by Jahid | Nov 29, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
পৃথিবীর আর সব সাধারণ শ্রেণিবৈষম্যের মতই কর্পোরেট জগতেও ক্ষমতাবান, মধ্যবিত্ত-নিম্নমধ্যবিত্ত ও ক্ষমতাহীন শ্রেণি আছে। আমাদের তৃতীয় বিশ্বের সংস্কৃতি অনুযায়ী ক্ষমতাবানদের সীমিত কয়েকজন ক্ষমতার সঠিক ব্যবহার করেন এবং বেশির ভাগ ক্ষমতাবানেরা সুযোগ পেলেই অপব্যবহার করেন।
যে কোন কারণেই হোক না কেন, ক্ষমতাবানদের ব্যাপারে ক্ষমতাহীনদের একটা চিরস্থায়ী ঈর্ষা কাজ করে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, ঠিক যে যে কাজগুলো আপাত: দৃষ্টিতে তাদের কাছে দৃষ্টিকটু অসহনীয় মনে হচ্ছে ; কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া- আমি নিশ্চিত ক্ষমতা পেলে ক্ষমতাহীন ব্যক্তিটি ওই একই কাজগুলো অবলীলায় করবে! এটা একটা চক্রের মতো, ‘যে যায় লংকায় সেই হয় রাবণ ’- টাইপ আর কী!
ক্ষমতাহীনের সান্ত্বনার জায়গা হচ্ছে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করা বা অভিসম্পাত দেওয়া যাতে ক্ষমতাবানদের মধ্যে যারা অহংকারী , আস্ফালনকারী ছিল , তাঁরা খুব দ্রুত কোন একদিন যেন ক্ষমতাহীন হয়ে পড়ে। প্রার্থনা করে এবং তাঁদের জীবদ্দশায় সেটা দেখে যাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা পোষণ করে। আসলে এ ছাড়া ক্ষমতাহীনদের আর বেশী কিছু করারও থাকে না। ফিদেল ক্যাস্ট্রোকে ৬৩৮ বার হত্যা-প্রচেষ্টা করা হয়েছিল। তিনি ৫০ বছরে শাসনের শেষে ২০০৮ সালে অবসরে যান। পরবর্তীতে ৯০ বছর বয়সে গত ১৬ সালের নভেম্বরে বার্ধক্যজনিত কারণে স্বাভাবিক মৃত্যু।
ক্ষমতাহীনের প্রার্থনা ও আকাঙ্ক্ষা দেখে আমার শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বহুল পঠিত ও আলোচিত ‘দেবদাস’ উপন্যাসের কথা মনে পড়ে। উপন্যাসে ট্র্যাজেডির নায়ক দেবদাস। প্রধান নায়িকা একদিকে পার্বতী অন্যদিকে চন্দ্রমুখী । আমার দৃষ্টির প্রক্ষেপণ এঁদের মধ্যে প্রেমের ক্ষমতা কার বেশী ছিল সেই দিকে নয়। সেটা বহুবার কলেজ ,বিশ্ববিদ্যালয় ও নানা ভাষার সিনেমার পর্দায় প্রস্ফুটিত হয়েছে। আমি বরং আমার পাঠককে কর্পোরেট দুনিয়ার ক্ষমতাহীনের আকাঙ্ক্ষা ও তার পরিণতি নিয়ে কিছু কথা বলি।
বিচ্ছেদের সময়ে পার্বতী দেবদাসকে বলেছিল, তাঁকে ছাড়া সে বাঁচবে না। পার্বতী ও চন্দ্রমুখীর ত্রিভুজ প্রেমে ত্রিশঙ্কু হয়ে বেচারা দেবদাসের মর্মন্তুদ মৃত্যু হয়। তাঁর অকালমৃত্যুর জন্য দায়ী তাঁর স্বেচ্ছাচারিতা আর অতিরিক্ত মদ্যপান। আর হ্যাঁ , পার্বতীও বাঁচেনি ! সম্ভবত: পার্বতী মারা গিয়েছিল, আশি বছরের অশীতিপর বৃদ্ধা হয়ে, গুচ্ছের সন্তানাদি ও নাতি নাতনি রেখে !
