সেদিন ট্রেডের এক বড়ভাই আফসোস করে বলছিলেন , ‘বুঝলা জাহিদ, একসময় ম্যানেজার বা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে অধীনস্থরা বুঝে শুনে চলত। রুমে ঢোকার আগে খোঁজ খবর নিত- বসের মুড কেমন আছে, ইত্যাদি।এখন আমাগো ম্যানেজাররাই উল্টা অধীনস্থদের সমঝে চলি ! যারা ব্যবসা এনে দিচ্ছে, এঁদেরকে নানারকম ‘স্নেহ’ দিয়ে প্রতিষ্ঠানে খুশী রাখতে হচ্ছে ! সেই স্নেহ তাঁদের অযাচিত দাবিদাওয়া থেকে শুরু করে, টেবিলের তলা দিয়ে নগদ অর্থ পর্যন্ত হয়ে থাকে!’
ওয়েল, আপনি যদি সেই ব্যবসা এনে দেওয়া কর্মচারী হয়ে থাকেন। বসের মেজাজ কেমন আছে , সেসব নিয়ে থোড়াই কেয়ার করবেন। কেননা, আপনি প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি। বাকি সবাই ধইঞ্চা ! আপনার এনে দেওয়া ব্যবসায় সবাই দুইবেলার সাদা-ভাত খাচ্ছে, সেটা কেন আপনি ভুলে যাবেন বা অন্যকে ভুলতে দেবেন ?
আর যদি আপনার প্রতিষ্ঠানের দ্বিতীয় শ্রেণীর কেউ হন, যাকে মাস শেষের বেতন দিয়েই প্রতিষ্ঠান ভেবে থাকে, একে চাকরিতে রাখা হয়েছে এই দুর্মূল্যের বাজারে, এই তো কত ! তাহলে, আপনার জন্য সেই প্রাগৈতিহাসিক ম্যানেজমেন্টের নিয়ম ফলো করতে হবে। বেতন বৃদ্ধি, ছুটির দরখাস্ত যে কোন যৌক্তিক চাহিদাই হোক না কেন, বসের কাছে বা মালিকের কাছে সেটা উত্থাপনের আগে বুঝে নিন তাঁর মুড কেমন । ভুলে যাবেন না , আপনি ধইঞ্চা শ্রেণী থেকে উত্তরিত না হতে পারলে, খামোখা বসের ঝাড়ি খাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যাবে। একটু আগেই হয়তো আপনার মালিক সেই ব্যবসা এনে দেওয়া কর্মচারীর সঙ্গে হো হো হা হা করছিলেন। যেই না আপনি রুমে ঢুকে কোন কথা বললেন! ঊর্ধ্বতনের চেহারা বাংলা পাঁচের মতো হয়ে যাবে। ব্যবসা মন্দা,লোক ছাঁটাই ইত্যাদি নানা বাউল-সঙ্গীত শুরু করে দেবেন তিনি। একসময় দেখবেন আপনি যে কিছু যৌক্তিক দাবী নিয়ে এসেছিলেন সেটা ভুলে গিয়ে কতক্ষণে ওই ঝাড়ির হাত থেকে নিষ্কৃতি পাবেন সেই চিন্তা করছেন। এটাই নিদারুণ বাস্তবতা !
আর যদি আপনি দুগ্ধ-প্রদানকারী প্রাণী হয়ে থাকেন। বসের বা মালিকের মেজাজ যাই থাক না কেন ; আপনাকে দেখা মাত্রই তাঁদের মেজাজ তবিয়ত শীতল হয়ে যাবে। কোনদিন যদি সামনে বসে ইয়েও করে ফেলেন আপনি নিশ্চিত থাকতে পারেন, দুর্গন্ধের কথা ভুলে তাঁরা আপনার মল-মূত্রের হলদেটে সোনালী রঙ নিয়ে উৎফুল্ল হবেন।
সাম্প্রতিক মন্তব্য