গত অপরাহ্ণে কন্যা বড় টুনটুনি কহিল, ‘ পিতা তোমার বিরল কেশ দিনেদিনে আরও বিরল হইতেছে এবং একাধারে প্রবল ধবলবর্ণের প্রকোপে তোমাকে আরও অকালবৃদ্ধ দেখাইতেছে। আমার অন্য সকল সখীদের পিতা তোমার বয়স্য বা অগ্রজ হইলেও তোমার তুলনায় তাহারা অনেক তরুণতম। দয়া করিয়া অবশিষ্ঠ যাহা কেশ বর্তমান আছে তাহা কালো রঙে রঞ্জিত কর ; তোমার এহেন বার্ধক্যপীড়িত চেহারা পছন্দ হইতেছে না। তুমি কি দেখ নাই, জননী নিয়মিত কেশপরিচর্যা করে, সৌন্দর্যবর্ধনকারী দক্ষ দোকানসমূহে মাসিক বরাদ্দে যাতায়াত করে ; ফলশ্রুতিতে তাহার চুলের সঠিক বর্ণ ও তাহার নিজের বয়স আন্দাজ করা মুশকিল হইয়া পড়ে !’
একবার ভাবিলাম তাহাকে বুঝাইয়া বলি, ‘ইহাই নিয়তি ! কেশ পক্ক হইবে, চর্ম ঝুলিয়া যাইবে, গেঁটেবাত হইবে ; ইহার পরে একসময় মধুমেহ, হৃদরোগ একত্রে আসিয়া আমাকে অবসন্ন জীবনসায়হ্নে উপস্থিত করিবে।’ পরে ভাবিলাম, এই মুহূর্তে তাহার জন্য এই ব্যাখ্যা অধিকতর বেদনাদায়ক হইবে ; যাহা অপ্রয়োজনীয় , অনাবশ্যকও বটে ! অতিবাহিত সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সে সকল বাস্তবতা বুঝিতে সক্ষম হইবে।
অতঃপর আমার চিরাচরিত আশাবাদী মন লইয়া হাসিহাসি মুখশ্রী করিয়া কন্যাকে কহিলাম, ‘আমার যে এখনো কয়েকগুচ্ছ কেশ মস্তিষ্কের উপরিধারে বর্তমান আছে, আমি তাহাতেই অপরিসীম খুশী। চুলের ধবলবর্ণ লইয়া দুশ্চিন্তা করিবার অবকাশ কোথায়!’
প্রকাশকালঃ ১লা অক্টোবর,২০১৬
সাম্প্রতিক মন্তব্য