by Jahid | Nov 29, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
আমি খুব বেশী বড় প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীদের বাৎসরিক কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে বেতন বোনাস ও পদোন্নতি কীভাবে হয় , দেখার সুযোগ পাইনি।যাঁদের এই ব্যাপারে ব্যাপক পড়াশোনা বা প্রাতিষ্ঠানিক ডিগ্রী আছে, অথবা যারা ব্যাংক বীমা বা আরও বৃহৎ পরিসরের কোন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছেন তাঁরা আলোকপাত করতে পারেন।
আমার স্বল্প কর্মজীবনের ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণে মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যা দেখেছি , তা হচ্ছে কর্মচারীর মূল্যায়ন মালিকের অথবা সিনিয়র ম্যানেজারদের ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দের ভিত্তিতে করা হয়ে থাকে। একেক প্রতিষ্ঠানে একেক রকমভাবে ।কিন্তু ঘুরে ফিরে সেই ‘ থোড় বড়ি খাড়া, খাড়া বড়ি থোড় ’ । কোথাও আত্মীয়তার প্রায়োরিটি তো কোথাও মুখ-চেনাদের , কোথাও তৈল-সিক্তদের। ফাঁকে ফোকরে কিছু যোগ্য লোকের মূল্যায়নও হয় বটে!
আবার এটাও ঠিক, যে পদ্ধতিতেই মূল্যায়ন করা হোক না কেন ; সকল কর্মচারীকে সন্তুষ্ট করা মালিক বা কর্তৃপক্ষের পক্ষে সম্ভব নয়। অনেকসময় যথাযথ মূল্যায়িত কর্মচারীও চারপাশে বলে বেড়ায়–তাঁকে বঞ্চিত করা হয়েছে। আমার মনে হয়, মালিক ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের জন্য এটা একটি কঠিন কাজ ।
মুশকিল হয়, যখন দেখা যায় কোন একজন কর্মচারী তাঁর নিকট অতীতে সংঘটিত নির্দিষ্ট কর্মকাণ্ড, আচরণ বা অন্যকোন একটি সামান্য ইস্যুর জন্য দীর্ঘদিন ধরে অবমূল্যায়িত হতে থাকেন। একবছরে বঞ্চিত হয়ে , হয়তো সেই কর্মচারী ভালো বেতন বোনাসের আশায় দিনরাত এক করে পরিশ্রম করেও দেখেন তাঁর ব্যাপারে কর্তৃপক্ষের মূল্যায়ন এক বিন্দুও বদলায়নি। মূলত: মালিক বা সিনিয়র ম্যানেজমেন্ট দিনশেষে রক্তমাংসের একজন বা একাধিক মানুষ। এবং বেশিরভাগ মানুষ জাজমেন্টাল হয়ে থাকে। কেউ একবার ‘ডান নজরে’ থাকলে , তাঁর হাজার দোষত্রুটি যেমন চোখে পড়ে না। তেমনি একবার কেউ ‘বাঁ নজরে’ পড়ে থাকলে তাঁর কোন দক্ষতাই মূল্যায়িত হয় না।
