by Jahid | Dec 1, 2020 | সাহিত্য
শরীরটা আজ ক্লান্ত ভারি,
ক’রছে গা ম্যাজম্যাজ,
ঠিক করেছি বিশেষ কিছুই
খাব না তাই আজ।
সকাল বেলায় চায়ের সাথে-
গামলা খানেক মুড়ি
তেল,লঙ্কা মাখিয়ে,
সাথে পেঁয়াজি,ফুলুরি।
সকাল, ধরো নয়’টা নাগাদ,
থাকলে মুখে রুচি,
খেতে পারি ঘি-য়ে ভাজা
গণ্ডা দশেক লুচি।
সঙ্গে আলু, বেগুন ভাজা,
আচার, আলুর দম,
রসগোল্লা গোটা বিশেক,
লাড্ডু ও চমচম।
দুপুরেতে কি আর খাব ?
শরীর ভাল নয় !
ভাতের সাথে কাতলা মাছের
টুকরো গোটা ছয়।
কচি পাঁঠার মাংস কষা
বড় দু-চার বাটি,
মিষ্টি দই আর চাটনি হ’লে
চলবে মোটামুটি।
বিকাল বেলায় খাব না হয়
আপেল, খেজু্র, কলা,
গোটা পাঁচেক ডাবের জল,
আর অঙ্কুরিত ছোলা।
সন্ধ্যাবেলায় চায়ের সাথে,
প্রন কাটলেট, ফ্রাই,
এর বেশী আর খাবো না,পেট
খালি রাখা চাই।
রাত্রি বেলায় গুরুভোজন
আজ তো আমার মানা,
খাবো দুধের ক্ষীর মেখে ওই
রুটি পঁচিশ খানা।
সঙ্গে সরেস ছানার পায়েস
রাবড়ি আধা কিলো,
শরীর খারাপ,এর বেশী কি
খেতে পারি বলো ?
শরীরে আজ পাচ্ছি না জুত,
নাড়ীর গতি ক্ষীণ,
অল্প এমন খেয়েই কাটুক
আজকে সারা দিন।
এমনিতে ও খাওয়া আমার
কম-ই একেবারে,
পেটুক মানুষ দেখলে আমি,
লজ্জাতে যাই ম’রে।।
by Jahid | Dec 1, 2020 | লাইফ স্টাইল, সাম্প্রতিক
শৈশবের বইপড়ার অভ্যাস সেবা প্রকাশনী দিয়ে শুরু হয়েছিল। বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র একটা পাঠ রুচি তৈরি করে দিয়েছে।
ছোটবেলায় যে কোন বই এক বসায় অথবা একটানা কয়েকদিনে শেষ করেছি। সমরেশ মজুমদার , সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়ের ঢাউস আকৃতির বইগুলোর পাঠস্মৃতি মনে আছে। এখন বৃহদায়তনের বই পড়া শুরু করার আগে গেলে তিনবার চিন্তা করি। শুরু করলে কবে শেষ হবে ; আদৌ শেষ হবে কীনা কে জানে ! কয়েকটা বই একসঙ্গে শুরু করে , দেখা গেল কোনটাই শেষ না করে ফেলে রেখেছি।
গত কয়েকবছরের বইমেলায় কেনা বই পড়া হয়নি। বই পড়ার সেই প্যাশন জীবিকার চাপে চিঁড়েচ্যাপটা হয়েছে বহুবছর আগেই। জীবনে বই একমাত্র বিনোদন নয় আমাদের প্রজন্মের। অনলাইন সাহিত্য, ব্লগ, ফেসবুক এসে বইয়ের জায়গা দখল করেছে।
বড়কন্যার বইপড়ার অভ্যাস শুরুতেই আমার মধ্য-চল্লিশের মতো। একসঙ্গে কয়েকটা বই শুরু করে আর একেকটা একেক বেলায় পড়ে। আরেকটা বড় পার্থক্য হচ্ছে, সে পড়ে ইংরেজি ভাষার বই। আমি সারাজীবনে ইংরেজি নন-ফিকশন বই পড়েছি ঠ্যাকায় পরে সাকুল্যে হাতে গোনা কয়েকটি। আর বড়কন্যার স্কুলের পড়াশোনার মাধ্যম যেহেতু ইংরেজি ; ঐ ভাষাতেই ওর স্বাচ্ছন্দ্য বেশি।
আজ সকালে ওর পড়ার টেবিলে কী কী বই পড়ছে সেটা চোখে পড়ল।
আর নিজের শৈশবের কথা মনে পড়ে গেল।
