সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবার নাকি রবিবার?

পতিত স্বৈরাচার লেজেহোমো এরশাদ আমাদের সময়ের কুখ্যাত ভিলেন। আকাঙ্ক্ষিত শাস্তি না পেলেও – লেজুড়বৃত্তি, উঞ্ছবৃত্তি করে তার শেষের দিনগুলো কাটছে, এই ভেবে আমরা সান্ত্বনা পাওয়ার চেষ্টা করি।

কিন্তু একটা ব্যাপারে এই ভণ্ডকে আমি এখনো অভিসম্পাত করি ; ধর্মের ধোঁয়া তুলে সাপ্তাহিক ছুটি রবিবার থেকে শুক্রবার করে দেওয়া। ৯০ এর পরের এই ২৮ বছরেও কোন সরকারের সাহস হয়নি স্পর্শকাতর কিন্তু অযৌক্তিক ব্যাপারটিকে পুনরুদ্ধার করার।

তৃতীয় বিশ্বের রফতানি নির্ভর দেশের সংশ্লিষ্ট একটা সেক্টরে গত দুই-যুগ ধরে প্রিয়জনের সান্নিধ্য ছেড়ে সম্ভাব্য মধুরতম কিছু সময় শুক্রবারের অনিচ্ছুক অফিসে বিলিয়ে যাচ্ছি।

প্রকাশকালঃ ২রা জুলাই,২০১৯

ওড়াউড়ির দিন [প্রথম খণ্ড: আমেরিকা] ।। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।

ওড়াউড়ির দিন [প্রথম খণ্ড: আমেরিকা] ।। আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ।
প্রথম প্রকাশঃ ফেব্রুয়ারি বইমেলা ২০১০

দেশের জন্যে এই ব্যাকুলতা প্রবাসীদের মধ্যে যে কতখানি প্রবল একটি গল্প শুনিয়ে তা বোঝানোর চেষ্টা করি। আগেই বলেছি, বিদেশে বাস করা সম্পন্ন ও সচ্ছল বাঙালিদের মধ্যে এই ব্যাকুলতা যতখানি তার চেয়ে এ অনেক বেশি পৃথিবীর নানান প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা শ্রমিক শ্রেণীর গরিব অসহায় মানুষের মধ্যে । সচ্ছল মানুষদের মনকে জন্মভূমি যে কখনও সখনও উতলা করে না তা নয়। কিন্তু গাড়ি বাড়ি বিলাস বৈভবে ঝল-মল করা তাদের জীবনে সে পিছুটান বড় কিছু নয় । তাছাড়া ইচ্ছা করলেই তো তারা মাঝেমধ্যে দেশে এসে ঘুরে যেতে পারে। তারা তা যায়ও। তাই বিদেশে থাকলেও দেশের সঙ্গে বিচ্ছিন্নতার কষ্ট তাদের প্রবল নয়। কিন্তু গরিব প্রবাসীদের ব্যাপারে ঘটনাটা আলাদা। আদম ব্যাপারিদের খপ্পরে পড়ে জমি-বাড়ি বিক্রি বা বন্ধক দিয়ে নামমাত্র রোজগারের আশায় অচেনা দূর বিদেশের পথে পাড়ি জমায় তারা। শুধু পায়ের তলায় একচিলতে মাটির জন্যে, ছোট্ট একটু নিরুদ্বেগ ভবিষ্যতের জন্যে এক নিষ্ঠুর আর বৈরী পৃথিবীর সঙ্গে উদয়াস্ত লড়াই করে বছরের পর বছর জীবনকে তারা নিঃশেষ করে। হয়তো এসবই তারা করে সন্তান, স্ত্রী, বাপ-মা ভাই বা বোনের মুখে সামান্য একটুকরো হাসি ফোটানোর জন্যে। দূরদেশের নির্মম আবহাওয়া বা ঝলসানো রোদের ভেতর শরীর আয়ু ক্ষয় করে আমনুষিক শ্রমে তাদের জন্য দূর প্রবাস থেকে এরা বছরের পর বছর টাকা পাঠায়। সেই টাকা দিয়ে তার ভাইয়েরা বাজার থেকে চড়া দামে মাছ-মাংস কিনে নবাবী হালে দিন কাটায়, চায়ের দোকানে আড্ডা দিয়ে ফুর্তিতে সময় গুজরান করে। ভাইয়ের পাঠানো টাকায় তার জন্যে জমি কেনার বদলে অনেক সময় গোপনে নিজের নামে রেজিস্ট্রি করে নেয়। এমন খবর ও কম শোনা যায় না যে এদের অনুপস্থিতির সুযোগে এদের পাঠানো টাকায় দামি গয়না শাড়ি পড়ে এদের স্ত্রীদের কেউ কেউ পরপুরুষের সঙ্গে ফষ্টি-নষ্টি চালায়—তবু এই মানুষগুলো তাদের মুখ স্মরণ করেই হাজারো শৌখিন জিনিশে বড় বড় ব্যাগ-বস্তা ভর্তি করে বাড়ি ফেরে। প্রিয় পরিজনহীন নিঃসঙ্গ প্রবাসে তাদের ফেলে আসা দেশ, মানুষ, বন্ধু আর আত্মীয়ের মুখ তাদের কাছে স্বপ্নের তুলিতে আঁকা ছবির মতো রমণীয় লাগে। দেশের জন্য স্বপ্ন আর আকুলতা নিয়ে কেটে যায় তাদের হতচ্ছাড়া প্রবাসী জীবনের ভারাক্রান্ত মুহূর্ত।

