by Jahid | Nov 28, 2020 | লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
খেয়াল করলাম আমার ষষ্ঠ শ্রেণী পড়ুয়া জ্যেষ্ঠা কন্যার টিভি আসক্তি হয়েছে। বছর দুয়েক আগেও কার্টুন চ্যানেল প্রীতি ছিল। কারো বুদ্ধিতে কীভাবে যেন সবকটি কার্টুন চ্যানেল ব্লক করে দিয়েছিলাম দুই কন্যার মানসিক স্বাস্থ্যের স্বার্থে।
কৈশোরে পা দিয়ে ও স্কুলের বন্ধুদের প্রভাবে ,এখন নতুন আসক্তি ইংরেজি মুভি চ্যানেল ও ভারতীয় কয়েকটি চ্যানেলে। সপ্তাহ দুয়েক আগে বসলাম ওকে নিয়ে । বোঝানোর চেষ্টা করলাম কেন এই টিভি আসক্তি খারাপ।আমাদের টিভি আসক্তি জন্মানোর সুযোগ ছিল না। কারণ ৯০-৯১ সাল পর্যন্ত একমাত্র বিটিভি ও মাঝে সাঁঝে বাঁশের অ্যান্টেনায় সিলভারের হাঁড়িপাতিল লাগিয়ে দূরদর্শনের কয়েকটা চ্যানেলই ছিল সম্বল।
স্বৈরাচার এরশাদের পতনের পরে , ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট দেখতে যাচ্ছিলাম দুই বন্ধু। রিকশাওয়ালা যথারীতি সদ্য পতিত এরশাদের পরিত্যক্ত বাসভবনে কত অগুনতি নগদ টাকা পাওয়া গেছে সেটার বর্ণনা দিচ্ছিল। এক পর্যায়ে সে বলল, এরশাদের বাড়িতে নাকি কি এক অ্যান্টেনা আছে, যেটা দিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অনুষ্ঠান দেখা যায়। এরশাদ ব্যাটা অনেক ধড়িবাজ ছিল– ইত্যাদি ইত্যাদি। বিষয়টি আমাদের কাছেও বিস্ময়কর ছিল।
সম্ভবত: মাস কয়েকের ভিতরেই বিটিভি আনুষ্ঠানিকভাবে সিএনএন ও বিবিসি চ্যানেলের ঘণ্টাখানেকের অনুষ্ঠান প্রচার করা শুরু করল। আমাদের অনেকে সেই ফালতু নিউজ চ্যানেলে ‘ল্যারি কিং শো’ ‘ফ্যাশন শো’ দেখে মুগ্ধ। তবে বিবিসি চ্যানেলের ডকুমেন্টারিগুলো আগেও যেমন টানত এখনো সেইরকম উপভোগ্য মনে হয়। এরপরে বানের জলের মতো মহল্লায় ঘরেঘরে চলে আসল স্যাটেলাইট আর ডিস অ্যান্টেনা। গুচ্ছের চ্যানেলের ছড়াছড়ি। এ বলে আমায় দেখ ও বলে আমায় !