আরও সমস্যা হয়, যখন মালিক তাঁর অধস্তনদের মূল্যায়নের জন্য গোপনে তথ্য সংগ্রহ করেন। যাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তাঁর ব্যাপারে, তাঁর অধীনস্থদের কাউকে ডেকে গোপনে কৌশলে তথ্য নেওয়া হয়। এখন বাঙালি চরিত্র সহজবোধ্য ; কে কাকে ল্যাং মেরে উপরে উঠবে সেটাই বাঙালির কাছে মুখ্য। কোন অধস্তন যখন সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিগত অনুসন্ধানের সম্মুখীন হয়, তাও আবার তাঁর ঊর্ধ্বতন বসের ব্যাপারে—প্রথমেই, সে যে কাজটি করে– মালিককে বোঝানোর চেষ্টা করে তাঁর ঊর্ধ্বতন আসলে সারাদিন কয়েকটা সামান্য কাজ ছাড়া কিছুই করেন না। যা করার অধীনস্থ হিসাবে তিনি নিজেই করছেন। মোদ্দা কথা, ম্যানেজমেন্টকে বোঝানো হয়, ওই ঊর্ধ্বতন ব্যক্তি ছাড়াই প্রতিষ্ঠান চলবে। খামোখা এতো বেতন বোনাস দিয়ে শুধুমাত্র ‘ অভিজ্ঞ’ এই নিরর্থক গুণের জন্য গুচ্ছের টাকা খরচ করার মানে হয় না।
এই বহুল প্রচলিত ও জনপ্রিয় শেষ পদ্ধতিতে দু’টি ব্যাপার প্রকট ও দৃষ্টিকটু ।
প্রথমত: মূল্যায়ন অধীনস্থদের গোপন আলাপচারিতার ভিত্তিতে করলে ফলাফল সর্বদাই এক আসে। সেটা যে লেভেলেই করা হোক না কেন।
দ্বিতীয়ত: অধীনস্থ দিয়ে মূল্যায়ন করার এই পদ্ধতি মালিক ও সিনিয়র ম্যানেজমেন্টের ব্যর্থতা, সেটা স্বীকার না করে নিজেদেরকে তাঁরা খুব দক্ষ ও জ্ঞানী ভাবা শুরু করেন। অবমূল্যায়িত কর্মচারীকে তাঁরা ঠারেঠোরে বুঝিয়ে দেন, তাঁর ব্যাপারে মালিক-পক্ষের কাছে অনেক ‘ তথ্য’ আছে ! আসলে তাঁদের যে মূল্যায়নের ব্যাপারে যোগ্যতার ঘাটতি আছে সেটা তাঁরা বেমালুম ভুলে যান। নিজেদের অদক্ষতাকে ঢাকতেই অদ্ভুতুড়ে পদ্ধতির প্রয়োজন হয়। দুঃখজনক হচ্ছে , যাকে মূল্যায়ন করা হচ্ছে ; সে বেচারা জানতেও পারেন না তাঁর ক্যারিয়ারের সর্বনাশ কে কে বা কারা কারা করল ! অনেকসময় ব্যাপারটা রীতিমত নোংরামির পর্যায়ে চলে যায়। প্রায়শ: ড্রাইভার, পিওনদের কথা শুনে কারো ব্যক্তিগত খোঁজখবর নেওয়া হয় এবং মূল্যায়নে সেই ‘গোপন’ তথ্য মূল ভূমিকা রাখে !
যাই হোক, বেদনা দিয়েই আজকের অব্জার্ভেশন শেষ করতে হচ্ছে।
আমার মতামত, মাঝারি ও ছোট প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী মূল্যায়ন পদ্ধতি আমাদের দেশে এখনো শিশুতোষ পর্যায়ে রয়ে গেছে। এই পরিস্থিতির আশু পরিবর্তন হওয়ার আমি কোন সম্ভাবনা দেখছি না।
প্রকাশকালঃ জানুয়ারি,২০১৬
by Jahid | Nov 29, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন, লাইফ স্টাইল
সরকারী কর্মকর্তাদের কথা বলতে পারব না। তবে আমাদের বেসরকারি কর্পোরেট কর্মকর্তাদের মাঝে কয়েক ধরণের লাইফ-স্টাইল আছে । ধরেন, একই বেতনে কাজ করে কয়েকজন সহকর্মী । তাদেরকে মোটা দাগে কয়েক ভাগে ভাগ করা যায়।
প্রথম প্রকার: বেতনের টাকা দিয়ে চলে। উপরি ইনকাম নেই, কিন্তু ঢাকার শহরে বউ-বাচ্চা আত্মীয়স্বজন নিয়ে স্ট্যাটাস মেইন্টেইন করতে হিমসিম খায়। মূলত: মধ্যবিত্ত, কিন্তু চালচলন ও মানসিকতা উচ্চ মধ্যবিত্তের।
