by Jahid | Jan 28, 2022 | করপোরেট অবজারভেশন
টারজান ইংলিশ
আমাদের ট্রেডে বা করপোরেট জগতে অনেক লোককে স্মার্ট ভাবা হয় শুধুমাত্র পলিশড্ ইংরেজি বলার দক্ষতা দিয়ে। আমি এমন অনেককে চিনি, যাঁদের কারিগরি জ্ঞান ও দক্ষতা অসাধারণ, আন্তর্জাতিক মানের , কিন্তু ট্রেডে তারা ব্রাত্য, কারণ ইংরেজিতে কথা বলার দক্ষতা নাই।
গার্মেন্টস ট্রেডের প্রথমদিকে একবার কোন এক ইস্যুতে ক্রেতাকে কড়া ভাষায় ই-মেইল দিয়েছিলাম। আমার ভাষাজ্ঞান ও টুইস্টেড ইংরেজি বলার দক্ষতার অভাব নিয়ে আমার সুপারভাইজার সোজা চেয়ারম্যানের কাছে অভিযোগ করে বসলেন। চেয়ারম্যান পুরো ব্যাপারটা খতিয়ে দেখলেন। তিনি ছিলেন ঠোঁটকাটা লোক। সবার সামনেই বললেন, ‘জাহিদের এই ই-মেইলে কাজ হইছে কিনা সেটা বলেন! ক্রেতারা আমাদের ইংরেজি জ্ঞান নিয়ে বিচলিত নয়। আমেরিকা-ইংল্যান্ড ছাড়া বেশীরভাগ দেশের ক্রেতারা টারজান ইংলিশ দিয়েই ব্যবসা করে। আই টারজান, ইউ জেইন, উই লাভ। ঘটনাতো ক্লিয়ার। টারজান জেইনরে ভালোবাসে। এতে গ্রামার থাকলেই কি আর না থাকলেই কি!’
অনেককে দেখি, ইংরেজিতে লেজেগোবরে কিন্তু, নিজের কাজের কারিগরি দক্ষতায় অনন্য। বুঝি এঁদের যদি আরেকটু প্রকাশভঙ্গী ভালো থাকতো এঁরা অনেকদূর পর্যন্ত যেতে পারতেন। চীন জাপানের উদাহরণ টেনে লাভ কী, ওরা এটা নিয়ে মোটেও চিন্তিত নয়। কিন্তু আমাদের মানসিক দীনতা কোনদিন কাটবে বলে মনে হয় না !
এরকম কোন কিছু হলে, সহকর্মীদেরকে চেয়ারম্যান সাহেবের টারজান ইংলিশের গল্পটা শুনিয়ে দিই।
শুধু পলিশড্ ইংরেজি নয়, টেকনিক্যালি নিজেদের ঋদ্ধ করেন। বলছি না, ইংরেজিতে দক্ষতার দরকার নেই। তাই বলে সেটা নিয়ে হীনম্মন্যতায় ভুগবেন না। কর্মক্ষেত্রে যে কোন ইস্যুতে নিজেকে সর্বোচ্চ ক্ষমতা দিয়ে প্রকাশ করুন।
প্রথম প্রকাশঃ ১৪ই জুন , ২০১৪
by Jahid | Jan 28, 2022 | করপোরেট অবজারভেশন
ট্রেডের এক বড়োভাই কোন কারণে বিমর্ষ ছিলেন। তাঁর ঊর্ধ্বতন একজনের চাকরীচ্যুত হয়েছেন হুট করে। সেই বসের সঙ্গে তাঁর কিছু খুনসুটি ছিল। তাঁকে বহুদিন আগে শোনা একটা কর্পোরেট জোক বললাম। মরাল অব দি স্টোরি উহ্য রেখে, সেইটা বোঝার মতো কাবিলিয়াত তার আছে।
তো হয়েছে কী , এক জঙ্গলে অনেক প্রাণীর সাথে বনের রাজা সিংহ আর তার স্ত্রী সিংহী থাকে। দৈর্ঘ্যে প্রস্থে বড়ো হাতী বা আরো কিছু প্রাণী থাকে বটে , তবে সিংহ দম্পতিকেই সবাই বনের অধিপতি ধরে নিয়েছে।
একদিন বনের সবচেয়ে নিরীহ ইঁদুরকে ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে পোঁটলাপুটলি নিয়ে দৌড়াতে দেখে কয়েকজন জিজ্ঞেস করলো, ‘কীরে কাহিনী কি, হন্তদন্ত হয়ে কই যাস?’
ইঁদুর কোন উত্তর দেয় না, বলে ‘ না রে ভাই, এই বনে আর থাকুম না, নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতাছি।’
বলে আর দৌড়ায়। অবশেষে একজন তারে দাঁড় করালো। ‘ খুলে বল, কী হয়েছে।’
ইঁদুর হাঁপাতে হাঁপাতে বলে, ‘আর কইয়েন না মিঞাভাই, কে যেন সিংহীরে রেপ করছে। সিংহ আবার সন্দেহ করতাছে আমারে!’
আমার নিজস্ব মরাল অব দি স্টোরিটা বলি।
কর্পোরেট জগত আসলে অনেক হিংস্র একটা জায়গা। ‘সারভাইভাল অফ দি ফিটেস্ট’ এখানকার অবধারিত প্রমাণিত সূত্র। হঠাৎ হঠাৎ দেখবেন বড়ো কোন কর্মকর্তার চাকরি নাই। সকালে অফিসেও ঢুকতে পারেন নি। রিসিপশন থেকে কাগজপত্র দিয়ে পত্রপাঠ বিদায়। এখন তার এই আকস্মিক বিদায় নিয়ে ছোট্ট কোন কর্মকর্তা যদি ভাবা শুরু করে, আহারে বেচারা বোধহয় আমার কোন গাফিলতিতে চাকরি হারিয়েছেন, তবে তো মুশকিল !
না রে ভাই, যিনি বিদায় হচ্ছেন বা হলেন, তাঁর এই বিদায় প্রক্রিয়া অনেক আগের থেকে শুরু হয়েছিল। এবং সেটা অনেক উঁচু লেভেলে থেকে শুরু হয়েছিল। আপনি নিজেকে নিমিত্ত ভেবে মনঃকষ্টে থাকবেন না।
প্রথম প্রকাশঃ ১৩ই এপ্রিল, ২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য