প্রকাশকালঃ ২রা জুলাই,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
সপ্তাহ দুয়েক ধরে বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছে ।
অনেকেই বলছেন, তাঁদের একটু জ্বরজ্বর ছিল বা ক্লান্তি ছিল, শরীর ম্যাজম্যাজে ছিল । এবং সবাই ওরস্যালাইনের মুখস্থ রেসিপির মতো বহুল প্রচলিত মশলা পানির ভাপ নিয়েছেন। এখন সুস্থ বোধ করছেন। তাদের ধারনা তাদের মাইল্ড কোভিড-19 ভাইরাস অ্যাটাক হয়েছিল। খুব অল্পের উপর দিয়ে শরীরে অ্যান্টিবডি হয়ে গেছে।
আমি তাদের এই অপরীক্ষিত আত্মবিশ্বাসের পক্ষেই আছি।
বহুবছর আগে ‘দি টার্মিনাল’ সিনেমাতে ক্যাথরিন জেটা জোন্স টম হ্যাঙ্কসকে বলে, সম্রাট নেপোলিয়ন নির্বাসনে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে ছয়গুণ বেশি মাত্রার বিষ গ্রহণ করতেন বা তাকে খাবারে মিশিয়ে দেওয়া হতো। উদ্দেশ্য তাঁর দ্রুত মৃত্যু । কিন্তু নেপোলিয়ন ছিলেন অহংকারী লোক। তাঁর বদ্ধমূল ধারণা ছিল, পৃথিবীর কোন বিষ তাঁর ক্ষতি করতে পারবে না। এই অতিমানবিক আত্মবিশ্বাস নাকি নেপোলিয়নকে বহুবছর সুস্থভাবে বাঁচিয়ে রেখেছিল !
ভুল করে হলেও নিজের ব্যাপারে আত্মবিশ্বাস ব্যাপারটা হয়তো ভাল।
তবে কোভিড-19 ভাইরাসে দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আছে বলছেন বৈজ্ঞানিকেরা। সেই ক্ষেত্রে আত্মবিশ্বাসের অ্যান্টিবডি আপনার থাকলেও সবরকমের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিৎ।
কেননা , দিন শেষে আমি,আপনি কেউই নেপোলিয়ন বোনাপার্ট না !
প্রকাশকালঃ ১লা জুলাই,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | সাম্প্রতিক
প্রায় সগোত্রীয় বলে নিম্ন, মধ্য ও উচ্চ মধ্যবিত্তদের প্রতি আমার কিছুটা পক্ষপাতিত্ব থাকা স্বাভাবিক।
নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর করোনায় অধিকতর বিত্তহীনতা অসহায় করবে জানি। এঁদেরকে আরো মানবেতর জীবনের দিকে ঠেলে দেবে। রাষ্ট্র তাঁদের কল্যাণের জন্য যতোখানি করতে চাইছে, সেটা দুর্নীতির ছাঁকনি পেরিয়ে কতোটুকুই বা তাঁদের কাছে পৌঁছাচ্ছে সেটা প্রশ্নবিদ্ধ।
ইতিহাস ও সাধারণ বুদ্ধিবৃত্তি থেকে দেখা যায় দারিদ্র্যের হেরফেরে নিম্নবিত্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী মানিয়ে চলার সক্ষমতা রাখে।
কিন্তু সত্যি কথা বলতে কী, মধ্যবিত্ত ও উচ্চমধ্যবিত্ত ও সচ্ছলদের অস্বচ্ছলতার দিকে ধাবিত হওয়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে আরো বেশি বিপদে ফেলবে। চারপাশের সচ্ছলরা এখনো নানাভাবে নিম্নবিত্ত হত দরিদ্রদের দায়ে-ঘায়ে পাশে দাঁড়াতে পারছে। বিত্তহীনতা তাঁদের সেই চ্যারিটি করার সক্ষমতাকে আরো সঙ্কুচিত করবে।
