by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র, দর্শন, লাইফ স্টাইল
ভালোবাসায় , প্রেমে, করুণায়, ঘৃণায়, শরীরে , শীততাপে, ব্যক্তিগত বাহনে, ফেসবুকে, মোবাইলে কতকিছুতেই না মানুষ ক্রমশ: অভ্যস্ত হতে থাকে !
লোকে যেটাকে স্মার্ট-ফোন বলে –বছর চারেক আগেও কেমন অনভ্যস্ত ছিলাম ওইটাতে । মার্কামারা একটা Nokia ফোনে Key চেপে চেপে এসএমএস দিয়ে ব্যাপক বিনোদন পেতাম,। মাঝে মাঝে চিন্তা করতাম , ইস একটা Nokia –N বা E সিরিজের একটা ফোন কিনলে বেশ হতো ! কয়েকজনের স্মার্ট-ফোন দেখে অবাক ভাবে চিন্তা করলাম ক্যাম্নে কী ! কলিগদের কেউ কেউ বলল, এই ফোনে মেসেজ লেখা , ই-মেইল চেক করা ইন্টারনেট সার্ফিং করা অনেক সুবিধা। আমার তখন বাঁধা উত্তর ছিল, ভাইরে আমি ফোনে হয় এসএমএস দিই অথবা কথা বলি। ফোনে আমার রেডিও, টর্চ , ইন্টারনেট না থাকলেও চলবে ! মোবাইলে টর্চ লাইট বা ই-মেইল চেক করার দরকারটা কি এইটা আমি বুঝতে পারতাম না। কথা বলা ছাড়া মোবাইলের আর কোন উদ্দেশ্য থাকতে পারে, এই ব্যাপারেও আমি মফিজ ছিলাম। জানি না , কেমন কেমন করে একটা সেকেন্ড হ্যান্ড আই-ফোন কিনে সেটাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। এখন আমার আমার পক্ষে নকিয়ার কী প্রেস ফোনে ব্যাক করা সম্ভব না মনে হয়!
আম্মারা গ্রামে আর তাঁর এক মামী তখন জেলা শহরে থাকতেন। গ্রামের বাড়ী এলেই আম্মার মামীর হারিকেনের আলোতে মাথা ঘুরত, উনি মনে হয় ওই টিমটিমে আলো সহ্য করতে পারতেন না। উনার এই অবস্থা দেখে আম্মারা ভাবতেন, উনি বোধহয় ‘ভাব’ নিচ্ছেন। পরে আমরা ঢাকায় স্থায়ী হওয়ার পরে আম্মা নিজেই বুঝলেন উনিও আর হারিকেনের আলো সহ্য করতে পারছেন না । নিতান্তই নির্দোষ অভ্যস্ততা !
বছর তিরিশেক আগে থেকেই , ঢাকার সাদা টিউব লাইটে অভ্যস্ত আমি। নানাবাড়িতে তখনও ফিলিপ্সের হলদে গোল বাতি। নানা বাড়ীর ওই বাতি আমার মোটেও ভালো লাগতো না। কেমন যেন ম্লান , ধূসর ও দরিদ্র মনে হতো। আমি অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিলাম সাদাটে উজ্জ্বল আলোয়।
বছর খানেকের স্মার্ট-ফোন ব্যবহারে আমার কী নিদারুণ নিষ্কৃতি হীন অভ্যস্ততা!
