by Jahid | Nov 30, 2020 | সাম্প্রতিক
গার্মেন্টস খোলা থাকবে নাকি বন্ধ থাকবে এটা নিয়ে সবাই কনফিউজড ছিলেন। পক্ষে বিপক্ষে অঢেল যুক্তিতর্ক আছে। নানা যুক্তিতর্কের পরে সবার সম্মতিতে সীমিত আকারে গার্মেন্টস চালু করা হয়েছে।
এই কিছুক্ষণ আগে একবন্ধু ইন-বক্সে বলল, ‘স্বাস্থ্যবিধি মেনে গার্মেন্টসে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া আর নববিবাহিত দম্পতিকে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে সংসার করার আদেশ দেওয়া একই কথা!’
ওর কথা শুনে, বহুদিন আগের একটা কাহিনী মনে পড়ে গেল। যৎসামান্য অশ্লীলতা ক্ষমার্হ !
কাহিনী হেরিটেজ হোটেলের (রাজা-মহারাজাদের প্রাসাদগুলোকে মূলত: হেরিটেজ হোটেল বানানো হয়।)
তো , এক নববিবাহিত দম্পতি হেরিটেজ হোটেলে রুম ভাড়া নিতে গেছে ! কোন রুম ফাঁকা নেই।একটাই রুম ফাঁকা, শতবছর আগে মহারাজা স্বয়ং ওই রুমে থাকতেন।
হোটেল ম্যানেজার : ‘দেখুন , এই রুমের খাটটি অনেক অনেক পুরাতন । এগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে । তো, স্বামী–স্ত্রী দের আমরা এই রুমে কখনই থাকতে দিই না। আপনাদেরকে দিচ্ছি । আপনারা কষ্ট করে ফ্লোরে থাকবেন।’
এই বলে ম্যানেজার রুমবয় কে ডেকে বলল : ‘এই খাটটা সরিয়ে ফেল্।’
স্বামী : দেখুন ভাই, আমরা নববিবাহিত …
ম্যানেজার ( রুমবয়কে ডেকে ) : ‘এই, চেয়ার গুলাও সরা…..’
প্রকাশকালঃ ১লা মে, ২০২০
by Jahid | Nov 30, 2020 | সাম্প্রতিক
গত কয়েক দশকের মহামারী- সার্স, বার্ড ফ্লু, মার্স, জিকা, ইবোলা, সোয়াইন ফ্লু সব ভাইরাসেই মৃত্যু আশঙ্কা ছিল। কিন্তু এইবার অন্য দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার কোভিড ১৯ করোনা ভাইরাসের সঙ্গে মৃত্যুশঙ্কার চেয়েও বড় আতঙ্ক বোধকরি সামাজিক সন্মান ।
ইংল্যান্ডের প্রিন্স চার্লসের হয়েছে, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের হয়েছে, হলিউডের অস্কার জয়ী টম হ্যাঙ্কসের হয়েছে। আমাদের মিডিয়া সেটা ফলাও করে প্রচারও করেছে। বাংলাদেশের কারো হলে তাঁর কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে সেতো পাগলেও বোঝে। সেই অর্থে সে যে অচ্ছুৎ সে ব্যাপারে আমার কোন সন্দেহ নাই, কিন্তু তাঁর ও তাঁর পরিবারের এতো সামাজিক গোপনীয়তার কারণ কী হতে পারে ! কুশিক্ষা আর অমানবিকতা !
কোভিড ১৯ কারো হলে মনে হচ্ছে আক্রান্ত ব্যক্তি বোধহয় খুব জঘন্য কিছু করে এই রোগ বাঁধিয়েছে !