আমি নিজে বছর দশেক আগেই বেডরুম থেকে টিভি বিদায় করেছি। পরিবারকে একান্ত কিছুটা কোয়ালিটি টাইম দিতে হলে টিভিকে বিদায় দেওয়া ছাড়া উপায় ছিল না। সারাদিন কর্মব্যস্ততার পরে এসে এই চ্যানেল সেই চ্যানেল করতে করতে খামোখাই রাত গভীর হয়ে যেত। পরেরদিন কাজ করার পুরো জীবনীশক্তি অবশিষ্ট থাকত না। এই এক চ্যানেলে কিছুক্ষণ, আরেক চ্যানেলে আরো কিছুক্ষণ লাফঝাঁপ করার প্রবণতা সময়ের অপচয়ের সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগ শক্তির একটা বড় ক্ষতি করে ফেলে। বাসার একটি মাত্র টিভি ডাইনিং –লিভিং রুমে ঝুলে আছে। আমি বাড়ি ফিরে খাওয়ার সময়েও টিভি বন্ধ রাখার ব্যাপারে উৎসাহিত করি। ২৪ ঘণ্টায় একবারই একসঙ্গে বসে খাওয়ার সুযোগ হয়। সারাদিনের জমে থাকা কথাবার্তা বলাটা প্রয়োজনীয়। টিভি চালু থাকলে খেতে খেতেও দেখা যায়, কারো মুখের দিকে তাকিয়ে কথা না বলে, সবাই মাথা ঘুরিয়ে টিভির দিকে ফিরে ফিরে চাচ্ছে। ব্যাপারটা আমার কাছে অসহ্য লাগে।
মেয়েকে পুঁজিবাদ, ক্যাপিটালিজম না বুঝিয়ে সহজ করে বোঝালাম অসংখ্য অর্থহীন টিভি মিডিয়ার বিনোদনের মূল উদ্দেশ্য যতোখানি না মানুষকে বিনোদিত করা– তার চেয়েও বেশি বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্থ উপার্জনের। সেটা করতে গেলে দর্শককে টিভির সামনে দীর্ঘক্ষণ আটকে রাখতে হবে। মিডিয়ায় যারা আছেন, তাঁদের মেধা আমাদের সাধারণের চেয়ে অবশ্যই বেশি। বাংলাদেশের গড় আই কিউ ৮২ এর কাছাকাছি; ধরে নিচ্ছি আমার আই কিউ ১০০। এখন যারা অনুষ্ঠান বানাচ্ছেন তাঁদের গড় আই কিউ সাধারণের চেয়ে বেশি। নানাভাবে তাঁদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে, দর্শককে ধরে রাখার, আসক্ত করে ফেলার ; কেননা এই মিডিয়া মেধাবীদের জীবিকা নির্ভর করছে দর্শককে আসক্ত করে উপার্জনের উপরে।
সিংহভাগ চ্যানেলের অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেই আমি অবলীলায় বলতে পারি, টিভির এ পাশে বসে থাকা দর্শকের খুব সামান্যই অবকাশ থাকে নিজের চিন্তা ক্ষমতা প্রয়োগ করার। নির্জীব মাদকাসক্তের মতো পুষ্টিহীন, ঝকমকে অলীক জগতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অমূল্য সময়ের অপচয়।
কন্যাকে বইয়ের ব্যাপারে আগ্রহী করে তোলার জন্য স্বপক্ষে কিছু যুক্তি দাঁড় করালাম। বোঝালাম, বই অনেক বেশি সজীব একটা ব্যাপার। একজন ভালো লেখকের যতো মেধাই থাকুক তাঁর মূল চেষ্টা থাকে প্রকাশিত , উদ্ভাসিত হওয়ার; তাঁর সামান্যই চেষ্টা থাকে আসক্ত করার। একটা ভালো বইয়ের সঙ্গে পাঠকের মিথষ্ক্রিয়া থাকে সরাসরি। লেখকের কল্পনার জগতের সঙ্গে পাঠকের নিজের কল্পনার জগতের সম্মীলন ঘটে। কন্যা কিছুটা বুঝলো মনে হয়। গত কয়েকমাসে কয়েকদিন কিছুক্ষণের জন্য শুধু ইংরেজি মুভি চ্যানেল দেখতে দেখেছি।
