নারী দেহের কমনীয় বাঁকগুলো দেখে আমি এখনো বলে উঠি বাহ্ , চমৎকার ! এর বেশী কিছু না।

অনেক অনেক বছর আগে, ৯০/৯১ হবে হয়তো । সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসছিল ; সাহিত্য কেন্দ্রের ছোট্ট খোলা ছাদের এক খোলা আসরে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার অনেকটা এরকমটি বলছিলেন, “এই উজ্জ্বল আলোতে ( সামনের বাতিটিকে দেখিয়ে) আমরা লুকিয়ে রেখেছি আমাদের হিংস্র পশুকে ; আমাদের শিক্ষা, বিবেক, সামাজিক অবস্থান, আমদের সভ্য করে রেখেছে ; নিয়ন্ত্রিত রেখেছে। যদি আলো নিভে যায় দীর্ঘ সময়ের জন্য। যদি অন্ধকারের কাছে তোমাদের দায়বদ্ধতা জমা থাকে ; জবাবদিহিতার কোন সম্ভাবনা না থাকে । তোমাদের ভিতরের পশুগুলো বের হয়ে পড়বেই। ঝাঁপিয়ে পড়বে- তোমরা তোমাদের পাশের সহপাঠিনীদের ওপর !”
কৈশোর পেরুনো আমাদের কয়েকজন সদ্য তরুণ ভীষণ মর্মাহত হলাম। বলেন কি স্যার ! আলো থাক বা অন্ধকার ,আমরা দেশের সর্বোচ্চ মেধাবী ছেলেরা কখনো এই কাজ করতে পারি ?

জীবনের বেশগুলো বছর পার হয়ে এখন মনে হয়, স্যার হয়তো সত্যিই বলেছিলেন। আমরা কত কসরত করে, ধর্ম, সামাজিক মূল্যবোধ, পাপ, শাস্তি, শিক্ষা, সভ্যতার প্রলেপের পর প্রলেপ দিয়ে লুকিয়ে রাখি আমাদের পশুটাকে।

নির্দিষ্ট কিছু সম্পর্কের বাইরে , নারী পুরুষের মুখোমুখি হওয়া মানেই কি শিকার আর শিকারির মুখোমুখি হওয়া ? সম্পর্কটা কি শুধুই খাদ্য-খাদকের ? হরিণটি অজস্র শব্দের ফাঁকেও কীভাবে যেন টের পেয়ে যায়, তার সামনে বা আশে পাশে মাংসাশী পশু ; তার হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায়, কান খাড়া করে বোঝার চেষ্টা করে কোনদিকে সম্ভাব্য বিপদ। নারীদের অবস্থাও ঠিক তেমনি। মাংসাশী পশুটি ক্ষুধার্ত ও আগ্রাসী না থাকলেও হরিণটি নিজেকে নিরাপদ ভাবতে পারেনা।

আমার জীবন হয়তো আলো-অন্ধকারে কেটে যাবে। কিন্তু এই জনপদে কতখানি জায়গাতেই বা আলো পৌঁছচ্ছে ? দীর্ঘ দায়বদ্ধতা-হীন অন্ধকারে শিকার-শিকারির ঝাঁপিয়ে পড়ার সম্পর্ক কি চলতেই থাকবে ?

প্রকাশকালঃ জানুয়ারি, ২০১৩