নব্বইয়ের দশকে আমাদের বাঙালি মুসলমান সমাজে সমকামী ও পতিতাগামী এইডস রোগীদের যেভাবে দেখা হতো , কোভিড ১৯ রোগীদের সেইভাবে দেখা হচ্ছে। এই সামাজিক অবমাননার কারণে অনেকে চেপে থাকতে চাচ্ছেন রোগটিকে । মহল্লায় মহল্লায় গুজব আর বাঁশ নামিয়ে লকডাউনের ছড়াছড়ি হচ্ছে।
ব্যতিক্রম যে নেই তা না ; উচ্চশিক্ষিত যাঁদের হয়েছে, সুস্থ হচ্ছেন, যেমন বিএসএমএমইউ এর সাবেক উপ-উপাচার্যের করোনা থেকে রোগমুক্তির কথা টিভিতে দেখলাম। এই ডাক্তার ভদ্রলোক ও তাঁর কন্যা জানেন, এটা তাঁদের সামাজিক সন্মানের সঙ্গে জড়িত কিছু নয় মোটেও।
অথচ এই অতিমিডিয়ার যুগে করোনা ভাইরাস একজন আক্রান্তের যা কিছু অর্জন সেটা ধূলায় মিশিয়ে দিচ্ছে, । কেউ আক্রান্ত হয়েছেন এটা তার চেয়েও তার পরিবারের জন্য বেশি বিড়ম্বনার, আতঙ্কের ও যন্ত্রণার মনে হচ্ছে।
প্রকাশকালঃ ২৬শে এপ্রিল,২০২০
by Jahid | Nov 30, 2020 | সাম্প্রতিক
ফোন করে কেউ না কেউ জিজ্ঞেস করে, কেমন আছি।
কেমন আছি?
দিনগুলো কাটছে হাসপাতালের ডিউটির মতো।
জীবনে কয়েকবার প্রিয়জনের জন্য হাসপাতালে ডিউটি দিতে হয়েছে। মূলত: তেমন কিছু করার থাকে না ;ঘণ্টার পর ঘণ্টা বাইরের বারান্দায়, বেঞ্চে, চেয়ারে বসে অপেক্ষা করা ছাড়া। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত গভীর হতে থাকে। মানুষের আনাগোনা কমে । সিনিয়র ডাক্তাররা চলে যায়, ডিউটি ডাক্তার যাওয়া আসা করে । হাসপাতালের ফিনাইল-ফিনাইল গন্ধ নানা ওষুধের সঙ্গে মিশে কেমন দমবন্ধ একটা গন্ধ তৈরি করে। সেই গন্ধে আমি ঠিক বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে পারি না। দূরের আবছায়া আলো-অন্ধকারে গাছগুলো মাথা দুলিয়ে চলে। করিডোরের মৃদু আলো। হয়তো মশা থাকে , ভ্যাপসা গরম থাকে । সবকিছুর উপরে থাকে একটা অনিশ্চিত অস্বস্তি। যে অস্বস্তি আমাকে ভাবায় -আবার কী স্বাভাবিক দিন ফিরে আসবে! যে প্রিয়জন শুয়ে আছে হাসপাতালের বিছানায় তাঁকে নিয়ে কবে ফিরতে পারব বাসায়। কবে?
সামান্য কিছুতেই বিরক্তি চলে আসে। দারোয়ান ব্যাটা ঝিমায় কেন, ওকে টাকা দিয়ে রেখেছেই বা কেন? অন্য রোগীর অ্যাটেন্ডেন্ট এতো উচ্চস্বরে কথা বলে কেন ? নার্সটা এতো বেঢপ কেন? কাউকে ডাকলে সঙ্গে সঙ্গে কাছে আসে না কেন? আমার প্রিয়জন কেমন আছে, জিজ্ঞেস করার কাউকে খুঁজে পাই না কেন? হাসপাতালে সামান্য নিয়ম কানুনও নেই কেন? কর্তৃপক্ষ এতো উদাসীন আর দায়িত্বজ্ঞানহীন ! নানা ধরণের অর্থহীন অভিযোগ আর অপ্রয়োজনীয়তায় খচখচ করে।
সারারাত হাসপাতালের বারান্দায় বসে থাকা মানে তো জাগতিক সব প্রয়োজনীয়তার বাইরে কর্মহীন থাকা। কিন্তু সেই কর্মহীনতা আমাকে আরো বেশি করে শুষ্ক করে, ক্লান্ত করে, অবসন্ন করে। মনে হয় আমি একটা বিস্তৃত জীবনহীনতার ভেতরে আছি। জানি , আমার আরো অনেক প্রিয়মুখ আছে, কিন্তু আমার তো ক্ষুধা আছে, তৃষ্ণা আছে। সময় বয়ে চলে, একেক মিনিট মনে হয় একেক দুঃসহ ঘণ্টার মতো। আমি না পারি কিছু খেতে , না পারি ঘুমাতে। একটা ক্ষীণ জৈবিক দুরাশা , হয়তো একসময় বাসায় যেতে পারব, গোসল করে নিজের বিছানায় গা এলিয়ে দিতে পারব। কিন্তু আমার হৃদয়ের অংশ আমার সবচেয়ে প্রিয়জনদের কেউ শুয়ে আছে ঐ দূরের বিছানায় ; জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে, আর আমি কীনা ভাবছি দুটো ভালো খাওয়ার , একটু ঘুমের ! কেমন একটা অপরাধ বোধ আচ্ছন্ন করে আমাকে । তবুও নিজের বিছানার জন্য মনটা আকুল হয়।
ভোর হয় না। কিন্তু মনে হয় , অন্য আলোর আবছায়া দেখা যায় হাসপাতালের জানালায়। পাখির কিচিরমিচির ডাক শোনা যায় কী ! আমি বসে থাকি একা ,নতুন ভোরের অপেক্ষায় !