এখন টিভির সামনে ওকে দেখলেই আমি মনে করিয়ে দিই , অ্যাডিকশন না তো? সে মৃদু হেসে টিভি থেকে সরে যায়।
প্রথম প্রকাশঃ ১৮ই এপ্রিল, ২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, সাম্প্রতিক
যাহা অবশিষ্ট ছিল ও যাহার আশংকা করিতেছিলাম তাহাই হইয়াছে ; কনিষ্ঠা টুনটুনি বিদ্যালয়ে তাহার সহপাঠিনীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছনা করিয়াছে। শ্রেণি শিক্ষিকার সঙ্গে সাক্ষাৎ করিবার জন্য টুনির ডাক পড়িয়াছে।
দুরালাপে কথা কহিবার সময় টুনি কনিষ্ঠা টুনটুনির বিদ্যালয়ে যাইবার প্রাক্বালে যথারীতি আমার চতুর্বিংশ পুরুষ তুলিয়া অশ্রাব্য গালি বর্ষণ করিতেছিল ! সেই প্রাচীনতম পদ্ধতিতে আমার সমগ্র গোষ্ঠিকুণ্ডলী ধৌত করিতেছিল, আমাদের বংশ খারাপ, সকলেই গোঁয়ারের মতো চলে ; ভদ্রবংশের কেহ হইলে এরূপ আচরণ কখনই করিত না , ইত্যাদি ইত্যাদি।
কনিষ্ঠার কাছ হইতে তাৎক্ষণিক যাহা উদ্ধৃত ও শ্রুত হইয়াছে ; তাহা হইতেছে এই বিশৃঙ্খলার দায়িত্ব অপরপক্ষের! কারণ অপরপক্ষই প্রাথমিকভাবে শুরু করিয়াছিল , কনিষ্ঠা শুধু তাল মিলাইয়া তাহাকে গুটি কয়েক প্রহার করিয়াছে।
আমার সমগ্র বিদ্যালয় জীবনে বোধকরি সপ্তম শ্রেণীতে পড়িবার সময়, অপাঠ্য পুস্তক( সেবা প্রকাশনী, হুমায়ূন আহমেদ ইত্যাদি) লুকাইয়া পড়িতে গিয়া শ্রেণীকক্ষে কয়েক সতীর্থ সমেত বমাল ধরা পড়িয়াছিলাম। প্রধান শিক্ষকের নিকট হইতে গৃহে লালবর্ণ পত্র গিয়াছিল। উহাই প্রথম ও উহাই শেষ।
কোন বিদ্যালয়ে , কোন শ্রেণীতে পড়িতাম , কাহাদের সহিত খেলিতাম, দলাদলি করিতাম, কাহাকে প্রহার করিতাম, প্রহৃত হইতাম; আমাদের জনক-জননী কদাপি তাহার খোঁজ রাখিতেন। জনক প্রায়শ: ভুলিয়া যাইতেন আমি বিদ্যালয়ে নাকি মহাবিদ্যালয়ে ; বিজ্ঞান না কলাবিভাগে অধ্যয়ন করিতেছি। একবারই তিনি আমার অধ্যয়ন লইয়া মাথা ঘামাইয়াছিলেন, অন্যের সু অথবা কুপরামর্শে আমাকে অর্থনীতি বিভাগ হইতে মূলোৎপাটন করিয়া বস্ত্র প্রকৌশলীতে ভর্তি হইতে বাধ্য করিয়াছিলেন। উহাই প্রথম উহাই শেষ।
স্বল্পসংখ্যক সন্তানাদি লইয়া হইয়াছে আমাদের সমস্যা, কী করিলে কী হইবে তাহা ভাবিতে ভাবিতে অভিভাবক-অভিভাবিকাদের রাত্রির সুখনিদ্রার তিরোধান ঘটিতেছে !
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
কিছুদিন আগে , ২০১৩ সালের একটা স্ট্যাটাস রিপোস্ট করেছিলাম প্রবাস জীবন নিয়ে ।
কেন জানি না , কয়েকজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু মর্মাহত হয়েছেন। কেউ অবলীলায় বলেছে ‘ আঙুর ফল টক’ বলেই নাকি আমি প্রবাস জীবনের সীমাবদ্ধতাগুলোকে অনাবশ্যক গুরুত্ব দিয়েছি। প্রারম্ভিক ক্ষমা প্রার্থী হওয়া স্বত্বেও আমার লেখায় বিদ্রূপ ও বিদ্বেষের ছোঁয়া পেয়েছেন তাঁরা !
