আমি বিশ্বাস করি মানবিক কিছু গুণাবলী যেমন দান, ক্ষমা ও পরিতৃপ্ত হওয়ার জন্য পরিমাণ নয় , মূলতঃ মানসিক যোগ্যতাই সবচেয়ে বড়ো ফ্যাক্টর ! নিকট অতীতে নিতান্তই পারিবারিক কিছু অম্লমধুর অভিজ্ঞতা হয়েছে আমার । সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে না দেওয়ার পিছনে , খুব সহজ একটা ব্যাখ্যা ছিল প্রত্যেকের । সহানুভূতির কয়েকটা কথার পরে, তাদের মূলকথা হতো —আমার যদি অমুকের মতো টাকা থাকতো, তাহলে আমি নিশ্চয়ই কিছু দান বা সহযোগিতা করতাম ! কিন্তু , যে দুর্মূল্যের বাজার, ইত্যাদি ইত্যাদি ইত্যাদি!
আবার এমন কিছু হৃদয়বান দেখেছি যিনি তাঁর সঞ্চিত অর্থের পরিমাণের তোয়াক্কা করেননি। সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন । গাণিতিক অনুপাতে উদাহরণ দিই । ধরুন, আমার যদি পকেটের ১০০ টাকা থেকে ১০ টাকা সহযোগিতা করার মানসিকতা না থাকে; তাহলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ লাখ টাকা থাকলেও আমি কাউকে ১০ হাজার টাকা সহযোগিতার চিন্তা করবো না ! যে হৃদয়বান মাত্র ১০ হাজার টাকার ১০% অবলীলায় দান করতে পারছেন ও করছেন ; মূলতঃ তাঁর মানসিকতা আছে বলেই করতে পারছেন ! আর ‘ দুর্মূল্যের বাজার’-এর আমি , একই সমানুপাতে ১০ লাখ টাকার ১০% , মানে ১ লাখ টাকাতো দূরে থাক, ন্যূনতম ১% হিসাবে ১০ হাজার টাকার চিন্তাও করতে পারছি না !
বহুদিন আগে, এক নেপালি সহপাঠী বলেছিল , আদমি রহিস (ধনী) রুপিয়াসে নেহি হোতি ; দিল্ সে হোতি হ্যায় ! সহযোগিতার জন্য সঞ্চিত সম্পদের পরিমাণ নয় ; হৃদয়ের আয়তন এবং মানসিক যোগ্যতাই বড় ফ্যাক্টর !
[ প্রথম প্রকাশঃ ১০ই নভেম্বর, ২০১৫ ]
সাম্প্রতিক মন্তব্য