কি মনে করে, বহুদিন পরে উপন্যাসটাও একটু নেড়ে চেড়ে দেখলাম। উপন্যাসের শেষে শরৎচন্দ্রের কয়েক লাইন পাঠককে স্তব্ধ করে দেয়ঃ
“এখন এতদিনে পার্বতীর কি হইয়াছে, কেমন আছে জানি না। সংবাদ লইতেও ইচ্ছা করে না। শুধু দেবদাসের জন্য বড় কষ্ট হয়। তোমরা যে-কেহ এ কাহিনী পড়িবে, হয়ত আমাদেরই মত দুঃখ পাইবে। তবু যদি কখনও দেবদাসের মত এমন হতভাগ্য, অসংযমী পাপিষ্ঠের সহিত পরিচয় ঘটে, তাহার জন্য একটু প্রার্থনা করিও। প্রার্থনা করিও, আর যাহাই হোক, যেন তাহার মত এমন করিয়া কাহারও মৃত্যু না ঘটে। মরণে ক্ষতি নাই, কিন্তু সে সময়ে যেন একটি স্নেহকরস্পর্শ তাহার ললাটে পৌঁছে-যেন একটিও করুণার্দ্র স্নেহময় মুখ দেখিতে দেখিতে এ জীবনের অন্ত হয়। মরিবার সময় যেন কাহারও একফোঁটা চোখের জল দেখিয়া সে মরিতে পারে।”
পাঠকের মনোবাসনা পূর্ণ হতো যদি, দেবদাসের সঙ্গে সঙ্গে বা কাছাকাছি সময়ে পার্বতীরও মৃত্যু হোত।
সেটা আসলে হয় না। হয় না বলেই শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দেবদাস এতো জনপ্রিয়। পার্বতীর সমস্ত জীবনের রঙ রূপ রস ভোগ করে বৃদ্ধা হয়ে মৃত্যুর মধ্যে মহিমা নেই ; নেই সাধারণ পাঠকের বা জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
আমাদের কর্পোরেট পৃথিবীতে ক্ষমতাধর কেউ কেউ থাকেন। তাঁদের ক্ষমতা , বৈধ-অবৈধ বিপুল সম্পত্তির প্রাচুর্য নিয়ে অনেকের ঈর্ষা আর কানাঘুষা থাকে। তাঁদেরকে ক্ষমতাহীনরা পছন্দ করেন না সঙ্গতঃ কারণে। আকাঙ্ক্ষা করেন, প্রার্থনা করেন তাঁদের সাম্রাজ্যের পতন হোক, তাঁদের আস্ফালনের সমাপ্তি ঘটুক।
হ্যাঁ, ঘটে ! তাঁদের সাম্রাজ্যেরও পতন ঘটে ! তাঁদেরও বয়স হয়, ক্ষমতা কমে যায়। কিন্তু সেই দীর্ঘ মেয়াদ শেষে ক্ষমতার পটপরিবর্তনে সান্ত্বনা পাওয়ার কিছু থাকে না
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র, লাইফ স্টাইল
পিকনিক ১৯৮১ স্টাইলঃ
ক্লাস টুতে পড়ি , জীবনের প্রথম পিকনিক। ক্লাস টিচার বললেন, ‘কাল সকালে ৮:০০ টায় ভাওয়াল ন্যাশনাল পার্কে পিকনিক। বাসা থেকে প্লেট আর গ্লাস নিয়া আসবা!’ ওক্কে ! স্কুল ড্রেস দুইবার করে ইস্তিরি করি। সাদা কেড্সে চক মারি। সারারাত এপাশ ওপাশ, মিস যেন না হয় !
