by Jahid | Nov 24, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
পদাধিকারবলে আমাকে সারাদিন নানা ক্যাটাগরীর লোকের সঙ্গে কথা বলতে হয়। বিলিওনার থেকে শুরু করে ড্রাইভার-দারোয়ান, অফিসবয় ইত্যাদি। কর্পোরেট সফল ব্যক্তিদের ব্যাপারে আমার নতুন করে কিছু বলার নেই। তাঁরা একেকজন নিজেই সাফল্যের সংজ্ঞা ও প্রতিভূ হয়ে প্রাতঃস্মরনীয় । কিন্তু যারা অসফল, ব্যর্থ তাদের ব্যাপারে আমার একটা অদ্ভুত অব্জার্ভেশন আছে।এটা অব্জার্ভেশন-এর পর্যায়ে পড়ে কীনা কে জানে।প্রতিনিয়ত একই পুনরাবৃত্তিকে– কী বলা উচিৎ ।
আমি খেয়াল করে দেখেছি , যারা সাময়িক বা দীর্ঘমেয়াদী ব্যর্থতার ভিতর দিয়ে যাচ্ছেন, তাদের শরীরে দুর্গন্ধ বা বাজে গন্ধ থাকে। মুলতঃ নিজের শরীর,পোশাক,নাওয়া খাওয়ার অপর্যাপ্ততার কারণেই সেটা হয়ে থাকতে পারে। হতে পারে নিজের অজ্ঞাতেই ব্যর্থ লোকটি নিজেকে ব্যর্থতার একটা আচ্ছাদনে মুড়িয়ে ঢেকে চলাফেরা করেন; সহানুভূতির আশায় । কিন্তু এই ব্যাপারটা তার জন্য যে আরো ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে সেটা সে বুঝতে পারে না । একজন অপরিচ্ছন্ন , এলোমেলো লোকের উপর চাকরিদাতা ভদ্রলোক ভরসা করবেন কেমন করে ? সুতরাং তার ব্যর্থতার সঙ্গে আরেকটি দিন যুক্ত হয়।
ট্রেডের এক বড়োভাইয়ের কাছে শেখা। সঙ্গত কারণেই নাম প্রকাশ থেকে বিরত থাকছি। মুলতঃ কর্মজীবনের হঠাৎ প্রেসার, নিরানন্দ, একঘেঁয়েমি আমাদের অনেকের পোশাক-পরিচ্ছদে, চালচলনের উপরে প্রভাব ফেলে। তো, আমার ও সেটা আছে। কিন্তু বছরখানেক আগে তার উপদেশ শুনে অভ্যাস বদলে ফেলেছি। আমার দিনটা ভালো যাবে নাকি খারাপ যাবে ; আজ আমার ছুটির দিন না অফিসের দিন তাও ধর্তব্য না। প্রতিদিন ভোরে উঠে আমার প্রথম কাজ হয় প্রাতঃকৃত্য সেরে দাঁড়ি কামিয়ে সুগন্ধি মেখে ফিটফাট থাকা। এতে করে আমার প্রাক্তন ও দৈনন্দিন ব্যর্থতা অনেকখানি চাপা পড়ে থাকে !
[ প্রকাশকালঃ ১১ই সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ]
by Jahid | Nov 24, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
ইদানীং অগ্রজদের চেয়ে অনুজদের কাছ থেকে বেশী শিখতে হচ্ছে । এই নতুন করে খুঁজে পাওয়া অব্জার্ভেশনটি বছরখানেক আগে এক অনুজের কাছে শেখা। সে আমার কিছু ‘নির্বোধ’ কর্মকান্ড দেখে সৎ উপদেশ দিয়েছিল । নিজে এটা রিলিজিয়াসলি মেনে চলে ; আমিও মেনে চলার চেষ্টায় আছি।
আপনি যদি কোন নির্দিষ্ট বিষয়ে বা কাজে আপনার দক্ষতাকে পরিপার্শ্বিকের চেয়ে ভালো মনে করেন ; মানে সোজাকথায় নিজেকে এক্সপার্ট মনে করেন– তাহলে আপনার এক্সপার্ট অপিনিওন আপনার কোম্পানিকে যখন তখন দিতে যাবেন না। মনে রাখবেন আপনার ঊর্ধ্বতন এবং মালিকপক্ষ অনেকসময় অযথাই নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে। অযাচিত শুভাকাংখা দেখে আপনাকে উল্টো বোঝানোর চেষ্টা করবে , ‘ তোমার মতো হরিদাস পাল ছাড়াই আমরা ব্যবসা এতোদূর নিয়ে এসেছি হে ! সুতরাং তোমার এই সব কথাবার্তা পকেটে পুরে রাখো !’
