যেতে পারি, কিন্তু কেন যাবো? – শক্তি চট্টোপাধ্যায়।।

ভাবছি, ঘুরে দাঁড়ানোই ভালো।

এতো কালো মেখেছি দু হাতে
এতোকাল ধরে!
কখনো তোমার ক’রে, তোমাকে ভাবিনি।

এখন খাদের পাশে রাত্তিরে দাঁড়ালে
চাঁদ ডাকে : আয় আয় আয়
এখন গঙ্গার তীরে ঘুমন্ত দাঁড়ালে
চিতাকাঠ ডাকে : আয় আয়
যেতে পারি

যে-কোন দিকেই আমি চলে যেতে পারি
কিন্তু, কেন যাবো?

সন্তানের মুখ ধরে একটি চুমো খাবো

যাবো
কিন্তু, এখনি যাবো না
একাকী যাবো না অসময়ে।।

কর্পোরেট অবজার্ভেশন ( বস ম্যানেজমেন্ট )

১। কর্পোরেট দুনিয়ায় আপনাকে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকার চেষ্টা করে যেতে হবে। সমান পরিশ্রমী হলেও , এক শ্রেণী আছে যারা ডিমপাড়া মুরগীর মতো প্রতিটি প্রাত্যহিক ডিম-প্রসবের পরপরই সমস্ত কোম্পানির মালিকপক্ষ থেকে শুরু করে, ড্রাইভার –দারোয়ানদেরকেওকে জানিয়ে দেয় সদ্যই ডিম পাড়া হয়েছে। পাইপলাইনে আরো ডিম আছে। এরা একটা এক্সট্রিম শ্রেণী। মধ্যপন্থীদের কথা বাদ দিলে — আরেকদল নরমপন্থী আছে যারা ডিম পেড়ে খাঁচা ভরে যাওয়ার অপেক্ষা করে । ভাবতে থাকে , এটাতো তার দায়িত্বই ছিল। একইসঙ্গে তাঁরা এই আশাবাদও পোষণ করতে থাকে–উর্ধ্বতনেরা এসে তাঁকে সাধুবাদ জানাবে ! আফসোস –Everybody cares about barking dogs ; either it bites or not !

২। বহুবহু বছর আগে কথা ! আমাদের এক সতীর্থ বন্ধুর প্রথম চাকরি ও টাইটেলের কাহিনী। আমরা সদ্য পরীক্ষা শেষে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছি ; সেই সময়ে সে খোঁজ দিল তার চাকরি হয়েছে নারায়ণগঞ্জের একটা নিট কম্পোজিটে। টেক্সটাইল কারখানায় সেই সময়ে ওপেনিং পজিশন ছিল প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ার। সে তার ভিজিটিং কার্ড দেখালো , টাইটেল হচ্ছে ED ( এক্সিকিউটিভ ডিরেকটর )! আমরা সবাই বিস্ময়ে হতবাক ও মনেমনে মর্মাহত ! ক্যাম্নে কি ? জিজ্ঞাসাবাদে সে বের হল, মালিক তেমন শিক্ষিত না । ভিজিটিং কার্ডে কি টাইটেল লিখবে সেটা জিজ্ঞাস করায়, মালিক নাকি উত্তর দিয়েছে, ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছাড়া যে কোন একটা কিছু লিখে নিতে ! বন্ধু আমার প্রথম চাকরিতেই এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর !
ভুলে যাবেন না, কর্পোরেট চাকরির হচ্ছে পিরামিডের মতো, উর্ধ্বমুখী টাইটেল ও বেতনের সাথে সাথে পিরামিডের উপরের দিকে নড়াচড়ার পথ সরু হয়ে যায় ! একটা টাইটেল নিতেই পারেন বা পেতেই পারেন, কিন্তু ওই টাইটেলে কেউ নিজেকে যদি আমার সেই বন্ধুটির মতো করে ফেলেন, তাহলেই মারা !

