মেক্সিকান ডায়েট

এক মহিলা ক্রেতার সঙ্গে সারাদিন এই অফিস সেই অফিস করতেছি । গাড়ী চালাতে চালাতেই সকাল থেকে সে ঘণ্টা খানেক পরে একবার একটা আপেল খায়, আবার কয়েকটা বাদাম খায় , একটা দই খায়। জিগাইলাম , ‘সকালের নাস্তা করো নাই, ঘনঘন খাচ্ছো, কাহিনী কি? সে যা বললো, ডাক্তারের ডায়েট মতো চলে , গত তিন সপ্তাহে তার তিন কেজি ওজন কমছে। ঘনঘন খাচ্ছে কিন্তু কমকম খাচ্ছে।
কাজ করতে করতে বেলা দুইটা। এক ট্র্যাডিশনাল মেক্সিকান রেস্তোরায় যেয়ে খাবার খেতে খেতে বেলা আড়াইটা। আমিতো ক্ষুধায় মরি। সুস্বাদু সব খাওয়া আসার পরে সেই ডায়েট করা ক্রেতা যেমনে হাপুস হুপুস করে খাওয়া শুরু করলো, তাঁর সারাদিনের ডায়েটের কথা চিন্তা করে আমি হাসি থামাইতে পারি না। খাওয়া দাওয়া শেষে টেবিল থেকে উঠতে মন চায় না। হেভীওয়েট খাওয়া ও তারপরে আছে টাইমজোনের কারণে ভ্রমণক্লান্তি। মনে হচ্ছিল কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে নিই।

আড়মোড়া ভেঙ্গে গাড়ী চালিয়ে অফিসের দিকে আসতে আসতে সে বললো, যদি একটা আলাদীনের জিনি পাওয়া যেতো, তাইলে একটা বর চেয়ে নিতাম। খাবো কিন্তু মোটা হবো না।

ওজন নিয়ে এই বিব্রত অবস্থা দেখি সব জায়গায় আছে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

আমেরিকা ভ্রমণ

কাউন্টারের আমেরিকান ভদ্রমহিলা আমার পাসপোর্ট নিয়ে অনেকক্ষণ বোর্ডিং পাশ বের করার চেষ্টা করে ব্যর্থ ! ফোন দিলেন অন্য কোথাও, ওপাশ থেকে কেউ আধাঘণ্টা ধরে একেকটা প্রশ্ন করে আর মহিলা আমাকে সেটা জিজ্ঞাস করেন, আমার আম্রিকান ড্রাইভিং লাইসেন্স ছিলো কিনা ? থাকলে কোথাও কোন দুর্ঘটনা আছে কিনা। অথবা আগে আমি আমার বাংলাদেশের ড্রাইভিং লাইসেন্স দিয়ে আম্রিকায় গাড়ী চালিয়েছি কিনা ?

বুঝলাম আমেরিকার কোন এক চিপায়, কোন এক জাহিদে কোন এক সুদূরকালে কী এক কাহিনী করছে , সেইটা এখন দাঁড়াইয়া দাঁড়াইয়া আমারে জবাবদিহি করতে হচ্ছে।

এতো সিকিউরিটি দিয়ে এরা কি যে ফেলতে পারছে কে জানে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

 

নিয়ান্ডারথাল আদিম বুনো মানুষ

হঠাৎ হঠাৎ আদিম বুনো চেহারার কিছু লোকের দেখা পাই আমি।
ক্যামন ? ঠিক যেমনটি, ক্লাস সিক্স সেভেনের সমাজবিজ্ঞান বইয়ে দেখতাম।
আর ইদানীং দেখি ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে।

দাঁড়ি গোঁফের আড়ালে বা ক্লিনশেভের আড়ালে বন্য চোয়াড়ে চেহারাটা ঠিকই বোঝা যায়। মনে হয় আদিম কোন মানুষ জামাকাপড় টাইম মেশিনে করে চলে এসেছে এই সময়ে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩

মূদ্রার অপর পিঠ, বৈপিরিত্য

হাসিখুশি চরিত্রের বা একটু হৈহৈ-রৈরৈ বলে সর্বশ্রেণীর বড়ভাইদের কাছে আমার গ্রহণযোগ্যতা, অবাধ যাতায়াত বা প্রশ্রয় আছে ! এবং আমি সেটা উপভোগও করি। কিছুদিন আগে আমার ট্রেডের কয়েকজন শ্রদ্ধাভাজন বড়ভাইদের সাথে দেখা হলো একটা পারিবারিক ডিনারে। যথারীতি উত্তরা থেকে মিরপুরে এসে আবার উত্তরাতে বউকে নিয়ে যাওয়ার সুবিখ্যাত আলস্যে দাওয়াতে আমি একা। ভাবীদের সাথে এক বড়ভাই পরিচয় করিতে দিয়ে বললেন ‘ এরে চিনছো? এইটাই জাহিদ ! ওই যে ফেসবুকে লেখালেখি করে।’

সে খাইতে খাইতে আরো বললো, আমার লেখা তাঁরা পড়েন কারণ , তাঁদের মুদ্রার অপর পিঠটাও দেখা দরকার। কেন দরকার জানিনা, মনে হলো- সারাক্ষণ নানা ইসলামী অনুশাসন ও চিন্তার মাঝখানে,আমার কিছু পোস্টে হয়তো একটু খোলা-হাওয়া পান! নাকি অনৈসলামিক চিন্তাকারী কাউকে দেখে করুণা অনুভব করেন , কে জানে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০২৩

উঁকি দেওয়া অনুভূতি

মাথার মধ্যে হঠাৎ হঠাৎ উঁকি দিয়ে যায় অনুভূতিগুলো ! ঠিক যেনো, কবিতার একটা লাইনের মতো, ভ্যাপসা গরমে হঠাৎ শীতল বাতাসের মতো! তারপর ,তারপর নিষ্কৃতিহীন নিরেট কাজের চাপে ওই সুন্দর অনুভূতি আর কবিতার লাইনটা কোথায় যে উবে যায় ! তারে যায় না ছোঁয়া আরেকবার !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