এমনি একদল দুঃখী মানুষের সঙ্গে বছর তিনেক আগে দেখা হয়েছিল, দুবাই এয়ারপোর্টে। সেবারও আমেরিকা থেকে ফিরছিলাম। দুবাইয়ে প্লেন পাল্টে ঢাকার প্লেনে উঠছি। বোর্ডিং কাউন্টারে গিয়ে দেখি ফ্লাইটে বিদেশি নেই বললেই চলে। কাউন্টারজুড়ে গিজগিজ করছে মধ্যপ্রাচ্যের নানা-জায়গা থেকে জড়ো হওয়া ঘরমুখো বাঙালি শ্রমিকের দল। বুঝলাম, এদের নিয়মিত আনা-নেওয়ার জন্যেই এমিরেটস, ইতিহাদ, কাতার বা কুয়েত এয়ারলাইন্সের এত ঢাকা-মুখো ফ্লাইট। এদের কেউ তিন বছর, কেউ চার বছর , কেউ এমনকি পাঁচ বছর পর দেশে ফিরছে, সবার সঙ্গে বিরাট বিরাট বাক্স-পেটরার ভেতর কেনাকাটা করা সাধ্যমতো জিনিশপত্র। প্রিয়জনদের জন্যে কেনা এই জিনিশগুলো তাদের হাতে তুলে দেওয়ার স্বপ্নে তাদের চোখ-মুখ উজ্জ্বল হয়ে রয়েছে। দেশের জন্যে কী ব্যাকুলতা আর স্বপ্ন তাদের চোখে। উদ্বেল হৃদয় দিয়ে ফ্লাইটের পাঁচ ঘণ্টা আকুতি সময়টুকু সহ্য করার শক্তিও যেন তারা হারিয়ে ফেলেছে। যেন পারলে দুবাইয়ে প্লেনে উঠেই সরাসরি ঢাকা বিমানবন্দরে নেমে যায়। কথা বলে বোঝা গেল এদের অধিকাংশই লিখতে পড়তে পর্যন্ত জানে না। আমার পাশেই বসেছিলেন থ্রি পিস স্যুট পরা ডাকসাইটে এক ভদ্রলোক। কিছুক্ষণ আলাপের পরে একগাল বিগলিত হাসির সঙ্গে হাতের ইমিগ্রেশন আর কাস্টমসের কাগজদুটো আমার দিকে বাড়িয়ে দিলেন। ভাবলাম , আমার ওগুলো দরকার ভেবেই হয়তো আমাকে দিচ্ছেন। বললাম, আমার আছে। লাগবে না।

‘একটু ফিলাপ কইরা দিবেন স্যার?’ মুখে দাঁত বের করা বিগলিত হাসি। কী আশ্চর্য ! এরকম একজন স্যুটপরা পুরোদস্তুর ডাঁটপাটওয়ালা ভদ্রলোক লিখতে পর্যন্ত জানেন না ? কিন্তু না, এমন বাঙালি একজন দুজন না, হাজারে হাজারে পাবেন মধ্যপ্রাচ্যের মতো পৃথিবীর নানা দেশের খেটে খাওয়া মানুষদের ভিড়ে।

কথায় কথায় জানলাম তিনিও একজন শ্রমিক। বাড়ি সিলেট, রিয়াদে কাঠমিস্ত্রির কাজ করেন। প্রথমে এসেছিলেন বসরায়, ইরাকে। সেখানে যুদ্ধের তাড়া খেয়ে আরবে পাড়ি জমিয়েছেন।