এটাও সত্যি সংখ্যালঘু অনেকেই প্রবাস জীবন বেছে নেওয়ার পরে আবার দেশে ফিরে আসতে চান ; কিন্তু পেরে ওঠেন না । কেন পারেন না , সেটা নিয়ে আমার সঙ্গে কথা হয়েছে বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকজন ঘনিষ্ঠের সঙ্গে।
মূলত: অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আমাদের আগের কয়েক প্রজন্মের প্রবাস মুখী হওয়ার মূল কারণ । নতুন করে স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের বাঁধাগুলো আমার দৃষ্টিতে নীচের কয়েকটি ; বিদ্বজ্জনেরা আরো কিছু বের করতে সমর্থ হবেন।
১। একবার উন্নত বিশ্বের দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশে অভ্যস্ত হয়ে পড়লে নতুন করে বাংলাদেশের অশ্লীল, কদর্য পুতিগন্ধময় পরিবেশে মানিয়ে নেওয়া কঠিন । যতো দেশপ্রেমের কথাই বলি না কেন, প্রতিনিয়ত নানা অদ্ভুতুড়ে প্রতিকার হীন সামাজিক ব্যাধি ও অন্যায়ের মুখোমুখি হয়ে স্নায়ুক্ষয় করা ছাড়া উপায় থাকে না। আমার অনেক চিকিৎসক ও প্রকৌশলী বন্ধু যাঁদের গায়ে আওয়ামীলীগ ও বিএনপির গাঢ় সীল নেই ; নিতান্তই রাজনীতি বিমুখ –তাঁদের কয়েকজন ছেড়ে গেছেন প্রশাসনের সহ্যাতীত অবিবেচনার জন্য। এমন না যে , তাঁরা অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। কিন্তু, তাঁরা ভেঙ্গে পড়েছিলেন ক্রমাগত অন্যায় সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করতে পারার মনোবেদনায়।
২। পরের সর্বগ্রাসী যে বিষয়টি আমাদের মেধাবী ও অমেধাবী সবাইকে ঠেলে দেয় পশ্চিমের দিকে তা হচ্ছে সামাজিক নিরাপত্তার অভাব। পশ্চিমাদেশের তুলনায় আমাদের সামাজিক নিরাপত্তা শতভাগের একভাগও নয়। একবার সেই নিরপত্তায় অভ্যস্ত হয়ে গেলে তার মায়া কাটানো মুশকিল।
৩। আমাদের জীবনের অনিশ্চয়তা ছিল, আছে এবং থাকবে । নিতান্ত নির্বোধ ছাড়া আর সকলেই অনিশ্চয়তায় ভোগে। জীবনের অনিশ্চয়তার কাটানোর অলীক কল্পনা আচ্ছন্ন করে রাখে প্রবাসীদেরকে। তাঁদের ধারণা হয়, তাঁদের জীবনের অনিশ্চয়তা অনেক কমিয়ে ফেলেছে পশ্চিমা দেশ। তবে এই অনিশ্চয়তার প্রভাব বেশি দেখা যায় আমাদের উচ্চ-মধ্যবিত্তদের মধ্যে।
৪। প্রথম প্রজন্মের মেধাবী অনেকেই তাঁদের অর্জিত ডিগ্রী ও মেধা নিয়ে ফিরে আসতে চান দেশে। কিন্তু তাঁদের মেধা প্রয়োগের বাস্তবিক কোন সুযোগ থাকে না। কেউ কেউ , বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হয়ে তাঁর মেধার কিছুটা বিলিয়ে যেতে পারেন। অন্যদের বাধ্য হয়েই পশ্চিমাদেশের শিক্ষায়তনে ও ইন্ডাস্ট্রিতে দিনাতিপাত করতে হয়।
৫। দ্বিতীয় প্রজন্মকে দেশে ফিরিয়ে নিয়ে আসা প্রায় অসম্ভব ও অমানবিক ।কেউ একটা দেশে জন্মে সেখানে তাঁর কৈশোর কাটিয়ে ফেললে সেটি তাঁর সারাজীবনের স্মৃতি কাতর মাতৃভূমি হয়ে যায়। একটা শিশুর হয়তো স্বদেশ পরিবর্তনে কিছুই যায় আসে না। সে নতুন ভাষা ও কৃষ্টি সংস্কৃতিতে দ্রুত অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু একটা কিশোর বা কিশোরীর বেড়ে ওঠার সময়ে মন দৈহিকতায় পরিপার্শ্বের সবকিছুর ছাপ চিরস্থায়ী হয়ে পড়ে। লন্ডন, সিডনী, নিউইয়র্ক যাই বলি না কেন, সেখানে বেড়ে ওঠা কাউকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার প্রশ্নই আসে না ! আমার কাছে সেটি বড্ড অমানবিক মনে হয়।
