আমার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি গত বছর দুয়েক ধরে তাবলীগে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে। তাঁর নানামুখী কর্মকাণ্ডে আমি অবাক, কাছের একজনের এতো আকস্মিক পরিবর্তন মেনে নেয়া মুশকিল। তাঁর ও তাঁর পরিবারের কী কী পরিবর্তন হতে পারে, সেই বিতং এ না যাই। দাড়ি রাখা ও কঠিন পর্দাপ্রথা ছাড়াও একটা পরিবারকে পুরোপুরি ইসলামী অনুশাসনে নিয়ে আসা চাট্টিখানি কথা নয়। মাঝে ওরে ফোন দিতেও ভয় হইতো। ফোনে মিনিট চল্লিশেক নানা হাদিসের বয়ান দিয়ে সুপথে আসার নির্দেশ।

আমাদের অনেক বন্ধুকেই ছাত্রাবস্থা থেকে তাবলীগের সাথে জড়িত দেখেছি। আরেক বন্ধু , যাকে সেই ছাত্রজীবন থেকেই তাবলীগে জড়িত দেখেছি, হেরে জিগাইলাম , ‘ মামা কাহিনী কি? তোমারে তো দেখি আজ বছর কুড়ি ধরে, তোমার এইরকম আগ্রাসী তাবলীগি ভাবতো দেখি নাই। তুমি-তো সব ব্যাল্যান্স করে চলছো। ও যেটা বললো, ‘আসলে আমরাতো ছোটবেলা থেকেই ধর্মীয় অনুশাসনের মধ্যে বড় হয়েছি। কিন্তু ও( আমার নতুন তাবলীগ বন্ধু) সেটা পায় নি। এখন ওর উপর “আছরটা” একটু বেশী পড়ছে।অন্তত আমার কাছে ঘটনা পরিষ্কার হলো।

আমি কোন দুই বন্ধুর কথা বলছি আমার কাছের জনেরা( টেক্সটাইল সার্কেলের) সেটা টের পাবেন নিশ্চয়।
উল্লেখ্য, আমার খুব ঘনিষ্ঠ এই দুইবন্ধুর কেউ ফেসবুকে নাই।

আম্মা ক্যালেন্ডারের জুন মাসের ছবিটা দেখিয়ে বললেন উনি সুফিয়া কামাল কিনা ?
আমি বললাম না, ওটা নুরজাহান বেগমের ; ‘বেগম’ পত্রিকার সম্পাদিকার । এই বছরের ক্যালেন্ডারে বারোজন মহীয়সী নারীকে তুলে ধরেছেন এই ব্যাংক এশিয়া । বেগম রোকেয়া থেকে— প্রথম মুসলিম মহিলা ডাক্তার জোহরা বেগম কাজী , ইলা মিত্র, সুফিয়া কামাল, ফিরোজা বেগম, রাণী হামিদ, তারামন বিবি, নভেরা আহমেদ, জোবেরা রহমান লিনু, আইরিন জুবাইদা খান, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার । এঁরা দেশ ও দশের উপকারে এসেছেন, খ্যাতি বয়ে এনেছেন , মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, এঁরা নমস্য।

সবার প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই বলছি, অচলায়তন ভেঙ্গে বের হওয়া একজন ডাক্তার জোহরা বেগম কাজীকে
হাজারো উচ্চশিক্ষিত ঘরে বসে থাকা মহিলার চেয়ে সমাজের জন্য বেশী প্রয়োজনীয় মনে করি। জগতে এঁরা জগত আলো করে থাকুন। আমি শুধু এই আকাঙ্ক্ষাই করতে পারি , আমার দুই কন্যা যেন এঁদের মতো কেউ হয়ে উঠতে পারে !

প্রথম প্রকাশঃ ২৫শে জুন,২০১৩