আমেরিকার নির্বাচন ২০২০

আমি চাচ্ছিলাম ট্রাম্প ব্যাটাই আবার জিতুক।
প্রথমবার জেতার পর বিমলানন্দ পেয়েছিলাম। আম্রিকানরা সারাদুনিয়ার সবার পুটুতে আঙুল দিয়ে বেড়ায়। ট্রাম্প আসায়, নিজেদের পুটুতে, নিজেদের লোক আঙুল দিলে কেমন ব্যথা লাগে বুঝছে। এই যে আমরা বাকী দুনিয়াতে চুতিয়া সব নেতা-নেত্রীদের নিয়ে হাবুডুবু খাচ্ছি, আমাদের ফিলিংসটা হ্লারপুতেরা বুঝুক। রাষ্ট্রনেতার মতো সর্বোচ্চ সন্মানের পদে বসে একজন যখন হুদামিছা, আউল-ফাউল কথা বলে সেটা তৃতীয় বিশ্বে একচেটিয়া হয়ে গিয়েছিল। এবার বোঝ, ঠ্যালা !

আগের ইলেকশনে ট্রাম্পকে কেন ভোট দিচ্ছ, এক সাদা আমেরিকান বন্ধুকে জিজ্ঞাসা করায় বলেছিল, ‘শোন জাহিদ, আমার সামনে দুইটা চয়েজ, একটা সুশীল ভণ্ড হিলারি ক্লিনটন আর আরেকদিকে পাগল-ছাগল ট্রাম্প। ভণ্ডের চেয়ে হৈহৈ রৈরৈ করা পাগল ভাল।’
এইবার সেই সাদা আমেরিকানের সঙ্গে কথাবার্তা হয় নাই।

তবে আমার মনে হয়েছে, ট্রাম্প একটা পাগলছাগল হলেও সারা দুনিয়ার পুটুতে আঙ্গুল দিয়ে বেড়ায় নাই। নিজেদেরকে নিয়ে ব্যস্ত থেকেছে। বাইডেন সাহেব আসলে সারা পৃথিবীর বিশেষত: তৃতীয়বিশ্ব ও মধ্যপ্রাচ্যের কোথায় কোন যুদ্ধ বাঁধিয়ে বসবে কে জানে !
ট্রাম্পের ব্যাপারে আমার মন্তব্য, মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত –টাইপ। এই লোক হাউকাউ যাই করুক তার শাসনামলে বড় ধরণের কোন ঝামেলা পাকায় নাই। না দিয়েছে মেক্সিকোর বর্ডারে দেয়াল ; না করেছে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ।

কথায় বলে না, চেনা শত্রু অচেনা বন্ধুর চেয়ে অনেকসময় ভাল। কারণ, চেনা শত্রু কী কী করতে পারে, সে সম্বন্ধে একটা ধারণা তো থাকেই। কিন্তু এতোদিন পরে এই , ঘাঘুমাল বাইডেন এসে কী কী করবে কে জানে।
এনিওয়ে, সকল আম্রিকানবাসী সাদাকালোবাদামি ভাই-বেরাদারদের শুভেচ্ছা। গণতন্ত্র নিজেদের পুটুতে গেলে কেমন লাগে বোঝেন অ্যালা !

আম্রিকার ইলেকশনে আমি ও আমার প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবস্থা অনেকটা এ রকম :
বহু শতাব্দী আগে কেউ কাউকে সুসংবাদ দিলে প্রশংসা ও বখশিশ পাওয়া যেতো।তো সেটা জেনে এক লোক নাসীরুদ্দীন হোজ্জাকে গিয়ে বলল,
: ‘তোমার জন্য খুব ভালো খবর আছে, মোল্লা-সাহেব।’
: ‘কী খবর?’
: ‘তোমার পাশের বাড়িতে পোলাও রান্না হচ্ছে।’
: ‘তাতে আমার কী ?
: ‘তোমাকে সে পোলাওয়ের ভাগ দেবে বলেছে।’
: ‘তাতে তোমার কী ?’

এই যে মোবারক ওরফে বারেক ভাইয়ের পরে জয়নাল ট্রাম্প এসে আম্রিকাকে হুলুস্থূল করল। একবার মেক্সিকোর বর্ডারে দেয়াল দেয়। আরেকবার উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে পারমানবিক যুদ্ধ বাঁধায়। কিছু অভিযোগ করলেই মুখ বাঁকা করে বলে’ ফেইইইক ন্যুজ !’ ব্যাপারটা আমার বরাবর ভালো লাগতো।
সব সময় মনে হতো, আরে এই লোক তো আমাদের ওয়ার্ড কমিশনারের মতো উত্তর-দক্ষিণ কথা বার্তা বলে। ব্যাটাকে অনেক আপন আপন মনে হইত রে ভাই !

