by Jahid | Nov 26, 2020 | সমাজ ও রাজনীতি
শরৎ বাবু তাঁর ‘ শ্রীকান্ত ‘ উপন্যাসে বলেছেন , “বড় প্রেম শুধু কাছেই টানে না, দূরেও ঠেলিয়া দেয়।”
প্রেম আছে বলেই, কাছে দূরের হিসাব করতে সাহস করি। তবুও হে পাঠক/পাঠিকা ! কৌতুককে ‘কৌতুক’ হিসাবে দেখতে সনির্বন্ধ অনুরোধ করব ; নচেৎ ৫৭ ধারার মামলা কে খেতে চায় বলুন!
মূল কৌতুক:
বারে বইসা বাঙ্গালের সাথে এক স্কটিশের দেখা হইল। হাই হেল্লোর পর বাঙ্গাল স্কটিশকে কে বললো – তোমরা এত গাধা কেন?
স্কটিশ বললো- কেন?
বাঙ্গাল বললো – গাধা না হইলে কেউ গণভোটে স্বাধীনতা প্রত্যাখ্যান করে?
স্কটিশ বাঙ্গালের কথা শুইন্যা আক্কেলগুড়ুম হইয়া বইসা থাকলো!
সেই বারে কিছুক্ষণ পর যোগ দিল এক ব্রিটিশ। কিছুক্ষণ হাই হেল্লোর পর বাঙ্গাল সেই ব্রিটিশকে বললো- ঐ মিঞা ব্রিটিশ! তোমরা এত ছাগল ক্যান?
ব্রিটিশ মুখচোখ লাল কইরা বললো- ক্যান?
বাঙ্গাল বললো- ছাগল না হইলে কেউ ভোটে ব্রেক্সিট অনুমোদন করে?
কথা শুইন্যা ব্রিটিশেরও আক্কেল গুড়ুম!
আরও কিছুক্ষণ পর আসলো এক আমেরিকান l কিছুক্ষণ হাই হেল্লোর পর বাঙ্গাল আমেরিকানকে বললো – ইয়ো ! তোমরা এত পাগল ক্যান?
আমেরিকান চোখমুখ খিঁচায়া বললো- ক্যান?
বাঙ্গাল বললো – পাগল না হইলে কেউ ট্রাম্পরে ভোট দিয়া প্রেসিডেন্ট বানায়? আমেরিকানেরও আক্কেলগুড়ুম অবস্থা!
স্কটিশ-ব্রিটিশ-আমেরিকান ভাবলো, আরি শালা , বাংলাদেশে না জানি কি অবস্থা! ঐখানের লোকজন নিশ্চয়ই অনেক স্মার্ট! ভয়ে ডরে তিনজনে মিল্যা বাঙ্গালরে জিগাইলো – আমরা গাধা/পাগল/ছাগল বুঝলাম! তোমাদের ঐখানে কি অবস্থা ? তোমরা ভোট দিয়া কি পরিবর্তন করছো?
বাঙ্গাল দাঁত ক্যালাইয়া বললো -আমরা বিজি জাতি, তাই আমাদের ভোট দিয়া টাইম নষ্ট করার মত টাইম নাই!
লোকজন আটোমেটিক বিনাভোটে জিত্যা যায়! যারা বিনা ভোটে জেতে না, তারা আমাদের খাটুনি কমানোর জন্য এবং সময় বাঁচানোর জন্য আমাদের ভোটটা নিজ দায়িত্বে মাইরা দেয়…. এরপর যদি আমরা ভোট দেয়ার মত সময় ও সুযোগ পাই, তখন আমরা লাক্স চ্যানেল আই প্রতিযোগিতায় সুন্দরীদের ভোট দেই…. !
