by Jahid | Nov 23, 2020 | ছিন্নপত্র
নাছোড়বান্দা মাছির মতো চিন্তারাশি বারবার ঘুরে ফিরে আসে ! নিজের তুচ্ছতার কথা ভাবি ; এই চিন্তারাশিকে লিপিবদ্ধ করে কী লাভ ! হ্যাঁ প্রকাশিত হওয়ার আনন্দ আছে বৈকি ! আবার ভাবি, মহাকালের কাছে আমি যতো অকিঞ্চিৎই হই না কেন, আমার সময়টুকুতে আমার এই যে বেঁচে থাকা, চারপাশের প্রবাহিত , যাপিত জীবন আমার কাছে কোনভাবেই তুচ্ছ হতে পারে না। আমার কাছে তার মূল্য আছে বলেই জীবন নিরর্থক নয় ; বেঁচে থাকাকে এখনো এতো ভালবাসি !
by Jahid | Nov 23, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন
আমি বিশ্বাস করি মানবিক কিছু গুণাবলী যেমন দান, ক্ষমা ও পরিতৃপ্ত হওয়ার জন্য পরিমাণ নয় , মূলতঃ মানসিক যোগ্যতাই সবচেয়ে বড়ো ফ্যাক্টর ! নিকট অতীতে নিতান্তই পারিবারিক কিছু অম্লমধুর অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার । সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেওয়ার পিছনে , খুব সহজ একটা ব্যাখ্যা ছিল প্রত্যেকের । সহানুভূতির কয়েকটা কথার পরে, তাদের মূলকথা হতো —আমার যদি অমুকের মতো টাকা থাকতো, তাহলে আমি নিশ্চয়ই কিছু দান বা সহযোগিতা করতাম ! কিন্তু , যে দুর্মূল্যের বাজার, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি!
আবার এমন কিছু হৃদয়বান দেখেছি যিনি তাঁর সঞ্চিত অর্থের পরিমাণের তোয়াক্কা করেননি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন । গাণিতিক অনুপাতে উদাহরণ দিই । ধরুন, আমার যদি পকেটের ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকা সহযোগিতা করার মানসিকতা না থাকে; তাহলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা থাকলেও আমি কাউকে ১০ হাজার টাকা সহযোগিতার চিন্তা করবো না ! যে হৃদয়বান মাত্র ১০ হাজার টাকার ১০% অবলীলায় দান করতে পারছেন ও করছেন ; মূলতঃ তাঁর মানসিকতা আছে বলেই করতে পারছেন ! আর ‘ দুর্মূল্যের বাজার’-এর আমি , একই সমানুপাতে ১০ লাখ টাকার ১০% , মানে ১ লাখ টাকাতো দূরে থাক, ন্যূনতম ১% হিসাবে ১০ হাজার টাকার চিন্তাও করতে পারছি না !
বহুদিন আগে, এক নেপালি সহপাঠী বলেছিল , আদমি রহিস (ধনী) রুপিয়াসে নেহি হোতি ; দিল্ সে হোতি হ্যায় ! সহযোগিতার জন্য সঞ্চিত সম্পদের পরিমাণ নয় ; হৃদয়ের আয়তন এবং মানসিক যোগ্যতাই বড় ফ্যাক্টর !
[ প্রথম প্রকাশঃ ১০ই নভেম্বর, ২০১৫ ]
by Jahid | Nov 23, 2020 | ছিন্নপত্র
১। বছর দশেক আগে ( ২০০৫ সালে) ইউরোপের কোথাও এক প্যাকেট মার্লবোরো কিনেছি, দাম গায়ে লাগার মতো, প্রায় ৫ ইউরো ! সেই মহার্ঘ সিগারেট আবার দেখি ড্যাম্প ! মানে শুকনো তরতাজা না, টানছি কিন্তু মজা পাচ্ছি না। ধূমপায়ীদের কাছে ড্যাম্প সিগারেটের চেয়ে অসহ্য কিছু হতে পারে না।
নিজেকে বড্ডো বঞ্চিত ও প্রতারিত মনে হচ্ছিল। পশ্চিমাদের সমস্ত প্রোডাক্টে ম্যানুফ্যাকচারিং ও এক্সপাইরি ডেট অত্যাবশ্যকীয়। এপাশ-ওপাশ করেও প্যাকেটের গায়ে কিছুই পেলাম না ; ঠাট্টার ছলে সঙ্গে থাকা ক্রেতা-বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করলাম ,ব্যাপার কী ,ম্যানুফাকচারিং এক্সপাইরি ডেট নেই যে ! সে দারুণ একটা উত্তর দিল, ‘ শোন জাহিদ, সিগারেট, লিকার বা সকল-প্রকার মাদক যেহেতু বিষতূল্য, সেটার উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ আবশ্যকীয় নয় !’