আম্মা অনেক চিন্তা ভাবনা করে ভঙ্গুর চীনামাটির জায়গায় ষ্টীলের গ্লাস-প্লেট দিলেন। পলিথিন ব্যাগে গ্লাস-প্লেট নিয়া স্কুলের বাসের কাছে হাজির। ন্যাশনাল পার্ক। হতাশ ! কিছু শাল গাছ, কয়েকটা ডোবা টাইপ পুকুর, মাঝে মাঝে ক্ষত চিহ্নের মতো ন্যাড়া ধানক্ষেত ! দুই তিন বন্ধু মিলে অবশেষে একটা বড়ই গাছ আবিষ্কার করি , কাঁচা বড়ই খেয়ে মুখ কষা ! পরের বছরগুলোতে ঘুরেফিরে ওই একই জায়গায় কয়েকবার। নিজের গ্লাস-প্লেট নিয়ে গেছি একবারই। প্রতিবার সন্ধ্যায় ফেরার পথে মুক্ত স্বাধীন চিৎকার । বাসের উপরে মাইকে বাজে—‘পৃথিবী আমারে চায়, রেখোনা বেঁধে আমায় —।’
চাকরিক্ষেত্রে দেখা গেল, আমাদের টেক্সটাইল মিল কল-কারখানা সব ওই দিকে এবং সপ্তাহে ৩/৪ দিন যেতে হয় ন্যাশনাল পার্কের ধারপাশ দিয়ে । শালবন দেখি, হঠাৎ হঠাৎ পুরানা স্মৃতি ভেসে ওঠে মনে। প্রথম পিকনিক , প্রথম প্রেমের মতোই ভুলিনি । নিজের গ্লাস প্লেট নেওয়ার ব্যাপারটা এখনো বুঝি নাই। এমন না যে, ওই সময়ে ডেকোরেটর ছিল না। হয়তো, খরচ কমানোর জন্য সবাইকে বাসা থেকে গ্লাস-প্লেট আনতে বলেছিলেন। বড় হওয়ার পরে সেই ক্লাস টিচারের সাথে আর দেখা হয় নাই, হলে জিজ্ঞেস করতাম।
পিকনিক ২০১৩ স্টাইলঃ
মেয়ের স্কুল পিকনিক। টু মিনিট ইনস্ট্যান্ট নুডল্সের মতো সব প্রিপ্যাকড । স্থান সেই ভাওয়ালের আশে পাশের একটা স্পট। দুই মেয়েকে নিয়ে বউয়ের চারদিন আগের থেকে প্রিপারেশন। ম্যাচিং ড্রেস, কয়েকটা ব্যাগ, ক্যামেরা, হাল্কা খাবার, পানি , কী নাই !
সাজানো গোছানো দেয়াল ঘেরা বদ্ধ পিকনিক স্পট। গাড়ীতেই নাস্তা। নামার সঙ্গে সঙ্গে চেয়ার পাতা, ছায়া ঘেরা বাগান। ফুটফুটে বাচ্চারা দৌড়াদৌড়ি করছে। ঠিক দুপুর একটায় প্যাকেট খাবার, পানি, কোল্ড ড্রিঙ্কস মায় টিস্যু পর্যন্ত। বিকালে পিঠা –চা। আর আমার বিনোদন ? পিচ্চি গুলার সাথে একান্ত কিছু সময় , আর অন্য বাচ্চাদের মায়েদের দিকে ইতি উতি তাকানো, হা হা হা !
ধুর ! এইটা কোন পিকনিক হইলো !
পাদটীকা:
এই ফেব্রুয়ারিতে বছর চারেক পরে কন্যাদের পিকনিক হয়েছে ‘ফ্যান্টাসি কিংডম’-এ। কারো সঙ্গে কারো কথা বার্তা নেই। যার যার বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে রাইডগুলোতে উঠছে। টিকেট দিয়ে খাবার নিচ্ছে। যেটুকু কথাবার্তা বাসে যেতে যেতে। আরো বছর চারেক পরে কি পিকনিকের কি অবস্থা দাঁড়ায় সেটার জন্য অপেক্ষা।
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি,২০১৩
by Jahid | Nov 29, 2020 | ছিন্নপত্র
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার আর আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্যার , দুইজনই ছিলেন ঢাকা কলেজে আমাদের শিক্ষক।
সায়ীদ স্যার যতখানি হাস্যোজ্জ্বল, জনপ্রিয়, মিডিয়া-খ্যাত ; ইলিয়াস স্যার ছিলেন ঠিক ততখানিই অন্তর্মুখী , বিষণ্ণ , একা। শুনেছিলাম উনি চিলেকোঠার সেপাই এর লেখক। কী যেন পুরস্কারও পেয়েছেন ।
সাদা কালো চুলে, মোটা ফ্রেমের চশমা, একটু ধীরে ডান পা টেনে হাঁটতেন , মনে আছে !