৩। প্রায়শঃ দীর্ঘদিনের কর্মচারীদের ধারণা হয় যে, মালিকরা মনে হয় তাঁদেরকে পরিবারের মত ভাবে ! কোন কারণে পুরাতন কর্মচারীরা উর্ধতনদের উপরে ক্ষুদ্ধ, অভিমানী হয়ে পড়লে সে আশা করে বসে, ব্যাপারটা হয়তো সমানুপাতিকভাবে উর্ধ্বতন বা মালিকপক্ষকেও চিন্তিত করছে। বাস্তবতা হচ্ছে—না করছে না ! আপনি কর্মচারী হলে আপনার কোন একটা বঞ্চনার অভিমান নিয়ে আপনি দিনে দশবার চিন্তা করতেই পারেন, মালিকের কিন্তু অতখানি সময় নেই সেটা সপ্তাহে বা মাসে একবার চিন্তা করার ! সুতরাং স্বামী-স্ত্রীর মান-অভিমান যদি হয় সমানুপাতিক , তবে মালিক কর্মচারীর মান-অভিমানের টানাপোড়েন বিপরীতভাবে ব্যস্তানুপাতিক।

৪। প্রতিটি শাশুড়ি ভুলে যান তাঁরা একসময় বৌমা ছিলেন ! ঠিক যে ব্যবহার তিনি পেয়েছেন, মনে মনে ভাবেন তিনি ভালো শাশুড়ি হবেন । কিন্তু যা হওয়ার তাই হয় ! উনি তার শাশুড়ির চেয়েও একপ্রস্থ নিম্নগামী হন ! অনেক নতুন মালিক বা ম্যানেজারদের সমস্যা তাঁরা চিন্তায় পড়ে যান , তাদের অধীনস্থদের সাথে কী ধরণের ব্যবহার করবেন? আসলে ঠিক সেই ব্যবহারটাই করা উচিৎ , যেটা আপনি আপনার উচ্চপদস্থদের কাছ থেকে আশা করে থাকেন। সময়মত আপনার অধীনস্থকে যেমন প্রশংসাও করতে হবে আবার তিরস্কারে সময় তিরস্কারও ।

অন্যদিকে , নতুন কর্মচারী হিসাবে আপনি কি ধরণের আচরণ করবেন উর্ধ্বতনের সাথে ? সহজ উত্তর, আপনি আপনার অধীনস্থদের কাছ থেকে যে রকমটি আশা করেন সেটাই ! আপনি নিজেওতো হালকা তেলের সাথে আপডেট থাকতে ও নিজেকে গুরুত্বপূর্ণ ভাবতে ভালোবাসেন। কয়েকজনের মাঝে যে আপনাকে সবসময় আপডেট দেয়, তাঁকেই তো আপনার পছন্দ। যে অধীনস্থ আপনাকে প্রশংসা করে, তার ব্যাপারে সুনজর আছে আপনার । যে কর্মচারী আগ বাড়িয়ে সালাম দেয় , সে আপনার ঘনিষ্ঠ ! তো আপনাকেও ঠিক সেই কাজগুলিই করতে হবে , যেটা আপনি নিজেও পছন্দ করেন !

৫। কিছু বস আছে , অধীনস্থদের দৌড়ের উপরে রাখতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। একটা ই-মেইল ডাউনলোড হওয়ার আগেই , সে আপনাকে ফলোআপ করা শুরু করে। সেইসব বসকে ‘বশ’ করার জন্য আমার একটা আলাদা নিয়ম ছিল। নিতান্তই ঠেকায় পড়ে আবিষ্কার করতে হয়েছিল। সাধারণত এই শ্রেণির বসেরা কমফোর্ট জোনে থাকতে চায়,আপডেটেড থাকতে চায়; একটা কাজ দিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারে না, নিজেও টেনশন করতে থাকে। তো, এই শ্রেণীর বস , ক্ষণে ক্ষণে খবর নেয়, কি অবস্থা ,কতদূর ? এদেরকে ঠান্ডা রাখতে হলে , নিয়মিত ইনফর্মেশন দিতে হয়। এবং ইনফর্মেশন ওভারফিড (overfeed ) করতে হয়। আপনি গত কয়েক ঘন্টায় কী কী করেছেন এবং আগামী কয়েকঘন্টায় কী কী করবেন তা যদি নিয়মিত প্রতিদিন রুটিন করে জানাতে থাকেন, মাস দুয়েকের মধ্যেই আপনার বস আপনার ব্যাপারে পুরোপুরি আস্থাশীল হয়ে উঠবেন, আপনার ঘাড়ের কাছে সারাক্ষণ নিঃশ্বাস ফেলে বার বার কাজের অগ্রগতির কথা জানতে চাইবেন না