প্রকাশকালঃ ৬ই এপ্রিল,২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, সাহিত্য
যে-লোক ধনী, ঘরের চেয়ে তাহার বাগান বড়ো হইয়া থাকে। ঘর অত্যাবশ্যক; বাগান অতিরিক্ত— না হইলেও চলে। সম্পদের উদারতা অনাবশ্যকেই আপনাকে সপ্রমাণ করে। ছাগলের যতটুকু শিং আছে, তাহাতে তাহার কাজ চলিয়া যায়, কিন্তু হরিণের শিঙের পনেরো আনা অনাবশ্যকতা দেখিয়া আমরা মুগ্ধ হইয়া থাকি। ময়ূরের লেজ যে কেবল রংচঙে জিতিয়াছে, তাহা নহে— তাহার বাহুল্যগৌরবে শালিক-খঞ্জন-ফিঙার পুচ্ছ লজ্জায় অহরহ অস্থির।
যে-মানুষ আপনার জীবনকে নিঃশেষে অত্যাবশ্যক করিয়া তুলিয়াছে, সে-ব্যক্তি আদর্শপুরুষ সন্দেহ নাই, কিন্তু সৌভাগ্যক্রমে তাহার আদর্শ অধিক লোকে অনুসরণ করে না;— যদি করিত তবে মনুষ্যসমাজ এমন একটি ফলের মতো হইয়া উঠিত, যাহার বিচিই সমস্তটা, শাঁস একেবারেই নাই। কেবলই যে-লোক উপকার করে, তাহাকে ভালো না বলিয়া থাকিবার জো নাই, কিন্তু যে-লোকটা বাহুল্য, মানুষ তাহাকে ভালোবাসে।
কারণ, বাহুল্যমানুষটি সর্বতোভাবেই আপনাকে দিতে পারে। পৃথিবীর উপকারী মানুষ কেবল উপকারের সংকীর্ণ দিক দিয়াই আমাদের একটা অংশকে স্পর্শ করে;— সে আপনার উপকারিতার মহৎ প্রাচীরের দ্বারা আর-সকল দিকেই ঘেরা; কেবল একটি দরজা খোলা, সেখানে আমরা হাত পাতি, সে দান করে। আর, আমাদের বাহুল্যলোকটি কোনো কাজের নহে, তাই তাহার কোনো প্রাচীর নাই। সে আমাদের সহায় নহে, সে আমাদের সঙ্গীমাত্র। উপকারী লোকটির কাছ হইতে আমরা অর্জন করিয়া আনি, এবং বাহুল্যলোকটির সঙ্গে মিলিয়া আমরা খরচ করিয়া থাকি। যে আমাদের খরচ করিবার সঙ্গী, সে-ই আমাদের বন্ধু।
বিধাতার প্রসাদে হরিণের শিং ও ময়ূরের পুচ্ছের মতো সংসারে আমরা অধিকাংশ লোকই বাহুল্য, আমাদের অধিকাংশেরই জীবন জীবনচরিত লিখিবার যোগ্য নহে, এবং সৌভাগ্যক্রমে আমাদের অধিকাংশেরই মৃত্যুর পরে পাথরের মূর্তি গড়িবার নিষ্ফল চেষ্টায় চাঁদার খাতা দ্বারে দ্বারে কাঁদিয়া ফিরিবে না।
মরার পরে অল্প লোকেই অমর হইয়া থাকেন, সেইজন্যই পৃথিবীটা বাসযোগ্য হইয়াছে। ট্রেনের সব গাড়িই যদি রিজার্ভ গাড়ি হইত, তাহা হইলে সাধারণ প্যাসেঞ্জারদের গতি কী হইত? একে তো বড়োলোকেরা একাই এক-শ— অর্থাৎ যতদিন বাঁচিয়া থাকেন, ততদিন অন্তত তাঁহাদের ভক্ত ও নিন্দুকের হৃদয়ক্ষেত্রে শতাধিক লোকের জায়গা জুড়িয়া থাকেন— তাহার পরে, আবার, মরিয়াও তাঁহারা স্থান ছাড়েন না। ছাড়া দূরে থাক, অনেকে মরার সুযোগ লইয়া অধিকার বিস্তার করিয়াই থাকেন। আমাদের