[ প্রকাশকালঃ ৪ঠা নভেম্বর,২০১৬ ]
by Jahid | Nov 26, 2020 | সমাজ ও রাজনীতি
গতকাল সারাটা দিন গেছে আমেরিকান গণতন্ত্র নিয়ে কূট-ক্যাচালে। ভেবেছিলাম আজ ক্ষান্তি দিই। কিন্তু আমার নিজস্ব পর্যবেক্ষণের সাথে কেউ একমত হোক বা না হোক, বলতে অসুবিধা কি !
১৭৬০ সাল থেকে শুরু করে আজ ২০১৬ সাল ২৫৬ বছরে গণতান্ত্রিক পথ পেরিয়েছে আমেরিকানরা।পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম ও সর্বপ্রাচীন গণতন্ত্রের ধারক, বাহক ও প্রচারক যুক্তরাষ্ট্র। সেই তুলনায় গণতন্ত্রের পথে আমরা ভ্রূণের অবস্থানেও নিজেদেরকে বিবেচনা করতে পারি না ! পারি কি ?
মেনে নিচ্ছি, এখন পর্যন্ত সবচেয়ে টেকসই রাষ্ট্র পরিচালনার পদ্ধতি হচ্ছে গণতন্ত্র। সমাজতন্ত্রে স্বৈরাচার তৈরি হয়ে যায় দ্রুত।সেটা আমরা অনেকবার দেখেছি। অ্যারিস্টটল-এর পছন্দ ছিল অ্যারিস্টোক্র্যাটিক অটোক্র্যাসি। রাষ্ট্র পরিচালক যদি হন দেশপ্রেমিক ও শিক্ষিত, তাহলে তাঁকে দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ মঙ্গল আনয়ন সম্ভব।
আমি জানি ,অনেকেই আমাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে বসতে পারেন ! অথবা আমার উচ্চম্মন্যতা আছে বলে তাচ্ছিল্য করতে পারেন। তবুও বলি– আমি থাকি মিরপুরের অবাঙালী বিহারী অধ্যুষিত মিরপুরে। ভোটের সময়ে আমার বাসার সামনের বিশাল বস্তির ড্রাগ অ্যাডিক্ট উচ্ছন্নে যাওয়া রাস্তার মাস্তান আর আমার ভোটের দাম কিন্তু একই। আমি সুবিধাবঞ্চিত নই, আমি সুবিধাবাদী মধ্যবিত্ত—নানাভাবে আমাকে হেনস্তা করতে পারেন। কিন্তু, একজন শিক্ষিত সচেতন লোকের ভোট আর মাদকসেবীর ভোটের মূল্য কিন্তু গণতন্ত্রে একই।
গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় সীমাবদ্ধতার দুঃখজনক পরিণতি একটা উদাহরণ দিয়ে বছর বিশেক আগে এক মুরব্বী ব্যাখ্যা করেছিলেন। ধরেন, একটি রাষ্ট্রে মোট ভোটার সংখ্যা ১০০ জন। দুই জন অযোগ্য প্রার্থীর মধ্যে একজন কুদ্দুস ভোট পেলেন ৪০টি , আরেকজন কম অযোগ্য মফিজ পেলেন ৩৫ ভাগ। বাকী ২৫ ভাগ লোকের ওই দুই প্রার্থীর কাউকেই পছন্দ নয় ! নির্বাচনে জয়ী হয়ে ৪০ ভাগ লোকের সমর্থনে অযোগ্যতর প্রার্থী কুদ্দুস সরকার গঠন করল। এইখানে ট্রাজেডি হচ্ছে — ৬০ ভাগ জনগণ/ বৃহত্তম জনগোষ্ঠী কুদ্দুসকে পছন্দ করে না, কিন্তু তাঁকে রাষ্ট্রপ্রধান হিসাবে মেনে নেওয়া ছাড়া কোন উপায় নেই !