মোবারক ভাই বলেন আর জোবায়ের বাতেন ভাই বলেন, এদের মতো ওর কোন মিষ্টি মিষ্টি কথা নাই ; যা মনে আসতো তাই বলতো।
নির্বাচনে জিতে , আজ জোবায়ের বাতেন ভাই আর কমলা আপার সেই ‘মাপা হাসি চাপা কান্না’ দেখে মনে হচ্ছিল হলিউডের কোন সিনেমা দেখছি। খুব লম্বাচওড়া কথা ; অনেকটা আমাদের মোটিভেশনাল স্পিকাররা ইদানীং যেরকম করে দেয় আর কী! আম্রিকা হ্যান, আম্রিকা ত্যান, কিপ ফেইথ, স্প্রেড ফেইথ ইত্যাদি ইত্যাদি। মিষ্টি কথার আড়ালে আগামী চারবছরে এদের অমানবিক আগ্রাসী পুঁজিবাদের কবলে পড়ে কার কার সর্বনাশ হয় সেটাই দেখার ব্যাপার।

আমার মামার কাছে শুনেছিলাম জেনারেল জিয়ার প্রথম দিকের ইলেকশনে সবাই দলবেঁধে ধানের শীষে ভোট দিতে যেতো। বঙ্গবন্ধু হত্যার পরে আওয়ামীলীগ তখন সাময়িক পরবাসে, নিভু নিভু করে জ্বলছে। যে কোন সামরিক শাসকের আবার জনপ্রিয়তা থাকে ১১০% । ভোট হলে অন্য কারো ভোট খুঁজে পাওয়া মুশকিল হয়ে পড়ে। যাই হোক, কুষ্টিয়ার কোন এক আসনে ‘চিন্টু’ নামের  ( ডাকনাম, আসল নাম মনে নেই ) ভয়ংকর এক দুষ্টু লোক ভোটে দাঁড়িয়েছিল। কীভাবে কীভাবে যেন সে ধানের শীষ প্রতীকও ম্যানেজ করেছিল।
ভোট শেষে চিন্টু মিঞার বিজয়োৎসব শুরু হলে, এক লোক ক্ষোভে ফেটে পড়ল, ‘ভোট দিলাম ধানের শীষে, শালার চিন্টু হারামজাদা এমপি হোল কেম্মা কইরে !”

আমাদের নতুন চিন্টু মিঞা —জোবায়ের বাতেন ভাই এখন কী কী দুষ্টুমি করে সেটা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।
আবারো অভিনন্দন জোবায়ের বাতেন ভাই এবং কমলা আপা ।

প্রকাশকালঃ ৫~৮ নভেম্বর,২০২০

বাঙালি হাসে না কেন!

বহুবছর আগে পড়েছিলাম। সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের একটা গল্প সংকলনের নাম ছিল ‘মাপা হাসি চাপা কান্না’।

আজ বিকালে বসে ভাবছিলাম– শিক্ষিত বাঙালি মেপে হাসে কেন ? হাসলে দাঁতের ফাঁক দিয়ে বুদ্ধি বের হয়ে যাবে বলে কী কম হাসে অথবা হাসতেই চায় না। লক্ষণীয় যে, লেখক ও মানুষ হিসাবে যারা কৌতুকপ্রিয়, হাসিখুশি, সমাজে তাদেরকে খুব একটা উঁচু চোখে দেখা হয় না। এই যেমন আমাদের সামগ্রিক সাহিত্য , সিনেমা ও নাটকের সবচেয়ে অপ্রয়োজনীয় অনানুষাঙ্গিক চরিত্রটি হচ্ছেন তিনি, যিনি ফিলার হিসাবে গল্পে টিকে আছে আছেন কোনরকমে। তিনি – যিনি নাটক, সিনেমার মাঝেসাঁঝে কৌতুক করছেন, লোক হাসাতে চাচ্ছেন, বিনোদিত করতে চাচ্ছেন।

পাশ্চাত্যে চার্লি চ্যাপলিন একজনই ছিলেন।

আমাদেরকে খুঁজে পেতে একজনের কথাই মনে পড়বে, ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের প্রয়াত খান জয়নুল, আশীষ কুমার লোহ, আনিস, হাসমত, টেলিসামাদ, দিলদার ও নাম না জানা অনেকেই সারাজীবন পার্শ্বচরিত্রেই ছিলেন। প্রোটাগনিস্ট বা মূল অভিনেতা হতে পারেননি কখনো, কোন পরিচালক সেই সুযোগ করে দেননি।
চলচ্চিত্রে কেউ চরিত্রাভিনেতা হতে না পারলেও, নাটকে আশির দশকে আমজাদ হোসেন সেটা করতে পেরেছিলেন। সেই সময়ের ঈদের নাটকে ‘জব্বর আলী’ ছিলেন একজন সামাজিক টাউট, আদম-ব্যবসায়ী, মজুতদার। তাঁর নানা কীর্তিকাণ্ড ও ধরা খাওয়ায় দেখে দর্শক হাসতে হাসতে গড়িয়ে পড়ত। জব্বর আলী নতুন কী কাণ্ড করে জেলে গিয়ে ঈদের সেমাই খাবে, সেটা দেখার জন্য প্রতি ঈদে আমরা বিটিভির সামনে অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করতাম।