এমন হতে পারে, আপনার পূর্ব-অভিজ্ঞতা আছে বলে একটা সমস্যার খুব সহজ সমাধান আছে আপনার কাছে। সমস্যাটা আপনার চোখের সামনে হচ্ছে। উত্তরটাও আপনার ঠোঁটের আগায়। ‘ক্ষেত্রবিশেষে’ কেউ যেচে এসে না চাইলে সমাধানটা বাৎলে দিয়েন না।অপেক্ষা করুন।
পজিটিভলি দুইভাবে পরিস্থিতি উপকৃত হবেঃ-
প্রত্যক্ষ ভাবে–আপনার ঊর্ধ্বতন, সতীর্থ বা অনুজ সহকর্মীদের ব্রেইনস্টর্মিং হবে ; তাঁরা সমাধানের নানারকম বিকল্প চেষ্টা করবে, একটা লার্নিং প্রসেসের মধ্যে দিয়ে যাবে। এতে একাধারে — তাদের ,নিজেদের , আপনার ও প্রতিষ্ঠানের উপকার হবে।
আর পরোক্ষভাবে—আপনি অযাচিতভাবে এক্সপার্ট অপিনিওন দিলে সেটার মূল্য পাওয়ার সম্ভাবনা শূন্যের কোঠায় ! সঠিক বিনিময়মূল্য ছাড়া এক্সপার্ট অপিনিওনের যে দাম নেই সেটা আমার ৯০ সালে ইন্টারমিডিয়েটে পড়ার সময়েই বোঝা উচিৎ ছিল! আমার স্বল্পমেয়াদী প্রাইভেট টিউশনির জীবনে যাদেরকে টাকার বিনিময়ে পড়িয়েছিলাম, তাঁরা সবাই আমার চেয়েও সফল হয়েছে। আর বিনামূল্যে আত্মীয়স্বজন ছোট ভাইবেরাদরকে পড়িয়ে কোন লাভ হয় নাই !
প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
by Jahid | Nov 24, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
বছর আটেক আগে এক বন্ধুস্থানীয় বিদেশী ক্রেতার কাছে শেখা!
এই বন্ধুটি প্রায়ই এই কথাটি বলতেন , ‘ You are only as good as your last shipment !’ আমাদের সেক্টরে শিপমেন্ট হলে, অন্য শিল্পে সেটা last deal/ last sale/last performance- হতে পারে।
প্রায়শ: আমাদের কিছু লোকের খামখেয়ালী , অবহেলা বা অদক্ষতার কারণে কিছু শিপমেন্টের এমন লেজেগোবরে অবস্থা হয় যে ক্রেতার সঙ্গে ব্যবসায়িক সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর্যায়ে চলে যায় ! একটা বিশ্বস্ত ভালো ক্রেতা এই যুগে পাওয়া ও তার সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী সম্পর্ক ধরে রাখা যে কতোখানি দুঃসাধ্য কাজ , সেটা যারা মার্কেটিং ও সেলস-এ আছেন তাঁরা বোঝেন।
স্বভাবতই দায়ী ব্যক্তি ঊর্ধ্বতন বা মালিককে মনে করিয়ে দেন তার গত বছরগুলোর অতীত সাফল্যের কথা। ইদানীং বাংলাদেশের কর্পোরেট কালচার অনেকখানি নির্দয় আর সংখ্যাভিত্তিক হয়ে গেছে। সুতরাং অতীতকীর্তির কথা বলে দায় এড়ানো যাচ্ছে না।
যদিও আমাদের উপমহাদেশীয় সংস্কৃতি ‘Hire & Fire’ নীতির বিরোধী। সে তুলনায় পশ্চিমারা নিতান্তই আবেগহীন। এঁদের সঙ্গে সাথে চলতে গিয়ে বোঝা যায় , উপরের কথাটা তাঁরা অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মালিককে তখন দায়ী কর্মচারীকে ‘অবস্থান বদলের’ উদাহরণ দিয়ে বোঝাতে হয়, ‘আপনি যদি সোর্সিং অফিস হন– আপনি কারখানার মূল্যায়ন করবেন সদ্যশেষ হওয়া সিজনের শেষ শিপমেন্ট গুলো সেই কারখানা ঠিকমতো দিয়েছে কীনা তা দিয়ে। আবার আপনি যখন কারখানা , তখন আপনার সাব-কন্ট্রাক্ট কারখানা বা কাপড়, অ্যাকসেসরিজ সরবরাহকারী শেষ সরবরাহ ঠিকমতো করেছে কীনা।
ঠিক একইভাবে পশ্চিমা ক্রেতাকে সারাবছর আপনি ঠিকঠাক সময় মতো সরবরাহ করে আসলেন ; আর বছর শেষে ক্রিসমাসের সময় করলেন গুবলেট ; অতঃপর লেট-শিপমেন্ট, , ডিসকাউন্ট, এয়ার-শিপমেন্ট করে সম্পর্কের অবনতি।
নতুন বছরে তার কাছে আবার অর্ডার চাইলে , সে আপনাকে আপনার শেষ শিপমেন্টের ব্যর্থতার সূত্র ধরেই আলোচনা শুরু করবেন। আপনি উষ্মা প্রকাশ করতে পারেন, ‘এইটা একটা থ্যাংকসলেস জব , ইত্যাদি ইত্যাদি।’ আপনি দ্বিমত পোষণ করতে পারেন।কিন্তু দিনশেষে আপনার মূল ক্রেতা যে ধরণের মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা করছে , তার প্রভাব চেইন রিঅ্যাকশনের মতো আপনার উপরে পড়বেই !