আমার কাছেও এইটাই মনে হয়, গণতন্ত্রের অন্যতম বড় একটা সীমাবদ্ধতা। আমেরিকার বৃহত্তম জনগোষ্ঠী তাঁদের দেশের বাইরেও যে বিশাল একটা পৃথিবী আছে , সেটাই জানে না বা কেয়ার করে না ! এঁদের মধ্যে সীমিত সংখ্যক লোকের হাইস্কুল পাস আছে। অধিকাংশই ইংরেজিতে কথা বলতে পারে, কারণ সেটা তাঁদের মাতৃভাষা। এই প্রাইমারী স্কুল পাশ বিশাল জনগোষ্ঠীকে মূর্খ বললে, মনে হয় না খুব বেশী অন্যায় করে ফেলব !
আমার মিরপুরে ঢাকা-১১ আসনে ৯০ এর দশকে , সংবিধান প্রণেতা ডঃ কামাল হোসেন পরাজিত হয়েছিলেন , প্রায় অশিক্ষিত জনাব হারুন মোল্লার কাছে। আবার হজ্বের তহবিল তসরুপ করা চোরা মান্নান জেতে গাজীপুরে !
[ প্রকাশকালঃ ১০ই নভেম্বর,২০১৬ ]
by Jahid | Nov 26, 2020 | সাম্প্রতিক
কনিষ্ঠা টুনটুনিকে গত আগস্টে বিদ্যালয়ে প্রেরণ করা হইয়াছে। দান দান তিনদান, অদ্যাবধি তিনবার বিদ্যালয় হইতে তাহার নামে অভিযোগ আসিয়াছে।
প্রথম অভিযোগঃ সে তাহার সতীর্থ কয়েকজনকে বলিয়াছে, তাহাদের হাতের লেখা দ্রুততর না হইলে সে তাহাদের বন্ধু হইবে না। উল্লেখ্য , কনিষ্ঠা টুনটুনির হাতের লেখা কিঞ্চিৎ দ্রুতগতির এবং সে আগেভাগে লিখিয়া বসিয়া থাকে। যেহেতু, বন্ধুত্বের অস্বীকৃতি কিছুটা অপমানের , তাই অন্য বালক-বালিকাদের মাতারা তাহা আমার টুনির কাছে অভিযোগ আকারে পেশ করিয়াছে।
দ্বিতীয় অভিযোগঃ কনিষ্ঠা টুনটুনি পেনসিল দিয়া তাহার কতিপয় সতীর্থকে খোঁচা দিয়াছে। ইহাও অভিযোগ আকারে আসিয়াছে। টুনটুনির সঙ্গে বাদানুবাদের এক পর্যায়ে তাহাকে বোঝানোর বৃথা চেষ্টা করা হইল। বোঝানো হইল বিদ্যালয়ে কিরূপ আচরণবিধি পালন করা উচিৎ। সে খুব আত্মবিশ্বাসের সহিত কহিল, বিদ্যালয়ে সকলেই একে অপরকে পেনসিল দিয়া খোঁচা দেয়। সকলেই অকাতরে হৈচৈ করে, উচ্চস্বরে চিৎকার করে। সে শুধুমাত্র সকলে যাহা করিতেছে , তাহাই করিয়াছে। ইহার মধ্যে সে কোন সমস্যা দেখিতে পাইতেছে না !