দ্বিতীয় প্রকার: বেতনের বাইরে ইনকাম নেই, সামাজিক স্ট্যাটাসের দিকে তেমন নজর নেই। মধ্যবিত্তের অনিশ্চয়তা আর নিরাপত্তা হীনতায় ভোগা শ্রেণী। যা বেতন পায়, তার সিংহভাগ ব্যয় করে সন্তানদের শিক্ষায়, বাকিটা সঞ্চয় করে ভবিষ্যতের জন্য। এরা জেনুইন মধ্যবিত্ত মানসিকতার এবং এই মানসিকতা থেকে উত্তরিত হতে পারে না।
তৃতীয় প্রকার: বেতনের টাকার বাইরে নানাধরনের উপরি ইনকাম আছে ; গাড়ীর মডেল , ফ্ল্যাটের সাইজ দেখলে টের পাওয়া যায়। ধর্মকর্মে খুব আত্মনিবেদিত। দেশের বাইরে সেকেন্ড হোম আছে বা করার চিন্তা করে। পরিস্থিতি এদিক সেদিক হলে দেশের বাইরে চলে যাওয়ার সক্ষমতা আছে। উচ্চবিত্ত মানসিকতার, জীবন উপভোগ করে। এতকিছু থাকা স্বত্বেও নানা ধরণের ফালতু অনিশ্চয়তায় ভোগে।
চতুর্থ প্রকার: বেতনের টাকার বাইরে প্রচুর ইনকাম আছে, কিন্তু দেখাতে চায় না বা পারে না, সমাজের নজরে পড়ে যাবে বলে। নামে বেনামে সম্পত্তি করে, অসংখ্য এফডিআর করে। জীবন উপভোগের সবকিছু থাকতেও নিজেদেরকে বঞ্চিত করে চলে। নিম্নবিত্ত মানসিকতার যদিও অর্থনৈতিকভাবে উচ্চবিত্ত।
পঞ্চম প্রকার: আপনার কাছে কি মনে হয় ? কোন শ্রেণীকে আমি মিস করেছি ?
প্রকাশকালঃ২৮শে নভেম্বর,২০১৯
by Jahid | Nov 28, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে Job Description বা Job Responsibilities–ব্যাপারটি সূর্যালোকের মত স্পষ্ট ও আবশ্যকীয় হলেও সবচেয়ে অবহেলিত একটা বিষয়। নিয়োগ-দাতা ব্যাপারটাকে তেমন গুরুত্ব দেন না । BDJobs ঘেঁটে আরও কয়েকটি বিজ্ঞপ্তি থেকে Job Responsibilities কপি-পেস্ট করে দেন। আবার যিনি চাকুরিপ্রার্থী, কোন একটি নতুন পজিশনে যোগদান করতে যাচ্ছেন তারও বিষয়টি নিয়ে অনেকাংশে স্পষ্ট ধারণা থাকে না ।
বেশ কয়েকবছর টেক্সটাইল ফ্যাক্টরির প্রোডাকশনে কাজ করে , নানা কারণে মার্চেন্ডাইজিং-এ চলে এসেছিলাম। কীভাবে কীভাবে BEXIMCO নামের সমুদ্র থেকে OPEX নামের মহাসমুদ্রে এসে পড়লাম, সে গল্প আরেকদিন ! ওখানে গিয়ে অনেকের সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গেল, অসমবয়স্ক বন্ধু-স্থানীয় কলিগকে জিজ্ঞেস করলাম, কারখানার মার্চেন্ডাইজিং এর Job Responsibilities কী কী ! সে খুব গম্ভীর মুখ করে বলল , ‘ শোন্ ! মার্চেন্ডাইজারদের ক্ষেত্র-বিশেষে ডিমপাড়া ছাড়া সবকাজই করতে হতে পারে!’ আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, ‘ মানে কি ?’ সে তার পূর্বতন কারখানার নানা অম্লমধুর অভিজ্ঞতার কথা বলল। তার ক্যারিয়ারের শুরুতে তাকে প্রায়শ: কারখানার মালিকের বাসায় বাজারও পৌঁছে দিতে হয়েছে ! আমি যারপরনাই হতাশ হলেও ; সৌভাগ্যক্রমে OPEX গ্রুপের কাজের সময়টিতে আমাকে অতদূর নামতে হয়নি !
