পর্নোগ্রাফি বা অশ্লীল উপকরণ আমাদের সমাজের জন্য , মনের জন্য কতোখানি ক্ষতিকর ? আমার ব্যক্তিগত মত– মনে হয় ক্ষতিকর। পর্নোগ্রাফির অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারে আমাদের প্রজন্ম বেড়ে ওঠেনি। কিন্তু আধুনিক প্রজন্মের কাছে এটা এতটাই সহজলভ্য, যে দোকান পর্যন্ত গিয়ে পর্নোগ্রাফি খুঁজতে হয় না, হাতের মুঠোফোনেই যথেচ্ছ উপাদান থাকে। বেশী পর্নো দেখলে বা পড়লে ( পড়লে, এই কারণে , আমার প্রজন্ম —রসময় গুপ্তের প্রারম্ভিক বা সমকালীন সময়ের ) সারাক্ষণ মাথায় ওই জিনিষই ঘোরাফেরা করে। আমার যেমন, কৈশোরে প্রথম প্রথম নীল ছবি দেখার পর , সাদা চামড়ার সবাইকে মনে হতো নীলছবির নায়ক-নায়িকা ! ভালো কোন মুভি বা সিরিয়ালে দেখছি– মনে হতো, ভণ্ডগুলা আমার সামনে শুধু শুধু জামাকাপড় পড়ে ঘুরছে। কখন যে এইসব খুলে ফেলবে কে জানে ! এটা আমার প্রজন্মের সেই সময়ের মানসিক বৈকল্য । এটা এখনো আছে , ভয়াবহ বিকৃতি আনে চিন্তা চেতনায়। আশে পাশের সবাইকে মানুষ না ভেবে ভোগ্যপণ্য মনে হওয়া শুরু হয়। আপনি সুখ-কল্পনায় নানারকম ফ্যান্টাসিতে ভেসে বেড়াতে থাকবেন।
মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই মনো-বৈকল্য সম্পূর্ণই এক তরফা। আরেকজন টেরও পাচ্ছে না , তার সামনে বসে, আপনি তাঁকে নিয়া কী অশ্লীল চিন্তা করছেন। আমি নিজেকে নিজে ঝাঁকি দিয়া, বাস্তবে ফিরিয়ে এনেছি , আনতে পারি! ওই মানসিক সামর্থ্য আমার ছিল এবং আছে । কিন্তু একটা সদ্য কিশোর কি সেটা পারে ?
প্রকাশকালঃ মার্চ,২০১৩
সাম্প্রতিক মন্তব্য