আমার কয়েকজন আত্মীয়পরিজনদেরকে দেখেছি, দেশে ফিরে তাঁরা হয়তো পুনরায় কোন না কোনভাবে আমাদের ধুলাবালিতে অভ্যস্ত হতে পেড়েছেন। মশার কামড়ে তাঁদের তেমন কিছু হচ্ছে না ; কিন্তু প্রবাসে জন্ম নেওয়া বা শৈশবেই চলে যাওয়া শিশু-কিশোরের বাংলাদেশের ধূলায়, লোডশেডিং , ট্রাফিক জ্যামে আর মশার কামড়ে প্রাণান্ত হয়। দেখে মায়া লাগে।
৬। আরেকটি প্রকট বা প্রচ্ছন্ন কারণ আছে। সেটা আমার বেশ কয়েকজন প্রবাসী সতীর্থের সংগে অন্তরঙ্গ আলোচনার উপলব্ধি । আসলে শিক্ষিত বাঙালী মেয়েরা বিয়ের পর নিজের স্বামী সন্তানদেরকেই নিজের পৃথিবী মনে করে। সামাজিকতায় অভ্যস্ত হয়ে, স্বামীর কর্মস্থল যে জেলাতেই হোক, যে দেশেই হোক আপন করে নেয়। তারপরেও প্রবাস জীবনে একাকীত্বের সঙ্গে অবাধ স্বাধীনতা ও মুক্তির স্বাদ থাকে। ছোট্ট নিউক্লিয়াস পরিবারের স্বামীকে দিনে ঘন্টাখানেক সময়, আর বাচ্চাকে কিছুক্ষণ সময় দিলে বাকী সময় একান্ত নিজের ।
ঠিক উল্টোটা বাংলাদেশে। নিজের স্বামী-সন্তান- সংসারের পাশাপাশি, শ্বশুর- শাশুড়ি, দেবর- ননদ, ভাশুর- ভাবী, স্বামীর মামাতো, চাচাতো খালা-মামা-চাচা-ফুফু ; নাই নাই করেও গুচ্ছের বিশাল একটা জনগোষ্ঠীকে সময় দিতে হয় , ম্যানেজ করে চলতে হয়। পাশাপাশি থাকে পারিবারিক রাজনীতি ও কূটকচাল।
শিক্ষিত বাঙালী প্রবাসী গৃহবধূদের শতভাগ তাই দেশে ফিরে নতুন করে বসবাসে সবচেয়ে বড় অনিচ্ছার কারণ হয়ে পড়েন।
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, লাইফ স্টাইল
রাজকুমার হিরানি : জীবনে থামতে জানতে হয়।
[ সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়াকে দেওয়া সাক্ষাৎকার অবলম্বনে মারুফ ইসলাম।। ]
পিকে (২০১৪) ও থ্রি ইডিয়টস (২০০৯) ছবির জন্য আলোচিত রাজকুমার হিরানি। হিরানি পরিচালিত অন্য দুটি চলচ্চিত্র মুন্নাভাই এমবিবিএস (২০০৩) ও লাগে রাহো মুন্না ভাই (২০০৬)। তাঁর জন্ম ১৯৬২ সালের ২০ নভেম্বর ভারতের নাগপুরে। ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করলেও তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন চলচ্চিত্রকে।
আপনার জীবনাদর্শ কী? জীবনে বহুবার আমি এ প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। কখনোই প্রকৃত উত্তর খুঁজে পাইনি। আমরা আসলে কেউই জানি না আমরা কেন এই ধরাধামে এসেছি। মানুষ বাঁচে কত দিন? বড়জোর ষাট, সত্তর কিংবা আশি বছর? প্রতিদিন সকালে ঘুম ভাঙার পর আপনি যদি মনে করেন জীবনটা খুবই সংক্ষিপ্ত, তাহলে দেখবেন, জীবনটাকে আপনি ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে পারছেন। কিন্তু মজার ব্যাপার হচ্ছে, আমরা প্রায় সবাই মনে করি, আমাদের হাতে প্রচুর সময় রয়েছে, জীবনের আয়ু সংক্ষিপ্ত নয়।
