বছর বিশেক আগে, মিডিয়ার রমরমা যুগের শুরু ! অবস্থা এমন যে যাই ঘটুক, যতোটুকুই ঘটুক, যেখানেই ঘটুক — সঙ্গে সঙ্গে তা মিডিয়াতে চলে আসা শুরু হয়েছে। স্কুলের অন্যতম রসিক বন্ধু ডাঃ জিল্লুর রহমান রুবেলের মুখে প্রথম শুনেছিলাম।
পুনশ্চ: চৈত্রের এই অসহনীয় গরমে সামান্য অশ্লীলতা ক্ষমার্হ !
ওই যে, সুন্দরবনের এক বাঘিনী ছিল যেটা বানরদের খুব উত্যক্ত করতো ! যখন তখন গাছের নীচে হুংকার আর নিরীহ বানর ভক্ষণ। বানরগুলোও বদের বদ ! হৈ হুল্লোড় করে হরিণ বা অন্য প্রাণীকে আগাম জানিয়ে দিত বাঘিনী আসছে।
তো, এই রকমই এক চৈত্রের দুপুরে বাঘিনী গাছের নিচে ঝিমুচ্ছে। এক পর্যায়ে গভীর ঘুম।
বদ বানরটার মাথায় চাপলো দুষ্টু বুদ্ধি। সে আস্তে আস্তে গাছ থেকে নেমে দিল বাঘিনীর পুটু মেরে।
উত্তেজনার শেষ পর্যায়ের ঝাঁকুনিতে বাঘিনীর গেল ঘুম ভেঙ্গে !
এও কি সম্ভব ? এও কি সম্ভব ? এও কি সম্ভব ? এত্তো বড় সাহস?
বানর দিল ছুট, বাঘিনী পিছু পিছু ! বানর ছুটছে, বাঘিনী ছুটছে। বাঘিনী ছুটছে, বানর ছুটছে। সুন্দরবন বড্ডো এলোমেলো। বানর ছুটছে জান বাঁচাতে , বাঘিনী ইজ্জতের সুরাহা করতে !
দৌড়াতে, দৌড়াতে, দৌড়াতে , দৌড়াতে দুপুর গড়িয়ে পড়ন্ত বিকেল। বানরের নাগাল আর পাচ্ছে না বাঘিনী।
তো পথে পড়লো ফরেস্ট অফিসারের ডাকবাংলো, ঘাসের লনের টেবিলে ধূমায়িত চায়ের কাপ, পাশে দৈনিক পত্রিকা রাখা ।
কোন এক কাজে ফরেস্ট অফিসার টেবিলে নেই। উপায়ন্তর না দেখে বানর সোজা যেয়ে চেয়ারে বসে পেপারটা মুখের উপর মেলে ধরে থাকলো।
বাঘিনী ইতিউতি তাকিয়ে সোজা যেয়ে বানরটাকেই ফরেস্ট অফিসার ভেবে, মৃদু বিনীত গলায় জিজ্ঞেস করলো, ‘স্যার এই দিক দিয়ে কি একটা বানরকে যেতে দেখছেন?’
পেপারের পিছন থেকে গম্ভীর গলার উত্তর আসলো, ‘কোন বানরটা, যেইটা একটু আগে এই বনের বাঘিনীর পুটু মেরেছে?’
বাঘিনী ভীষণ দুঃখে মর্মাহত গলায় বলে উঠলো, ‘স্যার এই খবর কি পেপারেও চলে আসছে?
প্রকাশকালঃ ১১ই এপ্রিল,২০২০
সাম্প্রতিক মন্তব্য