সারাবছরের অফিসের ট্রাভেলে হঠাৎ হঠাৎ একবার দু’বার বিজনেস ক্লাসে আপগ্রেড পাই, নিতান্তই মাইলেজের বদৌলতে ; তাও হয়তো কোন শর্ট ফ্লাইটে। নিম্নশ্রেণী থেকে উচ্চশ্রেণীতে উত্তরণের এই ব্যাপারটা কিন্তু আমি বেশ তারিয়ে তারিয়ে উপভোগ করি।
সারাক্ষণ এয়ারহোস্টেস ব্যতিব্যস্ত আপনাকে নিয়ে। যেখানে ইকোনমি ক্লাসে এক গ্লাস পানি চাইলেও সময় ফেরে এরা এতো ব্যস্ত থাকে যে, পারলে ঢেলে খেতে বলে। তিনবার ডাকলে একবার আসে। খাবার শেষ করে সামনের ট্রে নিয়ে ঘণ্টা খানেক ধরে বসে থাকতে হয়, কখন পরিষ্কার করবে এই আশায়। সেই তুলনায় বিজনেস ক্লাস মানে অন্যরকম কিছু।
কিন্তু আপগ্রেড পাওয়ার পরও একটা জিনিষ আমি বুঝি আমার সাথে জেনুইন বিজনেস ক্লাসের তফাৎ ঘোঁচে না। পাশের ধবধবে পেটমোটা কোট টাই পড়া হাঁসফাঁস যাত্রীটা কিছুটা বিরক্তির চোখে তাকায় আমার দিকে, এইসব মফিজ( পড়ুন জাহিদ) ক্যামন করে যে বিজনেস ক্লাসে আসে !
স্কুল জীবনে আমাদের একটা কমন অভজার্ভেশন ছিল বড়লোকের পোলাপানদের নিয়ে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্তের দুজন ছেলে বা মেয়ে যদি পাশাপাশি একই পোশাক পড়েও হেঁটে যায়, আমরা ঠিকই ওদের আলাদা করতে পারতাম। খেয়াল করে দেখতাম , উচ্চবিত্ত পোলাপানের চামড়ায় একটা আলাদা মসৃণতা, ঔজ্জ্বল্য বা জেল্লা থাকে। এটা কী ঘি মাখন, চর্বিচোষ্য খেয়ে নাকি সারাক্ষণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ি ও ঘরে থেকে, কে জানে ! আমরা কিন্তু ঠিক ঠিক টের পেতাম। আমার মনে হয়, সমাজের যে কেউ এটা টের পেয়ে যান।
আবার নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের কাউকে যতই পোশাক ও অন্যকিছু দিয়ে পালিশ করি না কেন, চামড়ার ওই জেল্লা আনা অনেক ডিফিকাল্ট! হঠাৎ বিজনেস ক্লাসে বসেও এবার আমি এইসব চিন্তা করতে করতে ঢাকায় !
প্রকাশকালঃ জুন, ২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য