প্রকাশকালঃ ১৯শে এপ্রিল,২০২০
by Jahid | Nov 30, 2020 | সাম্প্রতিক
আমাদের কর্পোরেট জগতে একটা অলিখিত নিয়ম আছে।
প্রতিষ্ঠানে কোন সুযোগ-সুবিধা চালু করার আগে অনেকবার চিন্তা করা হয়। সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়, কোন না কোনভাবে যদি সেই সুবিধা না দিয়েই চালিয়ে নেওয়ার।
আসলে কোন একটা বিশেষ সুবিধা না থাকলে অন্য প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তুলনা করে অনেকে হয়তো সমালোচনা করবে ; সেটা তেমন কোন ব্যাপার না। কিন্তু কোন সুবিধা যদি একবার পরীক্ষামূলক ভাবে চালু করা হয় , তখন সেটা সবাই মৌলিক অধিকার ও চিরস্থায়ী ভেবে বসে থাকে। হোক সেটা প্রফিট বোনাস, ইনসেন্টিভ, অল্টারনেটিভ হলিডে বা অন্য যে কোন ধরণের প্রণোদনা। একবার চালু করা সুবিধা পরবর্তীতে প্রত্যাহার করতে গেলে ব্যাপক মনমালিন্য ও হয়রানি হয়।
কয়েক শতক ধরে সারা পৃথিবীতে সকলেরই কমবেশি ছুটি ছিল। ছিল না শুধু পৃথিবীর নিজের ! গত কয়েকমাস কোভিড-১৯ ভাইরাসের প্রকোপে পৃথিবী নিজেই যেন কিছুদিনের ছুটি পেয়েছে। একটু জিরিয়ে নিচ্ছে, নিজেকে গুছিয়ে নিচ্ছে।
মুশকিল হচ্ছে, হঠাৎ পাওয়া এই ছুটির ব্যাপারটা পৃথিবী যদি নিজের মৌলিক অধিকার ও চিরস্থায়ী ভেবে বসে তাহলে তো প্রতিবছর বা কয়েকবছর পরপর এই ছুটি চলতেই থাকবে !
প্রকাশকালঃ ১৬ই এপ্রিল, ২০২০
by Jahid | Nov 29, 2020 | সাম্প্রতিক
১৯৭১ সালের যুদ্ধকালীন আতঙ্ক আর ভয়াবহতার কথা আম্মার মুখে শুনেছি কয়েকবার। কীভাবে তাঁদের দিন যেয়ে সন্ধ্যা নামত আর সারাটা দিন যেতো পাকিস্তানী আর্মির নৃশংসতা আর ধারেকাছে ওদের পৌঁছে যাওয়ার নানা গুজবে । সন্ধ্যা হলেই ভুতুড়ে নিস্তব্ধতা। কুপি ও হ্যারিকেনের টিমটিমে আলোয় দ্রুত রাতের খাওয়া খেয়ে নিয়ে আরো নিঃশব্দে ট্রানজিস্টার খুলে বিবিসি আর স্বাধীন বাংলা বেতারের নব ঘোরানো। সারাক্ষণ একটা বুকভার করা চাপা আতঙ্ক। নিজের দীর্ঘশ্বাসে নিজেই চমকে ওঠা ! আবার ভোরের অপেক্ষা। একেকটা দিন প্রিয়জনদের নিয়ে বেঁচে থাকা মানেই সৃষ্টিকর্তার কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা !
স্বাধীনতার পরের প্রজন্মের ঐ দুঃসহতার ধারেকাছের কোন অভিজ্ঞতা নেই । তবে শ্বাসরুদ্ধকর, দীর্ঘমেয়াদী আতঙ্ক ও অসহায়ত্বের একটা অভিজ্ঞতা আছে আমাদের ! সেটা স্বৈরাচার লেজেহোমো এরশাদের শাসনামলের শেষের কয়েকটা বছর। সবরকমের আন্দোলন ব্যর্থ ও তুচ্ছ হয়ে গিয়েছিল ঐ হারামজাদা বিশ্ববেহায়ার কাছে । বছরের পর বছর, মাসের পর মাস, দিনের পর দিন কী এক দুঃসহ দম আটকে আসা অসহায়ত্ব নিয়ে এরশাদের ভণ্ডামি সহ্য করেছে বাংলাদেশে। অত্যাচারের মূল ধাক্কাটা গেছে ঢাকাবাসী ও ছাত্রসমাজের উপর দিয়ে। আমাদের সদ্য কৈশোর পার হওয়া মনে ৯০ এর গণআন্দোলনের নানা বীভৎস স্মৃতিচিহ্ন এখনো দাগ কেটে আছে !
আর আছে বন্যা ও ঘূর্ণিঝড়ের অভিজ্ঞতা । ৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যার পরে শেষবারের বন্যার অভিজ্ঞতা ছিল ৯৮ তে। তখন, প্রতিবছর ছোট বা বড়মাপের বন্যা অবশ্যম্ভাবী ছিল। সরকারের যৎসামান্য প্রস্তুতি থাকত কী থাকত না। মূলত: প্রতিটা বন্যাপ্রবণ এলাকার জনগণের নিজস্ব প্রস্তুতি থাকত। তবে রাজনৈতিক সামাজিক নেতৃত্বকে দেখা যেত এই সুযোগে নৌকায় করে চিড়ে-মুড়ি, ওরস্যালাইন, খিচুড়ি নিয়ে মফস্বলের বন্যাদুর্গত এলাকায় ছুটে বেড়াতে। বন্যা শুরু হলে ট্রেন লাইনের উঁচু পাড় আর স্কুল-ঘরগুলোতে উদ্বাস্তু বন্যার্তদের মানবেতর জীবন শুরু হতো।
বন্যা শুরু হলেও একটা নির্দিষ্ট সময়ের পরে তা যে চলে যেত ; পানি একবার টান দেওয়া শুরু করলে সপ্তাহখানেকের ব্যাপার –সেটা সবাই জানত। যতো দ্রুত চলে যায় সে জন্য সবার প্রার্থনা ছিল, অপেক্ষা ছিল, সাহায্য ছিল, ত্রাণ ছিল। আর ছিল, বন্যা চলে যাওয়ার পর কত দ্রুত পুনর্বাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে সেটার । বছর দশেক পরপর বন্যা তার বিধ্বংসী রূপ নিয়ে লণ্ডভণ্ড করে দিত বাংলাদেশকে। ঘূর্ণিঝড় বা জলোচ্ছ্বাস এতোটা দীর্ঘমেয়াদী আতঙ্ক তৈরি করতে পারত না। ঝড়ের মতো এসে ঝড়ের মতো চলে যেত। শহরের লোকে সেটা টেরও পেত না।
কোভিড-১৯ বা করোনা নিয়ে সে রকমটি ভাবতে ইচ্ছে করছে। বন্যা ঠেকানোর মতো কিছু আমাদের ছিল না, পুরোটাই প্রকৃতি ও ভারতের ফারাক্কা বাঁধের পানি ছেড়ে দেওয়ার উপর নির্ভর করত। করোনা এসেছে, চলেও যাবে ! আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত যুদ্ধ করে টিকে থাকা জাতি ; কোন না কোনভাবে টিকে যাব। কিন্তু করোনার পরে পুনর্বাসন কীভাবে হবে, ক্ষতিগ্রস্ত জাতি কীভাবে উঠে দাঁড়াবে সেটাও ভেবে দেখার দরকার।
প্রকাশকালঃ ২৪শে মার্চ,২০২০
সাম্প্রতিক মন্তব্য