মূল প্রসঙ্গে আসি। কেন জানিনা, গালভারী কিছু টাইটেলের মাঝে আমাদের কর্মজীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার “Job Description বা Job Responsibilities” আলোহীন ছায়ায় অপুষ্ট হয়ে থাকে। এবং বছর-শেষের দেনাপাওনা বা বেতনবৃদ্ধির ব্যাপারগুলো যখন মুখোমুখি চলে আসে, ভুল বোঝাবুঝির শুরু হয় তখনই । ‘ব্যবসা খারাপ’ এটা-তো প্রথম গৎবাঁধা বুলি। এরপর আসে আরও গভীর উচ্চমার্গের কথাবার্তা। মালিকপক্ষ কর্মচারীকে বোঝান, আসলে তাদের এক্সপেকটেশন ছিল ‘ওইটা’ ! ‘সেইটা’ আবার আলোচ্য কর্মচারীটি পূরণ করতে পারে নাই অথবা লক্ষ্যমাত্রায় পৌঁছাতে পারেননি। ‘আরও ভালো ব্যবসা হওয়া উচিৎ ছিল’ বা ‘Could have been better! ‘ – টাইপ কথাবার্তা ! ভালোর কী আর শেষ আছে ! ওইদিকে কর্মচারীও সারাবছর কী কী ধরণের কাজে ব্যস্ত ছিলেন , কতখানি পরিশ্রম আর বিনিদ্র রাত কাটিয়েছেন তার স্মৃতি হাতড়ান। সারাবছরের পুণ্য ,ছোটখাটো দুয়েকটা Discount বা Claim-এর পাপে কাটাকাটি হয়ে যায় ! মালিক-পক্ষের সামনে হাস্যকর ভাবে নতজানু হয়ে প্রার্থনা করতে হয় যে, শুধুমাত্র বাজারে তার ইজ্জত রক্ষার জন্য হলেও কিছু বেতন বৃদ্ধি করা দরকার !
অধুনা Yearly Business Target, Business Growth, Target Achievement , Appraisal বহুবিধ গালভারী টার্মের প্রচলন হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। ঐ পর্যন্তই ! বেশীরভাগ ক্ষেত্রে মালিক-পক্ষকে কে কীভাবে তৈল-সিক্ত করবে এবং বোঝাতে পারবে , সে সারাবছর সে কী করেছে এবং আরও কী করা সম্ভব !আসলে এই তেল বা প্রেজেন্টেশনের অনেকাংশে নির্ভর করে বেতনবৃদ্ধি, গাড়ীবাড়ি ইত্যাদি । আর, কেউ যদি ভাবে, সে তার সাধ্যমত চেষ্টা করেছে এবং সেটার শতভাগ নিরপেক্ষ পর্যালোচনা হয়ে বছর শেষে সঠিক বেতন বৃদ্ধি বা প্রণোদনা পাবেন ; তাহলে সে আমার মতোই নির্বোধ ! ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোতে সচরাচর সেটা হয় না। সম্ভবত: উচ্চমাধ্যমিক বা ডিগ্রীতে হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর ‘ তৈল’ নামের প্রবন্ধটি পাঠ্য ছিল। তেল যে সমাজজীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা তাঁর মতো এতো মধুর করে বাংলা সাহিত্যে কেউ প্রকাশ করতে পারেন নি । এক বন্ধুর কাছে শোনা। বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ এক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের বয়োবৃদ্ধ মালিককে তার এক কর্মচারী নাকি অভূতপূর্ব উপায়ে তৈল-সিক্ত করছিলেন । তো , বৃদ্ধ মালিক এক পর্যায়ে মৃদু হেসে বলেছিলেন , ‘আঁরে তেল দিস্ না রে ; তেল আঁরে ও ধরে!’ ( আমাকে তেল দিস না, তেল আমাকেও ধরে !) সুতরাং আপনি যতো বড় মালিক বা কর্মকর্তা হন না কেন , তেল আপনাকে ধরবেই ! মনে রাখবেন, তেল কর্পোরেট জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ( সময় হলে , নেট ঘেঁটে ‘তৈল’ প্রবন্ধটি পড়ে নিতে পারেন। )