তাই আমি মনে করি, আমাদের প্রতি মুহূর্তে মনে করা উচিত, এ পৃথিবীতে আমাদের সময় খুব, খুব সামান্য। আজ থেকে ৫০ অথবা ৭৫ বছর পর কেউ হয়তো আমাকে আর চিনবে না। তো এসব চিন্তা করে ঘুম নষ্ট করার দরকার কী! এসব নিয়ে আমি মোটেও মাথা ঘামাই না। আমাদের প্রয়োজন টাকা, আমাদের প্রয়োজন সম্পদ, কিন্তু মনে রাখা প্রয়োজন, এসব অর্জনেরও একটা সীমা আছে। আমি মনে করি, মানুষের জীবনে সত্যিকার অর্থে দুটি সমস্যা আছে—এক. স্বাস্থ্য ও দুই. দারিদ্র্য।
আপনি দেখবেন, যারা জ্যোতিষীর কাছে যায়, তারা জানতে চায় তাদের টাকাপয়সা কিংবা সম্পদ হবে কি না, তাদের স্বাস্থ্য ভালো থাকবে কি না ইত্যাদি। কারণ জীবনের শেষ বেলায় এক সকালে উঠে আপনার মনে হবে, আপনার দেখভাল করার মতো কেউ আছে কি না। আর তখনই আপনার দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে।
আমি মনে করি, আমি সব সময় ও রকমটাই ভাবি। এটা কিছুটা বংশগত ব্যাপারও বটে। আমি সৌভাগ্যবশত এমন এক পরিবারে জন্মেছি যে পরিবারটা খুব একটা ধনী ছিল না। তবে বাবা চিন্তা-চেতনায় ছিলেন যথেষ্ট আধুনিক।
একবার আমাকে খুব ভয় দেখানো হলো। নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে গিয়ে জানলাম, শরীরের কোনো একটা অংশ ঠিকঠাকমতো কাজ করছে না। চিকিৎসক বললেন, পরিবারের কাছে ফিরে যান, আপনি খুব শিগগিরই জটিল রোগে আক্রান্ত হবেন। চাপের মধ্যে ভালো কাজ করা মানে অনেকটা সংগ্রাম করার মতো। আমি সব সময় চেষ্টা করি এই ‘মানসিক চাপ’ বিষয়টাকে পাত্তা না দিতে।
বিলিয়ার্ড খেলোয়াড় গীত সিতাই একবার আমাকে বলেছিলেন, তিনি একবার থাইল্যান্ডে ফাইনাল খেলা খেলছিলেন। তাঁর প্রতিপক্ষের নাম ছিল সম্ভবত ওয়াত্তানা। এই খেলোয়াড় প্রচুর পয়েন্ট নিয়ে ফাইনালে উঠেছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই একটা খেলায় হেরে গেলেন এবং তারপর একের পর এক হারতে লাগলেন। স্বাভাবিকভাবেই গীত তখন খুব অবাক হয়েছিলেন এবং তাঁকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ব্যাপার কী? উত্তরে ওয়াত্তানা বলেছিলেন, আমি মনে করি, আমি সেই খেলায় অবশ্যই জিততাম। কিন্তু আমার সম্পূর্ণ মনোযোগ ছিল পুরস্কারের টাকার দিকে। আমি ভাবছিলাম, পুরস্কারের টাকা পেলে আমার বাবার জন্য একটা বাড়ি কিনব। এই ভাবনা আমাকে কিছুটা বিভ্রান্ত করেছিল। আমি তখন কিছুটা নার্ভাস বোধ করছিলাম। কিছুতেই খেলায় মনঃসংযোগ করতে পারছিলাম না এবং যার ফলে আমার প্রতিপক্ষ খেলাটায় জিতেছিল।
গীতের এই গল্প থেকে আমি শিখেছিলাম, আপনি কী করছেন, তার লক্ষ্য ঠিক রাখা খুবই জরুরি।
আমি সম্প্রতি ক্রিস্টোফার নোলানের একটি সাক্ষাৎকার পড়েছিলাম। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, তিনি কোনো মুঠোফোন ব্যবহার করেন না। এমনকি তাঁর কোনো ই-মেইল আইডিও নেই। প্রতিদিন আপনি নাছোড় বান্দার মতো অন্তত ২০ হাজার মানুষের মনোযোগ চান। কিছু মানুষ এ বিষয়টিকে উপভোগ করতে পারে, তবে কিছু মানুষ মনে করে এটা এক ধরনের চিত্তবিনোদন। তো এ কথা বললাম এ জন্য যে আমাকে বিরক্ত করার কেউ নেই, না ফোন, না কোনো মানুষ। কিন্তু যখন আপনি একটু একটু করে পরিচিত হয়ে উঠবেন, তখন অনেক কিছুই আপনার পিছু লাগবে। জগতে চিত্তবিনোদনের অনেক উপাদান আছে। আপনাকে কর্মে সফল হতে হলে ওই সব থেকে অবশ্যই নিজেকে দূরে রাখতে হবে।