হুমায়ূন আহমেদের নাটক ও সিনেমায় তাঁর জাদুকরী গল্প আর মধ্যবিত্তের আনন্দ-বেদনার কাব্যই ছিল মূল চরিত্র। একজন শান্তশিষ্ট বোকাবোকা বাবা, খুব কড়া মেজাজের মা ; তরল কথা বলা দেবর, অসামঞ্জস্যপূর্ণ কথাবার্তায় পটু কাজের লোক ; ভীরু প্রেমিক ও সাহসী প্রেমিকা নিয়ে তাঁর ঈদের নাটকগুলো ছিল অসম্ভব স্বাদু। কিছু নাটক নিখাদ আনন্দের, কিছু নাটকে প্রচ্ছন্ন সমাজ সচেতনতার মেসেজ।

হুমায়ূন আহমেদ জীবিতাবস্থায় তাঁর লেখালেখি দিয়ে বাংলাদেশের সাধারণ পাঠকের মন জয় করতে পারলেও, সমালোচক ও সাহিত্য-বোদ্ধারা তাঁর পুরো লেখালেখিকেই হালকা করে দেখেছেন। কেউ কেউ জিজ্ঞেসও করেছেন, কেন তিনি সিরিয়াস লেখা লেখেন না।

আমি আসলে বোঝার চেষ্টা করছি, সিরিয়াস লেখা কয়জন পাঠকের কাছে যায়। কমলকুমার মজুমদার কি অধিক পঠিত? বিষ্ণু দের কবিতা কয়জন পাঠকের কাছে পৌঁছাতে পেরেছে? শরৎচন্দ্র , মানিক, বিভূতিভূষণ, তারাশঙ্কর, শিবরাম চক্রবর্তী, সুনীল , সঞ্জীব, সমরেশ, শীর্ষেন্দু জনপ্রিয় বলে কি তাঁরা সিরিয়াস সাহিত্যিক নন ? দুই-বাংলা তন্নতন্ন করে আমাদের একজনই সৈয়দ মুজতবা আলী আছেন ; যার অসম্ভব উইট সমৃদ্ধ প্রবন্ধ, উপন্যাস, সবধরনের লেখালেখি এক ফরমেটে ‘রম্যরচনা’ বলে ট্যাগ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।

সরস, চটুল, হালকা ভঙ্গীর লেখালেখিকে , কথা বলাকে এতো তাচ্ছিল্য কেন বাঙালির ! নাকি , ছোটবেলা থেকে “ যত হাসি তত কান্না, বলে গেছেন রাম সন্না” শুনে শুনে বড় হওয়া বাঙালি অবচেতনে ধরেই নিয়েছে, হাসি ব্যাপারটা মোটেও ভালো কিছু না, হাসি হচ্ছে কান্নার প্রারম্ভিকতা। আর তাছাড়া আমরা শৈশবে দেখেছি, মন খুলে হো হো হাসির হুল্লোড় উঠলেই , চারপাশ থেকে বিশেষ একশ্রেণীর আত্মীয়, মুরব্বী হা রে রে করে ছুটে আসত, ‘এতো হাসি কীসের ! কপালে দুঃখ আছে !’

হ্যাঁ, রে ভাই, হাসির পরে দুঃখ আছে বলে কি আমাদের মেপে মেপেই হাসতে হবে। দুঃখ তো হাসলেও আসবে ; না হেসে সুকুমার রায়ের রামগরুড়ের ছানা হয়ে থাকলেও আসবে। জীবনযাপনের প্রাত্যহিক যন্ত্রণা, প্রিয়জন হারানোর শোক, দুঃখ, বেদনা, নানাবিধ ব্যর্থতা, চাওয়া না পাওয়ার টানাপড়েন, শারীরিক অসুস্থতা, বার্ধক্য আর অবশেষে অনিবার্য মৃত্যু তো আপনার হাসির তোয়াক্কা করে না। তবু, কেন এতো চাপা কান্না, বেদনার উদযাপন, শোকের উদযাপন ! বাঙালি মনুষ্যের আকাশে সারাক্ষণ চাপাকান্নার মেঘলা আবহাওয়াই থাকবে কেন ! গম্ভীর হয়ে, সিরিয়াস হয়েও নিয়তিকে কী কেউ এড়াতে পেরেছে ! পারেনি ; পারবেও না।

বাঙালির জীবনে হাসির সূর্যালোক দূর করুক সব অপ্রাপ্তির , বেদনার কালো মেঘ।
হে বাঙালি ! হাসতে হাসতেই না হয়, নিয়তির সঙ্গে লড়াই করা শিখুন !