আমি যেহেতু আশাবাদী, এইবার এই নির্দয় নীতির আশাবাদের জায়গাটা বলি। পুরো ব্যাপারটিকে পজিটিভলি নিলে কী হয় ! যেহেতু, শেষ শিপমেন্ট দিয়ে ক্রেতা আপনাকে বিবেচনা করছেন। যতো খারাপ পারফর্মেন্সই করেন না কেন,পরের বছর ধারাবাহিকতার অজুহাতে হলেও হাতে-পায়ে ধরে আবার কিছু অর্ডার নেন। ঠিকমতো পারফর্ম করলে সে আপনার গতবছরের বাজে শিপমেন্টের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ভুলে যাবে আশা করা যায় !
[ প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর,২০১৬ ]
by Jahid | Nov 24, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
” When everything is coming your way, you’re probably in the wrong lane! ”
আমি আশাবাদী মানুষ। বেশী আশাবাদী বলেই হয়তো জীবনের বড় দুর্ঘটনাগুলোকে আমি আগে থেকে আঁচ করতে পারিনা। ‘ঘটনা’ একটা ঘটে যাওয়ার পর, আমার শুভাকাঙ্ক্ষীরা মর্মাহত হয়ে বলেন, ‘আশ্চর্য ! আপনি এতো বোকা, এই সামান্য আভাষেই তো বোঝা উচিৎ ছিল, সামনে আপনার কতোবড় বিপদ ঘনিয়ে আসছে!’ তারপর আর কী ! ‘কর্পোরেট মারা’ খাওয়া হয়ে গেলে সেই ব্যথা কাটিয়ে উঠতে পারিনা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই ! অবশ্য এইরকম নির্বুদ্ধিতার একটা ভাল-দিকও আছে। একটা দুর্ঘটনা ঘটে গেলে সেটা আঁকড়ে ধরে পড়ে না থেকে গা ঝাড়া দিয়ে বার বার আমি উঠে দাঁড়িয়েছি।
মানুষের প্রত্যুৎপন্নমতিত্ব দেখে আমি বিস্মিত হই; মানুষের হাজির-জবাব দেখে আমি আরো বিস্মিত হই। কেউ কোন প্রসঙ্গে হয়তো আমার অক্ষমতা, নির্বুদ্ধিতা, অপ্রাপ্তিকে তাচ্ছিল্য বা ব্যঙ্গ করে গেল ; আমি সেই হঠাৎ আক্রমণে হতবিহব্বল হয়ে পড়ি আমার মুখে রা থাকে না। বোকাটাইপ হাসি দিয়ে সেটা হজম করার চেষ্টা করি। দুই সপ্তাহ বা দুই মাস পরে মনে হয়, আরে শ্লা ! ঐ সময়ে ঐ লোককে তো এই ভাবে জবাব দেওয়া যেত ! তো দ্বিতীয়বার যখন একই ব্যক্তির সঙ্গে আবার দেখা হয়ে যায় । দেখা গেল সে আমাকে নতুন কোন বাক্যবাণে আহত করছে। এবং আমি আগের মতই অপ্রস্তুত হাসি হাসছি।
আমার ছোট্ট কর্পোরেট জীবনে নানা জাতির লোকের অধীনস্থ হয়ে কাজ করতে হয়েছে। কর্মজীবনের দুই সময়ে– প্রাথমিক পর্যায়ে একজন শ্রীলংকান, পরবর্তীতে আরেকজন বৃটিশ– দুই ঊর্ধ্বতন সহকর্মী একই কথা আমাকে শিখিয়েছিলেন। একজন উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়েছিলেন, ওয়ার্কিং প্রসেসে যদি কোন সমস্যা না থাকে, সেটা মুশকিল। আবার চেক করা উচিৎ কোথাও কোন ভুল হচ্ছে কীনা ! আর ব্রিটিশ সহকর্মী বলেছিলেন জীবনের ব্যাপারে। দু’জনের বিদ্যাদান ব্যর্থ হয়েছে আমার ক্ষেত্রে, লাভ হয় নি তেমন কিছু। কারণ আমি রয়ে গেছি সেই আগের মতই ! আত্মরক্ষার ঢাল-তলোয়ার বের করতে আমার দেরী হয়ে যায় ! আর যখন বের করি , দেখি তাতে ইতোমধ্যেই জং ধরে গেছে ! আমার চেয়ে আমার পরিপার্শ্ব সবসময় কয়েকগুণ এগিয়ে থাকে।