প্রত্যেকের বোঝা উচিত, ‘প্রয়োজন’ ও ‘লোভের’ মধ্যে পার্থক্য কী। আপনার জানা উচিত, ঠিক কোন জায়গাতে আপনাকে থামতে হবে এবং এটাও জানা উচিত, ‘আর নয়, বহুত হয়েছে’ কথাটা কখন বলতে হবে। অনিশ্চয়তা আপনাকে খতম করে দিচ্ছে? পৃথিবীর সবেচেয়ে ধনাঢ্য ব্যক্তির দিকে তাকান, তিনিও বলবেন, ভয় লাগে, কখন সব শেষ হয়ে যায়! আপনি যদি এই অনিশ্চয়তার ভয় কাটাতে পারেন, তবে সেটাই হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচায়ক।
অনেকেই আপনাকে খারাপ মানুষ মনে করতে পারে। কিন্তু আপনি নিজেকে কখনোই খারাপ মনে করেন না। এটা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। এ বিষয়টি প্রথম মাথায় ঢুকিয়ে দিয়েছিল বোমান ইরানি, যখন আমরা একসঙ্গে মুন্না ভাই এমবিবিএস বানাচ্ছিলাম তখন। বিষয়টি নিয়ে বোমানের সঙ্গে অনেক বিতর্ক হয়েছে আমার। এরপর থেকে আমি যখন আমার ছবির কোনো চরিত্রের কথা ভাবি, তখন কখনোই সেই চরিত্রকে ‘ভিলেন’ হিসেবে ভাবি না। কারণ সে তাঁর জীবনে তো ‘হিরো’। নিজের জীবনে মানুষ কখনো নিজেকে ‘খলনায়ক’ হিসেবে দেখে না। সে কখনোই ভাবে না যে সে একজন খারাপ মানুষ।
সুতরাং এখন আপনি বুঝতেই পারছেন, আমরা আমাদের মাথার ভেতর আসলে গল্প তৈরি করি, ভিলেন বানাই।
কিছুদিন আগে মুম্বাই ইউনিভার্সিটির উপাচার্যের সঙ্গে আমার দেখা হয়। তিনি বলেন, ক্লাসরুমভিত্তিক শিক্ষার দিন শেষ হয়ে গেছে। এখন আমাদের বাচ্চাদেরও হাতে পৌঁছে গেছে আইপ্যাড, আইফোন। এ যন্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে সবচেয়ে ভালো শিক্ষক।
থ্রি ইডিয়টস দেখার পর কত মানুষ আমার কাছে এসেছে, আমি তা বলে বোঝাতে পারব না। তারা বলেছে, তাদের মধ্যে কত গলদ আছে! আমি আপনাকে বলতে পারব না যে কত প্রকৌশলী আমার কাছে এসেছেন। তাঁরা বলেছেন, ‘আমরা ভুল পেশায় আছি। আমরা এখন কী করব? আমরা এ পেশা ছাড়তেও পারি না। ভয় লাগে, কারণ এটাই যে আমাদের উপার্জনের পথ। কেউ কেউ অবশ্য ছেড়েও দিচ্ছেন। কিছু চিকিৎসকের সঙ্গে আমার দেখা হয়েছে, তাঁরা তাঁদের পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।’
উপাচার্য মহাশয় সেদিন আমাকে বলেছিলেন, ‘আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় গলদ আছে। শিক্ষাব্যবস্থার বদল প্রয়োজন। কিন্তু এটা বদলাতে সবাই ভয় পায়। যেদিন আমরা এই ভয় থেকে মুক্ত হতে পারব, সেদিনই সত্যিকার পথ খুঁজে পাব।’
আমার মনে হয়, জীবনে সফল হওয়ার জন্য যেকোনো একটা বিষয় প্রয়োজন। কিন্তু মানব সম্প্রদায় হিসেবে আমরা বরাবরই আমাদের জীবন ও মনকে উদ্ভট পথে পরিচালিত করি। বেঁচে থাকার জন্য কিছু অর্থ উপার্জন করুন। দ্যাটস অ্যানাফ!