প্রকাশকালঃ ২৮শে অক্টোবর,২০২০

প্রসঙ্গঃ ঢাকার রাস্তা সংস্কার

কয়েকদিন ধরে উত্তরা ৭ নং সেক্টরে আমি যে অফিসে কর্মরত, তাঁর চারপাশের রাস্তা ঢাকা ওয়াসা খুঁড়ে মিসমার করে ফেলেছে। আমার কর্মস্থলে আসতে একেক দিন গোলকধাঁধার মতো একেক রাস্তা ঘুরে আসতে হচ্ছে।

শীতের আগে একটা বৃষ্টি হলেই খোঁড়া রাস্তাগুলো হাকিম আলীর মৎস্য খামার হয়ে যাবে। আর দুয়েকদিন কাজ স্থগিত রেখে কন্ডাক্টর যদি ওয়াসা-ভবনে বিলের জন্য ঘোরে ; সেই দুইদিনে এডিস মশাদের প্রজননে বিশাল উপকার করা হবে। উপকৃত মশার কামড়ে উত্তরাবাসী ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মেয়র থেকে শুরু করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকেও শাপশাপান্ত করবেন।

প্রায় চারবছর পর নানা কাহিনীর পরে উত্তরার রাস্তাগুলো একটু ভদ্রোচিত অবস্থায় এসেছে। কিন্তু , বছরের পর বছর রাস্তা ঠিক থাকলে তো প্রবৃদ্ধি হবে না সোনা !

মাস দুয়েক হলো না , শুরু হয়ে গেছে খোঁড়াখুঁড়ি ; রাস্তা খোঁড়ার মোচ্ছব।

এই মাসে ঢাকা ওয়াসা খুঁড়ছে , কাজ শেষে দায়সারা গোছের মেরামত করে এরা চলে যাবে ; তার ঠিক দুইমাস পরে বিটিসিএল বা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের মনে হবে খোঁড়ার কথা।

আমি সিভিল ইঞ্জিনিয়ার না। তবে নাগরিক বুদ্ধিবৃত্তি দিয়ে এটুকু বুঝি যে–একটা রাস্তা প্রথম একটানে নানা ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে টেকসই করে করার পর, সেটা খুঁড়ে মেরামত করলেও সেই রাস্তার না থাকে কোন শক্তি; না থাকে সৌন্দর্য। দিন কয়েকের ভারী বর্ষণে যাচ্ছেতাই হয়ে যায়।

আশেপাশের অনেকের এবং আমার নিজেরর সহধর্মীনিরও ‘সি-সেকশন’ করে সন্তান জন্মদান করতে হয়েছে। স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সন্তান জন্মদানের কোনরকম চেষ্টা না করেই যথেচ্ছ অপ্রয়োজনীয় ‘সি-সেকশন’ কেন করা হচ্ছে, তার পক্ষে বিপক্ষে চিকিৎসক , সুশীল সমাজ ও নারীবাদীরা তর্ক করেই যাচ্ছেন। সে আরেক বিতং। কিন্তু, সিজারিয়ান অপারেশন করার পর, প্রসূতি নারীর সার্বিক স্বাস্থ্য আর তলপেটের চামড়ার স্বাভাবিক স্থিতিস্থাপকতা চিরকালের জন্য নষ্ট হয়ে যায়। সিনেমার কোটি টাকার নায়িকাদেরও সন্তান হয় শেষ বয়সে এসে, হয়তো ‘সি-সেকশন’ করেই হয়। কিন্তু তারা তাদের উন্মুক্ত তলপেটে মসৃণ রাখার জন্য চিকিৎসা ও ডায়েট করে হুলস্থূল করে। সেটা কী আমার গিন্নীর বা আপনার গিন্নীর পক্ষে সম্ভব ? ইচ্ছে করলেই বড়ো শতাংশের অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান অপারেশন যে এড়ানো যায়, সে কথা এখন সবাই বুঝতে পারছে।
তো, উত্তরার মসৃণ রাস্তায় এখন ‘সি-সেকশন’ চলছে।

চিন্তা করবেন না, দায়সারা মেরামত হবে দুইমাস পরে ; পানি জমবে, মশা হবে, রিকশা উল্টে পড়বে।
যারা একটা সমন্বিত সিদ্ধান্ত নিতে পারতেন, তাদের অনেকেই তো উত্তরাতেই থাকেন।
তারা সহ সবাই গালি দেবেন মেয়রকে, রাষ্ট্রকে।

আর কমিশনের টাকা দিয়ে আরেকটা ফ্ল্যাট কিনবেন, বাচ্চার জন্য আলাদা গাড়ী বরাদ্দ করবেন। ভালো রাস্তা কেটে ভাঙ্গাচোরা এই ‘ এলোমেলো করে দে মা লুটেপুটে খাই! ’ প্রক্রিয়াকে দোষারোপ না করে ; এসি গাড়ির ভিতর থেকে বসে বলবেন, ‘নাহ্ ! এই দেশের কোন আশাভরসা নেই। বাচ্চাগুলোর এ-লেভেল শেষ হলেই খালা-মামা-চাচার কাছে আমেরিকায় অথবা কানাডা পাঠিয়ে দেব।’

 

পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।

প্রকাশকালঃ ১৬ই অক্টোবর,২০২০

পিঁয়াজ আলু প্রসঙ্গে

বাঙালি একেক সময়ে একেক জিনিস নিয়ে মাতে।
পিঁয়াজ শেষে এখন মেতেছে আলু নিয়ে।
ঢাকাইয়া দুইটা সবজি বিষয়ক চুটকি মনে পড়ে গেল।
দুর্বল স্মৃতি থেকে লিখছি। মূল চুটকি কারো কাছে থাকলে জানাবেন।

১ :
তো , এক শহুরে ভদ্রলোক বাজারে গেছেন সবজি কিনতে। বেগুনে পোকা থাকে দেখে তিনি অনেকক্ষণ ধরে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে বেগুন দেখছেন।
ঢাকাইয়া সবজি বিক্রেতা অধৈর্য হয়ে পাশের বেগুন বিক্রেতাকে বলছে:
: আবে ওই রফিইক্যা, মান্দার পো ! তোর বাইগুণের কি অছুখ বিছুখ কিছু হইছে নিহি ?
: না তো ওস্তাদ !
: হইয়া থাকলে দেহাইয়া ল, (শহুরে ভদ্রলোককে দেখিয়ে), ওই দ্যাখ, বাইগুণের ডাগদর
আইছে।

২ :
যথারীতি এক সবজিওয়ালা ঝুড়িতে কয়েক পদের সবজি বিক্রি করেছে। দুঃসহ গরমে সবজিগুলোতে ঘনঘন পানি ছিটাচ্ছে।
এক লোক এগিয়ে এলো কিছু কেনার জন্য। কিন্তু কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে সবজিতে পানি ছিটানো দেখতে লাগল।
বিক্রেতা বললঃ
: কিছু লইবেন সাব ?
: ভাইসাব, আপনার পটলের জ্ঞান ফিরলে আমারে একসের পটল দিয়েন !

প্রকাশকালঃ ১৫ই অক্টোবর,২০২০

মাঝবয়সের দাম্পত্যকথা

নারীপুরুষ নির্বিশেষে একজীবনে বেশ কয়েকবার প্রেমে পড়ে। কেউ সেটা প্রকাশ করে , কেউ করে না ; কেউ করতে পারে না। যতো বড় ভালোবাসার বিয়েই হোক না কেন ; একযুগ পরে সেই ভালোবাসার তীব্রতা ফিকে হয়ে যায়। কারো কারো ক্ষেত্রে সেটা মাস ছয়েকেই হয়ে যায়। বছর ঘুরতে না ঘুরতে বিবাহবিচ্ছেদের দামামা বাজে। সন্তানাদিসহ অথবা ব্যতীত সব ডিভোর্সের নানাবিধ সামাজিক, পারিবারিক , আর্থিক কারণগুলো সবাই খালি চোখে দেখেন , আলোচনা করেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যেটা আলোচনার বাইরে, অবহেলিত থেকে যায় , সেটা হচ্ছে দম্পতির যৌনজীবন। বিচ্ছেদের অন্যতম প্রধান কারণ শারীরিক সমঝোতা না হওয়া। শারীরিক দূরত্বের সঙ্গে সঙ্গে মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। দাম্পত্যের শুরুতে বৈষ্ণব কবি জ্ঞানদাসের সেই উত্তুঙ্গ, শীর্ষানুভূতি থাকে তা একসময় থিতু হয়ে যায়। তিনি বলেছিলেন:

রূপ লাগি আঁখি ঝুরে গুণে মন ভোর।
প্রতি অঙ্গ লাগি কাঁদে প্রতি অঙ্গ মোর।।
হিয়ার পরশ লাগি হিয়া মোর কাঁদে।
পরাণ পিরীতি লাগি থির নাহি বাঁধে।।

যুগ পেরিয়ে দাম্পত্যে তখন একজনের অঙ্গ কাঁদলেও আরেকজনের আর কাঁদে না।

যাই হোক, চিকিৎসাবিজ্ঞানের হিসাবে, চল্লিশের পরপর অনেক পুরুষের টেস্টাস্টেরন হরমোন কমে না গিয়ে বরং বেড়ে যায় আর নারীর এস্ট্রোজেন হরমোন কমে গিয়ে ঋতুবিরতি বা মেনোপজ হয় ! এই প্রাকৃতিক অবিচার কীভাবে হয়েছে , কেন হয়েছে , কে জানে ! তাই, মাঝবয়সে সংসারের অনেক পুরুষ ঠিকই ‘ছোঁকছোঁক করে সম্ভোগের জন্য এবং চিহ্নিত হয় তথাকথিত যৌনকাতর হিসাবে। পুরুষ পরিতৃপ্তি খুঁজে ফেরে যেনতেন করে হলেও স্খলনের মাঝে। পুরুষ পৃথিবীর সকল সব চাপ ঝেড়ে ফেলতে চায় রাতের শয্যায়।