একমাত্র রক্ষা এই যে, ইঁহাদের সংখ্যা অল্প। নহিলে কেবল সমাধিস্তম্ভে সামান্য ব্যক্তিদের কুটিরের স্থান থাকিত না। পৃথিবী এত সংকীর্ণ যে, জীবিতের সঙ্গে জীবিতকে জায়গার জন্যে লড়িতে হয়। জমির মধ্যেই হউক বা হৃদয়ের মধ্যেই হউক, অন্য পাঁচ জনের চেয়ে একটুখানি ফলাও অধিকার পাইবার জন্য কত লোকে জালজালিয়াতি করিয়া ইহকাল পরকাল খোয়াইতে উদ্যত। এই যে জীবিতে জীবিতে লড়াই, ইহা সমকক্ষের লড়াই, কিন্তু মৃতের সঙ্গে জীবিতের লড়াই বড়ো কঠিন। তাহারা এখন সমস্ত দুর্বলতা, সমস্ত খণ্ডতার অতীত, তাহারা কল্পলোকবিহারী— আমরা মাধ্যাকর্ষণ, কৈশিকাকর্ষণ, এবং বহুবিধ আকর্ষণ-বিকর্ষণের দ্বারা পীড়িত মর্ত্যমানুষ, আমরা পারিয়া উঠিব কেন? এইজন্যই বিধাতা অধিকাংশ মৃতকেই বিস্মৃতিলোকে নির্বাসন দিয়া থাকেন,— সেখানে কাহারও স্থানাভাব নাই। বিধাতা যদি বড়ো-বড়ো মৃতের আওতায় আমাদের মতো ছোটো-ছোটো জীবিতকে নিতান্ত বিমর্ষ-মলিন, নিতান্তই কোণঘেঁষা করিয়া রাখিবেন, তবে পৃথিবীকে এমন উজ্জ্বল সুন্দর করিলেন কেন, মানুষের হৃদয়টুকু মানুষের কাছে এমন একান্তলোভনীয় হইল কী কারণে?
নীতিজ্ঞেরা আমাদিগকে নিন্দা করেন। বলেন, আমাদের জীবন বৃথা গেল। তাঁহারা আমাদিগকে তাড়না করিয়া বলিতেছেন— উঠ, জাগো, কাজ করো, সময় নষ্ট করিয়ো না। কাজ না করিয়া অনেকে সময় নষ্ট করে সন্দেহ নাই— কিন্তু কাজ করিয়া যাহারা সময় নষ্ট করে, তাহারা কাজও নষ্ট করে, সময়ও নষ্ট করে। তাহাদের পদভারে পৃথিবী কম্পান্বিত এবং তাহাদেরই সচেষ্টতার হাত হইতে অসহায় সংসারকে রক্ষা করিবার জন্য ভগবান বলিয়াছেন, “সম্ভবামি যুগে যুগে।”
জীবন বৃথা গেল। বৃথা যাইতে দাও। অধিকাংশ জীবনই বৃথা যাইবার জন্য হইয়াছে। এই পনেরো-আনা অনাবশ্যক জীবনই বিধাতার ঐশ্বর্য সপ্রমাণ করিতেছে। তাঁহার জীবনভাণ্ডারে যে দৈন্য নাই, ব্যর্থপ্রাণ আমরাই তাহার অগণ্য সাক্ষী। আমাদের অফুরান অজস্রতা, আমাদের অহেতুক বাহুল্য দেখিয়া বিধাতার মহিমা স্মরণ করো। বাঁশী যেমন আপন শূন্যতার ভিতর দিয়া সংগীত প্রচার করে, আমরা সংসারের পনেরো-আনা আমাদের ব্যর্থতার দ্বারা বিধাতার গৌরব ঘোষণা করিতেছি। বুদ্ধ আমাদের জন্যই সংসার ত্যাগ করিয়াছেন, খ্রীস্ট আমাদের জন্য প্রাণ দিয়াছেন, ঋষিরা আমাদের জন্য তপস্যা করিয়াছেন, এবং সাধুরা আমাদের জন্য জাগ্রত রহিয়াছেন।
