দুই টাকা কেজি মূলা ; আঠারো -বিশ টাকায় মাঝারি সাইজের ইলিশ। বাসায় হঠাৎ মেহমান, কিন্তু আম্মার কাছে নগদ টাকা নাই।
পাড়ার দোকানের আবার বাকীর ব্যাপারে অলিখিত একটা সার্কিট ব্রেকার ছিল। পাঁচশ টাকার উপরে হলে নতুন বাকী বন্ধ। মহল্লাবাসী ঘনিষ্ঠ খালাম্মাদের আগের মাসের ধার শোধ করা হয়নি। আম্মা একটু দূরে কম পরিচিত খালাম্মার বাসায় পাঠালেন। ‘আম্মা একশ টাকা ধার চেয়ে পাঠিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দিয়ে দেবে।’
বাসার গেটে মাথা নিচু করে পা দিয়ে মাটি খুঁটতে খুঁটতে অসীম অপেক্ষা। টাকা ধার চাওয়া যে একটা অসম্মানের ব্যাপার , ওই ছোট্ট বয়েসেও আমি বুঝতাম। মাঝে মাঝে ওই মিশনেও ব্যর্থ। আর , আব্বা আছেন আব্বার মতো। সকালের নাস্তা , রাতের রুটি-তরকারী কোথা থেকে আসবে, সেইটা তো আম্মার দায়িত্ব। রাশভারী বড়মামা ঢাকা আসলেই আম্মা পাকোয়ান ভাজা পরোটা দিয়ে আপ্যায়ন করতেন। উনিও ভালোমন্দ খেতে পছন্দ করতেন। দেশের কেউ আসলে, আম্মা যথাসাধ্য আপ্যায়ন করতেন, আমরা অভাবে আছি বুঝতে দিতে চাইতেন না।
মাঝে মাঝে উপায়ন্তর না দেখে পুরানো খাতা,পেপার, ডানোর ডিব্বা ভাঙারীর দোকানে দেড়-দুই টাকা কেজিতে বিক্রি ; অতঃপর মেহমান ম্যানেজ।
এই যে , নিম্ন মধ্যবিত্তের টানাপড়েন আর প্রাত্যহিক সংগ্রাম—আমার দুই কন্যা কি কখনো বুঝবে ? নাকি, আমি ওদের কখনো বুঝতে দিতে চাই !
আমার ভালোবাসার কন্যারা তোমরা হয়তো অন্যরকম অন্যকোন টানাপড়েনে পার করবে জীবনের অন্যকোন অংশ ; আপাতত: সাইকেল বা ভিডিও গেমের অপর্যাপ্ততা নিয়ে আমার সাথে অনুরাগ দেখাতে থাকো !
প্রকাশকালঃ মার্চ, ২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য