তখন মেজাজ খারাপ করলেও , এখন বুঝি ঘটনা সত্য।
২। বড়ভাইয়া ধূমপায়ী ছিলেন। পাড়ার মোড়ের বাকীর খাতায় তাঁর নামে একপৃষ্ঠা, শেষের দিকে আমার নামে আরেক পৃষ্ঠা বরাদ্দ থাকতো । তারপরেও ক্রসফায়ার যাতে না হয়, দোকানীকে বলা ছিল, আমার পিতৃদত্ত নামের পরিবর্তে অন্য কোন নাম ব্যবহার করার!
৩। টেক্সটাইলের ফার্স্ট ইয়ার। ডাইনিং-এর পাশে ছোট্ট ক্যান্টিন। নাস্তা শেষে চা । ১৬তম ব্যাচের মুরব্বী এক ভাইও এক টেবিলে। কোন কলেজে ছিলাম, রেজাল্ট কী এইসব জিজ্ঞাসার মাঝে চা শেষ। আমি উশখুশ করছি, কখন ছাড়া পাবো ; উঠি উঠি করছি। উনি আমার অবস্থা বুঝতে পেরে বললেন, ‘জাহিদ সিগারেট খাইবা নাকি। খাও! এইখানে সমস্যা নাই। আরে মিয়া, তুমি আমারে দেইখ্যা সিগারেট লুকাইয়া সম্মান দেখাইলা; পরে পিছনে গিয়া গালি দিলা। তার চে, সামনা-সামনি সিগারেট খাও ! ‘সিগারেট লুকানো’ সম্মানের দরকার নাই!’
আমি হাঁফ ছেড়ে ভাবলাম, যাক ! জায়গামতো আসছি। আমাদের টেক্সটাইল কম্যুনিটিতে এই ব্যাপারটা এখনো আছে ; খুব মুরব্বী -ফার্স্ট থেকে ফিফথ ব্যাচের আগের কয়েকজনের সামনে ছাড়া আমাদের সিনিয়রদের সবার সঙ্গেই অনুমতি নিয়ে আমি ও আমরা ধূমপান করি ।পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বা সন্মানের এতোটুকু হানি ঘটেনি এখন পর্যন্ত !
৪। আব্বা আইনজীবী ছিলেন। কথার মার প্যাঁচতো কিছু জানতেনই। বড়ভাইয়া সিগারেট খান সেটা উনি জানতেন। কিন্তু আমার মতো ভালোছেলেও (!) ধূমপায়ী হতে পারে, কস্মিনকালেও তার কল্পনায় ছিল না ! তবুও কোন কারণে তাঁর সন্দেহ হয়েছিল। সর্বকনিষ্ঠ ভাইটি, আমার বছর আটেকের ছোট। নানা উপঢৌকন ও ভয়ভীতি ছিল আমার ধূমপানের ব্যাপারটা চেপে যাওয়ার জন্য। সেটা সে মেইন্টেইনও করতো।
তবুও আব্বার সাথে একদিন ওকে জেরা করার কথোপকথন ছিল অনেকটা এইরকম:
: সাজু (আমার অগ্রজ) কি সিগারেট খায়?
: জ্বী , মনে হয় খায়।
: জাহিদ খায়?
: না! মেজভাইয়া খায় না।
: সত্যি !
: হ্যাঁ, সত্যি মেজভাইয়া সিগারেট খায় না !
: আচ্ছা ! ওরা দুইজন কি একসাথে সিগারেট খায়?
: না, না, বড়ভাইয়া আলাদা খায়, মেজভাইয়া আলাদা খায় !
৫। ধূমপান ছেড়ে দেওয়ার প্রাণান্ত চেষ্টার একপর্যায়ে, ক্রস-আটলান্টিক এক ফ্লাইটে একটা প্রেরণামূলক বাক্য আমাকে মুগ্ধ ও কনভিন্স করলো। বাক্যটি অনেকটা এরকম ছিল “If you are able to avoid smoking in this long flight ; you will be able to avoid it for the rest of your life !
ধূমপায়ী ও অধূমপায়ী সকলকে শুভেচ্ছা।
[ প্রথম প্রকাশ ২৪শে অক্টোবর ২০১৫ ]
সাম্প্রতিক মন্তব্য