ওদিকে বিবাহিতা নারীটির শরীরে ভাটা এসেছে, মোটেও তা নয়। মেনোপজ বা প্রি-মেনোপজের মুখোমুখি হলে, শারীরিক পরিবর্তনের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়েও যৌনজীবন ধরে রাখা যায় ; সেটা না ভেবে , যৌনজীবন শেষ হয়ে গেছে বলে ভুল ধারণা করে বসে থাকে নারী। দৈহিকতা তখন আর নারীটির প্রায়োরিটি থাকে না। এটাও সত্য , বছর গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে নারী শুধুমাত্র স্ত্রী ও শয্যাসঙ্গিনী থেকে পরিবর্তিত হয়ে সার্বক্ষণিক ‘মা’ -এর দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই আমার মনে হয় দৈহিকতা নিয়ে একটা বোঝাপড়া মধ্যবয়সী দম্পতিদের থাকা উচিৎ। বোঝাপড়া স্বচ্ছ হলে, চাহিদা ও যোগানের ; আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তির একটা ভারসাম্য থাকে। চাহিদার তুলনায় জোগানের পার্থক্যের কারণে দৈহিকতা বরং আরো বেশি আনন্দময় হয়ে ওঠার সম্ভাবনা তৈরি হয়।

সকল বিবাহিত পুরুষের সমস্যা বোধকরি এরকম: গতরাতে দৈহিকতা হয়েছে, আজ রাতেও হতে পারে। হলে ভালো হয়। অথবা গতকাল বা গত পরশু হয়নি , আজ হতে পারে, হওয়া উচিৎ। সে প্রায় প্রতি রাতেই একটা সুপ্ত কিন্তু উদগ্র যৌনাকাঙ্ক্ষা নিয়ে বিছানায় এপাশ ওপাশ করে। হতেও পারে, নাও হতে পারে ; হতেও পারে, নাও হতে পারে।

মাঝবয়সে এসে , সংসারে বিবাহিতা নারীর উপর সারাদিনে শারীরিক-মানসিক ধকল তো আর কম যায় না। তাদের সারাদিনের চিন্তা তো শুধু পুরুষের মতো রাতের শয্যার দৈহিকতা নিয়ে না। যুক্তিসঙ্গত কারণে হয়তো সেই রাতে যৌনতা হয় না। পরের রাতেও অনেক দেরি করে বিছানায় আসে নারী ; শ্বশুরের সেবা, সন্তানদের কোচিং , পরীক্ষা ইত্যাদি ইত্যাদি। মধ্যবিত্ত পুরুষকুলের অফিস আর রাস্তার ট্র্যাফিক জ্যামের কিছু হ্যাপা ছাড়া তেমন কোন শারীরিক কসরত থাকে না। তাদের বিনোদনের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে সঙ্গম। তাই একটা অনিশ্চিত বিরতির চক্রে পড়ে যায় তার তীব্র শারীরিক কামনা। এই যে, আকাঙ্ক্ষা ও প্রাপ্তির একটা ফারাক তৈরি হয় ; সেখান থেকেই শুরু হয়, বিবাহিত পুরুষ ও নারীর দূরে সরে যাওয়ার চিরন্তন সমস্যা। খুব ধীরে ধীরে একে অন্যের কাছ থেকে শারীরিকভাবে তারা দূরে সরে যেতে থাকে। একজন আরেকজনের কাছে আরাধ্য না হয়ে অভ্যস্ত কিন্তু অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েন এবং এটাকেই স্বাভাবিক ভাবা শুরু করেন। তৈরি হয় অনতিক্রম্য মানসিক দূরত্ব। নানা সুতোয় বাঁধা পড়ে সংসার চলে সংসারের নিয়মে, টুকটুক করে। কিন্তু সুর কেটে যায়। কারো কারো এভাবেই আরো কয়েকবছর কেটে গেলে যৌনতাহীন জীবনকেই স্বাভাবিক মনে হয়। সামাজিকভাবেও সেটা ভালো চোখে দেখা হয়, তাদেরকে বলা হয়, আর কত ! হয়েছে তো অনেকদিন।

ফিরে আসি আগের আলোচনায়। মূলতঃ ঋতুচক্র শেষ হওয়ার অব্যবহিত পরপর কয়েকদিন নারী তার যৌন স্পর্শকাতরতার চূড়ায় থাকে। এ সময়ে নারী যৌনতা তো উপভোগ করেই ; পুরুষের জন্যও সেটা উপভোগ্য হয়। ঋতুচক্র শুরু আর শেষ এবং অব্যবহিত পরে মোট ১০ দিন নিরাপদ সময়ে ন্যূনতম ২ বা ততোধিক দিন যৌনতা থাকলে ভাল। এরপরের বাকী থাকে অনিরাপদ ১৭/১৮ দিন । এই দিনগুলোতে সর্বোচ্চ কতোদিন দিন আকাঙ্ক্ষিত হওয়া উচিৎ ? প্রতি তিনদিনে একদিন হলে ছয় বার । সেটা পারস্পরিক আকাঙ্ক্ষিত হলে তো কোন সমস্যা না। কিন্তু আমাদের সংসারের নারীরা হয়তো এই বয়েসে এসে এই ফ্রিকোয়েন্সির জন্য সামাজিক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে না। অথচ বেশিরভাগ পুরুষ ভেবে থাকে, একদিন পরপর তিন সপ্তাহে ন্যূনতম ৮ বা ১০ বার যৌনতা তো হওয়া উচিৎ। যৌনতার এই ফ্রিকোয়েন্সি, বিবাহিত জীবনের শুরুতে খুব স্বাভাবিক, কিন্তু মাঝবয়সে এসে প্রায় অসম্ভবের কাছাকাছি বলে নারী ধরে নেয়।