তার ফর্ম ফিলাপ শেষ হতেই, আরেকটা হাত এগিয়ে এলো সামনের দিক থেকে। তারটা শেষ হতেই দেখি চারপাশ থেকে ডজনখানেক হাত আমার দিকে এগিয়ে আছে। সব হাতেই একই ফর্ম। সবাই যে ভদ্রভাবে অনুরোধ করছে তা-ও না। অনুরোধ করার ভাষাও অনেকের জানা নেই। এ ধরণের দেহাতী মানুষের পক্ষে কী করেইবা তা সম্ভব?
‘এই যে , দেন তো, আমারডা ফিলাপ কইরা দেন।‘
মনে হয় হুকুম করছে।
দুঃখী এই লোকগুলোর জন্য মমতায় মনটা ভরে উঠল। প্লেনযাত্রার পুরো সময়টা এদের ফর্ম ফিলাপ করে চললাম। এদিকে বাংলাদেশ এগিয়ে আসছে। প্লেনভর্তি লোকগুলোর মধ্যে টানটান উত্তেজনা। কখন আসবে বাংলাদেশ। কেন আসছে না। চেহারায় তাদের আগ্নেয় উগ্রতা। সবার কথাবার্তার বিষয় একটাইঃ বাংলাদেশ। ঘরে ফেরার আগ্রহ আনন্দে উত্তেজনায় যেন ফেটে পড়ছে সবাই।

সামনের টিভি পর্দায় প্লেনের ছুটে চলার ছবি চোখে পড়ছে। আরব সাগরের ধার দিয়ে করাচির পাশ কাটিয়ে দিল্লি কানপুর পেরিয়ে প্লেন এখন বিহারের ওপর। এখনও অন্তত ঘন্টাখানেক বাকি। যাত্রীরা অস্থির বেসামাল । উত্তেজনায় যেন ছিঁড়ে যাচ্ছে। কোথায় বাংলাদেশ। কোথায় তুমি? মাতৃভূমি, তুমি কতদূর! অধিকাংশ লোকই মানচিত্র চেনে না। বুঝতে পারছে না ঠিক কোনখানে আছে। হঠাৎ জানালার পাশ থেকে কে একজন চিৎকার করে উঠলঃ ঐ যে ! ঐ যে ।

তার ব্যগ্র চিৎকার সারা প্লেনে যেন কেঁপে কেঁপে বেড়াতে লাগল। সবাই যেন এই মুহূর্তটির জন্যেই অপেক্ষা করছিল। হঠাৎ প্লেনের ভেতর ঘটল এক অদ্ভুত ঘটনা। প্লেনভর্তি প্রায় সব লোক, একসঙ্গে দাঁড়িয়ে হুড়মুড় করে জানালার ওপর ঝুঁকে কী যেন আঁতিপাঁতি খুঁজছে। গলায় শুধু একটায় চিৎকার—কৈ? কৈ ? ( কোথায় আমার দেশ—ভাই, সন্তান, জীবনসঙ্গী , বাপ, মা, কোথায় তোমরা? ) প্লেনভর্তি এতগুলো লোক পাগলের মতো উঁকিঝুঁকি দিয়ে শুধু বাংলাদেশ দেখার চেষ্টা করছে।
হঠাৎ গোটা প্লেনভর্তি লোক একসঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলে যে বিমানের বিপদ হতে পারে সে জ্ঞান নেই এই লোকগুলোর। বিমানবালা আর পুরুষ ক্রুরা ধমক দিয়ে চিৎকার করে পাগলের মতো দুই হাতে টেনে-হিঁচড়ে ঘাড় চেপে তাদের বসানোর চেষ্টা করতে লাগল। কিন্তু জানালা থেকে তাদের ফেরানো সোজা নয়।প্রবাসীদের কাছে বাংলাদেশ এমনি এক জ্বলন্ত রূপসী। আমাদের কাছে এর কতটুকু ?
+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-+-

আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যারের এই ভ্রমণকাহিনীর সময়কাল সম্ভবত: ২০০০ সালের আশেপাশে। স্যারের অনেক বক্তৃতা তাঁর লেখায় আছে। অনেক ঘরোয়া আলোচনায় তা আবার নতুন করে তা উঠে আসে। পিনাকী ভট্টাচার্য্যের ( Pinaki.Bhattacharyya) ২০১৮ সালের শেয়ার করা একটা ভিডিও পোস্ট থেকে স্যারের ঘরোয়া বক্তৃতাটি নতুন করে ভাইরাল হয়েছে। সেজান মাহমুদ (Sezan Mahmud ) থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন বিখ্যাত ফেসবুক সেলিব্রেটি এই প্রসঙ্গে আক্রমণাত্মক পোস্ট দিয়ে কুৎসিত অশ্রাব্য গালাগালির সুযোগ করে দিয়েছেন ফেসবুকের আমজনতাকে। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়ার কলেজ কর্মসূচীতে অংশগ্রহণ করেছিলাম। ঢাকা কলেজে আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ আমার শিক্ষক ছিলেন। মূল লেখাটিতে প্রবাসী শ্রমিকদের ব্যাপারে তাঁর গভীর মমতার প্রকাশ। কিন্তু ফেম-সিকার সেলিব্রেটিরা কোনভাবে গুণীজনকে তাচ্ছিল্য করার সামান্যতম সুযোগ হারান না।

আমি পুরো ব্যাপারটিতে মর্মাহত। মূল লেখাটি দাড়ি-কমাসহ পুনর্লিখন করেছি গভীর হতাশা থেকে। যদিও সেলিব্রেটিদের ক্ষমাপ্রার্থনা আজ পর্যন্ত চোখে পড়েনি আমার !