জীবনে এরকম সময় আসে, যখন মনে হয় সবকিছু ঠিকমতো চলছে। যেখানে যা থাকার কথা সেখানে আছে, যা পাওয়ার কথা তাই পাওয়া যাচ্ছে , কোন অভিযোগ নাই। আমার জীবনের কয়েকবার হয়েছে, মনে হয়েছে সব প্রাপ্তি আমার দিকেই। কিন্তু কোথায় কোন অলক্ষ্যে যে একটা ঘূর্ণিঝড় পাকিয়ে উঠেছে বা ‘সমগ্র বাংলাদেশ পাঁচ টন’ ট্রাক ধেয়ে আসছে উলটপালট করে দেওয়ার জন্য , আমি বুঝিই নি !
When everything is coming your way, you’re probably in the wrong lane !– বাক্যটির একটা তির্যক অর্থ আছে। ট্রাফিক নিয়মের সঙ্গে মিলিয়ে দেখতে হবে। সঠিক লেনে থাকলে আপনার সামনে-পিছনে, পাশে যানবাহন থাকবে। কিন্তু মনে করুন , হঠাৎ দেখলেন সব যানবাহন বিপরীত দিকে থেকে আপনার দিকেই এসে পড়ছে, এভরিথিং ইজ কামিং ইয়োর ওয়ে ! অবাক বা আনন্দিত না হয়ে সাবধান হন; কারণ সম্ভবত আপনি ভুল লেনে আছেন !
অবশ্য আপনি যদি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহণে থাকেন বা রাষ্ট্রযন্ত্রের অপরিহার্য অনুষঙ্গ কেউ হয়ে থাকেন, সেক্ষেত্রে কিছু বলার নেই। আপনি যেদিক দিয়ে গাড়ী ছোটাবেন , সেটাই তো রাস্তা !
[প্রকাশকালঃ ৯ই সেপ্টেম্বর,২০১৬ ]
by Jahid | Nov 24, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
মুক্তবাজার অর্থনীতি , পুঁজিবাদ বা সমাজতন্ত্র নিয়ে আমার তেমন কোন পড়াশোনা নাই। পুঁজিবাদে মালিকানার অংশীদারিত্ব কীভাবে সম্ভব বা পৃথিবীর শিল্প প্রতিষ্ঠানের কোথাও কোথাও সেটা হচ্ছে কীনা আমি জানি না।তবে চাকরির সুবাদে নানা মানসিকতার শিল্পপতি , মালিকদের সঙ্গে কথা বলতে হয়। এই দেড়যুগে এমন অনেকের সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, যারা মহল্লার টেইলারিং দোকানের কর্মচারী থেকে শতকোটি টাকার গার্মেন্টস শিল্পের মালিক হয়েছেন। অনেক মালিকের সঙ্গে বয়সের সামঞ্জস্যে পারষ্পরিক সম্পর্ক ‘ফর্মাল সম্পর্ক’ ছাড়িয়ে ‘বন্ধুত্বের’ কাছাকাছি চলে গেছে।
আবার একই সঙ্গে কাজের স্বার্থে বিভিন্ন শিল্প কারখানার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে হয়। তাদের সুখ দুঃখের সমব্যাথী হতে হয়। মূলতঃ প্রতিষ্ঠানের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত ছাড়া সব সিদ্ধান্ত ও ভালো-মন্দ তাদেরকেই দেখতে হয়। মালিকদের কার্পণ্য ,উন্নাসিকতা, বঞ্চনা ও ক্ষোভের কথা শুনতে হয়। মালিক-কর্মচারীর এই পারষ্পরিক আস্থাহীনতা , বিশ্বাসহীনতার ব্যাপারে আমার বেশকিছু মন্তব্য আছে। এই টানাপড়েন একটি চিরকালীন সত্য, এটা থাকবেই।