পারস্পরিক উন্নয়ন, অবনমন ও মিথস্ক্রিয়া এই কয়েকটা শ্রেণির মধ্যেই বেশি হয়ে থাকে।
প্রকাশকালঃ ১লা জুলাই,২০২০
by Jahid | Dec 1, 2020 | দর্শন, সাম্প্রতিক
আরব্য রজনীর জেলে ও সুলাইমান বাদশাহের বোতলবন্দি জিনের গল্প সেই কবে শোনা।
ঘটনার বিশদ কিছুটা মনে ছিল। জেলের বিস্ময় ছিল, যে জিন দেড় হাজার বছর অভিশপ্ত নিশ্ছিদ্র অন্ধকারে বন্দী ছিল তাকে উদ্ধার করার পর উদ্ধারকারীকেই সে কেন হত্যা করতে চাইল। অকৃতজ্ঞতারও তো একটা সীমা থাকে ! সত্যি বলতে কী, জিনের ক্ষোভ নিয়ে ছোটবেলায় আমার নিজেরও বিস্ময় ছিল।
কাহিনীতে জিন বলে, নবী সুলাইমানের বিরুদ্ধাচরণ করায় তাকে বোতলে বন্দী করে মাঝ সমুদ্রে ফেলে দেওয়া হয়। উদ্ধাররহিত সেই দীর্ঘ একাকীত্বে জিন প্রতিজ্ঞা করে, যে তাকে মুক্ত করবে তাকে সে অগাধ সম্পদের মালিক করে দেবে। দিন যায় , মাস যায়, বছর যায় ; এভাবে একশ বছর চলে যায়, কেউ উদ্ধার করে না। সে আবার প্রতিজ্ঞা করে এবার যে তাকে উদ্ধার করবে, তাকে পৃথিবীর সমস্ত গুপ্তধনের সন্ধান দেবে। তবুও কেউ তাকে উদ্ধার করতে আসে না।
রাগে, দুঃখে, ক্ষোভে অসহায় জিন বেচারা প্রতিজ্ঞা করে বসে যে, এইবার যে তাকে উদ্ধার করবে তাকে সে হত্যা করবে। অবশ্য , কীভাবে সেই উদ্ধারকারী মৃত্যুবরণ করতে চায় সেটা বিবেচনায় নেবে !
এর পরের কাহিনীও আমরা জানি, জেলে বুদ্ধি করে নবী সুলাইমানের কসম খেয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে বিশাল দেহের জিন ঐ ছোট্ট বোতলে কীভাবে আঁটে ! বোকা জিন আবার সেই বোতলে ঢুকে দেখাতে গিয়ে চিরতরে আটকা পড়ে।
কেন জিন তাঁর চরম উপকারীকে হত্যা করার মতো এ রকম নির্দয় সিদ্ধান্ত নিতে পারল?
কারণ সমস্যা থেকে উদ্ধার পাওয়ার জন্য মানুষ অনেক ভাল প্রতিজ্ঞা করে। সমস্যা জটিলতর হলে, সে প্রতিজ্ঞায় আরো নানা প্রণোদনা যুক্ত হয়। কিন্তু যখন দেখে কোন উপায়েই উদ্ধারের সম্ভাবনা নেই, তখন হতাশায় আর ক্ষোভে চরম অবিমৃষ্য ও হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে।
কোভিড ভাইরাসের প্রথমদিকে মনে হচ্ছিল সবাই আগামীতে পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় অভূতপূর্ব উন্নয়নের প্রতিজ্ঞা করে ফেলেছে। আরো কিছুদিন যাওয়ার পরে মনে হচ্ছিল, সেই প্রতিজ্ঞায় আরো অনেককিছু যুক্ত হচ্ছে। নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন। প্রকৃতির বিশ্রামে নিজেই আরোগ্যলাভের আশাবাদে আমরাও পাশে দাঁড়াবো ইত্যাদি ইত্যাদি।
কিন্তু, এখন যতো দিন যাচ্ছে, সবাই সেই বোকা জিনের মতো ধৈর্যহারা, অবিবেচক, অসহনশীল আর নিষ্ঠুর হয়ে পড়ছি।
প্রকাশকালঃ ১লা জুলাই,২০২০
সাম্প্রতিক মন্তব্য