গত কয়েক দশকের মহামারী- সার্স, বার্ড ফ্লু, মার্স, জিকা, ইবোলা, সোয়াইন ফ্লু সব ভাইরাসেই মৃত্যু আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এইবার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মৃত্যুশঙ্কার চেয়েও বড় আতঙ্ক বোধকরি সামাজিক সন্মান ।
ইংল্যান্ডের প্রিন্স চার্লসের হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের হয়েছে, হলিউডের অস্কার জয়ী টম হ্যাঙ্কসের হয়েছে। আমাদের মিডিয়া সেটা ফলাও করে প্রচারও করেছে। বাংলাদেশের কারো হলে তাঁর কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে সেতো পাগলেও বোঝে। সেই অর্থে সে যে অচ্ছুৎ সে ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু তাঁর ও তাঁর পরিবারের এতো সামাজিক গোপনীয়তার কারণ কী হতে পারে ! কুশিক্ষা আর অমানবিকতা !
কোভিড ১৯ কারো হলে মনে হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তি বোধহয় খুব জঘন্য কিছু করে এই রোগ বাঁধিয়েছে !
নব্বইয়ের দশকে আমাদের বাঙালি মুসলমান সমাজে সমকামী ও পতিতাগামী এইডস রোগীদের যেভাবে দেখা হতো , কোভিড ১৯ রোগীদের সেইভাবে দেখা হচ্ছে। এই সামাজিক অবমাননার কারণে অনেকে চেপে থাকতে চাচ্ছেন রোগটিকে । মহল্লায় মহল্লায় গুজব আর বাঁশ নামিয়ে লকডাউনের ছড়াছড়ি হচ্ছে।
ব্যতিক্রম যে নেই তা না ; উচ্চশিক্ষিত যাঁদের হয়েছে, সুস্থ হচ্ছেন, যেমন বিএসএমএমইউ এর সাবেক উপ-উপাচার্যের করোনা থেকে রোগমুক্তির কথা টিভিতে দেখলাম। এই ডাক্তার ভদ্রলোক ও তাঁর কন্যা জানেন, এটা তাঁদের সামাজিক সন্মানের সঙ্গে জড়িত কিছু নয় মোটেও।
অথচ এই অতিমিডিয়ার যুগে করোনা ভাইরাস একজন আক্রান্তের যা কিছু অর্জন সেটা ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছে, । কেউ আক্রান্ত হয়েছেন এটা তার চেয়েও তার পরিবারের জন্য বেশি বিড়ম্বনার, আতঙ্কের ও যন্ত্রণার মনে হচ্ছে।
প্রকাশকালঃ ২৬শে এপ্রিল,২০২০
সাম্প্রতিক মন্তব্য