জীবন বৃথা গেল। যাইতে দাও। কারণ, যাওয়া চাই। যাওয়াটাই একটা সার্থকতা। নদী চলিতেছে— তাহার সকল জলই আমাদের স্নানে এবং পানে এবং আমন-ধানের খেতে ব্যবহার হইয়া যায় না। তাহার অধিকাংশ জলই কেবল প্রবাহ রাখিতেছে। আর-কোনো কাজ না করিয়া কেবল প্রবাহরক্ষা করিবার একটা বৃহৎ সার্থকতা আছে। তাহার যে-জল আমরা খাল কাটিয়া পুকুরে আনি, তাহাতে স্নান করা চলে, কিন্তু তাহা পান করে না; তাহার যে-জল ঘটে করিয়া আনিয়া আমরা জালায় ভরিয়া রাখি, তাহা পান করা চলে, কিন্তু তাহার উপরে আলোছায়ার উৎসব হয় না। উপকারকেই একমাত্র সাফল্য বলিয়া জ্ঞান করা কৃপণতার কথা, উদ্দেশ্যকেই একমাত্র পরিণাম বলিয়া গণ্য করা দীনতার পরিচয়।
আমরা সাধারণ পনেরো-আনা, আমরা নিজেদের যেন হেয় বলিয়া না জ্ঞান করি। আমরাই সংসারের গতি। পৃথিবীতে, মানুষের হৃদয়ে আমাদের জীবনস্বত্ব। আমরা কিছুতেই দখল রাখি না, আঁকড়িয়া থাকি না, আমরা চলিয়া যাই। সংসারের সমস্ত কলগান আমাদের দ্বারা ধ্বনিত, সমস্ত ছায়ালোক আমাদের উপরেই স্পন্দমান। আমরা যে হাসি, কাঁদি, ভালোবাসি; বন্ধুর সঙ্গে অকারণ খেলা করি; স্বজনের সঙ্গে অনাবশ্যক আলাপ করি; দিনের অধিকাংশ সময়ই চারিপাশের লোকের সহিত উদ্দেশ্যহীনভাবে যাপন করি, তার পরে ধুম করিয়া ছেলের বিবাহ দিয়া তাহাকে আপিসে প্রবেশ করাইয়া পৃথিবীতে কোনো খ্যাতি না রাখিয়া মরিয়া পুড়িয়া ছাই হইয়া যাই— আমরা বিপুল সংসারের বিচিত্র তরঙ্গলীলার অঙ্গ; আমাদের ছোটোখাটো হাসিকৌতুকেই সমস্ত জনপ্রবাহ ঝলমল করিতেছে, আমাদের ছোটোখাটো আলাপে-বিলাপে সমস্ত সমাজ মুখরিত হইয়া আছে।
আমরা যাহাকে ব্যর্থ বলি, প্রকৃতির অধিকাংশই তাই। সূর্যকিরণের বেশির ভাগ শূন্যে বিকীর্ণ হয়, গাছের মুকুল অতি অল্পই ফল পর্যন্ত টিঁকে। কিন্তু সে যাঁহার ধন তিনিই বুঝিবেন। সে-ব্যয় অপব্যয় কি না, বিশ্বকর্মার খাতা না দেখিলে তাহার বিচার করিতে পারি না। আমরাও তেমনি অধিকাংশই পরস্পরকে সঙ্গদান ও গতিদান ছাড়া আর-কোনো কাজে লাগি না; সেজন্য নিজেকে ও অন্যকে কোনো দোষ না দিয়া, ছটফট না করিয়া, প্রফুল্ল হাস্যে ও প্রসন্ন গানে সহজেই অখ্যাত অবসানের মধ্যে যদি শান্তিলাভ করি, তাহা হইলেই সেই উদ্দেশ্যহীনতার মধ্যেই যথার্থভাবে জীবনের উদ্দেশ্য সাধন করিতে পারি।
বিধাতা যদি আমাকে ব্যর্থ করিয়াই সৃষ্টি করিয়া থাকেন, তবে আমি ধন্য; কিন্তু যদি উপদেষ্টার তাড়নায় আমি মনে করি আমাকে উপকার করিতেই হইবে, কাজে লাগিতেই হইবে, তবে যে উৎকট ব্যর্থতার সৃষ্টি করি, তাহা আমার স্বকৃত। তাহার জবাবদিহি আমাকে করিতে হইবে। পরের উপকার করিতে সকলেই জন্মাই নাই— অতএব উপকার না করিলে লজ্জা নাই। মিশনারি হইয়া চীন উদ্ধার করিতে না-ই গেলাম;— দেশে থাকিয়া শেয়াল শিকার করিয়া ও ঘোড়দৌড়ে জুয়া খেলিয়া দিন-কাটানোকে যদি ব্যর্থতা বল, তবে তাহা চীন-উদ্ধারচেষ্টার মতো এমন লোমহর্ষক নির্দারুণ ব্যর্থতা নহে।