প্রকাশকালঃ ২রা আগস্ট,২০১৬

কর্পোরেট অবজার্ভেশন ( সততার শ্রেণিবিন্যাস )

সততার নানা রকমফের আছে– আর্থিক, ধার্মিক, আত্মিক, শারীরিক ইত্যাদি। শুধু অর্থনৈতিক সততার ব্যাপারে নিজস্ব কিছু স্বগতোক্তি! মোটা দাগে, আমার দেখা তিনটি শ্রেণী আছে। আমি জাজমেন্টাল হতে চাচ্ছি না, কারণ আমি নিজেও একটা গ্রুপে পড়ি !

প্রথম শ্রেণী :  আপনি নিখাদ অসৎ। আপনি জানেন, আপনি কিভাবে অর্থ উপার্জন করছেন। পরিবারের ও সমাজের আশেপাশের সবার কমবেশি ধারণা আছে আপনার বেতন ও সম্পদের বৈষম্যের ব্যাপারটা। পৃথিবীর সকল প্রাপ্য ও অপ্রাপ্য সুবিধা আপনার চাইই চাই । যোগ্যতার চেয়েও বেশীকিছু আপনার পায়ের কাছে গড়াগড়ি দেবে ; কঠিন পৃথিবীতে ধাক্কা খেতে খেতে , সেটা কীভাবে করতে হয় আপনি শিখে গেছেন। সততা, নৈতিকতা ইত্যাদি নিয়ে দোটানায় থাকার মতো বিলাসী সময় আপনার নাই। আরো চাই, আরো চাই করতে করতে উর্ধ্বশ্বাসে ছুটে চলেছেন। তবে সোসাইটির কাছে আপনি খুবই গুরুত্বপূর্ন ! আপনার মতো এই বিশেষ শ্রেণি না থাকলে , শিল্পায়ন অসম্ভব ও পুঁজিবাদের ব্যাপক বিপর্যয় ঘটত ! আপনার ধার্মিকতা নিয়ে কারো কোন প্রশ্ন নেই। পরিপার্শ্বের কাছে, আপনার এলাকায়, বন্ধুমহলে আপনার অর্জিত সম্পদের গল্প ঈর্ষার সাথে বলা হতে থাকে।

দ্বিতীয় শ্রেণী :  মূলতঃ আপনি অসৎ ও লোভী। কিন্তু সমাজে সৎ হওয়ার ভান করে সম্মান পেতে আপনি প্রতিনিয়ত উন্মুখ ! সবাইকে সততার কথা বলেন। অথচ আপনি ঠিক ঠিক জানেন কতটুকু আপনার প্রাপ্য, আপনার মাত্রাতিরিক্ত অনোপার্জিত অর্থ নিয়ে আপনার নিজস্ব ব্যাখ্যা আছে। আপনি সর্বদাই নিজেকে প্রবোধ দিচ্ছেন- আমি ঠিক পথেই আছি ; এই যুগে এভাবেই সম্পদ অর্জন করতে হয়, এভাবেই করা উচিৎ, সবাই এভাবেই করে ! সময় গেলে এই সুবর্ন সুযোগ আর পাওয়া যাবে না ! আপনি দান-ধ্যান করেন , ধর্মেও মন আছে। কিন্তু মনের গহীনে এই প্রাচুর্যের ব্যাপারে আপনি চিন্তা করতে করতে আবার গা ঝাড়া দিয়ে টাকা কামানোতে মন দেন । যদিও আপনি জানেন , অনেক যোগ্য লোকের চেয়ে বেশীরকমের প্রাচুর্যে আছেন। তবুও প্রথম শ্রেণীর ওই পরাক্রান্ত, চক্ষুলজ্জাহীণ দুর্দান্ত সাহসী অসৎ লোকদের সঙ্গে তুলনা করে আপনি নিজেকে সৎ ও ধার্মিক ভেবে সান্ত্বনা পেতে চান !