আমার কর্মজীবনে আমি হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছি। নিজের যোগ্যতা নিয়ে আমার গভীর সন্দেহ আছে ! আমার পূর্বতন Boss -রা একে একে সবাই, আমার অযোগ্যতা হাতেকলমে ও অর্থনৈতিক প্রাপ্তির ক্ষেত্রে প্রমাণ দিয়ে বুঝিয়ে গেছেন। এর উপরে আছে আমার বিখ্যাত আলস্য ! সুতরাং ঘনঘন প্রতিষ্ঠান বদলানোর সৌভাগ্য হয়নি আমার। কর্পোরেট অভিজ্ঞতা যাই বলিনা কেন,ঘুরেফিরে কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের। আলতোভাবে বলতে হবে ; নতুবা কাছের বন্ধু-শুভাকাঙ্ক্ষীরা বা পাঠকেরা সহজেই বুঝে ফেলবেন ! কর্মজীবনে কোন এক প্রতিষ্ঠানের ক্রান্তিকালে, প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনে নতুন অবস্থানে ফিরে আসতে হয়েছিল আমাকে। ক্রান্তিকালীন সময়ে যা হয়, রীতিমত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। কেউ কাউকে বিশ্বাস করেনা ; সহকর্মীদের মাঝে নানারকম ষড়যন্ত্র তত্ত্ব । তো মালিকের অনেক অপ্রিয় কাজ করার জন্য ‘ছাই ফেলতে ভাঙ্গা কুলোর’ মত কাউকে না কাউকে দরকার । চাকরি থেকে বরখাস্ত করতে হবে? মালিক বা নবীন অ্যাডমিন ভরসা পাচ্ছেনা সেটা হ্যান্ডেল করতে। নতুন লোক রিক্রুট করতে হবে ? সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নিরপেক্ষ কাউকে দরকার ছিল সেই মুহূর্তে! মাত্রই একটা স্বৈর যুগের অবসান হয়েছে। নতুন অনেক নিয়ম তৈরি করতে হচ্ছে। নানা ধরণের ম্যানুয়াল, ইন্সপেকশনের ফরম্যাট সংশোধন। সাপ্লায়ারদের সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কের ঝালাই ; সে এক দক্ষযজ্ঞ ব্যাপার। ঐ কাজ করতে গিয়ে আমার প্রায় আড়াই-তিন বছর চলে গিয়েছিল। প্রতিষ্ঠানের বিশাল জাহাজের পালে বাতাস লেগে সেটি বাজারে সুনামের সঙ্গে আবার চলা শুরু করল। আমি ধরে নিয়েছিলাম যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে আমি আমার সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করেছি । প্রতিষ্ঠানকে একটা কিনারায় নিয়ে আসা এবং ঐ মুহূর্তে মালিক পক্ষের জন্য ও প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রয়োজনীয় ছিল আমার অবদান। মুশকিল হচ্ছে, সবকিছু ঠিক হয়ে যাওয়ার পরে, সেই প্রচলিত মূল্যায়ন পদ্ধতিতে পড়ে গেলাম আমি । অতঃপর সবদিক সবার থেকে গেলাম পিছিয়ে। কেননা , দুটো সহজ ব্যাপার আমি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম , যেটি আমার এক সুহৃদ অগ্রজ ঝাঁকি দিয়ে মনে করিয়ে দিলেন।
