ওপেক্স গ্রুপের চাকরির প্রথমদিকে মেজর(অব:) সাজেদ স্যার এসে অন্য একটা টিমে যোগ দিলেন।
একটা বিশ ফুট বাই বিশ ফুট রুমে তিনতলার ছাদের ঠিক নিচে চারজনের চারটা টেবিল। ৯৮ সালের জুনের ভয়ংকর দুর্বিষহ গরম। বাজেটের অজুহাতে এসি লাগানো হচ্ছে না। আমরা কাজ করি আর ঘামি; ঘামি আর কাজ করি !
কী মনে করে আমাদের রুমে একদিন ডিরেক্টর কর্নেল (অব:) ফরিদ স্যারের আগমন। সাজেদ স্যার খুব বিনয়ী গলায় অনুমতি নিয়ে একটা গল্প বলা শুরু করলেন।স্মৃতি থেকে লিখছি , গল্পটা অনেকটা এরকম ছিল।
দুই গ্রামের দুই হাড়কিপটের ছেলেমেয়ে বড়ো হয়েছে, কিন্তু যোগ্য সম্বন্ধ খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না । কিপ্টেমির ‘সুখ্যাতি’ শুনে সম্বন্ধ করতে যায়, কিন্তু পরিশেষে দেখা যায় ওই লোক মিতব্যয়ী নন মোটেও।
বহু-গ্রাম ঘুরে ঘুরে অনেক খুঁজে ছেলের বাপ অবশেষে হবু বিয়াইয়ের বাড়ী প্রায় ভরা সন্ধ্যায় পৌঁছালেন। সন্ধ্যা পেরিয়ে রাত, খাওয়ার ডাক আর পরে না। পাত্রের বাপ বুঝলেন, তিনি ঠিক জায়গাতেই এসেছেন ! সারা বাড়ি ঘুটঘুটে অন্ধকার, একটা মাত্র তেলের কুপি টিমটিময়ে জ্বলছে। একথা সেকথার পরে গভীর রাতে খাওয়ার ডাক ! দাওয়ার বসে, সামনের পাত্রে সামান্য খাবার দিয়েই মেয়ের বাপ ফুঁ দিয়ে একটা মাত্র কুপিটিও নিভিয়ে দিলেন।
‘দেখে দেখে খাওয়ার কি আছে। খামোখা তেল নষ্ট!’
খাওয়া শেষের দিকে আবার বাতি জ্বালিয়ে দেখেন মেহমান বিয়াই সাহেব তার গায়ের গামছা আর লুঙ্গি খুলে পাশে রেখে দিয়েছে , পুরো দিগম্বর ! তিনিও হাসি হাসি মুখে বললেন, ‘এই গরমে অন্ধকারে খামোখা লুঙ্গি গামছা ঘামিয়ে লাভ কি!’
দুই হাড়কিপটে বিয়াই তাদের যোগ্য সম্বন্ধ পেয়েছিল।
গল্প শেষে ডিরেক্টর স্যারকে সাজেদ স্যার বললেন, ‘স্যার আমাগো তো এখন জামা কাপড় খুইল্যা মাথায় দিয়া বইস্যা কাজ করতে হইব, যতক্ষণ না এসি লাগান।’
পরের দিন আমাদের অফিস রুমে এসি চলে আসলো !
Feeling Nostalgic for OPEX Group
সাম্প্রতিক মন্তব্য