স্মৃতি থেকে লিখছি ! সতীর্থ কারো মনে পড়বে হয়তো —শুনেছিলাম তাঁর ক্যান্সার ধরা পড়েছিল সেই সময়েই । উনি আমাদের উচ্চ মাধ্যমিকে ‘ সমুদ্রের প্রতি রাবণ’ পড়িয়েছিলেন। বড়জোর তিন চারটা ক্লাস করেছিলাম। একটা মাইকেলীয় শব্দ লিখে বলেছিলেন– ‘প্রতিটি কাব্যে প্রকাশ হওয়ার পর ডিকশনারির লোকজন এসে নাকি বলতেন, ‘এই শব্দটা তো বাংলা শব্দকোষে নাই।’ মাইকেলের নাকি উত্তর হতো, ‘এখন থেকে থাকবে ! ‘ এই একটা কথা দিয়ে মাইকেলের স্পর্ধিত চেহারাটা ফুটিয়ে তুলতেন তিনি ।
৯০ই এর উত্তাল দিন !আমরা তখন নাসিম বানু ম্যাডাম , আজাদ স্যারের বাড়ি বাড়ি টিউশনিতে দৌড়াই। আখতারুজ্জামান ইলিয়াস স্যার যে কতো বড়ো মাপের লেখক ছিলেন , মানুষ ছিলেন ; অতো কাছ থেকে দেখেও তা বোঝার মতো সামর্থ্য সেই নাবালক বয়সে যেমন ছিলনা , এখনও নেই !
প্রকাশকালঃ ফেব্রুয়ারি,২০১৩
by Jahid | Nov 29, 2020 | সমাজ ও রাজনীতি
প্রথমটি বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের অগ্রজ ছড়াকার, শিশুসাহিত্যিক আমীরুল ইসলাম ভাইয়ের কাছে শোনা বছর তিরিশেক আগে।এর অনেকগুলো ভার্সন আছে। পেয়ারার জায়গায় ডিম, মাছ — বন্ধুর জায়গায় দুই ভাই , ইত্যাদি ইত্যাদি। উপাদানের পরিবর্তনে সমীকরণের মৌলিক কোন তফাৎ হয় না !
দুই ঢাকাইয়া হরিহর আত্মার দোস্ত, পল্টু আর বল্টু। দু’জনে সর্বদা সর্বত্র একসঙ্গে ওঠা-বসা-খাওয়াদাওয়া করে।
একদিন পল্টু একটা পেয়ারা নিয়ে এসে
বলল: দোস্ত এই ল সপরিআমটা ভাগ কর, দুইজন মিল্যা খাই।
বল্টু পেয়ারাটা হাতে নিয়ে ভাগ করে নিজে অর্ধেক রেখে, অর্ধেকটা পল্টুকে বাড়িয়ে
দিলো: এই লে দোস্ত , খা ।
পল্টু পেয়ারার টুকরোখানি হাতে নিয়ে অভিমানের সুরে বলল: দোস্ত, তোর কুনু ইনসাফ নাইক্যা …… ।
বল্টু বলল: ক্যালা দোস্ত, এই কথা কইলি ক্যান ?
পল্টু বলল: এই যে তুই আমটা ভাগ করলি, কমটা আমারে দিলি আর বেশিটা তুই নিলি ।
বল্টু বলল: আচ্ছা দোস্ত, তুই অইলে কি করতি ?
পল্টু বলল: ক্যান আমি কমটা লিতাম, তোরেই বেশিটি দিতাম।
বল্টু বলল: তাইতো করলাম, তয় এতো কথা কচ ক্যান্ ? খা বয়া বয়া !
ধোপার গাধার গপ্পো কবে, কখন , কার কাছে শুনেছিলাম মনে নেই। গল্পে কতো কিছুই তো হয়। “শিলা জলে ভাসি যায় বানরে সঙ্গীত গায় দেখিলেও না হয় প্রত্যয়॥” এই গল্পে গাধাও কথা বলে ; বিচার বিবেচনা আছে আর কী !
বহু বহুযুগ আগের কথা। এই বাংলার কোন এক গ্রামে ধোপা আছে, আছে তার গাধা।
ধোপা সারা গ্রামের কাপড় গাধাকে দিয়ে নদীর ঘাটে নেয়, কাচে শুকায়। নিজে ভাল খায়, কিন্তু গাধাটিকে কম খেতে দেয়। এদিক সেদিক করলে পিঠের উপর দুয়েক ঘা পড়ে।
তো, সেই গ্রামে একবার ডাকাত পড়ল। আর সবার মতো যৎসামান্য যা কিছু আছে তা নিয়ে নিয়ে ধোপা গাধার পিঠে করে পালাচ্ছে।
হাফাতে হাফাতে ক্লান্ত , পরিশ্রান্ত গাধা এক পর্যায়ে জিজ্ঞেস করল: মালিক আমরা দৌড়চ্ছি কেন ?