তৃতীয় শ্রেণী :  আপনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ! কারণে বা অকারণে কেমন করে যেন আপনি সু্যোগের অভাবে সৎ থেকে গেছেন ! কিন্তু পুর্বোক্ত দুই শ্রেণীর বৈভব ও সম্পদ থেকে বঞ্চিত হয়ে সারাক্ষণ তুলনামূলক ভাষাতত্ত্বের মত নিজেকে ধর্মপুত্তুর যুধিষ্ঠির ভাবতে থাকেন। ধার্মিকতা পুরোটাই আছে । কী কী সম্পদ করেছেন , এইসব প্রশ্ন আসলেই সুযোগমত আপনি যে সৎ সেটা তোতাপাখীর মত কপচাতে থাকেন। আপনি সৎ সেই কথা বলে , নিজের পিঠ নিজে চাপড়ান, শ্রোতার কাছ থেকে সান্ত্বনা বা সততার বাহবা পেতে চান !

আগের দুই শ্রেণীর ব্যাপারে একটা ক্ষোভ মেশানো ঈর্ষা আপনাকে ক্লান্ত করে। তাদের অসততা যতোটুকু আছে তার চেয়েও বাড়িয়ে বাড়িয়ে বলেন। প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর লোকদের আপনি পশুতুল্য করে নিজের বঞ্চনার ক্ষতে বাতাস দিতে থাকেন। যা আপনি ভুলে থাকতে চান, তাই আপনাকে গ্রাস করে প্রতিমুহূর্তে ! মনের গহীনে যথারীতি প্রাচুর্যে উপচিয়ে পড়া শ্রেণিকে ঘৃণা করেন। সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক কিছু কেন আপনার নেই, সেটা নিয়ে হা হুতাশতো আছেই !

এই তিন শ্রেণীর বাইরেও ক্ষীণধারায় আরো কয়েকটি শ্রেণি আছে হয়তো ! তবে কারা যে হাস্যকর রকমের বেদনাদায়ক , ক্ষতিকর বা প্রয়োজনীয় সেটা অবশ্যই এখানে আলোচ্য নয়!

প্রকাশকালঃ ২৮শে জুলাই, ২০১৬

প্রসঙ্গঃ অনিশ্চয়তা ও নিরাপত্তাহীনতা।

কিছু কথা সবার সঙ্গে বলতে বলতে মনে হয়, এ বোধহয় আমার একেবারে নিজস্ব কথা। হয়তো নানা পড়ার ফাঁকে ; কথাশোনার ফাঁকে, কথাগুলো আমারই হয়ে গেছে। আমাদের উপমহাদেশীয় সমাজের প্রেক্ষিতে আমার যা মনে হয়ঃ আমাদের জন্ম হওয়ার পর দুটো চালিকাশক্তি আমাদের সর্বোচ্চ প্রভাবিত করে চলে ও একপর্যায়ে অবিচ্ছেদ্য হয়ে ওঠে !

প্রথমটি হচ্ছে , নিরাপত্তাহীনতা বা ইনসিকিউরিটি ! যে নিরাপত্তাহীনতায় আমাদের মধ্যবিত্ত অগ্রজরা ভুগেছিলেন, তা আমাদের মাঝে বংশানুক্রমে চলে আসে। পরিশ্রম, প্রতিযোগিতায় নানারকম প্রাপ্তি ও অর্জন দিয়ে আমরা নিজেদেরকে নিরাপদ করার চেষ্টা করি । পড়াশোনা, চাকরি,ব্যবসা , টাকা, গাড়ী, সেভিংস ইত্যাদি ইত্যাদি। মূলতঃ এটার কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ বা সীমারেখা নেই। মাথাগোঁজার একখানি জমি হলে কি মানুষ নিরাপদ ! সে কী ক্রমাগত আরো জমির মালিক হতে চায় না ! একটা ফ্ল্যাট হয়েছে আরেকটা করে নিরাপত্তা বাড়াতে চায়। নগরীর এই প্রান্তে কিছু থাকলে,অপরপ্রান্তে । একই ব্যক্তির লাখ টাকার ব্যাংক ডিপোজিট যেমন তাকে নিরাপত্তা এনে দিতে পারে না ; কোটি টাকা ডিপোজিটেরও সেই সম্ভাবনা নেই। কোন কিছুতেই আমরা নিজেদেরকে নিরাপদ করতে পারিনা বা নিরাপদ ভাবতে পারিনা। পরবর্তী বংশধরদেরকেও একই ভাবে নিরাপদ করার ক্রমাগত চেষ্টা করে যাই। স্বদেশ থেকে প্রবাসী হয়ে জীবনকে আরো নিরাপদ করতে চাই। একটা উর্ধ্বশ্বাস দৌড় ক্রমাগত আমাদের ত্রস্ত করে।