পর্যবেক্ষণ হচ্ছে, হোমোস্যাপিয়েন্স পুরুষ জেগে থাকার সারাক্ষণ তো যৌনকাতর হয়ে থাকেই ; ঘুমিয়ে ঘুমিয়েও সে যৌনতার স্বপ্নই দ্যাখে। অথচ অন্য সকল প্রাণী বছরের একটা নির্দিষ্ট সময়ে যৌনকাতর হয়। তাদের যৌনতা বিবর্তনের ধারায় বংশবৈচিত্রের ও বংশরক্ষার। গরু, ছাগল, হাতি ঘোড়া, বাঘ, সিংহ থেকে থেকে শুরু করে সকল পশুপাখি ঘরের কুকুর বিড়ালও শুধুমাত্র নির্দিষ্ট মাসে কামার্ত হয়। বছরের বাকী মাসে এদের খাদ্য-সংগ্রহ, সন্তানের লালনপালন ছাড়া অন্য কোন কর্মবৈচিত্র থাকে না। নারী প্রাণীদেরও ক্ষেত্রেও তাই। কিন্তু এই হোমোস্যাপিয়েন্সদের যৌনতা শুধু বছরের নির্দিষ্ট সময়ের বংশ-প্রকৃতি রক্ষার জন্য না। যৌনতার সঙ্গে পুরুষতান্ত্রিক সামাজিক প্রেক্ষাপট, সবল-দুর্বলের হিসাব, পুরুষতান্ত্রিক সামাজিকতা রক্ষার চেষ্টা বা পরিশেষে নিখাদ আনন্দ লাভই মুখ্য হয়ে থাকে। আমরা যৌনতার ক্ষেত্রে অন্যান্য প্রাণীদের তুলনায় বেশ একটা ব্যতিক্রমী আচরণ করে থাকি। সে আরেক আলোচনা।

হোমোস্যপিয়েন্স নারীর যৌনতার জাদুর কাঠি বিবর্তনের ধাক্কায় আরো গভীরে চলে গেছে। ভেবে দেখেন যে, পুরুষের সবচেয়ে স্পর্শকাতর স্নায়ুগুলো দেহের বাইরে যৌনাঙ্গের মাথায় পাতলা একটা চামড়ার নীচে প্রায় উন্মুক্ত হয়ে আছে । আর অন্যদিকে নারীর স্পর্শকাতর জি-স্পট , অর্গাজম অথবা চরম-পুলক নিয়ে চলছে যুগের পর যুগ তর্কবিতর্ক। যেটা সচরাচর দেখা যায়, নারীদের জি-স্পট চামড়ার প্রায় দুই-তিন ইঞ্চি গভীরে। সেটিও অনেক নারী চিহ্নিত করতে পারে ; বেশিরভাগই পারে না। পুরুষের চরম-পুলক স্খলনের মাধ্যমে জাজ্বল্যমান। নারীর ক্ষেত্রে সেটা চিররহস্যময়। সুতরাং স্পর্শকাতরতায় হোমোস্যাপিয়েন্স পুরুষ প্রজাতি খামোখাই এগিয়ে আছে। পোশাক থেকে শুরু করে কোন কিছুর হালকা ঘর্ষণেই সে উত্তেজিত হয়ে পড়ে। আর নারীর যৌনতাকে ধীরে ধীরে অনেকক্ষণ সময় নিয়ে জাগিয়ে তুলতে হয়; তাকে সিক্ত করতে হয় তারপরে না সেই আরাধ্য যৌনমিলনের প্রশ্ন আসে।

পুরুষদের যৌনকাতরতার কথা বলে শেষ করলে আলোচনা বড্ডো একপেশে হয়ে যায়। দিনশেষে আমি লেখক, নিজেও একজন পুরুষ। নিরপেক্ষতার জায়গাটা থাকছে না। যৌনতায় অনুৎসাহী নির্জীব পুরুষও নারীদের কাছে একইরকম যন্ত্রণার। উপমহাদেশের নারীর বুক ফাটে তো মুখ ফোটে না। মাসের পর মাস, পুরুষের নির্জীবতার কথা কাউকে বললে ছিনাল বা খাইখাই নারী হিসাবে কুখ্যাত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। পুরুষকে যৌনতায় আগ্রহী করে তোলা ও যৌনজীবনে বৈচিত্র্য আনার কথা নারী কখনই বলে উঠতে পারে না। অথচ পাঠক, ‘কামসূত্র’ আমাদের এই উপমহাদেশেরই আর তা নিয়ে পশ্চিমের গবেষণা অদ্যাবধি চলমান। পুরুষ সামাজিকতা থেকে জেনে বসে আছে যে, যৌনতার পরিমিতিবোধ বয়সের সঙ্গে সঙ্গে স্বাভাবিক। আর নারী সেই বাল্যকাল থেকে মা-খালাদের কাছে শিখে এসেছে যৌনস্পৃহাকে অবদমিত করে রাখতে হয়। এ রকম একটা প্রাগৈতিহাসিক মনোভাব , যৌনতাকে অস্পৃশ্য ভাবা যে অসুস্থতা, সেটা নারীকে কে বোঝাবে !