প্রকাশকালঃ ১৩ই জুন, ২০১৯

বিনয় ও অহংকার

বিনয় ও অহংকার দু’টি আচরণই এক্সট্রিম বা চরমভাবাপন্ন । ভুল বোঝাবুঝির সমূহ সম্ভাবনা ।  আমাদের সমাজে বিনয়ী ব্যক্তিকে সচরাচর শক্তিহীন ও নির্বোধ ভাবা হয়। অহংকারী, উদ্ধত লোকের সুবিধা হচ্ছে তাঁকে নির্বোধ ভাবার সুযোগ অন্যদের কম। কিন্তু এঁদের সমস্যা হচ্ছে এঁরা মানবিক হতে পারেন না। অহংবোধ তাঁদেরকে এক ভীষণ দূরত্বের নিঃসঙ্গ দ্বীপ করে রাখে।

আমার মনে হয়, বিনয় ও অহংকারের  ভারসাম্যে  মানবিকতার পরিমিতিবোধ নিয়ে চলাটাই শ্রেয়।

প্রকাশকালঃ ১১ই জুন, ২০১৯

কর্পোরেট অবজার্ভেশন ( ব্যর্থতার আতঙ্ক )

একজন হতাশ, ব্যর্থ লোকের সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো আজকে। দুঃখিত পাঠক ও পাঠিকা, তিনি অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীন বলে উনাকে ব্যর্থ একজন বললাম। কারণ , আমি বা আপনি , আমাদের চারপাশের সবাই মানুষকে অর্থনৈতিক মাপকাঠি দিয়েই মাপেন।

ভদ্রলোক বছরকয়েক আগে বড়ো কর্পোরেট চাকরি করতেন, বাইপাস সার্জারিতে সহায়-সম্বল শেষ। শারীরিক অসুস্থতার দীর্ঘবিরতিতে উনি উনার চাকরিজীবনের আগের পজিশন হারিয়েছেন। এইটা খুব স্বাভাবিক । তাঁর অধস্তনরা উনাকে ফেলে চলে গেছে সামনের দিকে , বয়স ও শারীরিক কারণে নতুন চাকরি পাওয়া অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। সবাই, তাঁকে এড়িয়ে চলেন ; হুম হাম করে পাশ কাটিয়ে যান।

ভেবেছিলেন ব্যবসা করবেন। ব্যবসা করার যোগ্যতা বা মূলধন কিছুই নাই। কারো কাছে সাহায্য চাওয়ার মতো মানসিক অবস্থা নাই। ত্রিশঙ্কু অবস্থা । আমি নিজেও , ব্যবসার ‘ব’ ও বুঝি না। উনাকে বললাম, ‘চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে হলেও পুরনো মালিকের ওখানে জয়েন করেন , যে পজিশনেই হোক না কেন, আপনাকে দিয়া ব্যবসা হবে না। কিছুদিন চাকরি করার পরে হয়তো কোন না কোন পথ পেয়ে যাবেন।’
আমাদের কর্পোরেট জগতের সবাই, খুব ভিতরে একজন আতংকিত ব্যর্থ মানুষকে বয়ে নিয়ে চলছি। আমরা কেউ জানি না, কখন কোন পরিস্থিতিতে ওই ব্যর্থ লোকটা বের হয়ে আসবে সামনে !

প্রকাশকালঃ ৭ই জুন,২০১৩

নিজের কথা। রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত চিঠি( ছয় অগ্রহায়ণ তেরোশো পঁয়ত্রিশ)

আমার মুশকিল এই যে , আমি মন্দিরে যখন কিছু বলি তখন নিজেকেই বলি , গুরুর আসনে বসে বাইরের কাউকে বলতে পারিনে। তার ফল হয় যে বলবার কথাগুলো সহজ হয় না। সেইজন্যে আমাকে ফলাকাঙ্ক্ষাবর্জিত হয়েই কথা কইতে হয়। আমার নিজের কিছু উপকার হয় সন্দেহ নেই—কেননা চিরদিন আমি নিজেকে কথা বলেই শিক্ষা দিয়েছি।

ছয় অগ্রহায়ণ তেরোশো পঁয়ত্রিশ। নিজের কথা।। রবীন্দ্রনাথের অপ্রকাশিত চিঠি।