আর , জীবন আমাদের হাতের ফাঁক গলে কখন নীচে পড়ে যায় , আমরা টেরও পাইনা ! নিরাপত্তার প্রস্তুতি নিতে নিতে জীবন শেষ হয়ে যায় !

দ্বিতীয়টি হচ্ছে , অনিশ্চয়তা বা আনসারটেইনিটি। আমরা কেউই জানিনা – আগামীকাল কী হবে , আগামী সপ্তাহে বা বছরে কী হবে ! আমরা ভুলে যাই, পৃথিবীর সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি থেকে শুরু করে থেকে আমার মত সাধারণ লোকের জন্য এই অনিশ্চয়তা সমানুপাতিকভাবে আছে। এই অজানা অনিশ্চয়তাকে ঘিরেই আমাদের বৈচিত্রময় লৌকিকতা , আচার-আচরণ,ধর্ম ও সামাজিকতা গড়ে ওঠে। আমরা একেকজন একেকভাবে জীবনকে দেখা শুরু করি। কীভাবে জীবনকে দেখতে হবে আমরা অন্যের কাছ থেকে শিখে ফেলি। আর , অনিশ্চয়তাকে কাটাতে চেষ্টা করি। কিন্তু পেরে উঠি না। অনিশ্চয়তাকে যে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব না, এটাও মেনে নিতে পারি না।
নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য । তবে , এদেরকেই জীবনের মূল চালিকাশক্তি হয়ে উঠতে দেয়াটা যৌক্তিক নয় । হয়তো , এদের সঙ্গে সহাবস্থান ও সমঝোতা করে চলে , এই দুইয়ের মাঝেই জীবনকে খুঁজে নিতে হয় !

শুভ নববর্ষ ২০১৬

জীবনযাপনের ক্লান্তি আছে! জীবনের ক্ষয় আছে, গতিহীনতা আছে, বাঁধা আছে, ক্লেদ আছে।
ওই যে হয় না, মেশিন চললে শুধু প্রোডাক্টই হয় না, তাতে অবধারিতভাবে জং ধরে,ধুলো জমে, গতি কমে আর সাথে সাথে কিছু উপজাত বা বাইপ্রোডাক্ট তৈরী হয়।
উপভোগ্য জীবনে সারাক্ষণ প্রাপ্তির পাশে দুই একটা অপ্রাপ্তি সবারই আছে ।সকাল থেকে রাত্রি, প্রাতঃকৃত্য, খাওয়া, হেঁটে চলে কর্মস্থলে আসা– গোটা ত্রিশেক কাজতো ঠিকমতোই হচ্ছে ; এর মাঝে ছোটবড় কোনকাজে বাধা আসতে পারে, আকাঙ্ক্ষার অপূর্ণতা থাকতেই পারে, সেটাকে বড়ো করে না দেখলেই হয় !
সবার জীবন উৎপাদনশীল হয়ে উঠুক, ক্লান্তি-ক্লেদের সময়টা পরিবারের কাছের লোকের ভালোবাসার তেলে ঘষেঘষে তুলে ফেলুক সবাই। প্রাপ্তিটাকে বড় করে দেখুক সকলে, শুভ নববর্ষ।

১লা জানুয়ারী ২০১৬