তৃতীয় অভিযোগঃ শিক্ষাদান চলাকালীন অবস্থায় সে পার্শ্ববর্তিনী-পার্শ্ববর্তীর সহিত যথেচ্ছ গল্পগুজবে মশগুল থাকে। এইবার এই অভিযোগ আসিয়াছে স্বয়ং শিক্ষয়ত্রীর কাছ হইতে। আমার টুনি বিদ্যালয়ে দুইদিন গমন করিয়া শিক্ষয়ত্রীকে কহিল–কনিষ্ঠা টুনটুনিকে আবারো যদি কাহারো সহিত গল্পগুজব করিতে দেখা যায়, তবে তৎক্ষণাৎ স্থান পরিবর্তন করিয়া দেওয়া হউক। তৃতীয়দিনে , অভিযোগ পুনরায় আসিল ; স্থান পরিবর্তনে কোনরূপ প্রতিকার হইতেছে না। সবচেয়ে নীরব শিক্ষার্থীর নিকটে টুনটুনিকে বসাইয়ে দিলেও, সে তাহার সহিত আপনমনে গল্প করিতে থাকে।
টুনি বিদ্যালয় হইতে ফিরিয়া আসিয়া, আমি টোনাকে যথেচ্ছ চৌদ্দপুরুষ তুলিয়া গালিগালাজ করিল। সে পুরাতন সকল ইতিহাস পর্যালোচনা করিয়া উহাই প্রমাণ করিল যে, এরূপ গর্হিত আচরণ বংশপরিক্রমায় কনিষ্ঠা টুনটুনি পাইয়াছে। বাচালের গোষ্ঠী বলিয়া আরো কিছুক্ষণ মাথা চাপড়াইল। টুনির মতে, কনিষ্ঠা টুনটুনির পিতা-জ্যাঠারাও বিদ্যালয়ে ইহাই করিয়াছে। এখন এই ‘গল্পবলা-বাচালস্বভাব’ রোগের কোন প্রতিকার নাই!
গত সন্ধ্যাবেলায়, টুনি আসিয়া আমি টোনাকে পুনরায় ক্ষুদ্ধস্বরে কহিল, কনিষ্ঠা টুনটুনিকে কেননা একটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খুলিয়া দেওয়া হউক ! সে তাহার জনক (আমি ) বাচাল টোনার মত অদৃশ্যজগতের বন্ধুতালিকার বন্ধুদের সহিত বাচলামি করুক, স্কুলের অন্যান্যদেরকে রেহাই দিক !
প্রকাশকালঃ ৪ঠা নভেম্বর,২০১৬
by Jahid | Nov 26, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
আমার এক কলিগ ছিলেন বা আছেন ( নাম প্রকাশ করতে চাচ্ছি না) যিনি নিজের যে কোন যুক্তিসংগত চাহিদার ব্যাপারে নিতান্তই নির্বিকার ও নৈর্ব্যক্তিক। ম্যানেজমেন্ট কি ভাববে, এই সময় চাওয়া উচিৎ, নাকি ওই সময়ে চাওয়া উচিৎ এসবের তেমন কেয়ার কখনই করতে দেখিনি তাঁকে।
একবার আমার পারিবারিক কাজে ঈদের ছুটির সঙ্গে কয়েকদিন বেশী ছুটি লাগবে, কিন্তু নানা কারণে উর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে ওই সময়ে একটু মন কষাকষি চলছিল। কীভাবে বলব, ম্যানেজমেন্ট কীভাবে নেবে ব্যাপারটা — সেটা নিয়ে দুঃচিন্তা করছিলাম। তাঁর সঙ্গে শেয়ার করতেই বলে উঠল ‘ Jahid , What you have to do , you have to do ! What you have to say, you have to say !” বুঝিয়ে বলল, তুমি যেহেতু আর দশজন ফাঁকিবাজ কর্মচারীদের মতো নও। সপ্তাহের প্রথমদিন সোমবার তোমার জ্বর ও মাথা ব্যাথা থাকে না অথবা উইকএন্ড শুক্রবারে ডাক্তারের কাছে অ্যাপয়েন্টমেন্ট থাকে না ! তোমাকে সবাই চেনে, যেটা তোমার দরকার, প্রাপ্য ও আবশ্যক সেটা বলতে বা চাইতে দ্বিধা করছ কেন?
আমি জড়তা কাটিয়ে আমার প্রয়োজনীয় ছুটি চাইলাম এবং এরপর থেকে এই ব্যাপারটা আমি মেনে চলি।
“What you have to do , you have to do ! What you have to say, you have to say !”
প্রকাশকালঃ নভেম্বর ২০১৬
সাম্প্রতিক মন্তব্য