দাম্পত্যের বাইরে যৌন স্বাধীনতা পুরুষের যৎসামান্য থাকলেও নারীর ক্ষেত্রে তা শূন্যের কাছাকাছি। পুরুষ হিসাবে আপনি মিক্সড ফ্রুট সালাদ বা রুচির পরিবর্তনের কথা ঠাট্টা করে হলেও বলতে পারেন, বড়ো কোন অপরাধ হিসাবে গণ্য হবে না তা। কিন্তু নারী রুচির পরিবর্তনের কথা বললেই, সারা সমাজ তাকে বেশ্যামাগী থেকে শুরু করে যতোরকম পুরুষতান্ত্রিক অশ্লীল গালিতে জর্জরিত করে ফেলবে।

সারাদিন পরে ঘরে ফিরে পুরুষ স্নানাহার সেরে পত্রিকা হাতে টিভির সামনে বসে পড়ে। আর ভাবে, সে সারা দুনিয়া উদ্ধার করে এসেছে। অন্যদিকে, নারী সারাদিনের কাজের চাপে নিজেকে সিনিয়র গৃহপরিচারিকার ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়। নিজেকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে পরস্পরের কাছে উপস্থাপনের তাগিদ বিয়ের প্রথম কয়েকবছর থাকে। তারপরে পুরুষ তার নোয়াপাতি ভুঁড়ি চুলকাতে চুলকাতে, গোঁফের কোনে ডালের দাগ মেখেই টিভি দেখতে বসেন। আর নারী সেই সকালের পরিহিত সালোয়ার বা শাড়ী যেটা ঘামে ভিজে দুর্গন্ধ হয়ে গেছে সেটা নিয়েই আশেপাশে গৃহকর্ম করে যেতে থাকেন। গুটি কয়েক সচেতন নারী ও পুরুষ হয়তো শয্যায় আসার আগে স্নান সেরে সুগন্ধি মাখেন। নিজেকে একটু হলেও ছিমছাম ও আকর্ষণীয় করে তোলেন, সে যৌনতার কারণেই হোক বা এমনিতেই।

উল্টোদিকে কর্মজীবী নারীরা নিজেকে তার অফিসের জন্য যেভাবে প্রতিদিন প্রস্তুত করে, তার ছিটেফোঁটাও কি গৃহের পুরুষটির জন্য করে ? ‘ঘর কা মুরগি ডাল বরাবর’ তাই বলে সবকিছুকেই সহজলভ্য ও চিরস্থায়ী ভাবার বোকামি করা কি ঠিক ? অর্থনৈতিক স্বাধীনতা আর যৌন স্বাধীনতাকে এক করে ফেলেন তারা। দিনশেষে তাদের আচরণও একজন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের পুরুষের মতো হয়ে যায়, সেটা তারা টেরও পান না। যখন টের পান ; তখন সম্পর্কের তারে মরিচা ধরে যায়।

ঘরের নারীকে শরীর সচেতন হতে বললেই সেটা পুরুষতান্ত্রিক চাহিদা হয়ে যায় না। নারীকে একটু সাজিয়ে গুছিয়ে থাকতে বললেই সেটা বাজারের বা মিডিয়ার নারীর ছলাকলায় অভ্যস্ত নারীদের সমতুল্য করা হয় না। একটা স্বাভাবিক পরিচ্ছন্ন প্রবৃত্তিকে অবহেলা করে আমাদের দাম্পত্য ও সংসারে আমরা কোন স্থায়ী সম্পর্কের প্রমাণ দিয়ে চলি , সেটা কে জানে !

তাই, হে পুরুষেরা ! নারীকে বুঝুন, নারীর যৌনতাকে বুঝুন।
আর হে নারীকুল ! পুরুষদের শারীরিক দুর্বলতাকে বুঝুন । পারস্পরিক চাওয়া-পাওয়ার এই সম্পর্ককে একটা নিয়ন্ত্রিত কিন্তু আনন্দময় অবস্থানে নিয়ে আসুন। মধ্যবয়সে পুরুষ যেন নিজেকে রিক্ত বা যৌনবঞ্চিত না ভাবে।
আবারো মনে করিয়ে দিই, জীবন সংক্ষিপ্ত, যৌনজীবন তারচেয়েও সংক্ষিপ্ত ! তাই সেটা উপভোগ্য করে তুলুন।

পাঠ করার জন্য ধন্যবাদ।।

প্রকাশকালঃ ১২ই অক্টোবর,২০২০