প্রথমত: আমার মূল পরিচয় হচ্ছে –আমি মার্কেটিং বা সেলস্ এর লোক। দিনশেষে মালিক পক্ষ ব্যবসা চাইবে, মুনাফা খুঁজবে, বাকীসব অনাবশ্যক ! ব্যাপারটা অনেকটা এরকম –ধরুন আপনি সঙ্গীত বা চিত্রশিল্পী, যুদ্ধের সময়ে রাইফেল কাঁধে যুদ্ধ করেছেন। কিন্তু যুদ্ধ শেষে দ্রুততার সাথে আবার আপনার নিজের জগতের ফিরে আসতে হবে। আপনি কৃষক হলে মাঠে, জেলে হলে নদীতে। তা না করে, আপনি যদি যুদ্ধস্মৃতি রোমন্থন করেন এবং আশা করেন যে, ক্রান্তিকালীন যোদ্ধার পরিচয়ে আপনার বাকী জীবন চলে যাবে—তাহলে তো হবে না ! যাই হোক! মূল পরিচয়ের বাইরে গিয়ে কাজ করতে গিয়ে আমি যখন দিনরাত এক করে ছুটছি ; সেই সময় আমার অন্য সহকর্মীরা যার যার ডিপার্টমেন্টের ব্যবসা বাড়িয়েছেন। এবং যথারীতি মালিকপক্ষের কাছ থেকে যাবতীয় সুযোগসুবিধা কড়ায়গণ্ডায় বুঝে নিয়েছেন। কর্পোরেট ভাবে ও অর্থনৈতিকভাবে আমি গেলাম পিছিয়ে। আমার সহকর্মীরা নিজের পরিচয়ে, নিজের Job Responsibilities নিয়ে ব্যস্ত ছিলেন, ক্রেতাকে সময় দিয়েছেন, ট্রাভেল করেছেন , ব্যবসা বাড়িয়েছেন । তাদের এনে দেওয়া নগদ মুনাফায় মালিক খুশী হয়েছেন; তাদেরকেও সাধ্যাতীতভাবে অফিসিয়ালি ও আনঅফিসিয়ালি লভ্যাংশ দিয়ে খুশী রেখেছেন। ক্রান্তিকালীন সময়ে মার্কেটিং বা সেলস এর থেকেও অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ বা কোম্পানি রিকন্সট্রাকশনের কাজ যে অনেকবেশী গুরুত্বপূর্ণ ছিল ; মালিক পক্ষ তা দিব্যি ভুলে বসে আছেন এবং আমার মনে হয় কর্পোরেট জগতের এটাই স্বাভাবিক নিয়ম!
দ্বিতীয়ত: সেই অগ্রজ বন্ধুটি আমাকে আরও মনে করিয়ে দিলেন–এমন কোন কাজে নিজেকে সারাক্ষণ ব্যস্ত রাখবেন না যেটা মালিক যে কোনও সময় প্রতিস্থাপন করতে পারেন । যেমন অ্যাডমিনিস্ট্রিটিভ কাজ ! এডমিনের কাজ মালিক যে কোন সময় টেক-ওভার করতে পারেন। ইচ্ছে হলেই, একদিনেই তিনি নিজে অথবা তার বংশধর বা নিকটাত্মীয়কে দিয়ে পুরো কোম্পানির অ্যাডমিন ও ম্যানেজমেন্ট বুঝে নিতে পারেন। আপনি মুহূর্তেই গুরুত্বহীন হয়ে যেতে পারেন। কিন্তু , আপনি যখন মার্কেটিং , সেলস অথবা টেকনিক্যাল কোন কাজে জড়িয়ে আছেন, আপনার নিজের আসল পরিচয়ে টিকে আছেন–আপনাকে এতো সহজে মালিক পক্ষ প্রতিস্থাপন করতে পারবেন না। সুতরাং অবস্থাভেদে সময়ের প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠানের জন্য যে কাজই করেন না কেন, নিজের মূল পরিচয় ভুলে যাবেন না ।
