উন্মাদীয় ভালোলাগা এনে দিল । এইছবির প্রণোদনায় উৎসাহী আরো তরুণ নির্মাতারা যদি ধারাবাহিকতা বজায় রাখেন ; তবে এক বিশাল মধ্যবিত্ত শ্রেণীর দর্শক আবার বড়পর্দায় ছবি দেখার সেই দিনগুলোতে ফিরে যাবে, এ আমার গভীর বিশ্বাস।
কয়েকদিন আগেই এক বন্ধুকে বলেছিলাম, আমি ছিলাম ৮৭ সালে হূমায়ুন আহমেদের ‘নন্দিত নরকে’ আর ‘শঙ্খনীল কারাগার’—এর মুগ্ধ কিশোর ! যে কীনা সেই দুর্মূল্যের বাজারেও চল্লিশ টাকা দামের ৪টি বই কিনে কাছের কয়েকজনকে উপহার দিয়েছিল—শুধুমাত্র আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য।
সেই মুগ্ধ কিশোর আজ চল্লিশোর্ধ বয়সে এসে আরেকবার চলচ্চিত্রের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চাইছে ! সিনেমা হলে যান, ‘ আয়নাবাজি’ দেখুন। দেখে এসে আমার বক্তব্যের সাথে সহমত বা দ্বিমত পোষণ করুন।
[ প্রকাশকালঃ ১লা অক্টোবর,২০১৬ ]
by Jahid | Nov 25, 2020 | ছিন্নপত্র, সাম্প্রতিক
গত অপরাহ্ণে কন্যা বড় টুনটুনি কহিল, ‘ পিতা তোমার বিরল কেশ দিনেদিনে আরও বিরল হইতেছে এবং একাধারে প্রবল ধবলবর্ণের প্রকোপে তোমাকে আরও অকালবৃদ্ধ দেখাইতেছে। আমার অন্য সকল সখীদের পিতা তোমার বয়স্য বা অগ্রজ হইলেও তোমার তুলনায় তাহারা অনেক তরুণতম। দয়া করিয়া অবশিষ্ঠ যাহা কেশ বর্তমান আছে তাহা কালো রঙে রঞ্জিত কর ; তোমার এহেন বার্ধক্যপীড়িত চেহারা পছন্দ হইতেছে না। তুমি কি দেখ নাই, জননী নিয়মিত কেশপরিচর্যা করে, সৌন্দর্যবর্ধনকারী দক্ষ দোকানসমূহে মাসিক বরাদ্দে যাতায়াত করে ; ফলশ্রুতিতে তাহার চুলের সঠিক বর্ণ ও তাহার নিজের বয়স আন্দাজ করা মুশকিল হইয়া পড়ে !’
একবার ভাবিলাম তাহাকে বুঝাইয়া বলি, ‘ইহাই নিয়তি ! কেশ পক্ক হইবে, চর্ম ঝুলিয়া যাইবে, গেঁটেবাত হইবে ; ইহার পরে একসময় মধুমেহ, হৃদরোগ একত্রে আসিয়া আমাকে অবসন্ন জীবনসায়হ্নে উপস্থিত করিবে।’ পরে ভাবিলাম, এই মুহূর্তে তাহার জন্য এই ব্যাখ্যা অধিকতর বেদনাদায়ক হইবে ; যাহা অপ্রয়োজনীয় , অনাবশ্যকও বটে ! অতিবাহিত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে সকল বাস্তবতা বুঝিতে সক্ষম হইবে।
অতঃপর আমার চিরাচরিত আশাবাদী মন লইয়া হাসিহাসি মুখশ্রী করিয়া কন্যাকে কহিলাম, ‘আমার যে এখনো কয়েকগুচ্ছ কেশ মস্তিষ্কের উপরিধারে বর্তমান আছে, আমি তাহাতেই অপরিসীম খুশী। চুলের ধবলবর্ণ লইয়া দুশ্চিন্তা করিবার অবকাশ কোথায়!’
প্রকাশকালঃ ১লা অক্টোবর,২০১৬
সাম্প্রতিক মন্তব্য