ধোপা: দৌড়াচ্ছি, কারণ ডাকাত পড়েছে, এরা আমাদের সবকিছু কেড়ে নেবে।
গাধা: আমার কি হবে?
ধোপা: তোকেও ওরা ধরে নিয়ে যাবে।
গাধা: তারপর?
ধোপা: তারপর তোকে দিয়ে সব ভারী ভারী কাজ করাবে। কাপড় কাচার জন্য ব্যবহার করবে। কম কম খেতে দেবে। এদিক সেদিক করলে পিঠের উপর দেবে কয়েক ঘা।
হাফাতে হাফাতে গাধা এক পর্যায়ে ব্রেক কষে বসল।
ধোপা: কি হলো রে , থামলি কেন ?
গাধা: আপনি ডাকাতের হাত থেকে বাঁচার জন্য পালাচ্ছেন পালান, আমি পালাব না।
আপনি এখন আমাকে দিয়ে যা যা করাচ্ছেন, ডাকাতের হাতে পড়লে তো সেই একই দুরবস্থা, আমার কাছে দুইই সমান !
প্রকাশকালঃ ২রা ফেব্রুয়ারি,২০২০
by Jahid | Nov 29, 2020 | দর্শন
একেক সময় একেক দর্শনে প্রভাবিত বা আক্রান্ত হয়েছি। একটা সময় গেছে সারারাত এটা ভেবে যে , পৃথিবীতে আমার মতো একটা অপদার্থের আদৌ কি প্রয়োজন ! “এই জীবন লইয়া আমি কি করিব?” টাইপ বঙ্কিমীয় চিন্তা!
একটা সময় গেছে , বিস্মিত হওয়ার ; একটা সময় গেছে, কবিতা পড়ার, কবিতা লেখার চেষ্টায়(!!!) । শিল্প সাহিত্য ছাড়া কেমন করে চলবে? আশে পাশে শিশ্নোদরপরায়ণ স্থূল সারিবদ্ধ প্রাণীদের থেকে নিজেকে একটু ব্যতিক্রম দেখতে চাওয়ার অপচেষ্টায় !!!
একটা সময় গেল প্রেমে পড়ার। পিছন ফিরে কোন মেয়ে একবার তাকালেও সারারাত তার চিন্তায় কেটে যায় !
একটা সময় গেল, নানারকম বই পড়ে। কৈশোরোত্তীর্ন প্রবল আবেগে যখন ভেসে যাচ্ছি, কোন এক উপন্যসে পড়লাম জীবনের সমাধান — “দুঃখেষু অনুদ্বিগ্নমনা , সুখেষু বীতস্পৃহ ।” সকল দুঃখে অনুদ্বিগ্ন থাকো, সুখের আশা করিস নারে পাগল ! ভাবলাম ,হ্যাঁ হ্যাঁ –এইটাই! এইটাই তো জীবনের দর্শন হওয়া উচিৎ ।
তাহলে এতো দুঃখ বেদনা আমাকে পীড়া দেবে না, সুখে আমি বীতস্পৃহ থাকবো। মহাজাগতিক ব্যাপার -স্যাপার আর কি !
কঠোর বাস্তবতার ধাক্কায় এক সময় বিস্ময় বোধ এমন কমে গেলো; নিজেকে নিজে বললাম ,যদি হঠাৎ কোন এক সকালে দেখি একটা পা ছাড়া আমি বিছানায় শুয়ে — মোটেও অবাক হবো না ! যাহ বাপ! একদিন দেখি, সত্যি সত্যি পা ভেঙ্গে বিছানায়। তিন চার মাস গেল হাসপাতাল আর ডাক্তার নিয়ে ।শেষ চিকিৎসা আশাবাদী হওয়ার ! নানারকম “ডেল কার্নেগী” পড়ে হুলুস্থুল !
একটা সময় গেল, ক্যারিয়ার নিয়ে বিভ্রান্তিতে।
কেটে যাচ্ছে এই জীবনটা , নানা দর্শনের দোলাচলে !
প্রকাশকালঃ জানুয়ারি,২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য