লকডাউনের আগে নিজের ওজন মেপেছিলাম।

তেমন কোন শারীরিক কসরত নেই, ভেবেছিলাম অনেক বেড়ে গেছে। আজ মাপতে গিয়ে অবাক , হুবহু একই আছে ! নিজেকে মোল্লা নাসিরুদ্দীনের ছাগলের মতো মনে হচ্ছে। ছাগলের ছাগলামি মোল্লার যুগেও যেমন ছিল, এই যুগেও তো তাই !
একবার বাদশাহ নামদার মোল্লার কোন এক অপমানসূচক কথায় হুকুম দিলেন, ‘মোল্লাকে এক্ষুনি রাজ্য থেকে তাড়িয়ে দাও।’ অনেক কাকুতিমিনতির পর বাদশাহের দিলে রহম হলো, ‘এক শর্তে হুকুম রদ হতে পারে, যদি তা পারো তবেই রেহাই।’
মরিয়া হয়ে মোল্লা বলল,
‘হুজুর আপনি যা বলবেন, আমি তাতেই রাজি।’
‘তোমাকে একটা ছাগল ওজন করে দেওয়া হবে। ঠিক একমাস পোষার পর ওজন করে যদি দেখা যায় ওজন ঠিকই আছে, একটুও কম বা বেশি হয়নি তাহলে মাফ।’
মোল্লা আকাশপাতাল দুশ্চিন্তা করতে করতে ছাগল নিয়ে বাড়ি গেল।
একমাস পরে রাজদরবারে ছাগল ওজন করে দেখা গেল ওজন কাঁটায় কাঁটায় ঠিক, কমেওনি বাড়েও নি।
বাদশাহ ও অমাত্যরা অবাক। কৌতূহলী হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কী করে সম্ভব হলো মোল্লা?’
মোল্লা হেসে বললেন, ‘ হাজার হোক বাদশাহ নামদারের দেওয়া ছাগল, যত্নের কোন ত্রুটি রাখিনি। পেটভরেই খাওয়াতাম। কিন্তু বেশি খেলে ওজন বাড়বেই। তাই সারাদিন খাওয়ানোর পরে সারারাত একটা বাঘের খাঁচার সামনে বেঁধে রাখতাম। খেলে কী হবে, সারারাত বাঘের হুঙ্কারে আতঙ্কে সব হজম হয়ে যেতো ! তাই ওজন বাড়েও নি, কমেওনি।’

প্রকাশকালঃ ১৯শে জুন,২০২০