আম্মার কাছে শোনা।
সেকালে কোলকাতার পকেটমারদের নাকি খুব সুখ্যাতি ছিল। একই রকম ছিল গুলিস্তানের পকেটমারদের।
একবার গুলিস্তানের পকেটমারদের সুনাম শুনে মফস্বলের এক লোক গুলিস্তানে এল ব্যাপারটা দেখার জন্য।
সে বুকপকেটে একটা একশ টাকার নোট নিয়ে সারা গুলিস্তানে ঘুরে বেড়াতে লাগল। সারাদিন কেটে গেল কিন্তু কোনো খবর নেই! পকেটের টাকা পকেটেই পড়ে রইল।
সন্ধ্যায় একটা পানদোকান থেকে পান কিনতে কিনতে দোকানদারকে বলল, কই হে ! গুলিস্তানের পকেটমাররা নাকি দেশের সেরা , কিন্তু তার তো কোনো পরিচয় পেলাম না। একটু দূরে দাঁড়ানো এক ছোকরা তখন বলল, জাল নোট নিয়ে ঘুরে বেড়ালে কে আপনার পকেট মারবে?
এটার পুরনো ভার্সনে, এক বাঙাল পকেটমার নকল সোনার বালা নিয়ে সারাদিন কোলকাতা শহরে ঘুরে সন্ধ্যায় সেই একই আফসোস, কই এরা নাকি সবার সেরা তার তো কোন পরিচয় পেলাম না। পাশের বেঞ্চে বসা কোলকাতার পকেটমার বলল, দাদা! সারাদিন পকেটে করে নকল সোনার বালা নিয়ে ঘুরলে কী করে হবে ! যদিও সন্দেহ হওয়াতে ,আমাদের তিন এলাকার লোক আপনার বালা পরীক্ষা করে দেখেটেখে আবার রেখে দিয়েছে !
এখন নানা কাজে বাসার বাইরে যেতেই হচ্ছে। কতকিছুতে হাত দিচ্ছি। কীসে করোনা ভাইরাস আছে , শরীরের কোথায় যে স্পর্শ লাগছে, কতোখানি নিজেকে জীবাণুমুক্ত করতে পারছি , কে জানে ! নাকি করোনা ভাইরাস সেই পাকনা পকেটমারের মতো কানের কাছে ফিসফিস করছে, ও সোনা ! তোমাকে তো কয়েকবার ছুঁয়ে গেছি, ভিতরে ঢুকে বের হয়েও গেছি, টের পাও নি ?
সাম্প্রতিক মন্তব্য