জাপানে সামুরাই যোদ্ধা ও তাদের ক্ষুরধার তরবারি নিয়ে নানা গল্প প্রচলিত আছে।

এই গল্পটি অনেক আগে শোনা, ডিটেইল মনে করতে পারছিলাম না। নেটে বেশ কয়েকটা ভার্সন পেলাম।
মূলত: চাইনিজ অথবা ইহুদিদের কূটবুদ্ধিকে ব্যঙ্গ করার উদ্দেশ্যে যে যার মতো গল্পটির রূপান্তর করেছে। পাঠক ইচ্ছে করলে ইহুদি পাদ্রীর জায়গায় করোনা ভাইরাসের প্রতিষেধকের সূত্রের আবিষ্কারক মুফতি কাজী ইব্রাহিমের নাম বসিয়ে দিতে পারেন।

তো হয়েছে কি, একবার জাপান সম্রাটের প্রধান সামুরাই যোদ্ধার প্রয়োজন।
বহুদিন ধরে যোগ্য কাউকেই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিন দেশের তিন সামুরাই পাওয়া গেল– জাপানিজ, চাইনিজ ও ইহুদি।
সম্রাট বললেন, ‘তোমাদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দাও।’
জাপানি সামুরাই এগিয়ে এলো। ছোট্ট ক্ষুদ্রাকৃতির একটা বাক্স খুলে একটা মাছি ছাড়ল। তারপর সাঁই সাঁই করে বাতাসে তরবারি চালালো । মাছিটি একেবারে মাঝখান থেকে নিখুঁতভাবে দ্বিখণ্ডিত হয়ে মেঝেতে পড়ল !
রাজদরবারে একটা বিস্ময় ধ্বনি ! বিস্মিত সম্রাট পরের সামুরাইকে ইশারা করলেন তার নৈপুণ্য দেখাতে।

চাইনিজ সামুরাই এগিয়ে এসে ক্ষুদ্রাকৃতির বাক্স খুলে একটা মাছি ছাড়ল, তারপর বাতাসে তরবারি চালালো সাঁই সাঁই সাঁই সাঁই ! মাছিটি নিখুঁত চারখণ্ডে খণ্ডিত হয়ে মেঝেতে পড়ল।
অসাধারণ ! সম্রাট এইবার ঈশারা করলেন শেষের ইহুদী সামুরাইকে।
ভাবলেন, এই নৈপুণ্যকে টপকানো মুশকিল !
এবার ধীর পায়ে ইহুদি পাদ্রী এগিয়ে আসল, বাক্স খুলে মাছি ছাড়ল।
অসম্ভব শক্তির সঙ্গে বাতাসে তার সামুরাই তারবারি চালাল।
কিন্তু মাছিটির কিছু হলো না ; উড়ে বেড়াতে লাগল।
বিরক্ত সম্রাট জিজ্ঞেস করলেন, ‘এটা কি ধরণের দক্ষতা ? মাছিটাও তো মারতে পারলে না হে ! দিব্যি উড়ে বেড়াচ্ছে !’
‘অবশ্যই উড়ছে , মহামান্য সম্রাট ! কিন্তু এখন থেকে মাছিটা আর বাবা হতে পারবে না !’

দ্বিতীয় ভার্সনে ইহুদি পাদ্রীর এগিয়ে এসে মাছি ছেড়ে দেওয়া পর্যন্ত ঠিক আছে।
মাছি বনবন করে উড়ছে, সম্রাট বিরক্ত হয়ে বললেন, ‘এটা কি ধরণের দক্ষতা ? মাছিটাও তো মারতে পারলে না হে ! দিব্যি উড়ে বেড়াচ্ছে !’
ইহুদি মৃদু হেসে উত্তর দিল, ‘মাছিকে টুকরো করে মারা তো সহজ কাজ ! কিন্তু উড়ন্ত মাছির পুরুষাঙ্গের খৎনা করা ! সেটি কয়জন সামুরাই করতে পারবে মহামান্য !’

প্রকাশকালঃ ১৫ই মে ২০২০