তবে, একটা ব্যাপারে আমি যখনই সুযোগ পেয়েছি আমার অবস্থান থেকে বহু মালিককে অনুরোধ করেছি বা পরামর্শ দিয়েছি।
মূলতঃ নির্দিষ্ট একটা সময়ের পরে যারা প্রতিষ্ঠানের জন্মলগ্ন থেকে মালিকের সঙ্গে থেকেছেন ; শূন্য থেকে প্রাসাদ করে দেওয়ার বিবর্তনে নিজেরাও ক্ষয়িত হয়েছেন– তাঁদের মধ্যে বিশাল এক অনিশ্চয়তা কাজ করা শুরু করে। কারণ, নতুন প্রজন্ম এসে পদাধিকারবলে ক্ষমতায় আরোহণ করেন । সেই আস্থাভাজন কর্মচারীরা তখন নিতান্তই ব্রাত্য হয়ে পড়েন।
‘অতি বুদ্ধিমান ও বিচক্ষণ’ কর্মচারী হয় দুর্নীতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে , সময় থাকতে আখের গুছিয়ে ফেলে। আর সৎ কর্মচারীরার একটা সময়ের পরে হতাশাগ্রস্ত হয়ে প্রতিষ্ঠানের কাজে অমনোযোগী হয়ে পড়ে। সবার আগোচরে নিজের আরেকটি ব্যক্তিগত প্রতিষ্ঠান তৈরীতে মন দেন। পরে একসময় বিশ্বাসঘাতকতার তিলক কপালে নিয়ে সরে পড়েন।
যেই শিল্পপতি ২ লাইনের কারখানা থেকে ১৫ বছরে ১৫০ লাইনের কারখানা তৈরি করেছেন। তার রাজপ্রাসাদের ইটে ঐ শ্রমিক-কর্মচারীর ঘাম-রক্ত আছে। কিন্তু আস্থা ও বিশ্বাসের দোহাই দিয়ে অনেক মালিক তার নির্বোধ শ্যালক , দুঃসম্পর্কের টাউট কাজিন বা ভাই-বেরাদর কে ক্ষমতায় বসিয়ে দেন, মালিকানার অংশীদার করেন। এবং সেটা বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই হিতে বিপরীত হয়। অনোপার্জিত অর্থ ও ক্ষমতা মানুষকে কুটিল ও হীণ করে ফেলে।
অথচ মালিক যদি তার ঐ বিশ্বস্ত কর্মচারীদের কয়েকজনকে মালিকানার অংশীদারিত্ব দিতেন , তাহলে কর্মচারীদের নিজেদের মালিক হওয়ার প্রবণতা কমে যেত। যে মালিকের ২০০০ কোটি টাকার ইন্ডাস্ট্রি আছে তার জন্য ১০ কোটি টাকার আরেকটা ছোট্ট ইন্ডাস্ট্রি করে বিশ্বস্ত কর্মচারীকে ৫-১০% করে মালিকানা দেওয়া তেমন কিছু না । সেটা হলে, ঐ কর্মচারীরা তো তার আজীবনের কেনা গোলাম হয়ে থাকবে। আপনার সম্পদ-সৌভাগ্যের মাত্র ০.০০১% পেয়েই সে বাকী জীবন আপনার কর্মচারী-সহকর্মী হয়ে তার সর্বোচ্চ দিতে থাকবে । কিন্তু মুশকিল হচ্ছে, পরীক্ষিত সহকর্মীর চেয়ে আপনার কাছে বখে যাওয়া বিদেশফেরত ভাতিজা বা আপনার ড্রাগ অ্যাডিক্ট শ্যালক বা আপনার নির্বোধ বড়ভাই অনেক বেশী গুরুত্বপূর্ণ !
কর্পোরেট জীবনের দীর্ঘ দেড় যুগে আমি কয়েকজন মালিককে কনভিন্স করতে পেরেছি , তারা সুফল পেয়েছেন। কয়েকজন মালিককে নিজে থেকেই যৌথ অংশীদারিত্বের এই প্র্যাকটিস করতে দেখেছি। এতে করে তাদের নিজেদের সম্পদ কমেনি, বিশ্বাসঘাতকতার সম্মুখীন হতে হয় নি। বরং কিছু স্থায়ী সহকর্মী পেয়েছেন যারা জীবন দিয়ে হলেও মালিকের প্রতিষ্ঠানকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ও যাচ্ছেন।
প্রকাশকালঃ ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১৬
সাম্প্রতিক মন্তব্য