সকল ঘাস ধান হয় না। পৃথিবীতে ঘাসই প্রায় সমস্ত, ধান অল্পই। কিন্তু ঘাস যেন আপনার স্বাভাবিক নিষ্ফলতা লইয়া বিলাপ না করে— সে যেন স্মরণ করে যে, পৃথিবীর শুষ্ক ধূলিকে সে শ্যামলতার দ্বারা আচ্ছন্ন করিতেছে, রৌদ্রতাপকে সে চিরপ্রসন্ন স্নিগ্ধতার দ্বারা কোমল করিয়া লইতেছে। বোধ করি ঘাসজাতির মধ্যে কুশতৃণ গায়ের জোরে ধান্য হইবার চেষ্টা করিয়াছিল— বোধ করি সামান্য ঘাস হইয়া না থাকিবার জন্য, পরের প্রতি একান্ত মনোনিবেশ করিয়া জীবনকে সার্থক করিবার জন্য তাহার মধ্যে অনেক উত্তেজনা জন্মিয়াছিল— তবু সে ধান্য হইল না। কিন্তু সর্বদা পরের প্রতি তাহার তীক্ষ্ম লক্ষ নিবিষ্ট করিবার একাগ্র চেষ্টা কিরূপ, তাহা পরই বুঝিতেছে। মোটের উপর এ-কথা বলা যাইতে পারে যে, এরূপ উগ্র পরপরায়ণতা বিধাতার অভিপ্রেত নহে। ইহা অপেক্ষা সাধারণ তৃণের খ্যাতিহীন, স্নিগ্ধসুন্দর, বিনম্র-কোমল নিষ্ফলতা ভালো।
সংক্ষেপে বলিতে গেলে মানুষ দুই শ্রেণীতে বিভক্ত— পনেরো-আনা এবং বাকি এক-আনা। পনেরো-আনা শান্ত এবং এক-আনা অশান্ত। পনেরো-আনা অনাবশ্যক এবং এক-আনা আবশ্যক। বাতাসে চলনশীল জ্বলনধর্মী অক্সিজেনের পরিমাণ অল্প, স্থির শান্ত নাইট্রোজেনই অনেক। যদি তাহার উল্টা হয়, তবে পৃথিবী জ্বলিয়া ছাই হয়। তেমনি সংসারে যখন কোনো এক দল পনেরো-আনা, এক-আনার মতোই অশান্ত ও আবশ্যক হইয়া উঠিবার উপক্রম করে, তখন জগতে আর কল্যাণ নাই, তখন যাহাদের অদৃষ্টে মরণ আছে, তাহাদিগকে মরিবার জন্য প্রস্তুত হইতে হইবে।
১৩০৯
by Jahid | Nov 28, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
অনেকদিন আগে ট্রেডের এক বড়ভাই কথাচ্ছলে আমাদের কর্পোরেট জীবন নিয়ে বলেছিলেন–‘ আমাদের জীবন অনেকটা সঙ্গীতশিল্পীদের মতো।
যতক্ষণ কণ্ঠে গান আছে,ধবধবে চাঁদোয়া, পরিষ্কার স্টেজ, যন্ত্রের টুং টাং , গুণমুগ্ধ শ্রোতা, হাততালি, কতকিছু! ‘কণ্ঠে গান নাই, কে শুনবে ওই মাধুর্যহীন, বেসুরো , রিক্ত শূন্য ঘর্ঘরে গলার আওয়াজ! যতক্ষণ কোম্পানির জন্য কাজ করতে পারছেন; সবই আছে !বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনার কাজ বা যোগ্যতার কমতি হলে আপনার অবস্থা সেই রিক্ত কণ্ঠের সঙ্গীত শিল্পীর মতোই । সেইসব রাজসিক মুহূর্তগুলো তখন শুধুই স্মৃতি !