যাহোক, আমি শিক্ষা নিয়ে কথা বলছিলাম। বলছিলাম যে আমরা আসলে বাস করি কয়েক হাত ঘুরে আসা জ্ঞানের মধ্যে। বিষয়টি আর একটু পরিষ্কার করে বলা দরকার। যখন একটি পশু মারা যায়, সে আসলে মারাই যায়। পশুদের এমন কোনো প্রজন্ম নেই যারা তাদের জ্ঞান পরবর্তী প্রজন্মের কাছে সরবরাহ করতে পারে। কোনো পশুই বই লিখতে পারে না, যে বই বছরের পর বছর অন্য প্রাণীরা পড়তে পারে, কিন্তু মানুষ পারে। তাই মানুষের জ্ঞান আসলে ‘সেকেন্ডহ্যান্ড নলেজ!’
প্রকাশকালঃ ১১ই এপ্রিল,২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র
ওপেক্স গ্রুপের চাকরির প্রথমদিকে মেজর(অব:) সাজেদ স্যার এসে অন্য একটা টিমে যোগ দিলেন।
একটা বিশ ফুট বাই বিশ ফুট রুমে তিনতলার ছাদের ঠিক নিচে চারজনের চারটা টেবিল। ৯৮ সালের জুনের ভয়ংকর দুর্বিষহ গরম। বাজেটের অজুহাতে এসি লাগানো হচ্ছে না। আমরা কাজ করি আর ঘামি; ঘামি আর কাজ করি !
কী মনে করে আমাদের রুমে একদিন ডিরেক্টর কর্নেল (অব:) ফরিদ স্যারের আগমন। সাজেদ স্যার খুব বিনয়ী গলায় অনুমতি নিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করলেন।স্মৃতি থেকে লিখছি , গল্পটা অনেকটা এরকম ছিল।
দুই গ্রামের দুই হাড়কিপটের ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে, কিন্তু যোগ্য সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । কিপ্টেমির ‘সুখ্যাতি’ শুনে সম্বন্ধ করতে যায়, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় ওই লোক মিতব্যয়ী নন মোটেও।
বহু-গ্রাম ঘুরে ঘুরে অনেক খুঁজে ছেলের বাপ অবশেষে হবু বিয়াইয়ের বাড়ী প্রায় ভরা সন্ধ্যায় পৌঁছালেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, খাওয়ার ডাক আর পরে না। পাত্রের বাপ বুঝলেন, তিনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন ! সারা বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার, একটা মাত্র তেলের কুপি টিমটিময়ে জ্বলছে। একথা সেকথার পরে গভীর রাতে খাওয়ার ডাক ! দাওয়ার বসে, সামনের পাত্রে সামান্য খাবার দিয়েই মেয়ের বাপ ফুঁ দিয়ে একটা মাত্র কুপিটিও নিভিয়ে দিলেন।
‘দেখে দেখে খাওয়ার কি আছে। খামোখা তেল নষ্ট!’
খাওয়া শেষের দিকে আবার বাতি জ্বালিয়ে দেখেন মেহমান বিয়াই সাহেব তার গায়ের গামছা আর লুঙ্গি খুলে পাশে রেখে দিয়েছে , পুরো দিগম্বর ! তিনিও হাসি হাসি মুখে বললেন, ‘এই গরমে অন্ধকারে খামোখা লুঙ্গি গামছা ঘামিয়ে লাভ কি!’
দুই হাড়কিপটে বিয়াই তাদের যোগ্য সম্বন্ধ পেয়েছিল।
গল্প শেষে ডিরেক্টর স্যারকে সাজেদ স্যার বললেন, ‘স্যার আমাগো তো এখন জামা কাপড় খুইল্যা মাথায় দিয়া বইস্যা কাজ করতে হইব, যতক্ষণ না এসি লাগান।’
পরের দিন আমাদের অফিস রুমে এসি চলে আসলো !
Feeling Nostalgic for OPEX Group
সাম্প্রতিক মন্তব্য