প্রকাশকালঃ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
by Jahid | Nov 28, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
একজন হতাশ, ব্যর্থ লোকের সাথে অনেকক্ষণ কথা হলো আজকে। দুঃখিত পাঠক ও পাঠিকা, তিনি অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীন বলে উনাকে ব্যর্থ একজন বললাম। কারণ , আমি বা আপনি , আমাদের চারপাশের সবাই মানুষকে অর্থনৈতিক মাপকাঠি দিয়েই মাপেন।
ভদ্রলোক বছরকয়েক আগে বড়ো কর্পোরেট চাকরি করতেন, বাইপাস সার্জারিতে সহায়-সম্বল শেষ। শারীরিক অসুস্থতার দীর্ঘবিরতিতে উনি উনার চাকরিজীবনের আগের পজিশন হারিয়েছেন। এইটা খুব স্বাভাবিক । তাঁর অধস্তনরা উনাকে ফেলে চলে গেছে সামনের দিকে , বয়স ও শারীরিক কারণে নতুন চাকরি পাওয়া অনেকটা দুঃসাধ্য হয়ে গেছে। সবাই, তাঁকে এড়িয়ে চলেন ; হুম হাম করে পাশ কাটিয়ে যান।
ভেবেছিলেন ব্যবসা করবেন। ব্যবসা করার যোগ্যতা বা মূলধন কিছুই নাই। কারো কাছে সাহায্য চাওয়ার মতো মানসিক অবস্থা নাই। ত্রিশঙ্কু অবস্থা । আমি নিজেও , ব্যবসার ‘ব’ ও বুঝি না। উনাকে বললাম, ‘চক্ষুলজ্জার মাথা খেয়ে হলেও পুরনো মালিকের ওখানে জয়েন করেন , যে পজিশনেই হোক না কেন, আপনাকে দিয়া ব্যবসা হবে না। কিছুদিন চাকরি করার পরে হয়তো কোন না কোন পথ পেয়ে যাবেন।’
আমাদের কর্পোরেট জগতের সবাই, খুব ভিতরে একজন আতংকিত ব্যর্থ মানুষকে বয়ে নিয়ে চলছি। আমরা কেউ জানি না, কখন কোন পরিস্থিতিতে ওই ব্যর্থ লোকটা বের হয়ে আসবে সামনে !
প্রকাশকালঃ ৭ই জুন,২০১৩
by Jahid | Nov 28, 2020 | কর্পোরেট অবজার্ভেশন
এক লোক তোতা পাখি কিনতে দোকানে গিয়েছে। অনেক ঘুরে এক দোকানে থিতু হলেন।
দোকানদার সারিবদ্ধ তিনটা তোতা পাখিকে দেখিয়ে বলল , একদম বাম দিকের তোতা পাখির দাম ৫ হাজার টাকা!
: এতো দাম ?
: শোনেন, এই তোতা পাখি বাংলা, ইংরেজি আর হিন্দি ৩টা ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারে!!
পরের তোতা পাখিটার দাম জিজ্ঞেস করল ভদ্রলোক।
সেটার দাম আরো বেশি ১০ হাজার টাকা !!!
: এর গুণাবলী কি ?
: এর দাম বেশি কারণ এই তোতা পাখিটি আগেরটি যা পারে তা তো পারেই ; সেই সংগে ঐ তিনটা ভাষায় লেখালেখিও করতে পারে !!
স্বভাবতই উৎসাহের চরমে পৌঁছে, বাকী থাকা শেষের তোতা পাখিটির দাম জিজ্ঞেস করলেন ভদ্রলোক।
: ২০ হাজার টাকা !!!
ভদ্রলোক উৎসুক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এর বিশেষ গুণাবলী কি কি ?
দোকানদার বলল, ‘ সত্যি কথা বলতে কি , আমি এই তোতা পাখিকে কখনই কিছু করতে দেখি নি ! সারাদিন বসে বসেই থাকে ; কিন্তু অন্য সব তোতা পাখিরা একে BOSS বলে ডাকে !!!
সাম্প্রতিক মন্তব্য