প্রকাশকালঃ ৪ঠা এপ্রিল,২০১৭
by Jahid | Nov 28, 2020 | দর্শন, সাহিত্য
8 collected Short Stories received from one of my friend– having in depth meanings! I am feeling lethargic to translate in Bengali ; I know you would be able to feel the depth !
(1) Those who had coins, enjoyed in the rain. Those who had notes, were busy looking for shelter.
(2) Man and God both met somewhere. Both exclaimed, “My Creator !”
(3) He asked, are you a Hindu or Muslim? The response came, “I am hungry!”
(4) The fool didn’t know it was impossible. So he did it !
(5) “Wrong number!” Said a familiar voice!
(6) What if God asks you after you die, “So how was heaven?”
(7) They told me that to make her fall in love I had to make her laugh. But every time she laughs, I am the one who falls in love.”
(8) We don’t make friends anymore….. We Add them nowadays!
by Jahid | Nov 28, 2020 | ছিন্নপত্র
স্কুলজীবনে সবচেয়ে বেশী সন্ত্রস্ত থাকতাম রণজিৎ কুমার মৌলিক স্যারকে নিয়ে। তাঁকে নিয়ে এতো বেশী তিক্ত মধুর স্মৃতি , এখনো যদি স্কুল ফ্রেন্ডরা একসাথে হই, রণজিৎ স্যারের কথা উঠবেই উঠবে।তিনি যেমন রাশভারী ছিলেন ,তাঁকে ত্যক্ত করার মতো উপাদানও ( ছাত্র ও ছাত্রদের আচরণ, আর কী! ) আমাদের ক্লাসে কম ছিলনা।
আমাদের এক বন্ধু ছিল মুকুল, অপ্রাসঙ্গিক কথা বলায় ওর জুড়ি মেলা ভার। স্যার হয়তো ভয়েজ ন্যারেশন পড়াচ্ছেন, মুকুল মাঝখানে দাঁড়িয়ে ‘স্যার একটা প্রশ্ন ছিল’ বলে সন্ধি-সমাস নিয়া ত্যানা প্যাঁচানো শুরু করলো।
মুকুলকে দেওয়া স্যারের অনেকগুলো ঝাড়ির মধ্যে একটা ভীষণ জ্বলজ্বলে।
সেবার ও মুকুল ত্যানা প্যাঁচানো শুরু করতেই, স্যার কেন জানি না অনেকক্ষণ ধরে খুব মন দিয়ে শুনলেন।
বললেন , ‘কথা শেষ হইছে?’
‘ জী স্যার !’
স্যার খুব খুব স্বাভাবিক গলায় ‘মুকুল তোর দেশের বাড়ি কোথায়?’
জেলার নাম বললো মুকুল।
‘শোন্ , তোদের ওইখানে খাঁটি ভালো ঘি পাওয়া যায়?’
‘জী স্যার ’
‘তোর বাপ্রে কবি, খাঁটি ঘি নিয়ে আসতে।’
আমরা তখনো বুঝতে পারছি না , ঘটনা কোনদিকে যাচ্ছে।
‘ভোরে ঘুম থেকে উঠবি। এক টেবিল চামচ ঘি , সঙ্গে একটু চিনি দিবি চামচের উপর। এইভাবে কয়েকমাস খাবি।
মুকুলের বিনীত প্রশ্ন ‘কিন্তু স্যার এইটা খাইলে কী হবে?’
‘শোন্ মুকুল, এইটা পাগলামির ওষুধ , এইটা করলে তোর পাগলামি সারবে ! কারণ তুই একটা পাগল !’
এইবার সারা ক্লাস মাথা নিচু করে হো হো করে হেসে উঠলাম এবং অনেকে হাসি চাপার ব্যর্থ চেষ্টা করে গেলাম !
সাম্প্রতিক মন্তব্য